নিছক সাধারণ মেয়ের কবিতা
বলেছিলাম সেদিন
" একটি কবিতা লিখ কবি!
নিছক সাধারণ মেয়ের ,
লিখতে লিখতে তোমার কলমের
আঁচড়ের শব্দ সৌরভে যাকে
করে তোলবে অসামান্যা !"
"কালো শব্দটাকে সুসজ্জিত করে সাজিয়ে দেবে
আলোর মহিমায় ,
তোমার কবিতার নায়িকা ; পরী আলোতে
মহিমান্বিত করে তোলবে সমাজেরে ,
গুণে হবে গুণান্বিতা;
গায়ের রংটা হোক না কালো ।"
হে কবি ! " নায়িকার
বিচার সভা ভরে দিও অদ্ভূত কলরবে।
কালোর মাঝে শত আলোয়
ভরে দিও কলেবর ,
আবেগী চোখে ঢেলে দিও আগুনের শিখা ;
যে শিখার দীপ্ত তেজে ছাই হবে কালোত্বের লাঞ্ছনা।"
হে কবি ! তোমার নায়িকা নারীত্বের
অনুবলে হয়ে উঠবে মহীয়ান ;
পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি,কামজ উদ্দামতা মিটাতে
হাতে তোলবে শানিত বর্ম।
সতীত্বের মর্যাদায় অনুপমা , আর অসীম মমতার প্রগাঢ়তায় হবে উপাস্যা।
হে কবি ! কালোর মাঝে আলো ঢেলে
একটি সাদামাটা মেয়ের কবিতা লিখ তুমি,
যার সরল জীবন ; অনুপ্রেরণা
আত্মমর্যাদা ; অহংকার ,
কালোতেই প্রসিদ্ধি
তিতিক্ষার আকাশে উড়বে মুক্ত বিহগ।
শারদ আকাশ,কাশ শিউলির সখ্যতা
তোমার নায়িকা জীর্ণ পৃথিবীর জীর্ণতা ঘুচাতে
মেলবে আঁচল ; অসম্ভবে সম্ভব করে
অট্টহাসিতে ভরিয়ে দেবে আকাশ বাতাস
কালোর জয়গানে মুখরিত হবে বিচারসভা
ঘুচে যাবে মনস্তাপ , নামবে শান্তি।
একটি কবিতা তুমি লিখ কবি
নিছক সাধারণ মেয়ের কবিতা।