Oct 28, 2022

শুভ্রা সাহা

অনুগল্প : 

আপনজন

ছোটবেলা থেকেই নবীন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিকে পূজা করে আসছে। মোম, ধূপকাঠি, ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সাথে পূজা করে। ওর পড়ার টেবিলের উপর একটা ছোট্ট রবীন্দ্রনাথের ফটো রয়েছে। মায়ের মুখে শুনেছে রবি ঠাকুরকে নাকি স্কুলে যেতে হয়নি ।বাড়িতে বসে বসেই সব পড়া শেষ করে ফেলেছে। বড় বড় সব বই লিখে ফেলেছে । স্বয়ং ভগবান না হলে এরকম কিছুতেই হতে পারে না । এটাই নবীনের ধারণা।  কারণ নবীর এত মনোযোগ দিয়ে পড়েও সব পড়া মনে রাখতে পারছে না। বই লেখা তো দূরের কথা । তাই মা যেমন করে ভগবান রাধা মাধব কে সিংহাসনে পূজা করে সেও টেবিলের উপরে রবীন্দ্রনাথকে সেইভাবে পূজা করে রোজ। মনটা খুব ভালো থাকে। আর পড়াশোনা ও ভালোভাবে করতে পারে ।সবাই ওকে ভালও বাসে। মনে যেন আলাদা একটা শক্তি অনুভব করে। জীবনে অনেক কিছু জানার আগ্রহটা অনেক বেড়ে যায়। নবীন মনে করে এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরই আশীর্বাদ।

 নবীন যখন একাদশ শ্রেণীতে পড়ে ,স্কুলে খুব ভালো রেজাল্টের জন্য  রবি ঠাকুরের জীবনী নিয়ে লেখা একটি বই পুরস্কার পায় । অল্প কিছুদিনের মধ্যে সেই বইয়ের আগাগোড়া সব পড়ে ফেলে ।সেটিতে রবি ঠাকুরের আত্মজীবনী লেখা ছিল । নবীন তখন বুঝতে পারে রবি ঠাকুর কোন ভগবান নন। আমাদের মত রক্ত মাংসে গড়া মানুষ । তাঁর জীবনের অনেক দুঃখ কষ্ট নবীনকে ব্যথিত করে । নবীনের রবি ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায় । অন্য সাধারণ মানুষের মতোই তার জীবন সুখ -দুঃখ -শোকে ভরা। ,  স্বজন হারানোর ব্যথা, আনন্দ সবই অন্য দশজনের মত । তাই নবীন তাকে ভগবান না ভেবে এবার থেকে নিজের প্রানের মনের মানুষ ভাবতে শুরু করে । প্রতিদিন তাঁকে ভক্তিভরে প্রণাম করে । তাঁর উপদেশ, বাণী, গান ,তার অন্যান্য লেখা নবীনকে চলার পথের প্রেরণা জোগায় ।নবীনের দুর্জয়কে জয় করার ক্ষমতা আরও বেড়ে যায় । সে কবিকে আপন আত্মীয় ভাবতে শুরু করে ।