হারানো প্লুতস্বর
জীবনের সাজগোজ থেকে প্লুতস্বর হারিয়ে গেলে অশ্বমেধ যাপন
মাটি হয়ে যায়। নক্ষত্রে নক্ষত্রে দীর্ঘশ্বাস, ঘোড়ার পা থেকে
খুলে যায় রাজকীয় নাল। সুদূর প্রহরী প্লানেট হারিয়ে যায়
প্লুটোর মুখমন্ডল থেকে। তখন জীবনের উপবৃত্তে একাকী
নিঃসঙ্গ পাক খাওয়া। খরগোসেরা এনে দেয় মৃত তারকা
কিংবা মণিকাঞ্চনের আলো!
ইলেকট্রিক চুল্লীর দরজার সাটার অটোমেটিক বন্ধ।
মাহাজাগতিক দূরত্ব থেকে তুমি ফেরত পাঠাও তোমার
বিছানায় ফেলে আসা আমার প্রাগৈতিহাসিক নক্ষত্রখচিত
রুমাল। আর কোনও দিনও আমাদের দেখা হবে না।
বিষন্নতার সমুদ্রে হাঁটতে হাঁটতে আমিও মহাপ্রভুর অদৃশ্য
নীলাচলে নীল! কন্টকিত মাদারের ডালে ডালে দীর্ঘশ্বাস,
উঁকি মারে রক্তিম বসন্তের মৃত পাপড়ি। স্মৃতিতে হারাণো
প্লুতস্বর! গন্ধ কথা বলে, মহাজাগতিক রশ্মির সাথে ভেসে
আসে তোমারই দীর্ঘশ্বাস। বিদ্যুতের ঝলকেরা লেখে –
এ জীবনটা বড়ো ছোটো হে।
প্লুতস্বর হারিয়ে যাবার পর জীবন থেকে বর্ণমালারা বিদায়
নেয়। পড়ে ওঠা হয় না হারাণো রুমালের সংশোধনপত্র কিংবা
জীবনযাপনের সংবিধান।