মালতীনগর- ০৫
উৎসর্গঃ কবি তৃষ্ণা বসাক, বন্ধুভাজনেষু
কৈশোরে আব্বার হাত ধরে বকশি বাজার যাই
সাজিয়ে রাখা সবজি মাছ মাংস, খাঁচায় মুরগী আর সরল মানুষগুলোর কেনাবেচায় মুগ্ধ হয় চোখ
আশিস কাকার হোটেলে চেয়ারে বসে
পরোটা সবজি মিষ্টি দুধ চা খেতে খেতে
কখনো জানাই হয়নি
আব্বার পকেটের আবহাওয়া সংবাদ
খেয়েই গেছি কৈশোরের ডাংগুলি খেলার মতো,
জেনেছি কাঁচা ছানা মানেই আশিস কাকা,
বৃষ্টির দিনে ছাতা মাথায় বাজারে যেতাম,
মনে হতো অনেক হাতির কান বাজারে ঘুরছে,
লাল মিয়া চাচার দোকানে বসিয়ে রেখে আব্বাও
হাতির কান লাগিয়ে মিশে যেতেন ভিড়ে,
আব্বাকে খুঁজতাম, কিন্তু পেতাম না তখন
শীতে বকশি বাজারে দেখেছি যুবতী সবজিবাহার
লাউশাক বাঁধাকপি ফুলকপি টমেটো সীম গাজরের
জৌলুশে মনে হতো মাদলায় নানী বাড়ির উঠোনে
ঋতু পরিবর্তনে গাছে নতুন পাতা
বকশি বাজার শেখায় জীবনের নামতা,
পকেটের নোটগুলো মনে হলো খলসে মাছ,
বাজারে এলোমেলো কদমে নামতা পড়ি
সবকিছু ঠিকঠাক অথচ কিছুই ঠিক নেই,
কৈশোরে আব্বার হাসিমাখা মুখের আড়ালে
বেদনার ঘামগুলো আমার কপাল বেয়ে
নিচে নামে, নিভিয়ে দেয় সদ্য জ্বলে ওঠা উনুন
বাবা মানেই পাঞ্জাবির পকেটে বেদনা লুকিয়ে রাখা
সেলাই করা চটি পায়ে একজন আলেকজান্ডার।