Sep 29, 2022

অপাংশু দেবনাথ

সমর্পণের অন্য নাম পিতা

বুঝের হয়ে কখনো তাঁকে বাজারে যেতে দেখিনি, 
জানালায় হাত রেখে চেয়েছি বাজারের পয়সা।
অতএব অফিস কামাই করেছেন বলে,
মনে পড়েনা আমার।

এতসব না না শুনেও বিশ্বাস করি মায়ের বলা কথা।
বাজার ফেরৎ পিতা
ঘুম থেকে ডেকে তুলে মাছের মাথা ভেঙে মগজ খাওয়াতেন আমাকে,
হয়তো তাই মেধাহীন এ জীবন আমার।

বঙ্কিম রবীন্দ্র বনফুল, শরৎ উপেন্দ্র সুকুমার, 
বাজার কিনতে গিয়ে এনেছেন ঘরে।
কিছু পড়েছি আমি, বাকিটা, 
রাত জেগে হ্যারিকেনে চোখ সেঁকেছে মা।

অনেক ক্ষোভে উঠেছি বেড়ে, 
সামনে দাঁড়িয়ে কখনোই বলতে পারিনি, 
পুজো কিংবা মেলায় যাননি কেন আমাদের নিয়ে ?

সাম্প্রদায়িক বিষময় হাওয়ায় তাঁকে দেখেছি,
অন্য মানুষ, মায়াবী-মুখ।
সমস্ত ভয় তুচ্ছ করেই 
গুটিকয় আরক্ষাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে অভূক্ত মানুষের 
মুখে তুলে দিতে কিছু, ছুটেছেন দূরে মহকুমার খাদ্যগোদামে।

পাহাড় পুড়ে যাচ্ছে সংঘাতে, 
সব সংঘাত উপেক্ষা করে একা গর্জির শুনশান পথে, 
পৌঁছে গেছেন তৈনানী বন দপ্তরের অফিস চত্তরে। 

তাঁর হৃদয় হাজার সন্তানের জন্য কেঁদে
ওঠেছিল সেইদিন সঙ্গোপনে।
এ থেকে বুঝতে পারি,
সমর্পণের অন্য নামই পিতা।

এখন প্রতিদিন একবার ফোন করেন অকারণেও,
এখন আমিই বড় ব্যস্ত,
সন্তানের সুখের জন্যই পিতার হৃদয় করে তুলেছি উচাটন।

ইচ্ছে করে জড়িয়ে নির্ভয়ে বলি, 
আরও একবার এই মেধাহীন সন্তানের মুখে তুলে দাও প্রকৃত ভাষা।