May 30, 2023

তৈমুর খান

কবিতা
বৃক্ষমানুষ   

আমার প্রহরী ওরা, সভ্যতার প্রহরী 
রোজ কাঁদে, রোজ ডাকে 
বাঁচার আশ্বাস চায় আমারই কাছে 
প্রত্ন-তপোবন থেকে বাণপ্রস্থের পথে  
রোজ হেঁটে যাই আমি 
আদি-অন্তহীন এই সনাতনভূমি জুড়ে 
বৃক্ষের সংলাপ শুধু সবুজ সংকেতে 
শরীর বল্কল খুলে সঙ্গম প্রত্যাশী হয় 
এক একটি নবজন্মের পুষ্প হতে 
আমিই বৃক্ষ, আমিই বৃক্ষমানুষ সর্বংসহ 
আমাকেই স্পর্শ করো 
আমার আত্মার ধ্বনি বাজে অহরহ

চন্দন পাল

বিশেষ নিবন্ধ
প্রণাম পালনকর্তাঃ 

"পিতা সর্গ পিতা ধর্ম, প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা"
  "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী"

মা বাবা জন্ম দিয়েছেন।  সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী লালন-পালন করেছেন।  আত্মীয় স্বজন ভাইবোন জীবনস্বাদে আগলে রেখেছেন। ভুল শুদ্ধ দিশা দেখিয়েছেন। স্কুলে, শিখতে পাঠিয়েছেন। ফলাফল রূপায়ণ ব্যাক্তিগত সৌন্দর্য । 

  মা-বাবা ছাড়াও প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন, আলো, বায়ূ(অক্সিজেন), জল, ফল, আচ্ছাদন মাগনা দান দিয়ে। 

   ফুল, ভেষজ, জঙ্গল, পাহাড়, নদী, আকাশ, তারা, জোছনা, শিশির, পাখি, জীব সমাজের নয়ানাভিরাম অবদানও কম নয়। তারাও আমাদের মাতা-পিতা ভাইবোন আত্মীয় স্বজন, দেবতা।

  এঁরা না থাকলে জীবনটা কেমন হত! এখানে  হয়ত বলা যেতে পারে, 'তোমার যা - আমারও তা'। তাই বলে নিসর্গ বা প্রকৃতিকে অপাঙ্তেয় করা যায় না ! চিন্তার দরকার নাই বলা যায় না !

   বলা যায় না বলেই, সুচিন্তক অবিভাবকরা অনুভব করেছেন একে রক্ষা করা প্রয়োজন। এই রক্ষার তাগিদেই যত নিয়ম-কানুন, আইন- আদালত, রীতি-নীতি, কৃষ্টি-সংস্কার, পূজা পার্বণ, পরিদর্শক ও সেবক।

   অতিরঞ্জিত সংস্কার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ পরোক্ষভাবে প্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে, এর ফল আমাদেরই ভোগ করতে হবে । "প্রকৃতি তাড়াহুড়ো করে না সবকাজই সময়ে শেষ করে"।

   পরবর্তী সন্তান ও তার সন্তানকে সুখ সৌন্দ্যর্য দিতে, সুশীল প্রকৃতি ভোগ করতে অবিভাবক হিসাবে আমাদের কী কাজ, তা আমাদেরই হাতে,

মো: বিল্লাল হোসেন

কবিতা
সভ্যতা আজ অন্ধকারে

নিস্তব্ধতা আমাকে নিয়ে গেছে মরু প্রান্তে।
আমি ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো,
ডিঙ্গিয়ে যাচ্ছি বহু দূরে সমুদ্র সফেন এর দিকে।
আমি পৌঁছেছি একবিংশ শতাব্দীতে।
যেখানে যুবক দের পড়িয়েছে শিকল।
আর নারী দের বানিয়েছে বিলাসিতার পণ্য।
চারিদিকে আলোর একফোঁটা রশ্মি নেই।
বিশাল সূর্য টা ও যেনো আজ আলো দিতে ভুলে গেছে।
এই সুযোগে নরপিশাচ গুলি কুকুরের মতো,
 কামড়ে খাচ্ছে নারী শক্তি কে।
কোথাও নারী, নারী কে ধ্বংস করছে।
আবার কোথাও ভ্রূণ হত্যা চলছে।
তাদের কি দোষ বলো,
এই সৃষ্টি দেখার আগে শেষ করে দিচ্ছে 
প্রজন্মের হাতিয়ার গুলি কে।
নারী আজ তুমি লাঞ্ছিত  পুরুষ শাসিত সমাজে ।
সমাজ আজ বর্বরতায় বিষাক্ত।
কালো পর্দার আড়ালে ঢেকে গেছে এই সংস্কৃতি।
সভ্যতা আজ পড়ে আছে কোনো এক লেখকের,
বইয়ের পাতায়।
আবার কোথাও বা পরে আছে রাস্তার পাশে মূর্তির আকারে।
তুমি হুংকার দাও,
দাও গর্জন, জেগে উঠো নতুন করে নতুন সভ্যতার আলো নিয়ে ।

নবীনকিশোর রায়

কবিতা
দহন

ফসলের মুখ পুড়ে গ্রীষ্মের দহনে - মাঠে মাঠে
আগুন ঝরা রোদ, 
ফাটা মাটি তাকিয়ে থাকে 
শূন্য দৃষ্টি নিয়ে আকাশের দিকে... 

শরীর পুড়ে, বুক ভাসে ঘামে--
এই কৃষক জীবনে দুঃখ ঘুঁচে না।

বছরান্তে  গোলা ঘরে 
হাহাকার এসে ঘর বাঁধে
আজীবন পিছু ছাড়ে না!

কৃষ্ণকুসুম পাল

কবিতা
কুসভ্যতা

হে সূর্য,তোমাকে স্পর্শ করবো,
আর নিমেষে পুড়ে ছাই হয়ে যাবো।
            
পৃথিবীর বুক শুকিয়ে গেছে,
জলের জন্য মানুষ রক্ত পান করছে,
পৃথিবীর আকাশে বিষাক্ত বাতাস,
বোমশিল্পীরা বিশ্বযুদ্ধে মেতেছে,
সব বিলুপ্ত- মানুষ মানুষের মাংস খায়,
দায়িত্বহীন,কর্তব্যহীন কুসভ্য কুকুরেরা কামড়ায়,
মানুষের অস্রবৃষ্টির ভয়ে স্রষ্টা ভীত,
আল্লা,গড,ঈশ্বর সকলে কম্পিত।
                  
 হে সূর্য,তোমার উত্তাপে পৃথিবী পোড়াপিন্ড হলে,
বিলীন কুসভ্যতা,ধর্ম,অর্থ, কাম,মোক্ষ,-শূন্য ধরাতলে।
এখানে আর কখনো গজাবে না তৃণ,
আমরা ক্ষমার অযোগ্য, জঘন্য, ঘৃণ্য, ঘৃণ্য।
হে সূর্য,আমাকে আলিঙ্গন করো,
আমাকে ছাই করে প্রায়শ্চিত্তে ভরো।

আব্দুল গফফার

কবিতা
ঊনিশ-একুশের সহাবস্থান

পৃথিবীর যত ভাষা প্রিয় ভাষা বাংলা ভাষা,
সংগ্রামের ভাষা যখন বাংলা ভাষা, মাতৃভাষা-
ভাষা কখনো জাত মানেনি, মানেনি ধর্ম, স্থান।
আন্দোলনের মুখ যখন রফিক সালাম সুনীল সত্যেন্দ্র'রা।

সময়ের ইতিহাস সুদীর্ঘ, আজও বঞ্চনার শিকার মাতৃভাষা,
কেউ ভুলেছি, স্মৃতি রোমন্থিত হয় কত মানব মনে-
বাংলাদেশকে মনে রাখলেও চর্চার আড়ালে অসম,শিলচর।
ব্যবধান বাহান্ন আর একষট্টি ও ঊনিশ আর একুশের,

জ্বলজ্বল করছে, রক্তক্ষয়ী এই দুই লড়াই ভাষা সংগ্রাম,
মাতৃভাষার জীবন্ত আবেগ, প্রেম, সম্মান ও বলিদান-
সমাধির অন্তরালে চিরঘুমে সাহিত্য বরকত জব্বার ভাইয়েরা,
জীতেশ কমলার ছায়া প্রদক্ষিণরত আকাশে বাতাসে।

ভাষার লড়াইয়ে নিভে ছিল কত তাজা প্রাণ,
ফেব্রুয়ারির মতই উত্তাল হয়েছিল মে মাসের বরাক-
চিন্তা চেতনার মানদন্ডে ঊনিশ একুশের সহাবস্থান,
এগারো থেকে কতশত শহীদ এ এক কলঙ্কিত ইতিহাস।

রক্তে রাঙানো মাতৃভাষা পরিপূর্ণতা পেল না আজও,
স্তিমিত হয়নি লড়াই, চলছে বিভেদ সৃষ্টির প্রবণতা,
নাগরিক পঞ্জির নবায়নের জন্য ক্ষুন্ন হচ্ছে মৈত্রিত্ব-
ঊনিশ একুশের পবিত্রতা রুখবই, বাঙালি জাতি সদা সজাগ।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

ছোটগল্প
মাছ ও মানুষ

হেমন্তের আদ্রতা- যদিও মধ্যগগনে সূর্য তবুও তাপ ম্লান, কুয়াশা মেটানো আলো পাহাড় দেখায়, বর্ষার উজ্জ্বল সবুজ ম্লান হয়ে এল,আবছা ধূসরতায় আচ্ছন্ন তবু চিরহরিৎ বনের প্রাণ সবুজের তাগিদ ধূসর হতে দেয় না -হেমন্তে শুকিয়ে পাথর বুকে ক্ষীণাঙ্গী স্ফটিকসলিলা জাটিঙ্গা বয়ে চলেছে,তার উপরে সেতু পার হতে হতে উত্তরের দিকে দেখছি।দেখছি- পাথর কুড়োতে আসা আদিবাসী শ্রমিকেরা কোমড়ের গামছা, গায়ের শার্ট দিয়ে মাছ কুড়োতে ব্যস্ত, গেঞ্জির মুখে গিঁট বেঁধে খলুই করে এধার ওধার থেকে থেকে ছুটোছুটি করে মাছগুলোকে জমাচ্ছে। এমন তো রোজ হয়না,তারা আসে পাথর কুড়োয় - পাথর জমায় - একের পর এক - এক দুই তিন ট্রিপ ট্র্যাক্টর লোড করে। নদীর পাড়ে বসে শুটকি পুড়া বেগুন ভর্তা দিয়ে পুঁটলিবাঁধা ভাত খায় চোলাই খায়,ধুম শ্রম করে শ্রমের আনন্দে, ফুল সাউন্ড দিয়ে ধুপধুপ বেসওয়ালা ভোজপুরি গান লাগায় ট্রাক্টরের,এমন তো মাছ ধরে না। ইউটিউবে যেসব মাছ বৃষ্টির ফেক ভিডিও দেখা যায় তেমনি কোন মাছ বৃষ্টি হয়ে গেল না তো!


ঘরে গিয়ে গামছা কাঁধে স্নানের জন্য নদীতে নামলাম, শীতের দিন রোদ থাকতে থাকতে স্নান সেরে নিলে বাঁচি।ঘাটে নেমে দেখি পাশের গ্রামের আদিবাসী শিশু-মহিলারা সদলবলে পা-পাতাজল জাটিঙ্গাকে দলে দিচ্ছে,জাটিঙ্গার বুকের হীরক-মানিক অসহায় হয়ে ভেসে রয়েছে, ছোট ছোট পুঁটি পোনা - পোনা পেরি - পাথরছাটি জীবনযুদ্ধে হেরে কাতর হয়ে পড়েছে, মহিলারা শিশুরা টপটপ করে তুলে নিচ্ছে সে রসনারত্নগুলো। কিছু আছে অজেয়বীর যারা হার মানতে চায় না, নদীতে দাঁড়িয়ে দেখছি পায়ের আশেপাশে দলে দলে কণা কণা পাথরছাটি হট্টগোল করছে, কোথায় গিয়ে বুঝি বেঁচে যায় এই নারকীয় মৃত্যু জ্বালা থেকে।এরা সবই পাথরের নিচের আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, নতুবা এখন তো এদের দেখা মেলে কদা কৎ্চিতে, নদীতে দাঁড়িয়ে সাবান মাখাতে মাখাতে যখন পা চাটে তখন সেই কালো কালো নদর নদর কণা কণা পাথরছাটি নজর কাড়ে। কিন্তু এই সহ্যকারী বীরেরা অজেয় কিভাবে থাকে বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের কাছ থেকে? এই যে কালো কালো কিশোরীগুলো নাকফুলে ঝিকিমিকি মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে কোমড়ের গামছা দিয়ে সেই কালো পাথরছাটিদের খলুইভর্তি করছে।এই তিড়িংবিড়িং করে বাঁচতে চাওয়া মাছগুলো ধরে কি সেই আনন্দ আছে,যে আনন্দ ছিল যখন শিশুকালে আমরা বন্ধুদল মিলে গামছা দিয়ে দৌড়ে পালানো দৌড়বাজদের দৌড়ে হারিয়ে খলুই ভর্তি করতাম। বাল্যকালে নদীতে মাছের প্রাচুর্য দেখেছি, ফাঁসজাল দিয়ে বিঘে মাপের পেরি ধরেছি,হাত লম্বা বাইং ধরেছি এখন সব চুনোপুটি মাপের। হেমন্তের বিকেলে নদীকে বাঁধ দিয়ে বেঁধে নদীতে চুন দিয়ে গাঁয়ের যুবকেরা দলেবলে নেমে মাছগুলোকে তুলে নিত বালতি বালতি ভরে।চুনের জ্বালা থেকে মুক্তি পেত না কোন বড়ো শিশু মাছ, যতটুকু চুনজল প্রভাবিত করত ততটুকু প্রাণহীন করে দিত, এভাবেই জাটিঙ্গায় চঞ্চলমানিক কমে গেল। পায়ের কাছে ভেসে থাকা দুটো পুঁটি একটা পোনা পেরি তুলে রাখলাম পাশের পাথরে,দেখছি আদিবাসীদের অকালে দুপুরে মাছ কুঁড়ানো। জাটিঙ্গার মাছের স্বাদটাই মনোলোভা, জিহ্বায় স্বাদ লেগে থাকে।অল্প মাছ যদি কেউ নিয়ে বাজারে উঠে তবে একপোয়া মাছের দামে এক কেজি রুই কেনা যাবে,এত চড়া দাম ধরে।কিশোরকালে প্রায় জাটিঙ্গার মাছ খেতাম, খাওয়ায় পর জিহ্বায় স্বাদ আর হাতে তেল লেগে থাকতো।


পাঁ-পাতা শাদা জলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি, স্নান আর হবে কই!একটি ঘনকালো নবীনকিশোরী মাছরাঙার মতো তিড়িং বিড়িং করে দৌড়াচ্ছিল মাছ লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে ধরছিল। এভাবেই সে আমার সামনে এসে লক্ষ্য করে করে ছোট ছোট পুঁটি পাথরছাটি খুঁজছিল।কিছু সামনে আসতে তাকে বললাম "এই মুন্নি এই পেরিটো লে লেও", পুঁটি থেকে একটু বড় পেরি দেখে সে লুফে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ধন্যবাদসূচক হাসি দিয়ে আবার মাছ কুড়োতে মন দিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম "কোন চুনা দিয়ারে মুন্নি?" সে "মালুম নহী" বলে মাছ কুড়োতে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে আমার সামনে দিয়েই একপাল আদিবাসী মহিলা যুবতী মাছ ধরতে ধরতে আসলো, তাদেরকেও জিজ্ঞেস করে "নহী মালুম","মাচ্ছি মিলতা তো পকড়নে আয়া" শুনলাম। প্রতিবছর বনবিভাগ নিষেধ নির্দেশ প্রচার করে তবু কেন যে নদীতে চুন দেয়।অনেকক্ষণ ধরে দেখেছি তারপর বিনাস্নানেই ঘরে ফিরছি। ঘরে ফিরতে বুঝছি পায়ের পাতায় জ্বালা করছে। চুন জলে ভিজলে এমন করে জানি তবে আজ কিছু বেশিই করছে। ছোট থাকতে একবার স্নান করার পর খুব গা জ্বালা চোখ জ্বালা করেছিল তারপর মা ঘরে স্নান করিয়েছিলেন বাবা চোখের ড্রপ এনে দিয়েছিলেন, সেদিন হয়তো নদীর উপরভাগে এমনি চুন দিয়ে মাছ ধরেছিল।ঘরে গিয়ে ভালো জল দিয়ে পা ধুলাম।অল্প জল দিয়ে গা ধুলাম।


গ্রামের দক্ষিণে খেলার মাঠ। খাওয়া দাওয়া সেরে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলে ফুটবল ম্যাচ দেখতে গেলাম। হাফেনআওয়ারে কিছু ঠান্ডা পানীয় কিনতে মাঠের বাইরে গিয়েছিলাম তখন দেখি দক্ষিনের আদিবাসী গাঁয়ের দুতিনটি জোয়ান ছেলে দুএকজন মহিলা একটি ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছে সম্ভবত হসপিটালের দিকে। দেখে খারাপ লাগলো। খেলা দেখতে গেলাম। আধো কালো আধো আলো বেলা,খেলা শেষ হলে যখন বেরিয়ে এলাম তখন রাস্তায় দর্শকের ভিড় চিড়ে দক্ষিনের দিক থেকে পাগলের মত অটো একটা তেড়ে আসছে আর কি হর্ন, ভিড় থেকে আওয়াজ এলো "বিমারী কা গাড়ি, রাস্তা ছোড়"। তারপর দেখি আরো একদল লোক একটা বালককে নিয়ে তেড়ে যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে। কিছু রাস্তা এগোতে এগোতে দক্ষিণের দিক থেকে কয়েকটি বিমারী কা গাড়ি আর হাসপাতালগামী রোগী দেখে একটা হৈ হট্টগোল পড়ে গেল। খেলা দেখা ভিড় ঢুকলো হাসপাতালের অঙ্গনে। বুড়ো বাচ্চা শিশু বিশ পঁচিশজন রোগীতে বেড ভর্তি, রোগীর পরিজনে হাসপাতাল গিজগিজ। ডাক্তার নার্সেরা ব্যস্ত পরিচর্যায়। বেশিরভাগের শরীর জ্বালা চোখ জ্বালা করছে, কেউ কেউ খুব বমি করছে। এরইমধ্যে ভিড়ে রটে গেল স্নানের পর সবাই এমন করছে,কেউ নদীর জল খাওয়ার পর বমি করছে, নদীতে কেউ বিষ ঢেলেছে ইত্যাদি। যাদের অতিরিক্ত হয়ে গেছে তাদের সদর হাসপাতালে রেফার করছে, তাদের পরিবার এম্বুলেন্স গাড়ি খুঁজছে।পাথরছাটি যেমন ছটপট করে বাঁচতে চেয়েছিলে রোগীদের পরিজনেরা তেমনি রোগীদের সুস্থ করার জন্য ছটপট করছে। ইতিমধ্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ছুটে এসেছে, আঞ্চলিক প্রশাসনের টনক নড়েছে, ছুটে এসেছে থানা ও ব্লকের অফিসার,সদর থেকে আসছে চিকিৎসকদল।কারা যে অতিরিক্ত লোভ করলো, নদীর বাসিন্দা মাছ ও নদীপাড়ের বাসিন্দা মানুষকে বিপদী করলো। রোগী নিয়ে আসা আমার পরিচিত একটা উত্তরের আদিবাসী ছেলে গ্রামে ফোন করে বলছে,"সবাই মাছ ফেলে দাও, কিছু বিষ খেয়ে মাছ মরেছে, এগুলো খেলে অসুখ হবে, দক্ষিণের গ্রামগুলোতে হাহাকার পড়ে গেছে।"

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

কবিতা
সমাপন

পড়ন্ত বিকেল,অস্তরাগের ক্ষণ
হাঁটছিলাম চেনা শহরের এক অচেনা মেঠোপথে
গা ঘেঁষে বয়ে গেছে জীবনদায়িনী মুহুরী।

যার সোহাগ দুঃখী জীবনে হাসির রসদ, পোড়া বুকে মুঠোভরা শান্তি। ভালোবাসায় সোনালী রঙে ভরতো মাঠ,চোখে জাগতো স্বপ্ন,কৃষক মনে  আনন্দ বান
সেই পথেই শুনতে পেলুম এক অস্ফুট কান্নার স্বণ
তীব্র হাহাকার, দেখতে পেলুম লালিত স্বপ্নের মৃত‍্যু।

আমি নির্বাক,একাকিনী খোঁজে ফিরি 
পোড়া দেশের বুক জোড়ে ঐ একই স্বণ,
যতই এগিয়ে চলি আরো গভীর হয়,একবার
থমকে দাঁড়াই আনমনে, এবার শুনতে পেলুম
বাঁচানোর প্রবল আকুতি।চঞ্চল মনে সহস্র প্রশ্ন
এই আকুতি তবে কার?

এমনি সময়  শীর্ণ কায়ায় সমুখে দাঁড়ালো একটি ছায়া
ম্লান মুখে তার গম্ভীর জিজ্ঞাসা,
তবে তুমি কি শুনছো আমার কান্না? বেঁচে থাকার আর্জি নিয়ে দাঁড়ালাম সমুখে, ,সহ‍্যের সীমানা ছাড়িয়ে আমি বেদিশার দিশা।

দিনে দিনে ছিনিয়ে নিচ্ছ সবুজায়ন,বাড়ছে উষ্ণায়ন,
জলের হাহাকার, নদী হারাচ্ছে প্লবতা বাড়ছে দুর্ভোগ
প্রকৃতির বুকে দগদগে ক্ষত,গভীর হতে হতে আজ
সংক্রমিত,তাইতো আর্তনাদ,তোমাদের হাতেই আমার
সত্তা,বর্তমানতা।  আমি পৃথিবী করছি অনুনয় 
আমার কান্নার করো সমাপন।

শর্মি দে

কবিতা
নিসর্গ নিঃস্বতার মূককথা

নিঃশব্দ অভিমানের ভার একটু বেশিই হয়ে গেছে
সে কিন্তু পুরোটাই ভরে দিয়েছিলো 
সবুজের স্তব্ধতায়!
নীলাভ আকাশ হরিতাভ পাহাড়
তার মাঝে ছোট্ট বসতি আমার
কী সুখের নীড়! কী সমৃদ্ধির ভিড়!
ধীরে ধীরে নিসর্গ দগ্ধ পথিক অহঙ্কারের মিছিলে
যাচ্ছে হারিয়ে!
আর আমরা, আদিমতা ছেড়ে সভ্যতার দোহাই দিয়ে 
নিরাভরণের পাঠ শিখছি!
এক এক করে আমরা তার সমস্ত অলঙ্কার খুলে
নগ্ন করেছি তার আলিঙ্গন 
আবার সেই নস্টালজিক আমরাই বিশ্বক্ষিধের আগুন জ্যোৎস্নায় তাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছি!
যে নদী মরে গেছে, যে ঘুঘুর ঘর গেছে ভেঙে 
তার মুখে গান শুনবে কী করে!
শুনবে শুধু "ওয়ে" নদীতে বয়ে চলা কান্নার ধ্বনি 
শুনবে সভ্যতার আকাশে বাতাসে ধ্বনিত কবির আকুতি
""দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,..""

May 29, 2023

সুচরিতা পাটারী

কবিতা
বিরাম

নিশ্চিন্তে উপরে দিলাম
মূল-শেকড়ের মতো।
আঁকড়ে যখন ধরলো না সে
আমার দারুণ ক্ষত।।
যাক তবে সে যেথায় যাবে
যেদিক পানে শান্তি পাবে।
আমি আছি আমার পথে 
চুকিয়ে সকল ঋণ।
সে যদি হয় পশ্চিমগামী
 আমি তবে দক্ষিণ।।

সুজন দেবনাথ

কবিতা
পথিবীও আজ লাঞ্ছিত

হে আমার পৃথিবী--
তুমি তো দিয়েছো সর্বস্ব…………বুক চিরে,
উজাড় করে নিজেকে সঁপলে সভ্যতার হাতে।
আমরাই সেই মহান সভ্যতার শ্রেষ্ঠ জীব
পিশাচের মতো সৃষ্টি কে দুহাতে মুখে পুরছি!
ক্ষয়ের তান্ডব চালাচ্ছি তোমার সঞ্চিত গর্ভে 
আমরা যতো পাই ততোই চাই,তৃপ্তি কোথায়?
তোমার এই চির সবুজের সমারোহ আজ
রুক্ষ শুষ্ক জীর্ণশীর্ণ,ক্রমে মরুদ্যানে উন্নিত!
স্বার্থান্বেষনে আমরাই তো ধ্বংস করছি 
তোমারই যত্নে গড়া সুন্দর সাজানো উদ্যান।
দ্রুতহারে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বিশ্ব উষ্ণতা
নষ্ট হচ্ছে ঋতু বৈচিত্র্য,কি নিদারুণ অসময়;
ধীরে ধীরে বৃষ্টি হীনতায় ভূপৃষ্ঠে আসছে খড়া,
বৃক্ষছেদনে ভূগর্ভস্থ জলস্তর যাচ্ছে তলিয়ে!
বুঝি, সভ্যতার হাতে পৃথিবীও আজ লাঞ্ছিত?
ভুলে গেছি,অবহেলা নিজেরই ধ্বংসের কারণ,
জাগো সভ্যতা,চোখ খুলে দেখো সুন্দর। 
যার উপর দাঁড়িয়ে আছি তারে শক্ত রাখা চাই 
সুস্থ রাখতে পৃথিবী সবুজের বিকল্প নাই।
হে সভ্যতা,এই পৃথিবীর প্রাণ সবুজ উদ্যান
তাইতো লাগাতেই হবে গাছ বাঁচাতে এই প্রাণ।

চন্দ্রা বিশ্বাস

কবিতা
বাঁচতে চাই 
      
নিত্যিকার দিনরাত গঙ্গাজলে ধুয়ে 
আবর্তিত অতীতের পুণ্যপাপ ছুঁয়ে 
জীবন মৌন আজ আত্মনিরীক্ষায়। 
উন্মুক্ত জীবনখাতা হাট করে খোলা 
চিত্রগুপ্তের দপ্তরে রেখে তদন্তের দাবি ।
ধন  নয়, রাজ্য নয়, নয় জুড়িগাড়ি, নয় পরমান্ন, 
শুধু দুই মুঠো অন্ন, অন্ন আর জল 
হোক সম্বল আর বিষহীন বায়ু ,
বাঁচাতে জীবনখাতে মাপা পরমায়ু। 
বেশি হল চাওয়া? তুচ্ছ নয়,অতি তুচ্ছ নয়,এই দাবিদাওয়া? 
দাও উত্তর ঈশ্বর,দাও দিতে যে হবেই,
জীবন শায়িত দেখ কফিনে নীরবে। 
উন্মোচিত ওষ্ঠ তার খোঁজে সিঞ্চন ,
জল দাও জল,জলই যে জীবন। 
এক ফোঁটা জল আর একমুঠো বায়ু ,
জীবন পাবেই ফিরে হারানো পরমায়ু। 
প্রকৃতি উঠবে জেগে সবুজ বিপ্লবে ,
ভালবাসা আঁকা হবে জীবন উৎসবে। 

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

কবিতা
উনিশের পতাকা

উনিশ এখন সর্বজনীন উঠোনে
ছক কেটে খেলে এক্কা দোক্কা 
খেলা সাঙ্গ হলে হাইবারনেসন কাটিয়ে 
নেকটাই পরে দেয় ছুট সোজা।
ভোকাট্টা হয়েছে রঙিন ঘুড়ি দূর দিগন্তে
খালি পায়ে দৌড়ে যায় উনিশ,
বাতানুকুল রুমে ডানা মেলে আকাশে
আধুনিক উনিশের দীর্ঘশ্বাস।
ফুল ফেষ্টুন হাতে পদযাত্রায় চলে
উনিশ আদর্শে বিশ্বাসীরা।
আমি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি
উনিশের পতাকা।
আশায় বুক বেঁধেছি,  
ওরাই উড়াবে মাতৃভাষার ধ্বজা ।।

নিলীমা বেগম

কবিতা
দহন

আমার একটা প্রেম হতেই পারতো_
কত ভেবেছি, তোমায় নিয়ে কৃষ্ণচূড়ার তলায় বসব, 
তুমি, একটা ফুলের ডাল ভাঙার জন্য লাফাবে, 
আমি খিল খিল করে হাসবো_

কিছু বনধ্বংসীদের জন্য হলো না।

আজীবন বুকে লালন করা রক্ত পলাশ, দাবানল জ্বালালো। 

বাইরে ঝড়ের তান্ডব, অন্তর চির সবুজ।

সোনালী মণ্ডল

প্রবন্ধ
পরিবেশ ও আগামী প্রজন্ম

আজ থেকে 30 বছর আগেও আমাদের প্রতিটি মানুষ এর মধ্যে একটা সম্প্রীতি রক্ষা র মনোভাব প্রকাশ পেতো সেটা এখন খুঁজে পাওয়া ভীষণ দুর্লভ।মানুষ মানুষকেই শোষণ করে চলেছে প্রতিনিয়ত, শোষণের  ধরনটা আলাদা আলাদা,কেউ শোষণ করে  শারীরিক দিক থেকে আবার কেউ শোষণ  করে মানুষিক দিক থেকে,এই শোষণ  করাটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে জঙ্গলের পশুর উদাহরণ আসবে প্রথমেই,পশুও অনেক সময় অন্য  পশুকে নিস্তার দেয় কিন্তু মানুষ পশুর থেকেও অধম অথচ পৃথিবীর সব থেকে উন্নত জীব এই মানুষই।জীববৈচিত্রের সৃষ্টির কাল থেকে মানুষ এই পর্যন্ত তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তার বিকাশ করে চলেছে, পার করেছে  হাজার হাজার বছর, ধিরে ধিরে  সৃষ্টি করেছে আধুনিক সভ্যতা।সভ্যতার ইতিহাস কে দিয়েছে অতি আধুনিকতার উপহার,এমন ভাবনার ফসল মানুষের আত্মঅহঙ্কার।আর এই অহঙ্কার  বোধ থেকে লালসা লোভ।মানুষ নিজের লোভ লালসার শিকার হিসাবে এই প্রকৃতির সম্পদকেও ছাড়েনি।প্রতি নিয়ত চলছে পরিবেশের ধংস লীলা,এর ফলে একটি শিশু হারাচ্ছে খেলার মাঠ  কৃষক হারাচ্ছে সোনার ফসল উৎপাদনের খেত জলের প্রাণীরা হারাচ্ছে জলাশয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং র অধিক তাপ প্রবাহে গলছে হিম আরো এমন অনেক উদাহরণ আছে।মানুষ নিজেকে এতটাই শক্তিশালী মনে করে যে তারা ভুলে যায় তাদের থেকেও বড় শক্তিশালী হয় প্রকৃতি,সেই প্রমাণ দিতেই চোখে আঙুল দিয়ে প্রকৃতি বুঝিয়ে দিল করোনা ভাইরাস নামক একটি মারণ রোগ, এরকম পূর্বেও বেশ কিছু মারণ ব্যাধি এসেছে পৃথিবীতে তবুও মানুষ তার ক্রিয়া কলাপে কোনো পরিবর্তন আনেনি।এখনও চলছে প্রকৃতির ধংস লীলা।একটু গ্রাম ছাড়িয়ে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় শুধু ইমারত নির্মাণ,কোথাও অরণ্যের দর্শন তাও ছিটেফোঁটা যেদিকে চোখ যাবে শুধু ইমারত আর ইমারত।আমরা স্কুল জীবনে সকলেই জেনে থাকি নিউটনের তৃতীয় সূত্র,প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে,ঠিক তেমনি যদি  তুমি প্রকৃতির সম্পদ সবুজ কে ধংস করো তাহলে প্রকৃতিও তার প্রতিশোধ নিতে তার দৃষ্টান্ত রাখবে,এই মারণ রোগ গুলি তারই ইঙ্গিত দেয়।গ্রাম গুলি আছে বলেই এখনও পরিবেশ কিছুটা হলেও রক্ষা পায় আর না হলে আরো কত কী দেখার ছিলো সেটা অনুমান করা যায়।প্রকৃতি কে ধংস করে আবার প্রকৃতি কেই বছরের একটি বিশেষ দিনে ঘটা করে পরিবেশ দিবস পালন করা এটা একটা উপহাস সমতুল্য।আমরা উন্নত হচ্ছি ভাষায় ব্যবহারে আচরণে কিন্তু মনুষত্বের বিচারে শূন্য।আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে তাই আমাদের মনুষত্বের বিবেক কে জাগ্রত করতে হবে,শুধু বছরের একটি বিশেষ দিনে বৃক্ষরোপণ নয় অন্য সকল দিন গুলিতেও সমান ভাবে পরিবেশ বন্ধুর কর্তব্য পালন করতে হবে,তাহলেই সম্ভব এই পৃথিবীর ভারসাম্য জীববৈচিত্রের।বিশ্ব পরিবেশ দিবস হোক প্রতিটি প্রাণের প্রকৃতি প্রেমীর নামে,এমন ভাবনায় বদলাতে পারে আগামীর অশনি সংকেত কে।

আমিনুল ইসলাম

কবিতা
অকৃতজ্ঞ

আজকাল চারিদিকে লেলিহান শিখা
আর আগুনের মত তপ্ত রোদ,
এ যেন এক প্রকার শাস্তি।
পকৃত বন্ধু কে যেন চিনতে পারছি না
গ্রাম থেকে শহর তৈরি করি গাছ কেটে,
রোদ যেন সন্ত্রাসীর আকারে আঁকড়ে আছে
আমাদের জন জীবনে।
গাছের সাথে শত্রুতা করে নিজের পায়ে দিচ্ছি কুড়াল।
পাকৃতির সাজে সাজতে চাই,সবুজ বনানী দেখতে চাই
কিন্তু গাছ লাগাতে চাই না।
ঠান্ডা হওয়া চাই, মিষ্টি রোদ চাই কিন্তু গাছ লাগানো হচ্ছে না।
আবার নতুন করে পৃথিবী সাজাতে চাই
কিন্তু গাছ লাগানোর কথা ভুলে যাই।

রীতা চক্রবর্তী ( লিপি )

কবিতা
বাতাসের গান

সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল
মেঘমল্লারে ছিল বাতাসের গান,
শঙ্খচিল ডানা ঝাপটে খুঁজে ছিল
আকাশের নীল,
মেঘের ফাঁকে উঁকি দিয়ে যাওয়া
রোদেলা দুপুর ছিল মৃয়মাণ হয়ে।
আরো ছিল আসন্ন কালবৈশাখীর
ঘনঘোর ঘনঘটা আকাশের শরীর জুড়ে।
হঠাৎ মেঘের আড়ালে সেই প্রিয় মুখ—
আমি তার অপেক্ষায় ছিলাম
জানি তাঁর হাত ধরে জোৎস্না দেখা
কোনদিনই হবে না আমার
ইচ্ছেটা শুধু ইচ্ছেই থেকে যাবে
তবু সে ভালো থাকুক তাঁর নতুন ঠিকানায়,
নতুন করে বেঁচে উঠুক তাঁর অপ্রাপ্তির সুখ স্বপ্নগুলো
শুধু আফশোস থেকে গেল 
যখনি প্রত্যাশা থাকে এবার হয়েছে সময়
পিছু ফিরে চেয়ে দেখি,কোন ক্ষণে সন্তর্পণে
গেছে সে চলে।।

ভবানী বিশ্বাস

কবিতা
রাইখ্যা দিও

আমারে তুমি রাইখ্যা দিও, 
যেমন কইরা নদীর জল বইয়া গেলেও
রাইখ্যা যায় তার চিহ্ন! 

গাছ মরনের আগেও
ফুটাইয়া দেয় ফুল, 
থাইক্যা যায় বীজ। 

বীজ থেইক্যা আবার হইব জন্ম... 

মাঝে মাঝে মনে হয়, 
তুমি রাখলে থাইক্যা যাইতে পারুম। 

তুমি বাঁচাইলেই পামু প্রাণ... 
তুমি রাখলে মৃত্যুর কী সাহস 
যে ছিন্ন করব মন!

ছন্দা দাম

কবিতা
শিশুর আক্ষেপ

পৃথিবীটা তো গ্রাস করলে
আকাশটাও খাও,
মেঘ বালিকা বন্ধু আমার
গিলে খেয়ে শান্তি পাও!!

পাখিগুলো বড্ড প্রিয়
আমায় কবিতা শোনাতো,
গাছগুলোকে কেটে নিয়ে
বন্ধ করেছো সেই পথও।

কথা বলতাম একা ঘরে
প্রজাপতির সাথে তখন,
মনেই হয়নি বন্ধু নেই
ফড়িং ও হারিয়েছে কখন!

এখন কানামাছি খেলবো
গাছেদের ও নেই আড়,
বড্ড শ্বাস নিতে কষ্ট
ধোঁয়া ধূলোয় জেরবার। 

দড়ির দোলনায় দুলবো
শুয়ে শুয়ে দেখবো আকাশ,
গাছগুলো কেটে ছারখার
সেই স্বপ্ন ও হারালো এবার।।

আচ্ছা বড়ো মানুষেরা
তোমাদের কেন এত লোভ,
অসহ্য গরম...কাঠফাঁটা রোদ্দুর
তোমাদের দোষেই তো এই প্রকোপ।

সুমিতা চৌধুরী

কবিতা
চলো সবুজ শহর গড়ি
      
আমরা যখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে বন্দী,
ঠিক তখনই প্রকৃতি মেলেছিল  তার ডানা,  
দূষণহীন স্বাতন্ত্রের অবসরে,  
স্বচ্ছ হচ্ছিল তার নির্বাসিত, নিজ রচিত শিল্প।
যেন পূর্ণাবয়ব চিত্র ফুটে উঠছিল নয়া ক্যানভাসে। 
তবু তার মনের অলিন্দে ক্ষত ছিল বড়োই গভীর, 
তাই সে, সেই রোষে আজও  ফেটে পড়ে মুহুর্মুহু,
প্রচন্ড তেজে, রুদ্র তাণ্ডবে আঘাত হানে মানবসভ্যতার উপর। 
আমরাই পারি তাকে শান্ত করতে, 
রাখতে অমলিন তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যকে,
করতে নবজীবন দান, প্রকৃতি তথা মানবসভ্যতাকে।
বিলাসবহুল জীবনযাত্রকে খানিক লাগাম টেনে,
আবর্জনার পাহাড় নামিয়ে,
রাসায়নিকের প্রয়োগ কমিয়ে, 
প্লাস্টিক বর্জন করে। 
চলো গাছ লাগাই, তোমার-  আমার ছাদে, বারান্দার টবে, রাস্তার ধারে, 
সবুজ হোক শহর।
বাসা বাঁধুক পাখি আপন নীড়ে, 
দিনগুলি হোক মধুর, সুন্দর, 
পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙা এক ভোরের আলিঙ্গনে। 
প্রকৃতি হোক শান্ত, নিজ বৈচিত্র্যতায় সুন্দর, চির সবুজ, 
সকল ঋতু তার নিজ রূপ মাধুরীতে দেখা দিক আবার এই ধরার 'পরে।
বুক ভরে নির্মল শ্বাস নিয়ে বাঁচি তুমি- আমি, 
তোমার- আমার হাতে গড়া সবুজ শহর যে, ভীষণরকম দামী।।