Feb 21, 2023

মীরা পাল

শহিদের নি:শ্বাসে

ভাষার পিদিমে লালচে পূব আকাশ
শত শত বেদী মূলে শহিদের নি:শ্বাস;
সেজেছে কৃষ্ণচূড়া আর পলাশ রাঙায়ে
শ্রদ্ধায় আনত রক্তস্নাত আত্মবলিদানে।

অ আ ক খ বর্ণেরা আজও সংগ্রামী মিছিলে 
প্রতিবাদ প্রতিরোধের ভাষা উনিশ একুশে,
শিশু কুঁড়িদের জন্মগত বুলি
কৃষকের মুখের ভাষা 
মাঝিমল্লারের ভাটিয়ালি গান...
সোচ্চারে বেঁচে থাকুক বলার ভাষা নিজস্বতায়,
লাভ করুক স্বীকৃতি ধ্রুপদী বর্ণমালায়।

স্বপন গায়েন

ঝলসে যাওয়া রুটি
 
ঝলসে যাওয়া রুটির মতো শরীর
পোড়া পোড়া গন্ধ পাই অজানা অন্ধকার থেকে
হিম পড়ছে, তবুও পরোয়া নেই এই জীবনের
বাঁচা মরা তো উপরওয়ালার হাতে ...

সন্ধ্যা নামছে চরাচর জুড়ে
চাঁদের পোড়া শরীর দেখে তার জ্যোৎস্না উপভোগ করে
কিন্তু মানুষের পোড়া শরীরে দগদগে ঘা
শুকিয়ে যায় না কখনও আরো বেড়ে যায় সময়ের সাথে সাথেই।

চাঁদের মায়াবী আলোয় আলোকিত হয় সর্বত্র
জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সভ্যতার কৃত্রিম রঙ
পোড়া শরীর বাইরে দেখাতে লজ্জা নেই
চাঁদ ডুবে যাক, আবার উঠবে -
মানুষ ডুবে (মরণ) গেলে একটা অধ্যায় শেষ।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

মনের আকাশে

সময়ের  অবসরে দিন বড় অল্প সময় নেই কারো ,
খবরের প্রয়োজন সিমাহীন ব্যস্ততার ভিড়ে ৷
জমে থাকা নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস 
বিদির্ন করে দেয় পৃথিবীর বুক , 
জল ভরা দুটি চোখ গোনে প্রতীক্ষার প্রহর অধীর আগ্রহে৷
সহসা জড়িয়ে ধরে আলোকের পৃথিবী,
সারিসারি অভিমানি মেঘ দুরে সরে যায় 
ঝরে পড়ে আনন্দের অশ্রু কবিতার আকারে৷
শতশত কবিতা ছড়িয়ে যায় উজ্বল নক্ষত্রে
ভালবাসার জলসাঘরে ,
চাঁদের জোছনা নিশিথের রাগিনীকে ভরিয়ে তোলে  মুচ্ছর্নায় ৷
নূতন সূর্যের রক্তিম আভায় রাঙা মনের আকাশ,
পলাশ ফোটে বয়ে যায় বসন্ত বাতাস অভিমানি মেঘে ৷
মেঘ ঝরে পড়ে বৃষ্টির সুরে শ্রাবণের ধারা হয়ে,
ধুয়ে যায় যত স্তুপিকৃত বাষ্পরাশি ধুলোবালি বৃষ্টির জল কণা দিয়ে ৷

শ্রী অভিষেক অধিকারী

অসময়ে

যারা অসময়ে ভিজেছিল,
তাদের একটা প্রশ্ন করা যেতে পারে
বাস্তব এর সঙ্গে পরাবাস্তবতা মিলে কি
তৈরী হতে পারে একটা যাপনচিত্র।

যারা অসময়ে লড়াই করেছিল,
তারা সমুদ্রের তীরে ঝিনুক কুড়াতে 
কুড়াতে যুদ্ধ বন্দীত্বের স্মৃতিচারণ করেছিল,
একটা স্মৃতির সরণী পাওয়ার। 

যারা অসময়ে প্রেম করেছিল,
তারা লিখতে পারে
নিজের বুজে যাওয়া কল্পিত অনুরাগের চরণ।
তারা ডাউন মেমোরি লেনের সরণীতে
আবার খুঁজতে পারে একটা ফাঁকা সম্পর্ক।

প্রদীপ কুমার মাইতি

অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারি

বাঙালীর বুকে চির অমর
২১ শে ফেব্রুয়ারি,
বাংলার বুকে মাতৃভাষা 
চিরদিন রবে জারি।
একুশে ফেব্রুয়ারি গর্ব মোদের
ভাষা বিজয়ের দিন, 
বিজয় গর্বে প্রতিটি সকাল 
থাকবে সারাদিন। 
রাষ্ট ভাষা বাংলা হোক
লড়াইয়ের ময়দানে,
শহীদ হয়েছে কত বাঙালী 
তাদের জীবন দানে। 
যাদের ত্যাগে বাংলার ঘরে
বাংলা বর্ণমালা,
তাদের স্মৃতিতে জানাই প্রনাম
সাজিয়ে বরণ ডালা।
একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষায় 
ভোরের সূর্যোদয়,
একুশে ফেব্রুয়ারি ইতিহাস আজ
সারা বিশ্বময়।

ছন্দা দাম

আমার একুশে

একুশে আমার হৃদজমিনে খনন করা...
রক্তরঞ্জিত একটা টলটলে বেহসতের ঝিল,
একুশে আমার মায়ের জিভে দোল খেতে থাকা...
মায়াময় ঘুমপাড়ানির প্রাণ ছোঁয়া অন্তমিল।

একুশে শরতের শিউলির সৌরভ নয়...
পলাশ অশোক শিমুলের খুনরাঙা উপাখ্যান,
মায়ের বুকের হারানো সন্তানের ভালোবাসার ধন...
দামাল ছেলেদের হাতে উড়তে থাকা বিজয় কেতন।।

একুশে শেখায়নি হেরে যেতে..
মায়ের পায়ে প্রাণের কুসুম দিয়েছে ছড়িয়ে,
মাতৃভাষার মাতৃদুগ্ধ রক্তের প্রতিটি কণায় মিশে,
কখনো যাবে না হারিয়ে।।

বাংলা মায়ের আঁচলের ছায়ায় বেড়ে উঠা আবেগ অভিমান আশা ভালোবাসা,
একুশে বাঙালির হৃদয়ের গভীরে জিইয়ে রাখা দুরন্ত বেঁচে থাকার নেশা।।

অলকা গোস্বামী

মাতৃভাষা

মাতৃভাষা বসন্ত - ফুল, উত্তাল যৌবন,
মাতৃভাষা অধিকার বোধ লড়াই প্রাণপন,
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল
আজীবন জেগে থাকার গান,
কর্মব্যাস্ত ক্লান্ত রাতে,
মাতৃভাষা স্বপ্নের সন্ধান।

গৌরবের এই মাতৃভাষা,
বিশ্বজোড়া খ্যাতি তাঁর,
যুগে যুগে অমর তুমি
মাতৃভাষা লহ প্রনাম।

রমা চন্দ্র

শেকড়ের সান্নিধ্য

ভালবাসি শেকড়ের সান্নিধ্য
বাংলা মায়ের কোল
খুব ভালোবাসি আমি
বাংলা ভাষার বোল।
বাংলার সোনার মাটি...
পুকুর নদী ঝিল
অরণ্য ক্ষেত-প্রান্তর 
সবুজ জীবন সরল অন্তর।
আমি গর্বিত বাঙালি
সুমধুর বাংলা ভাষাতে
কথা গান গল্প বলি...
আমরা কৃষ্টি সংস্কৃতি সভ্যতার স্বপ্ন দিশারী।
এই বাংলায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মানবপ্রেমী বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল
সনেট স্রষ্টা মাইকেল মধুসূদন দত্ত
আরও গুণী শ্রেষ্ঠ কতশত!
মাতৃভাষা রক্ষার্থে- 
বাংলার বীর সন্তান
দিয়েছেন প্রাণ বলিদান
সেই শহীদদের লাল রক্তে-
বিশ্ব মানচিত্রে আঁকা
বাংলা অক্ষরের চির উজ্জ্বল সম্মান।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

একুশ, আমার পরিচয়

"একুশ" আমার বুকের ভিতর একটি লাল গোলাপ
আদরে সোহাগে আগলে রাখি লাগতে দেই না আঘাত ।
মাতৃভাষার জয়ের কাহিনি শোনায় অমর একুশ  
চেতনায় জাগে নতুন জোয়ার আশায় ভরে বুক ।
শত চেষ্টাতেও পদানত হয়নি আমার মুখের ভাষা 
পৃথিবীর তিন দেশেতে দেখো উজ্জ্বল বাংলা ভাষা।
বর্ণপরিচয় আর বাল‍্যশিক্ষা মনের গভীরে প্রোথিত 
মননে, যাপনে, চিন্তনে, সৃজনে সদাই উদযাপিত।
বাহান্নতে বুলেটে ঝাঁঝড়া হৃদয়তন্ত্রী থামেনি
সহস্রকোটি রক্তবীজেরা এখনো দাপায় পৃথিবী।
আজো পথ দেখায় সালাম রফিক বরকত জব্বার
সেই পথে ছোটে ভাষাসেনানীরা দুর্বার অনিবার।
কোন ক্ষমতায় সম্ভব নয় মুখের ভাষা কাড়া
মাতৃভাষার অগাধ জোর তরবারি থেকে বাড়া।
লাল রঙে ধোওয়া বাংলাভাষা সূর্যের মত সত্যি 
যতদিন থাকবে চন্দ্র সূর্য ততদিন দেবে শক্তি।
নিপীড়নের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার অস্ত্র এই একুশ।
পৃথিবীর সব মাতৃভাষা উদযাপনের একুশ।।

রীতা চক্রবর্তী

অমর একুশে

এসেছে বসন্ত, ফাগুনের বিষাদ বেলার
একুশের অশ্রু মেখে—
রক্ত ঝরিয়ে ছিনিয়ে এনেছে
বহু সংগ্রামের অর্জিত ফসল
প্রাণের মাতৃভাষা।

একুশ মুক্ত করেছে বাংলাভাষা
কত শত শহীদের রক্ত দামে কেনা,
ভাষার জন্য শহীদ যাঁরা
শোধ হবেনা তাদের দেনা।

ঢাকার রাজপথ রক্তে রাঙিয়ে
সেদিন একুশের ভাষা তর্পণের কান্ডারী ছিল ওরা—
সালাম,রফিক,বরকত,সহ
আরো কত কত শহীদের আত্মবলিদানে
অমর একুশ হয়ে গেল
অক্ষয় অম্লান।

ওরা ঝরে গেছে, বিনিময়ে দিয়ে গেছে
সুললিত বাংলাভাষায় প্রাণ,
আজ এ ভাষাই পেয়েছে
বিশ্ব দরবারে জাতীয় সম্মান।

শ্বেতা ব্যানার্জী

মাতৃকোষ

একলা দুপুর নির্জনতায় আয়েশি হয় জানি,
ক্লান্ত পুকুর মাখছে দুপুর তবুও টানছে ঘানি।
কোন ঠিকানায় যায় বলাকা সাঁতারে আকাশ খানা,
উদ্দেশ্য হীন সাঁতরে চলা গন্তব্য অজানা...। 

আসবে সুদিন হাসবে ভাষা, জন্মদিন তার-ও, 
লাল গোলাপের ঝাঁকে ঝাঁকে উদাসিন চোখ কার-ও।
গোলাপ ছুঁয়ে দেখবে তখন কাঁটাতারের বেড়া,
কোন সৈনিক কানের কাছে নিত্য দেয় পাহারা। 

আজও শুনি মাতৃভাষা মাতৃকোষেই মজুত, 
সীমান্তের ওপার-এপার পারানিতে রাষ্ট্রদূত। 
কম্পাসের দিক নির্ণয়ে অশনিসংকেত  ভাসে, 
তবু,কবর ভেঙে স্বপ্ন খুলে  শহিদ ভাইরা হাসে।

ভাষার রক্তে লাল হয়েছে সবহারাদের পথ,
সব হারিয়ে শব পেরিয়ে ঐ আনছে জয়রথ। 
বর্ণমালায় হাত রেখেছে প্রত্যয়ী যত মুখ...।
স্বর্গ তখন বিস্বাদ লাগে মাতৃভাষাতে ই সুখ।

অ- বলতে অজগর বুঝি, আ- বলতে আম,
বর্ণমালা ছুঁয়েছি 'মা' হারিয়ে অনেক প্রাণ...।
আজও তবু গলায় ঝোলে অনেক দুঃখসাজ,
আমার চাওয়া উদ্ভিদে ঘাসেজলে ভাষার সম্মান।

প্রীতম চক্রবর্তী

বাঙালির ভাষা

বাঙালির অন্তঃপ্রাণে লুকানো আবেগ,
পরিস্ফুটিত হয়ে জেগে উঠে
বাঙালি কন্ঠের ভাষ্যলহমায়।
বৈশাখের ভোরে রবীন্দ্রসঙ্গীত কিংবা
শিউলির গন্ধমাখা আগমনী গানে,
বাঙালি যৌবন খুঁজে পায়,
"কারার ঐ লোহ কপাত" শুনে।
বাঙালি অমর।
জীবনানন্দের কবিতায় তারা বারবার 
নানারূপে ফিরে আসে সোনার বাংলায়।
বাঙালি নির্ভীক।
তাদের শিরায় বইছে নেতাজী, বিবেকানন্দদের রক্ত।
বাংলার মাটি বাঙালির কাছে মা।
তাই বাঙালি কৃষক লাঙ্গল চষে,
দিনশেষে শুয়ে পড়ে সেই মাতৃক্রোড়ে।
বাংলা ভাষা, বাঙালির প্রাণ।
সেই ভাষায় ভালোবাসা-সুখ-প্রতিবাদ
ব্যক্ত করে বাঙালি যুগে যুগে
উন্নতশীরে দন্ডায়মান।

পারমিতা মুস্তাফি

সত্যের লোক (গল্প)

সত্য জানলার দিকে তাকিয়ে বসে আছে, কখন বৃষ্টি আসবে জানে না। মনে হয় তার বাঁ দিকে কেউ রয়েছে চেয়ে, দিগন্তবিস্তৃত চোখ দুটো তাকে খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে। সত্য ভাবলু হল আজ, তার নাম দিয়েছি সাথী। সত্য আপন খেয়ালে চলে প্রতিবার।

তার ঠোঁটের কোণে মিষ্টি সুবাস এলো। সত্য চেয়ে আছে ফুলের গন্ধের দিকে। তার মা এলো কাছে, বলল চল আমার সাথে স্বর্গে। সত্য কেমন যেন মূর্ছা গেল। সত্যর অদ্ভুত লাগত ঐ চোখ দুটো। যেন সে কাম্য না ঐ চোখের দিকে তাকাতে। সত্য অদ্ভুত বিচরণ  করত  খাটে, এর প্রান্ত থেকে অপ্রান্তে। সত্য চিন্তামনিকে ডাকলো কাছে। চিন্তামণি হঠাৎ উড়ে গেল পাখার সাথে শুয়ে। সত্য জেগে আছে তখন। সত্যর ভেতরে ভেতরে দুচিন্তা হত। সত্য যেন মহাজাগতিক  রূপে আসবে বনগাঁ  এ। সত্য ছিল এক সাঁঝবাতির প্রলেপ। সত্যর বয়স তখন এক। সত্যর মা খেলতে খেলতে মারতো সত্যকে। সত্য যখন বড় হলো তখন দুধ কলা দিয়ে পুষত  তাকে। সত্যর বয়স যখন আঠেরো তখন প্রেমে পরল  একটা মেয়ের। মেয়েটির নাম রুপা, বয়স তার তেরো বছর। সত্যর মা কিছুতেই তার দেবে না বিয়ে। সত্য ভাবল রুপা চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু রুপা বেশ অবলীলায় বলত  আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। সত্যর মা এখন অস্তাচলে। সত্য তখন জড়িয়ে ধরত মাকে। সত্য বুঝল  মা নিরুদ্দেশ এর পথে গেছে। সত্য একটু একটু করে তাপ দিত গায়ে। সত্য শেষ হবার ঝুকি নিল  আজ যেন সে চৌকাঠ পেরিয়েই  স্বর্গ খোঁজে।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

অক্ষরের স্তবক 

পাহাড়সম হিসেবের বোঝা মাথায় নিয়ে শহরের  অলিগলি পথে উদ্ভ্রান্তের মতো খোঁজে মরি অস্তিত্বের ইতিহাস,

রুক্ষতার মাঝে তীব্র  বিরহের গতি ফাঁকা প্রান্তরে হৃদয়ের  দীপচন্দী-, 
ধূ ধূ মরুর  তরঙ্গায়িত আন্দোলনের  সুর তিল তিল করে গড়ে তোলে এক ব্যাকুলতা,

হৈ হোল্লোড় করে আঁধার  এসে গ্রাস করে যেমন, তেমনি গুটি গুটি পায়ে আলোও আসে, 
বাস্তবে শাশ্বত বলে কিছু হয়না,
সবই চাপা বিবর্ণ  পাতার মতো ঝরালো শব্দ,

ঝড়ের রোমাঞ্চ বুকে নিয়ে নক্ষত্রের  গন্ধে রোদের ভিতর জন্ম  হয়েছিল ভালোবাসার, 
তাই বিস্ময়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আজও  লিখে যাই পরিক্রমী অক্ষরের স্তবক।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

বুলি

উনিশ আমার রক্ত কণিকা, একুশ বুকের পাঁজর
দুটোই আমার মুখের ভাষা, দুটোই লিখার আখর।
বাংলা আমার মায়ের গর্ভ, বাবার জন্ম ঋণ
বাংলাতেই ভাবনা আমার মগজে রাতদিন।

রক্ত ঝরা শিকড় বেয়ে এসেছে ভাষার ধারা
মৃত্যু তাদের অমর করেছে প্রাণ হারাল যারা।
কৃষ্ণচূড়া, অশোক ,পলাশ আগুনফুলের মালা
শহীদ বেদী সাজিয়ে রাখে ভালবাসার ডালা।

এই ভাষাতে কথা বলি, এই ভাষাতেই লিখি
এই ভাষাতে শুনি আর এই ভাষাতেই দেখি।
আগলে রাখি মধুর আমার মায়ের মুখের বুলি
এ যে আমার পরিচয়, বল কেমন করে ভুলি! 

অভিজিৎ পাল

অমর একুশে  

কৃষ্ণচূড়ার আগুন রঙে ফাগুন দিনে 
শহীদ হয়েছিল যারা অম্লান বদনে , 
ভুলি কী করে আমার বর্ণমালা যে রক্তমাখা হয়েছিল -
সেদিন , আকাশ বাতাস ভারী হয়েছিল কত মায়ের রোদনে । 

বাংলা আমার , বাংলা সবার
বাংলার জন্যেই একুশে ফেব্রুয়ারি বার বার , 
বাংলার জন্যেই হৃদপিন্ডে রক্তজোয়ার
এই বাংলার জন্যেই শহীদ -
রফিক-সালাম-বরকত-সফিউর-জব্বার । 

বায়ান্নর সেই শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে
আচমকা হায়েনাদের গুলির ঝরে , 
কত যে সন্তানহারা মায়ের কান্না-
নীরবে নির্জনে আজও গুমরে মরে । 

বাংলা আমার বুকের ভিতর
শহীদ বেদী ঘুরে ঘুরে , 
'আমি বাংলায় গান গাই/বাংলার গান গাই'
প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সুরে সুরে । 

একুশের ওই ঢাকার শহীদেরা
বেঁচে থাকবে নীরবে কোটি কোটি বাঙালির অন্তরে , 
একুশের আগুন জ্বলুক নব প্রজন্মের বুকে-
ধিকি ধিকি , সুরমা থেকে বরাকের এপারে ।

ঝিমলি আচার্য

ঝঙ্কার 

মাতৃভাষার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি,
শহীদ "মা " এর  ত্যাগের প্রতিকার ।
ভাষা আন্দোলনে সমগ্র বীর শহীদদের প্রতি অফুরন্ত  ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মানে " চির অঙ্গীকার" ।
রফিক, সালাম ,আব্দুল জব্বার ,শফিউল ,বরকত --
নিরলস সংগ্রামে গড়েছ সংস্কার ।
ধ্বনি, বর্ণ ,শব্দ ,ভাব প্রকাশে মাতৃভাষা 
অবর্ণনীয় আবিষ্কার ।
ভাষায় পূর্ণতা আনে, ভাষারই নিয়ম-নীতি 
শৃঙ্খলার লিপিকার ।
মাতৃভাষা আমাদের সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন,
ন্যায্য অলংকার ।
চলার পথে সমগ্র ভাষার প্রতি সম্মান 
ও আয়ত্বে আনা কঠিন ,তবে চমৎকার ।
ভাষার অধিকার ,যোগায় বাঁচার তাগিদ  
জাগায় অহংকার ।
সাহিত্যে অবারিত প্রতিভার ধারা ,
ভাষারই টংকার ।
বাচন কৌশল ঘটায় মিলন ,
হিংসা ,রণহুঙ্কার ।
জীবন শৈলীর অন্তরালে ভাষা' ই 
প্রাণের স্পন্দনের ঝংকার ।

জগন্নাথ বনিক

রক্তে রাঙানো 

একুশ মানে রক্তে রাঙানো,
 রঞ্জিত রাজপথ।
একুশ মানে মায়ের ভাষা,
বাংলা ভাষার শপথ।।
একুশ মানে শ্রদ্ধা জানানো,
বীর শহীদের প্রতি।
বাংলা ভাষা পেয়েছে আজ,
রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতি।।
একুশ মানে বীর শহীদের,
 আত্ম বলিদান।
বৃথা যায়নি তাজা রক্ত,
এসেছে বাংলা ভাষার সম্মান।।
একুশ মানে ভাষার লড়াই,
যারা দিয়েছে প্রাণ।
সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, সফিউর রহমান।।
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস,
একুশে ফেব্রুয়ারি।
বীর শহীদের শ্রদ্ধা জানতে,
ফুল নিয়েছি যত্ন করি।।

কাজী নিনারা বেগম

এসেন্স 

পৃথিবীর নতুন এসেন্স এ ডাকছে তোমায়,
সূদূরে রয়েছো চারমিনার গেটে।
তোমার স্নিগ্ধ হাওয়া মাতাল এসেন্স ভেসে যায় বন্দরের দিকে।
আমি গরাদের ভেতর হাঁস ফাঁস,
সূদূরে চারমিনার গেটে দাঁড়িয়ে ।  
বিষন্ন সৈকতে সু্র্য দেবতা আজ খানিকটা সময় নিরাশার দোলাচলে। 
অন্ধ বাতিঘরে কামসূত্রের পোতাশ্রয়ে আমাকে নিবে আশ্রয়ের খোঁজে। 
নতুন পৃথিবীর আশ্রয়ের জন্য নিবে নতুন পৃথিবীর এসেন্সের নতুন পারফিউমের ফেলে দেওয়া বোতলে ,
চুমুক দিয়ে নতূন কোন   সুদূর পরাহত এক দ্বীপের দিকে।
মৃতুর কাছে যাওয়া দূরত্বের সাথে প্রতিদিন।

কল্যানী ভট্টাচার্য্য

অহংকার

মাটির বুকে লুটিয়ে পড়ে ভাষার জন্য কত প্রাণ
রক্ত জমার পলাশ বনে বর্ণমালা ছড়ায় গান। 
মান রাখিতে মাতৃভাষার হয়েছে কত প্রান বিসর্জন
মিছিল চলে এই জনতার বাহান্নরই সালে। 
বাংলা মোদের রাষ্ট্র ভাষা মোদের প্রানের ভাষা
যে ভাষাতে শিখেছি কথা মাতৃজঠর কালে। 
বিশ্বে দেখো কোথাও নেই এমন ইতিহাস
ভাষার জন্য মাটির জন্য রক্ত মাখা পলাশ। 
ছয় ঋতুর এই বাংলা ভাষা বারো মাসে ঘেরা
মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা সবার মাঝে সেরা। 
নদীর পাড়ে বাড়ি আমার বাংলা মায়ের কোলে
নদীর জলে অঙ্গ জুড়ায় নাইতে নেমে জলে। 
এই ভাষাকে কদর দিতে রক্তে রঞ্জিত রাজপথ
ছিনিয়ে এনেছো বাঙালীর অধিকার বুলেট আর বারুদের গন্ধে। 
আমি বাংলাকে ভালোবাসি বাংলায় কথা বলি
মাতৃগর্ভে দশ মাস দশ দিন থেকে পেয়েছি বাংলার ঘ্রাণ। 
বাংলা আমার সারা শরীরের বিন্দু বিন্দু ঘাম
বাংলা আমার রক্তের ভাষা আমার স্বাধীনতা। 
হৃদয় তন্ত্রে শিহরণ জাগায় আমার মায়ের ভাষা
বাংলা আমার আশার আলো আমার মুক্তির পথ। 
যে ভাষাতে মধুর সুরে ডাকছে কোকিল গাছে গাছে
এই ভাষাতেই আমরা শুনি নদীর কলতান। 
একাত্তরের নতুন প্রভাত লাল সবুজের দেশ
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ বাংলা ভাষার রেশ। 
বাংলা আমার মায়ের আঁচল আমার কন্ঠ হার
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা আমার অহংকার।