পঁচিশ বছরের ঘুম
রাত পোহালো!
অনড় অসাড় শরীরটা নিয়ে মিতার আজ আর উঠতে ইচ্ছে করছে না। সারা রাত জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিল শরীর।
তা সত্ত্বেও পিয়ালের জৈবিক ক্ষুধা মেটানোর প্রতি তার কর্তব্যবোধে কোনো খামতি নেই।
আবার ঘুমিয়ে পড়ে! হঠাৎ চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেলো।
পিয়াল চিৎকার করছে!! "বাবাই স্কুল কামাই করবে নাকি?" নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন মহারাণী! গজগজ করে মিতার মুণ্ডুপাত করতে শুরু করলো।
কিন্তু দু দুবার দেখে গেছে পিয়াল। শরীর ছুঁয়ে দেখেছে টেম্পারেচার কমলো কিনা! মিতার একদিন অসুস্থতা মানে বিছানা না ছাড়া ওর জন্য বাজ পড়ার মতো অবস্থা। সামান্য টিফিন বানিয়ে ছেলেকে তৈরি করে স্কুলে পাঠাতে হিমশিম খেয়ে যায় পিয়াল।
অগত্যা মিতা চোখের জল মুছে বাবাইকে তৈরি করে দেয়। এই একভাবেই পঁচিশ বছর কাটিয়ে দেয় মিতা। নীরবে!! বাবাই চাকরি করছে। পিয়ালও অফিস করছে তবে একটা নতুন আকর্ষণে অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে হয় না ওর।
বাড়িতে বসে কি পরকীয়া সম্ভব! ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের দৌলতে তাই প্রতিদিনের পর্ব শেষ করে বাড়ি ফেরে। মাঝে মাঝে ভিডিও কলে রসালাপ হয় তারপরেই প্রয়োজন পড়ে মিতার দেহের। একটা এমুইজমেন্টের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিতা সব বুঝে! ওর আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে তবুও চুপ করে সব সহ্য করে। সংসারটা বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণপন চেষ্টা করতে হবে ওকে!
আটবছরের প্রেমের বিবাহ, বিবাহিত জীবনের অটুট বন্ধনে ছিল বাঁধা। ছোট সংসারে সাহায্যের জন্য কেউ ছিল না। একা হাতে সামলেছে সব। শারীরিক কষ্ট হলেও উফ্ করতে পারেনি বা করে নি বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নারী মিতা। ওদের ভালোর কথা ভেবে চাকরিটাও ছেড়ে দিয়েছিল।
আর আজ! এতো বছর ত্যাগের দেবী হয়ে বৈবাহিক জীবন কাটানোর পর মিতা নিজেকে নিঃসহায় অবলা নারী হিসেবে দেখতে পায় যখন পিয়ালের চোখে মুখে অন্য নারীর প্রতি প্রেম ফুটে ওঠে! এখন মাঝেমাঝেই বলে "একটা চাকরি করার চেষ্টা করো মিতা"! হয়তো মিতাকে ছেড়ে চলে গেলে মিতার পরবর্তী জীবন নিয়ে ভাবে। কারুর পরকীয়ার গল্প শুনলেই বলে উঠে, "ঠিক তো একজনকে নিয়ে কতদিন থাকা যায়!" মিতার ভিতর হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে। পঁচিশ বছর ধরে এতো প্রেম এতো ভালোবাসা কোথায় হারিয়ে গেল! মিতা জানে ঘরে ঘরে পরকীয়া বেড়ে চলেছে...আর আজ তার সোনার সংসারটাও?
"মা ...মা" ডাক শুনতেই মিতার ঘুম ভাঙে! এই মুহূর্তে মিতার মনে হয় আর ঘুমালে চলবে না, ওকে জেগে থাকতেই হবে বাবাইর জন্য