এ সময়ে দেখা শোক
জীবনের বেশ খানিকটা সময় করেছি পার
বাঁচা হয়ে গেল দুই তিন যুগের মধ্যবর্তী।
তার মধ্যেই অভিজ্ঞতার ঝোলাটা পুরোপুরি
না হলেও খানিকটা তো হয়েছেই ভর্তি।
মৃত্যু, শোক, আনন্দ, বিলাসিতা কম দেখিনি
অস্বীকার করার যায়গা নেই, সবই নিমিত্ত।
লোক দেখানো মায়া শোক দেখিয়ে দিয়ে
খুব তাড়াতাড়ি পাল্টে ফেলে নিজের চিত্ত।
দেখেছি স্বামীর মৃত্যুর যন্ত্রনায় স্ত্রী'র শোক
কি করুণ আর্তনাদ! নিঃসঙ্গতার চিৎকার।
কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার তিনিই
বিধবা পেনশনের জন্য করে তোলপাড়।
দেখেছি উত্তাল বিলাপের সঙ্গে মায়া কান্না
প্রবল কান্নায় রাজ্য-শুদ্ধ লোককে বোঝাতে।
জানান দিতে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ব্যথা
ঠিক এক মাস পর ব্যস্ত সে আখের গোছাতে।
আবার এমন মানুষও দেখেছি মৃত্যু যন্ত্রনায়
কাতর হয়ে একটি শব্দও খরচ না করে,
দেওয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুজে ফেলে
দীর্ঘশ্বাস, অঝোরে চোখের অশ্রু ঝরে।
দেখেছি কেউ অন্ধকারকে আচ্ছাদন বানিয়ে
রাত্রে হাউমাউ করে কেঁদে বালিশ ভিজায়।
কিছু লোকের মুখে কষ্টের কথা কম শুনলেও
আচরনেই ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়।
কেউবা সোশ্যাল মিডিয়ায় করে না বিক্রি
ওঠায় না ভগ্ন-হৃদয়ের অনুভূতির জোয়ার।
বরং ব্যথিত হৃদয় সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যায়
নীরবে নিজের কাজ করে যায় সার্থকতার।