শরীর
ভোর ভোর উঠে রাই। রাতে ঘুম ভাল হয়েছে। ফ্রেশ লাগছে বেশ। পাশে এখনো অর্ক অঘোরে ঘুমোচ্ছে। হাসি পায় রাইর। সারারাত যা দাপাদাপি করেছে।নতুন ঢুকেছে ওদের অফিসে অর্ক। প্রথম থেকেই রাইয়ের প্রতি লাট্টু। রাই ওর চেয়ে অনেক সিনিয়র। বয়সে এবং পদেও। তাও, ছেলেটির প্যাশন দেখে রাই ও একটু আধটু পাত্তা দেওয়া শুরু করেছে ইদানিং।
রাই সিঙ্গেল। ছেলে আছে পাঁচ বছরের। মায়ের কাছে থাকে। গুল্লু পেটে থাকতেই হিরনের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। হিরণ আবার বিয়ে করে এখন একটি মেয়ের বাবা। যাকগে, এসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই রাইর। নিজের জব , নিজের ছেলে এই ওর লাইফ। শনিবার মায়ের ওখানে চলে যায়, দুটি দিন ছেলের সাথে কাটিয়ে আবার সোম বার ফিরে আসা। এটাই রুটিন।
অফিসে, অফিসের বাইরে অসংখ্য প্রেমিক ওর। রাই জানে সবগুলিই শরীরের প্রেম চায়। রাগ টাগ হয়না ওর। নিজের মত করে কাউকে ভাল লাগলে একটু ঘোরাফেরা, খাওয়া দাওয়া, নাইট পার্টি এসবে যায়। ইচ্ছে হলে শরীর দেওয়া নেওয়া। ব্যস্! এখানেই ইতি টানে ইমোশনের।
আগে আগে বুঝতনা, সেন্টিমেন্টাল হত। প্রথম যখন ডিভোর্সের দু বছর পর অতীনের সাথে সেক্স হয়, সে ভেবেই নিয়েছিল ওকে ভালবাসে বলেই অতীন ওরকম করেছে। আর নিজেও সে অতিনকে পছন্দ করে। নইলে কী আর শরীর মিলে! মন না থাকলে শরীর হয়না। কত অবোধ ছিল তখন ভাবলেই হাসি পায় নিজের।
কিছুদিন আগে যখন মায়ের ওখানে গেল, মা কত কথা শোনাল।
_ দেখ রাই, বিয়ে করে ওসব তোর যা খুশি কর। তুই কী ভাবিস আমি কোনো খবর পাইনা! তোর ওসব নষ্টামি কে সমাজ কী বলে, জানিস!
ঠান্ডা গলায় জবাব দিয়েছিল রাই,
_ জানি, বেশ্যা বলে। এটা নতুন কী! আর এতে আমার কিছু যায় আসেনা। তুমিও ভেবোনা এসব নিয়ে।
_ ছি, ছি। গুল্লু বড় হলে ওকে কী বলবি তুই? কেমন মা রে তুই! মায়ের মুখের ওপর এসব নোংরা কথা বলতে তোর বাধলনা?
_ যা বাবা, সত্যি বললেই দোষ। শোনো আমি গুল্লুর মা। ওকে আমি যতটা ভালবাসি কেউ বাসেনা। আশা করি বড় হলে সে নিজেও ওটা বুঝবে। মায়ের শরীর নিয়ে, চরিত্র নিয়ে ওর বলার কিছু থাকবেনা । এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
অর্ক কে ঠেলে তুলে রাই।
_ এই যে, উঠ বাড়ি যাও।আমার এখন অনেক কাজ।
_ আরেকটু থাকি! আবদার করে অর্ক।
- নো, রেডী হও আর ভাগো। আজ প্রজেক্ট টা যেন অবশ্যই জমা পড়ে।
রাইর ঠান্ডা গলার কথা শুনে উঠে বসে অর্ক। ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে বেরিয়ে যায়।
সেদিকে তাকিয়ে রাইর মুখ থেকে বিচ্ছিরি একটি গালি বেরিয়ে আসে।
এখন সে পুরুষদের মত সেক্স করে। যেখানে মনের কোনো কারবার নেই। ইচ্ছে হল তো যেকোনো মেয়ের সাথে ওরা ইচ্ছেমত সবকিছু করতে পারে। রাইর এখন আর আলাদা কোনো অনুভূতি হয়না। মেয়ে হয়ে জন্মেছে বলে কী ওর কোনো যৌনতার অধিকার থাকবেনা! আশ্চর্য তো! কারা ওকে বেশ্যা বলবে, হোর বলবে সেই ভয়ে নিজেকে বঞ্চিত রাখবে! আর যে পুরুষ বেশ্যা গুলো ওর কাছে আসে নিজের বউ বাচ্চাকে ঘরে রেখে এদের কথা কে বলবে! শালা!
এখন রাই শরীরের সাথে মন কে গুলিয়ে ফেলেনা। মনকে শক্ত করে আটকে রাখে নিজের কাছে। গুল্লুর কাছেই একমাত্র নিজেকে মেলে দেয় । বাকি সময় ওই খোলার ভেতরে যত্ন করে ভরে রাখে মন, ভালবাসা , অভিমান সবকিছু।
নিজের ব্রেকফাস্ট তৈরি করে খেয়ে নেয় রাই। আজ অফিসে দুটো বড় মিটিং। ফিরতে দেরি হবে বুঝতে পারছে। বাইরে বেশ মিষ্টি রোদ উঠেছে। মেজাজটা বেশ ফুরফুরে লাগছে।
ফ্ল্যাট লক করে বাইরে এসে গাড়িতে বসে রাই। চোখে সানগ্লাস তুলে দেয়। এখন গন্তব্য অফিস।
কালো চশমার আড়ালে নিজের চোখের সমুদ্র লুকিয়ে নেয় রাই। রেডিওতে গান বাজে,
আমাদের গল্প গুলো....।