Oct 31, 2023

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

কোজাগরী

হারানো পরম মুহূর্তগুলো সযত্নে তুলে
রাখে কোজাগরী রাত।
সাঁঝবাতি নিভে গেলেই তার শরীর বেয়ে
উপচে পড়ে আলো আর আলো। 
সে আলোর আছে মাদক আকর্ষণ।  
আলোর ভাঁজে ভাঁজে সে তার নগ্ন
শরীর মেলে ধরে। নগ্নতার মাঝে 
কোনো মিথ্যাচার থাকে না। 
কোনো ছলাকলাও নয়। আলোময়তা 
শরীরকে সুন্দর করে নাকি শরীর
সুন্দর করে আলোকে? লাখ টাকার প্রশ্ন 
বাঁচিয়ে রাখে কোনো অতীতকথা।
মৃতসঞ্জীবনী  অনুভব মৃদু মন্দিরার শব্দে
এপাশ ওপাশ হেলে ঢলে পড়ে।

ভোর না হওয়া পর্যন্ত কোজাগরীর 
দায় থাকে জেগে থাকার। 
ক্ষণিকের বিভ্রমে নষ্ট হয়ে যেতে পারে
চাঁদের নগ্নতার পোষাক।

চন্দন পাল

গৌরব

কবিতা, 
তুই যখন পাশ দিয়ে যাস কিংবা চোখে বসে থাকিস--
ছৈ এর জানলায়, পাখির ডানায় উড়ে উড়ে উঁকি দিয়ে যাস। 
ভাবি আমার কী লাভ !
হাজারো কবিতা আর কৃতিইতো চোখে পড়ে, প্রেম জাগে।
একটু সোহাগ, একটু উষ্ণ সম্ভাষ নাইবা পেলাম।
ক্ষতি নেই, প্রকাশের বিস্তারতো দূর দেশে শিহরণ তোলে।
আর আমার দেশেও সম্পদ আছে শুনে বুক ভরে।

রুদ্র মোস্তফা

ইতিহাস যেভাবে মিথ হয়ে মিশে যায় 

রাজা চলে যায়, থেকে যায় ধুধু গমনের দাগ
প্রজার চরণে রয়ে যায় ধুলো দাসত্ব রাগ।
অতীত উঠোনে খাদ্য-কথন পাঠ করে কেউ কেউ
নিত্য হাভাতে পেটের ভেতর কুকুরের মতো কাঁদে ঘেউঘেউ। 

কান্নার কালি হস্ত রেখায় ওয়ারিশ এঁকে
ক্রমাগত মিশে অভগ্ন দিনে সূর্য গলিয়ে জোছনার বাঁকে।
কখনো কখনো চিত হয়ে পড়ে চুপসানো চরাচরে
তবু ইতিহাস থেকে থেকে রোজ মিথের জন্ম দেয় গাল ভরে।

প্রমোদ গৃহের প্রমীলা এখনো পাঠকের মনে
ভাতঘুম তার আকুলিবিকুলি ঘুমচাপা উনুনে
মননের দেনা তাই মুমূর্ষু পেটে মিথ হয়ে মাথা পাল্টায়
রাজ্যের কথা রাজত্ব ছেড়ে শূন্য কাগজে এভাবেই মুখ লুকায়।

সুশান্ত নন্দী

আসছি তবে

পান্তা ভাত আর কচুর শাকে
লাঞ্চটা আজ সেরে,
সপরিবার দুগ্গা রানী
শ্বশুর বাড়ি ফেরে।

বিদায় বেলায় দুগ্গা জানায়
থাকিস তোরা সুখে,
বিজয়াটা কাটুক তোদের
শুধুই মিষ্টি মুখে।

নবীন কিশোর রায়

রক্তে লাল মাটি

শিশুরা তখন আপন মনে 
খেলায়, অকস্মাৎ থেমে গেল 
সবকিছু নিথর মৃতশরীরে! 

প্রাণভয়ে লুকিয়ে থাকা হাসপাতালে রোগীর পাশে মৃত্যু বিভীষিকা! 

ত্রয়ীশক্তি মারণাস্র নিয়ে
হিসেব নিকেষ করে---

সমাজতত্ত্বের মোড়কে সাঁটা দেশের মতিগতি স্পষ্ট নয়, ক্ষুদ্রাকার দেশের মাটি দরকার,এসবে ঘোর নেশা তার! 

প্রতিবার নরসংহার যজ্ঞে 
ঘি ঢালে এক নম্বর দোসর 
বিশ্বগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদ ! 

একশ চল্লিশ কোটির দেশ
আমার, সাহস হয় না  কিছু বলার... 

যুদ্ধ ভূমির মাটি ধুয়ে বয়ে আসে রক্তস্রোত
ভূমধ্যসাগর হয়ে উঠে লাল! 

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

কলসীভূত

একবার বসার অভ্যেস হয়ে গেলে আর কি দাঁড়ানো যায়?
চার শেয়াল দাঁতে ছিঁড়ে খায় হাঁটুর শিরা থেকে রক্ত,
একটা রাক্ষুসে হাঁ-মুখ থলেথলে ভুরি দশজনকে গিলতে
পারে,
তেমনি এক কলসী-আসনের ছদ্মবেশে এসেছে
নরপিশাচ।

দুর্গার মহিষমুণ্ডু-ছেদনের মতো তার চার দাঁত ভাঙতে পারবে কি পায়ের লাথে?
দশটা কাজ দশ হাতে সারতে হয়
দশহাতে দশদিকে ডাকছেন মা ভবানী
ছুটে চলো ক্ষেত বাজার কারখানা মাঠ..... ডিঙিয়ে
চেয়ার দেখুক দশদিক জুড়ে তুমি চেয়ারের চেয়ে বিশাল
চাষার মতো এক কর্মঠ গঠন,হাতে অপরাজিতার কবচ।

রাহুল শীল

টানেল

বাবার কাছে আমার বিশেষ পরিচয় নেই
একজন সদ্য বেকার চাকরিপ্রার্থী ছাড়া,

পুত্রস্নেহের বিষাক্ত লালা 
এমনভাবে স্পর্শ করেছে
আমার শরীরী ভাষা অন্ধের মতো যেন মুখস্থ,

প্রতিটি প্রয়োজনের নখ 
বড়ো হওয়ার আগেই কেঁটে দিচ্ছেন সময় সময়!
রোদ মুছে ক্লান্তি ধুয়ে 
স্নান করাচ্ছেন এই বিষাদ বালককে।

আত্মক্ষয়ের দীর্ঘ টানেলে বাবা হেঁটেই যাচ্ছেন,

আর আমি আলোকিত মঞ্চে 
বাংলা কবিতা পড়ে বেড়াচ্ছি!!

সনজিৎ বণিক

স্বপ্নের জানালা

খুলে যাচ্ছে কেবল খুলে যাচ্ছে ঘুমন্ত শরীরের জানালা, মায়াময় বিহ্বলতায় জেগে ওঠছে তোমার যাবতীয় সুখ অসুখের বর্ণমালা,

ঐ দূরে দেখো আকাশের নীল তারা মিটমিট হাসছে,

তোমাকে জড়িয়ে নিতে মেলে দিয়েছে ডানা,

আজ এমন সুরভিত সকাল শেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় রেখেছে তার মনোযোগ যদি দেখা যায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের পদাবলী যা বড় বেশি মায়াময় ও স্বপ্নিল।

বিপ্লব উরাং

লিখতে হয়

লিখব লিখব বলে কনই লিখা নাই হছে।
ভাবি ভাবতে থাকি--
কি লিখব,কেনে লিখব।

চখের সামনে কত কিছু
ভাসে উঠছে, মিন্তুক 
সাজাই গোছায় লিখাটাত কষ্টের। 
তবু লিখতে হয়--নিজের জনে,
কেউ জানুক হামি কবি-।

কবি হওয়া এতই সোজা
তবু কবি হতে খোঁজি।
কবিরা সুখ,দুখ,যন্তনা, হাসি আনন্দ, মানুষ, অমানুষ সবকে লিয়ে লিয়ে।
সব কুছ ঠিক ঠাক হয়ত?
কে জানি বাপ্।

তবু লিখে,--
না লিখলে, আসছে দিনের ছানাপোনারা জানবেক কি করে।
লিখতে হয়।

লিটন শব্দকর

তোমাকে 

আজ যদি বৃষ্টি আসে 
তোমাকেই লিখে যাবো দাবদাহে পুড়ে যাওয়া গানের কলি
আমি জানি তোমার হাতে রচিত রাতে সংসারে জুড়ে বসে
দুটো বারোমাসের কোকিল 

উত্তপ্ত বিকেলে এক এক করে ঝরে যায় বকেয়া কৃষ্ণচূড়ারা,
তার লালে যে শ্রাবণের মাউথ অর্গান ফুরিয়ে যায়নি 
তোমার বুকে তার কোলাজে 
কোথাও আমি হাঁটছি অথবা মনে রাখতে পারি

যখন সন্ধে...
আমি বিশ্বাস করি এফ টিভি, চ্যানেল ভি-র পাশাপাশি একটি
ইলেক্ট্রিক পোস্টে উড়ে এসে প্যাঁচার গুটিসুটি হয়ে বসার 
টাইমিংয়ে একটি রেডিওর ট্রানজিস্টরের মতো প্রেমের দিন পৃথিবীও মনে রাখে। শুপুরি গাছ নীরব। 
গ্রাম্য দোকানের ঝাপ বন্ধ। হেঁটে আসি জড়িয়ে ধরা নরম সুতির আদরে তুমি আর আমি। ছোট ছোট ক'টা ছেলেমেয়ে দৌড়ে যায় ছানাপোনা নিয়ে ডাহুক হেঁটে যাওয়া উঠোনে। আজ যদি বৃষ্টি আসে তোমার হাতে রেখে দেব বেলাভূমির সমস্ত সঞ্চয়।

আব্দুল গফফার

লালবাতির পরী যুবতীরা

দুর্বাসিনী এখনও দাঁড়িয়ে আছে
ঝাপ্টা খাওয়া বারান্দায়-
দমকা হাওয়ায় ধুয়ে মুছে গেছে, 
পঙ্কিল ঘাম আর শরীর বিক্রির শ্রমগুলো!

নিস্তব্ধ রাত্রে যখন তারারা প্রেম করে-
বাধ্য হয় কলঙ্কের চাষ করতে, 
গভীর অভিসারে লিপ্ত হতে হয় তখন,

নেশাখোরদের চক্রযানে,
প্রতিনিয়ত ঝাপ্টা খায় লালবাতির পরী যুবতীরা-
উন্মত্ততায় কেটে যায়, যাপন করে লালসা নিশি,
মেঘাচ্ছন্ন এ এক অন্য জগৎ।

বেরিয়ে আসে রঙিন সুরাপানের গেলাস
ঠনঠন শব্দে ঋতু বদলে আকাশ খোলসা হয়,
দমকা হাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝড় ওঠে,

টাকা-কড়ি নয়, স্ক্যান করে 
পেশাদারিত্বের হিসাব মেটে,
নগদ মেসেজে পেট ভরে যায় এইভাবে!
যৌনতার স্বাদ আজ মলিন,
শরীর পেতে টাকা ওঠে- 
নিয়নবাতির ঝিমবাতিতে,
সুর ওঠে বেলা বয়ে যাওয়ার গানে।

দিপ্সি দে

জন্মের পরে

শব্দ ভেঙে গেলে হারিয়ে যাওয়া কবিতা জেগে উঠে
কলঙ্ক লিখতে লিখতে ভেঙে যাওয়া 
শব্দের জঠর থেকে জন্ম নেয় 
ভাত ঘুমে হারিয়ে ফেলা কাব্য।

ভবানী বিশ্বাস

তরুনী নদী

আমার একটা নদী আছে। একান্তই আমার। নিজের সম্পদ বলতে সেই নদীই। তাকে স্বযত্নে পুষি হৃদয় কোঠায়। হেমন্তকালে সে উজ্জীবিত হয়। নাম রাখি তরুণী।বহুবছর ধ্যানবিষ্ট কোনো এক সন্ন্যাসীর মতো একটা অশ্বত্থ গাছ পাহারা দেয় তাকে। তরুণীর বুক পবিত্র হয় তার ঝরাপাতায়।শরতের শিশিরবিন্দুর সাথে মিশে সে ধীরে ধীরে পুষ্ট হয়। সে হাসে খিলখিলিয়ে।যা আমার সুখের রসদ যোগায়।হেমন্তে তার পাড়ের বাঁশপাতা ঝরে পড়ে । তার স্বচ্ছ জলে দেখা যায় নিজ রূপে মশগুল নার্সিসাস। চারিদিকে মাঠ জুড়ে কাটা ধানের  গন্ধ।কৃষকের ঘামে মাখা পথঘাট।প্রশান্তিকর একটা পরিবেশ।

আমার একান্ত নিঃসঙ্গতাগুলো তাকে দিই। সে আপন করে নেয়। তার জন্ম হয়েছে বেশিদিন হয়নি। আমার মতনই সে নতুন এ জগতে। মাঝি ভাটিয়াল গায়না এখানে। সূর্যোদয়ের দৃশ্য যদিও দেখা যায় না তবে তার অস্ত যাওয়ার রক্তিম আভা বেশ আবিষ্ট করে রাখে।আমি তার পাড়ে বসে দেখি এসব।এখানে বসে তৃতীয়ার একফালি বকফুলি চাঁদ দেখা যায় দূরে বহুদূরে আবছা এক পাড়াগাঁয়ের উপর।শোনা যায় "চোখ গেল'' বলে রাতপাখির ডাক।....

ভাবি,এসব উপহার দেব তোমায়। আমার একান্ত বলতে এসব ছাড়া আর কিছুই নেই। তোমার যাপন ক্ষমতা বহুদূর বিস্তৃত। তুমি চাইলেই বানাতে পার এমন হাজারো পাহাড় নদী সমুদ্র। কিন্তু আমি আমার সবটুকু দিয়েই বানিয়েছি আমার তরুণী নদীকে। তুমি নেবে?

শর্মি দে

নিস্তব্ধ শহর

আত্মার গভীরে বিনোদিনী রাইয়ের খোঁজ
বেসামাল শহর বেআব্রু রাত
নিকোটিনে পুড়ে যাওয়া ঠোঁটের কোণে অভিমানী ঝড়
মনসিঁড়িতে উচাটনের সোদাল গন্ধ

ঝিরিঝিরি বৃষ্টিপথে তোমার খেয়ালী পনা 
অর্গল বেয়ে পড়ছে নিখোঁজ ক্লান্তি!
বিদ্ধস্ত মন খুঁজে নেয়
এক দিগন্ত ক্যানভাস
সেখানে ভেসে চলে একটুকরো নীল রোদ ...
প্রেম নদী হয়!

সংগীত শীল

 বটবৃক্ষ 

রোদে পুড়ে বৃষ্টি ভেজে,
পার আঁকড়ে নদী ধরে, ছায়া দেয় নিরালায়।

যেন এক বলিষ্ঠ বিশ্বস্থ হাত মাথায় থাকে অবিরাম,
অন্ধকার উদ্বিগ্ন মনের গহন সুরঙ্গে
আশার বাণী গায়।

শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে ভরসার বিস্তার, দূরদূরান্তে।

তুমি কঠোর বলেই
আমার জীবনতরী আজও অঙ্গিকারবদ্ধ।
তোমার দৃঢ় আশ্বাসে দুঃসাহসিক বীজ বপন করি।

তোমার জন্যই আমার বাগানে সফল হিল্লোল প্রবাহিত। 
হঠকারি শহরে আমি সাহসি দীপ্ত,
আত্মবিশ্বাসে বিশ্বজয়ী ।

বাবা তুমি বটবৃক্ষ।

আদিমা মজুমদার

নিকাহ

বিয়ে বাড়িতে প্রচন্ড হইচই শুনে রাস্তার লোক জড়ো হতে থাকে। একজন জিজ্ঞেস করে, কিতা বা কিতা হইছে, আপনার ভাগিনীর বর নাকি নিকাহ  কবুল করতে চাইছে না, সেটা কি ঠিক! সে নাকি আমাদের হাজার বছরের পরম্পরা ভেঙে দিতে চাইছে।কী দু:সাহস ছেলেটার। 

__ আর বলিস না ভাই, দিদিকে বলেছিলাম দেশি কুত্তা খোঁজ। দেশি কুত্তারা বিদেশ গেলে আর দেশি থাকে না, সব বিদেশী কালচার শিখে নেয়। দিদি বলে, মাহির নাকি ১০ বছর থেকে লাভ চলছে। একদিনে সব লাভ লোসকান করে দিল।

__ এই ব্যাপারটা আগে তোমাদের সমাধান করা উচিত ছিল। কথাটি শুনে মাহির মামা চুপ হয়ে যায়।

           মোল্লার গায়ে তীব্র আতরের গন্ধ। বরের কাছে গিয়ে নিকাহ পড়াতে বসেন। প্রথমে দুরুদ শরীফ পাঠ করেন।  ছাঙ্গুর তল নিবাসী জনাব হারিস আলি মজুমদার  সাহেবের প্রথম কন্যা  মাহি খানম পাঁচ লাখ টাকা মহর সাব্যস্ত করে আমাদের উকিল হিসেবে পেশ করেছেন আপনি কবুল করেন, বলেন আলহামদুলিল্লাহ।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বর নিষাদ চৌধুরী বলে ওঠেন ' এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়'। বিয়ে মানে শুধু দুজন মানুষের দৈহিক মিলন নয়।শুধু বন্ধু খুঁজে পাওয়া ও নয়।বিয়ে মানে দুটো পৃথক আত্মা, পৃথক প্রাণ এক হওয়া বুঝায়।

বিয়ে মানে কাউকে একান্ত নিজের করে পাওয়া। যার সাথে ঝগড়া হবে, ভাব হবে... তবু কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না।একটা বিশ্বাস। কথাটা শুনে সবাই হতবাক হয়ে যান। মোল্লা সাহেব বলেন নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক।বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্রের' শ্রীকান্ত' উপন্যাসের  শীকান্তের মত উপস্থিত সকলে কে কতখানি হা করিতে পারে তারই যেন লড়াই চলে।

নিষাদের বন্ধু মোবাইল থেকে একটি ভিডিও সবার সামনে তুলে ধরে। সেই ভিডিওতে দেখা গেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিষাদ আর মাহি দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে শপথ করছে 'আজ থেকে তুমি আমার 'ল ফুল' হাসবেন্ড। '

বর নিষাদ সকলকে উদ্দেশ্য করে বলে, শুনছেন দেখছেন  পরিষ্কার করে, এক ভারতবর্ষে একটাই আইন থাকে এবং আমরা তা সজ্ঞানে পালন করছি, এখন আবার বস্তা পচা 'আলহামদুলিল্লাহ 'বলতে হবে কেন। আপনারা তো পড়াশোনা জানা মানুষ, কেন শুধু শুধু পেছনদিকে হাঁটছেন।

 মাহির মামা শব্দ করে বলেন লা হাওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!

                    বউ সেজে বসে আছে মাহি। বন্ধুরা খবর বইছে বাতাসে। কেউ কেউ খিল খিল করে হাসছে। খিস্তি উড়াচ্ছে। মাহি শাড়ির পাড়ের দিকে চেয়ে রয়েছে। পেখম মেলা ময়ুরের ছবি আঁকা পাড়। নিষাদ এরকম কিছু একটা শয়তানি করবে বলে মাহির মাথায় আগেই চিন্তা ছিল।রসুই ঘরের করিডোরে গোল হয়ে বসে পাড়ার মেয়েরা গান ধরেন-' দামান্দ বড় হাউসিয়া মাথার বেসর আনছইন দামান্দে বাছিয়া, আর বাজুবন্দ আনছইন দামান্দে সুন্দরীর লাগিয়া নারে...

           মোল্লা সাহেব বারবার ছদরী ছেড়ে উঠে যাচ্ছেন আবার কারো অনুরোধে বসছেন, বলেন এমন ছন্নছাড়া বর জীবনে দেখেননি। হাজার খানেক নিকা পড়িয়েছেন এ জীবনে। বাড়ি ভর্তি লোক ফিসফাস করছে ।  কেউ কেউ ফোন করে বন্ধুদের জানাচ্ছেন নতুন খবর, টক ঝাল মিষ্টি মিশিয়ে।

       মাহি স্বাগদুক্তি করে," It is very difficult to live with the very successful men, they are not normal. পাশের রুম থেকে ফোন করে নিষাদকে, কেন এমন করছ,' আলহামদুলিল্লাহ' বলে দিলে কি হয়। প্রান্তিক মানুষের আবেগকে মূল্য দিতে তুমিই আমাকে শেখালে। না মাহি ব্রিটিশ আমলের নিয়মগুলো আমাদের পাল্টাতে হবে। কোর্টশিপ করার পর আবার নিকাহ কিসের। প্রান্তিক মানুষদের একথাও বুঝানো দরকার। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরিচয় হবে বলে আজ এসেছি। কাবিননামায় স্বাক্ষর করেছি।আর কি।দাদিজির মতো কথা বলো না তো।

অবাক বিস্ময়ে সবাই তাকিয়ে থাকে নিষাদের দিকে,  যেন মিউজিয়ামে কোন নতুন প্রজাতির জন্তু দেখছে।

মোল্লা সাহেব এবার পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে সূরা পড়া শুরু করেন। আস্তাগফিরুল্লাহ।

মাহির বাবা বলেন ভালোবাসার লোক আর খুঁজে পেলে না মা, এ তল্লাটে। আমার ইজ্জত বরম সব খোয়া গেল। সঙ্গে অনেকেই সহমত পোষণ করেন, মাথা নেড়ে।

বাবার কথা শেষ হতে না হতে মাহি বলে, আমি বলছিলাম এরকম আয়োজনের কোন দরকার নেই। আমি তো এখন কচি খুকিটি নই, আমি পুরো ম্যাচিওর।' চুপ থাক 'দুদিন পরে যখন লাথ খাবি, যাবার জায়গা থাকবে না বলে দিলাম। নিষাদের মা বাবাও আলাদা থাকেন। আর সে কি করবে আমার ভালো জানা আছে।

নিষাদের বাবা কাচুমুচু করে ছেলের কাছে এসে বলেন, 'বাবা আর লজ্জা দিস না। 'নিষাদ বলে এটা কোনো লজ্জার ব্যাপার না আব্বু। সত্য বলার জন্য কত কত বিজ্ঞানীদের বিষ প্রয়োগে  মেরে ফেলা হয়েছে তোমার জানা আছে না? এটা তো সামান্য ঘটনা। বলছিলাম আমরা দুজন খুব ভালো ছিলাম,তোমাদের জন্যই...

মাহির মা, মামি দুজনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, মোল্লা এসে জল পড়ে মুখে বুকে ছিটা দিচ্ছে।

নিষাদ এবার মোল্লাকে ইশারা করে নিয়ে যায় রাস্তায়। দশ হাজার টাকার বান্ডিল হাতে দিয়ে বলে, 'আলহামদুলিল্লাহ 'না বলে কি করা যায় দেখো। মোল্লা এতগুলো টাকা পেয়ে ভ্যাবাচ্যাকা  খেয়ে যায়। লুঙ্গির খুটে টাকাগুলো রেখে, ঘরে ঢুকেই ইয়াসিনের প্রথম মুমিন পাঠ করে।"  ইয়াসিন অল কোরায়ানিল হাকিম,ইন্নাকা লা মিনাল মুরছালিন, আলা সিরাতিম মুস্তাকিন... "বড় বড় করে বলেন শুনুন, শুনুন সবাই_ আমাদের কাবিন নামায় দস্তাখত হয়ে গেছে। কোর্টের কাগজও আমরা দেখেছি। মাই হাওয়া বাবা আদমের তাও ছিল না। এই বিয়ে বিধি সম্মত হয়েছে। এবার সবাই হাত তুলুন আল্লাহর দরগায় দোয়া করি__

রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়াকিনা আজাবান্নার... মাহি এবং নিষাদের জীবন উজ্জ্বল শান্তিময় হোক। এক নতুন পথের দিশারী হয়ে রইল তারা।

একজন জনৈক কবি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি পড়তে থাকেন----

কুরআন-হাদিস সবাই বলে -
পবিত্র সে বেহেস্ত নাকি,
মিলবে সেথায় আসল শারাব
তন্বী হুরি ডাগর আঁখি 
শারাব এবং প্রিয়ায় নিয়ে
দিন কাটে মোর, দোষ কি তাতে?
বেহেশতে যা হারাম নহে-
মর্ত্যে হবে হারাম তা কি?

বি:দ্র: আমার গল্প ঠিক কোনখানে শেষ করবো বুঝতে পারিনা। প্রুফ রিডার বলেন- তারপর? নিষাদ এবং মেহেকের বিয়ে কি হয়েছিল?  

আমার গল্পে অন্য কেউ কথা বললে আমি বিরক্ত হয়ে যাই।প্রুফ রিডারকে বলি, হ্যাঁ হয়েছিল এবং তারা খুব সুখি দম্পতি। 

শেষ দিকটা নাহয় তুমি লিখে নিও।আচ্ছা বদমাশ লোকটা। 

শুভ্রা দেব

আস্তরণ
   
কাত্যায়নীর অঙ্গে অঙ্গে 
ঝলমলে রূপার ঝিলিক,

গানের ছন্দে আলোর খেলা....
দশমী আবহে মাতোয়ারা ভক্তবৃন্দ,
মাটির প্রতিমার অনিচ্ছাতেও
মুখে গুজে সুস্বাদু মিষ্টি সন্দেশ!

চিলেকোঠার নিভু আলোয় 
আধপেটা জীর্ণকায়া,

সূঁচ সূতোর প্যাঁচ তোলা 
ছেঁড়া কাঁথার আস্তরণে
লুকিয়ে দুধেল ঋণ ভরা
নিষ্পাপ মায়ের মুখ!

প্রতীক হালদার

ভেবেই দেখো 

ভাবলে সবাই আপন আর
না ভাবলে সবাই পর,
ভাবলে ভীষণ খুশি আছি
না ভাবলে খুবই দুঃখী।

ভাবলে সবাই পাশে আছে
না ভাবলে বড়ই একাকী,
ভাবলে আমিও সব পারি
না ভাবলে আমিও অপারক।

ভাবলে আমিও জয়ী হতে পারি
না ভাবলে আমি পরাজিত,
ভাবলে আমিও সাহসী 
না ভাবলে খুবই ভীতু।

ভাবলে আমিও ধনী
না ভাবলে গরীব ভীষণ,
ভাবলে আমিও পরিশ্রমী 
না ভাবলে ভীষণ অলস।

জীবনে ভাবনা-চিন্তা অত্যন্ত জরুরি।

জগন্নাথ বনিক

দর্শকের মনে ভাবনা 

আমি দর্শক আসনে বসে, কবিদের কবিতা পাঠ শুনছিলাম।
কবিরা একে একে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে,
কবিতা পড়লেন।
দর্শক আসনে বসা সবাই,
কবিদের কবিতা পাঠ শুনে হাততালি দিলেন।।
আর আমি ভাবতে লাগলাম,
কীভাবে কবিরা কবিতা লেখেন।।
যদি আমি লিখতে পারতাম কবিদের মতো,
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কবিতা পড়তাম।।
আর দর্শকের হাততালি শুনে, 
অভিনন্দন পেতাম।।

অভিষেক অধিকারী

যুদ্ধ

একটা যুদ্ধ সব পাল্টে দিতে পারে,
তার উত্তপ্ত ক্ষমতার খিদে গ্রাস করে 
নিরীহ তাজা প্রাণ। 
তবুও তার খিদে মেটে না।

সাম্রাজ‍্যবাদের ক্ষুধার মেনু হয়
মানব রক্ত।

মানুষের চোখের জলকে ক্ষমা করে না
সাম্রাজ‍্যবাদীর ছোঁরা উত্তপ্ত বুলেট।

সাম্রাজ‍্যবাদীর ট‍্যাঙ্কারে পিষে যায় 
মানুষের যাবতীয় শৈল্পিক মূল‍্যবোধ।

একটা যুদ্ধ সব পাল্টে দিতে পারে,
অস্ত্রের হানাহানি হয়ে ওঠে মানুষের বিভেদকামীতার
ভয়াবহ ফলাফল।

সভ‍্যতার গর্বে গর্বিত মানুষের অবশেষ খুঁজে পাওয়া যায় না যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে। 

বঞ্চিত মানুষের অশ্রু ঝরে পরে বোমারু বিমানের 
আঘাতে।
তবুও মানুষ যুদ্ধ করে......
নিজের আদিম পশু সত্ত্বা দিয়ে সভ‍্যতাকে ব‍্যঙ্গ করার জন‍্যে।