Jan 30, 2023

অপাংশু দেবনাথ

পুরুষ হরিণটি

ভেবে দেখো রোদ ডুবে গেলে মাসিমাদের গল্প সমাপ্ত 
হয়, তার রেশ সকলের সাথে ফিরে যায় সব ঘরে।

এসব উনুনে জ্বলে আলো। রন্ধনশাস্ত্র নিয়ে কথা নেই 
কোনো,রকমারি রান্না শেষে ঘরময় ছড়িয়ে পড়ে গন্ধ।

ভুলে যাও পথের নির্মাণ শেষে তুমিও এসেছো ফেলে
এমন কস্তুরী নাভীঘ্রাণ।
পুরুষ হরিণটি অরণ্যমুখী হয়,
যেখানে কোনোদিন রেখে এসেছে চৈল-হৃদয়।

তৈমুর খান

ঘরে ঘরে দূত আসে 

আরোগ্যের পথে আজ আত্মসন্ধানের পরিধি      
মগ্ন হয়ে উঠুক অনাবিল আনন্দে          
চোখ ছল ছল মেঘভাষার প্রস্তাবে রাজি হই 
দ্যাখো সমূহ ব্যাকরণে কিছুটা                              
অন্ধ সেতার বাজে কিনা 
     
               
ঘরে ঘরে দূত আসে আমাদের         
যদিও চিনি না দূতের মুখ                 
শুধু উৎসুক হয়ে উঠি                                            
খণ্ড খণ্ড বিপন্ন উৎসুক

সৌমিত বসু

আমার মেয়েটি

ভাতের হাঁড়ির ভেতর বসে আছে মেয়ে।এইতো আকাশে ছিলো।কখন সে নেমে এলো ঢাকনা সরিয়ে?প্রতিটি গ্রাসের সাথে কিভাবে যে তোকে মুখে তুলি?মেয়ে ফ্যালফ্যাল।বাবার মুখের ভেতর দিব্যদর্শন।

মেয়ের মা মুখের ভেতর ছুড়ে দিচ্ছে টুকরো টাকরা মেঘ।যাতে দমবন্ধ করে লোকটা মরে যেতে পারে।ইতিহাস বই থেকে পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মুখে।যাতে কেউ খোঁজ না পায় স্বপ্নের তলদেশ।মোটকথা মেয়ের সাথে সে পুড়িয়ে ফেলতে চাইছে তার কয়েকমাসের ভুল।

একটা খারাপ লোক একটা ভালো বাবা হতে চেয়ে মুখ তুললো ওপরে।একটা মেয়ের মা ভালো হতে চেয়ে তাকালো ঘাসের দিকে।দুটো জীবন পালকের মতো ভেসে গেলো কোনদিকে,মেয়েটা জানেনা।

সন্তোষ রায়

ভোজন ২

সবাই ফিরে গেলে চুলা পড়ে থাকে নিবু নিবু প্রায়, থাকে স্মৃতির ধোঁয়া আর পরিত্যক্ত ওয়ানটাইম বাসন-কোসন। গাছের ছায়ারা চুলায় পোহায় তাপ, শ্বাপদেরা চাটে টকঝালমিষ্টির স্বাদ। এ বাগান ও বাগান শেষ হলে সন্ধান করতে করতে ফেরে সবাই অন্য গ্রহের বন। তুমি আমি আদম আর ঈভ তখন।

কৃষ্ণকুসুম পাল

অন্তঃকলন

আকাশ তোমার-
আশ্চর্য প্রতিভা সূর্যআলো,
অপূর্ব মায়া চাঁদের পূর্ণিমা-লো,
বিরাট হৃদয় মহাশূন্যতা,
অসীম প্রেম মধুর মৌনতা,
সিঁথিতে সততা অনন্ত পথছায়া,
অনাবিল আদর দূরন্ত হাওয়া।
এক বুক গর্বে মানুষ উড়ন্ত উন্মাদ!!
ঐ ঈশ্বরের ভয়ে সবার ঘূর্ণি প্রমাদ!!
আকাশ তোমার-
এতো রুপ রঙ আকুল ভালোবাসা,
হায়,ক্ষুদ্র বীজেও স্বপ্নময় সমুদ্র প্রত্যাশা।

সন্দীপ সাহু

তেইশে জানুয়ারি

নেতাজী রক্ত চেয়ে ছিলেন।
দিয়েছেন স্বাধীনতা।
স্বাধীন দেশে কাটমানি চাওয়া হয়।
পাওয়া যায় চাকরি আবাস ...!

নেতাজী নিশ্চিৎ জানতেন না,
বোধকরি ভাবেনওনি কখনো
উত্তরপুরুষ অথবা নারীরা আজ
তার গলায় মালা দিয়ে, স্বাধীনতা-গান গেয়ে,

টাকার পাহাড়ে চড়ে কালো ইংরেজ হবে।
আমজনতা পিলসুজের মতো প্রদীপ মাথায়,
সমস্ত অধিকারহীনতার তেল মাখে আজও।
আপনার দিকে অশ্রু নিয়ে মূক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

তথাকথিত কমিউনিস্টরা আপনাকে কী বলেছিল
তা না হয় স্মরণ নাই বা করলাম। অভ্যাস বশে
তারাও হাত মুঠি করে আজ লাল সেলাম জানাচ্ছে।
মূক মুখে ভাষা যোগানোর আর কেউ আছে নাকি!

নেতাজী আপনার গলায় মালা দেবো না।
মূক মানুষগুলো ঘৃণায় তাকাবে নতুবা ভয়ে!

কুশল ভৌমিক

জল ও সমুদ্র 

চোখের জলের কোনো রঙ নেই 
একটা গন্ধ আছে
গন্ধের কোনো নাম থাকতে নেই।

উপাস ও উপাসনার তফাৎ 
আমাদের মা কোনোদিন টের পায়নি
এইসব অমীমাংসিত ব্যাকরণের ভেতর 
মৃত্যুর ইশতেহার নিয়ে 
আমাদের জন্ম হচ্ছে প্রতিদিন। 

সাদা কাগজে দুটো দাগ দিয়ে নদী আঁকতেন মা
নদীর ভেতর চুপচাপ শুয়ে থাকতেন বাবা 
বাবারা নদী না সমুদ্র  সে প্রশ্ন দু'হাতে সরিয়ে 
কেবল দাগগুলো অনিবার্য ঢেউ। 

মায়ের থেকে পাওয়া জলের গন্ধ
বাবার সমুদ্র হয়ে শুয়ে থাকা
স্রেফ এটুকু সম্বল নিয়েই 
বাঁধানো আমার কলম
অন্য কোনো কৌশল জানা নাই।

শান্তনু ভট্টাচার্য

নব জন্মের ডাক
                      
মঞ্চে নাটক সফল হলে 
অডিটোরিয়ামে কেঁদে বেড়ায় সংলাপ 
পরজন্মের প্রতিশ্রুতি দেয় হ্যালুসিনেশন 

ডানার গন্ধ মুছতে মুছতে ভীন গ্রহে পাড়ি দেওয়া 
জারজ ইচ্ছে গুলো মাটিতে রেখে যায় 
পায়ের দাগ, ব্যবহারের নখের আঁচড়

এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত জুড়ে থাকা শীর্ণ নদী 
রাতে স্নান সেড়ে জোছনায় গচ্ছিত রাখে
অভিসারের গহনা

তখন অন্য কোথাও মঞ্চস্থ হবে বলে-
মেকআপ না তুলে আবছা আলোয়
ধানখেত ভেঙে আলপথে হেটে যায় কুশীলব...

যেন খবর এসেছে
অশরীরী জন্ম এবার -সফল হবেই হবে।

রুদ্র মোস্তফা

অহমপুরুবিকা

সময়কে বদলাবো বলে দুজনেই হাতে নিয়ে ছিলাম চাবুক। 
বদলায়নি সময়— ক্ষত- বিক্ষত হয়েছে দুজনার মন ;
তীর্যক অবহেলায় নষ্ট হয়েছে জীবন : বেওয়ারিশ
হয়েছে স্পর্শ করার মত অসংখ্য রজনী; কামনার ফুল
ফলে উঠেনি দীর্ঘঃশ্বাসের ডালে, হতাশার কীট  কুরে কুরে
খেয়েছে কুসুম; আপসের দূষণে দূষিত হয়েছে দুজনার বিধৌত
পরশ্রীকাতর চোখ ; যৌথ একাকী জীবনে ব্যক্তি সত্ত্বা
বেয়ে অবিরত ঝরে যাচ্ছে রক্ত
গলিত স্বপ্ন—গহীন ক্ষণ;
দুঃসময়ের মসৃণ থান কেটে কেটে নিয়তির সুতো দিয়ে ছিদ্র
আকাশ সেলাই করে আমাদের অপেক্ষা সুন্দর সময়ের।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

ভাটিয়ালি

ভোর রাতে দূর থেকে
কোন সুর ভেসে আসে রোজ ?
কান পেতে শুনি রোজ প্রান্তে। 
দিনভর তাই বাজে কানে - মরমিয়া সুর
আমি আনমনে খুঁজি সেই রাখালিয়া ধুন
কে গায়, কে বাজায় ?
কোন সে সুদামা সখা এই পোড়া গাঁয় ?

এখানে ঝিলের জলে বলাকার দল
এখানে পাতার ফাঁকে শিশির সজল।

এক শীতে চলে গেল পরান মাঝি
চিতার উত্তাপে জাগে কিশোর তনয়
দূরে হিজলের ছায়ে
দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল এক মা আর 
এক কিশোরী অপরাজিতা।
 
দিন দিন উড়ে যায় নিষ্ফলা শিমূলের তুলো
কত শীত শেষে আসে উর্বরা বসন্ত 
খসে যায়, জেগে ওঠে সংসার অনন্ত।

পরান মাঝির ছেলে ভাটিয়ালি গায়
পাশে অপরাজিতা সুর ধরে যায়
বুঝি সেই সুর রোজ আমারে জাগায়।

সত্যজিত সেন

মেসেজ

রাতের বুকের মধ্যে পৃথিবী ঘুমায় ক্লান্ত শিশুর মতন।
মেঘের পাঁজর ফুঁড়ে বেজে ওঠে বেঠোভেন 
তাঁর নাইনথ সিম্ফনি
গ্রহান্তরে ভেসে যায়।থরথর করে কাঁপে সাঁকোর মধ্যে নীল জল।
চাঁদের শরীর ভালো নেই। গলায় মেঘের মাফলার।
এপসিলন তারা থেকে ভেসে আসে অস্পষ্ট,অচেনা মেসেজ
চাঁদ কানে হেডফোন দেয়। আকাশের চোখ থেকে রাত্রির শিশির। 
অণু-পরমাণু হয়ে অকস্মাৎ ভেঙে যায় সমস্ত কোলাজ।
নাইনথ সিম্ফনি যেন ইরেজারে ধুয়েমুছে যায়। বিবস্ত্র আগুন বাতাস 
মেট্রো ট্রেনের মত মহাকাশে ছুটে চলে যায়।
এপসিলন তারা থেকে ভেসে আসা অচেনা মেসেজ ক্রমে বোবা।
চাঁদের চোখের জল মুক্তোবিন্দু, মাফলারে চোখ মুছে নেয়।

রাহুল সিনহা

জীবন

কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে
যখন আমার শহর ঘুমোচ্ছে
আমি একা জানালা খুলে
আসতে দিচ্ছি হিমেল হাওয়া।
কেউ আমাকে হাত ধরে 
থাকতে বলেনি, তবু এই বেহায়াসিন্থ
ভেসে যাচ্ছে হাওড়া নদীর বুকে
আর কিছু নেই এই রাতে, সোনালি 
তরল স্বপ্ন আর ফুসফুস ভর্তি নিকোটিন ধোঁয়া, আমাকে এই 
চিরবিষাদ থেকে উত্তরণ দেবে না।
আমি জানি এই নৌকা কোনো ঘাটেই ভিড়ছে না,তবু আচমকা
কোনো লাইটহাউস, মোহনা আর সমুদ্রের ইশারা দিলে ভেসে যাওয়ার
যে লোভ সামলাতে পারি না, তাকে
জীবন ছাড়া আর কী বলা যায়?

পৃথ্বীরাজ দেবনাথ

অগস্ত্যযাত্রা

আমার ঘরদোর বেয়ে ওরা ক্রমশ উঠে গেছে শূন্যতার অভিমুখে, 
আমার সকল বেলা জুড়ে 
তোমার চোখ দুটো হাসছে।
আমার দৃষ্টিপথ জুড়ে রয়েছে ওদের দেহবল্লরীর আলো। 
আমার রমণসুখে ক্রমশ বিমূর্ত হয় এই ঘরদোর,  ভাঙা ঘরের দেয়াল জুড়ে থাকা শতাব্দীর লতাগুল্ম, 
আর সময় ঝরে পড়ে অদৃশ্য এক অন্ধকার কোণে যা প্রকৃত প্রস্তাবে আমার অশ্রুবারি ছাড়া কিছু নয়।
আমি জানি যে ওরা ফিরবে না। 
ওরা চলে গিয়ে ডুবেছে সময়ের আশ্চর্য হ্রদে। যাবার সময় শুধু রেখে গেছে ইতিহাস বিকিরণের বিচিত্র গাণিতিক সূত্র।
আমি জানি যে ওদের মধ্যে তুমিই একমাত্র বাস্তবতা ছিলে, 
যা নিয়ে তুমি ডুবেছ অন্তহীন সময়ের স্থির হ্রদে ।

আব্দুল গফফার

মৃত্যুর ঠিকানায়


হাসপাতালের দশ নম্বর বেডে-
শুয়ে আছে নিথর দেহটা,
বাড়ির লোক, পরশি ডোম- কেউ নিতে আসেনি।
কাটাছেঁড়া হবে, তদন্ত হবে,
ঘটনা না দুর্ঘটনা, স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক!
আইন সমাজ নিয়ম বেঁধে দিয়েছে,
ময়না তদন্ত পারলৌকিক ক্রিয়া করতে হবে।
তবুও যে শরীরের ঘনত্ব মাপতে হয়,
মাপতে হয় ওজনও  শবদেহখানির-
অস্থি মজ্জা মাংসপেশির দশাসয় দেহটা,
কিছু পরে বিলীন হয়ে যাবে চারদেওয়ালের নিচে,
কিংবা বিজলি চ্যানেলে-
হালকা ভারী, ছোট বড়! দাঁড়িপাল্লার কাঠি তখন-
স্থির হবে প্রাণহীন দেহটির মত।
তবে এত পরিমাপ কেন-
ধনী দরিদ্র, ইতর ভদ্রলোক জাতপাত,
পৃথিবীর এই দুইদিনের মায়া কাটিয়ে-
সবার গন্তব্য ও শেষ ঠিকানা যে একটাই!
তবে আমরা অপেক্ষা করি, 
চলো যাই, একই সাথে মৃত্যুর ঠিকানায়।

বোধিসত্ত্ব

যদি স্বজন হতে চাও.....

তোমার এই মেঠো বাউল একতারা হাতে সচন্দনে সকাল সাজায়।

কনকচাঁপা বাতাসের সাথে একমুঠো নির্বাণ মেখে সে খোঁজে নিটোল এক সন্ন্যাসী সন্ধ্যা।

যার কোনো দেশ নেই, কাল নেই, সে তো সপ্তর্ষি পরিব্রাজক।

যাপনের ভাঁজে ভাঁজে গুচ্ছ গুচ্ছ রজনীগন্ধা গুঁজে দিলে তার নাম হয় সবান্ধব যাত্রা।

যদি স্বজন হতে চাও তবে বিজন পথ ছেড়ে চলে এসো ময়ূরপুচ্ছ ছলাৎ ছল নদীটার কাছে।

নিবিড় এক পাঠ শেষে তোমার তিলোত্তমা হয়ে ওঠার
গল্পটাই হোক শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

জতুগৃহ, যুদ্ধদিন - ধ্বংস হোক

শেষতম জতুগৃহ ধ্বংস হোক
ধ্বংস হোক বোমারু বিমান, তীক্ষ্ণ হাতিয়ার,
এসো প্রাইম-মিনিস্টার, এসো মহারাণী, এসো রাষ্ট্রপতি
নিয়ে এসো মোম, গালা, দাহ্য রসায়ণ 
এসো, কে লাগাবে আগুন, এ সময়ের এই আত্মঘাতী জন্মদিনে।
কে লাগাবে আগুন মোমের পালকে,
কেই বা খাবে রক্তছুড়ি, কাটা কেক?
তোমাদের দেয়া যাবতীয় অর্ঘ্য উপহার
ওই দ্যাখো রাখা আছে গঙ্গা যমুনার পাড়ে,
জলের দূষণে ও বহমান খুনে -
ওখানেই রোজ রোজ চুরি যায় বোধ ও বিধান;
হাতিয়ার নিয়ে তেড়ে আসে ষড়যন্ত্রী নেতা, ভাতৃঘাতী ভাই!
প্রণিপাত করি, আর নয়!
শত্রুদের মুখোমুখি শেষ-জতুগৃহে মানুষেরা শুদ্ধ হতে চায়।
তাই বলি, ধংস হোক যাবতীয় জতুগৃহ, যত কিছু বোমারু বিমান!
ধংস হোক জড়ো করা দাহ্য রসায়ণ! মোম-গালা, পেট্রোলের ট্যাঙ্ক!
শেষতম জতুগৃহে শুদ্ধ হোক বোধিসত্ত্ব মানুষের দিন
আগুনে আগুনে শুদ্ধ হোক রক্তঝরা মানুষের আত্মঘাতী দিন।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

আমি কেন বেঁধে নেই

নির্দিষ্ট  এক ছন্দে পাখি ডেকে যায় আমার জানালার পাশে বসে , কে শেখালো তাকে?
অদ্ভুত এক  ছন্দে সাগরের ঢেউয়ের  মন্ত্রপাঠ ব্রহ্মান্ডে ধ্বনিত,  কে শেখালো তাকে? 

নদী তো এক'ই ছন্দে বয়ে চলে মোহনায় কে এনে দিলো তার গতি?

শিশির ভেজা পদ্ম ফোটা ভোরে প্রতিনিয়ত সূর্যের আছড়ে পড়া আলোর সুরে জেগে ওঠে বসুন্ধরা, এতো যত্ন  করে সেই  সুর কে সেঁধে গেলো?

অচ্ছেদ্য ছন্দে মৌমাছির গুঞ্জনে  ফুল জেগে ওঠে বাগানে, এই গুনগুনানি'ই বা কোন পাঠশালার পাঠ?

রাত্রির  খোঁপায় চন্দ্রমল্লিকা সেজে ওঠে নক্ষত্রের  প্রেমে সেই ছড়িয়ে পড়া আঁধারের গায়ে প্রেমের বিশ্বমোহন রূপ কে দিল?

আমি আজীবন  কলে পাম্প করে গেলাম
আমার  কলসীতো আজও শূন্য পড়ে রইল কৈ জলতো ভরলোনা?
সেই  অচ্ছেদ্য ছন্দের বন্ধনে আমি কেন বেঁধে নেই ?

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

বসন্ত পঞ্চমী,১৪২৯বঙ্গাব্দ

ঠিক তিয়াত্তর বছর আগে
এমনি এক হেমন্ত প্রভাতে
ভারতবসন্ত দেখেছি স্বপ্ন-

এঁকেছি স্বপ্ন পথরেখা,
যে স্বপ্নে প্রকৃতি হবে আপ্যায়িত
যাপন হবে নিশ্চিন্ত, আনন্দিত।

এ পথ তৈরি নয় অসাধ্য,সতত সরস্বতী
প্রবাহমান ভারতহৃদয়ান্তরে,
বাগ্দেবী বাহন ছুটে দিগদিগন্তে-

আলোকে করুক জাগ্রত
পলাশরঙা ভারতসূর্য-
বিশ্ববিমোহিনী বিশ্বম্ভর।

লিটন শব্দকর

হেমন্ত 

একটি শুন্যের জন্য 
সহস্র কবিতা অপেক্ষা করে থাকে

তারপর ধু ধু হেমন্তের পোস্টবক্স
চিঠি। খবর। শুন্য! অথবা কবিতা

খোকন সাহা

ত্রিধারা

তাল নয়, তালিয়া মারো!
এ হল বেতাল ত্রিবিংশতি সমাচার।
ধামবিহীন নাম নাও,
নতুবা নদীর কূলে বয়সের আছাড় খাওয়া 
সন্তাপ চিরে,
নাও ছাড়ো এ বেলা।
নাহলে তিনকুলের কেউ না থাকলেও, 
ডুব সাঁতারে নদী পার।
ত্রিধারার নাওখানি বড়ো মাতাল!

এর দুই মাথায় দুই বৈঠা,
মাঝখানে নেই কোন আরোহী;
সকাল হতে সাঁঝ করে পারাপার।
শুধু শুকনো ধানের ছড়া
কুড়োতো কুড়োতে যদি পেয়ে যায় --
মরা মরা রাম রাম  আদিকাব্যের ধারা,
তাহলে গঙ্গা যমুনা সরস্বতীর বেণীতল
দেখিব আমরা!