Oct 28, 2022

নমিতা সরকার

সন্ধানী মন

চেনা সুর চেনা ছন্দ আকাশের নীল মেঘে হাবুডুবু খেতে খেতে চাঁদের দেশের কৌতুহলী পথের বাকে বাকে ভীড় করে।

নক্ষত্রগুলো আকাশের বুকে গেঁথে আছে নাকি ঝুলে আছে?

অন্ধকারেই যে সুখ খুঁজে নেয় তবুও কেন যে সুখি নয়? 

কেন যে হঠাৎ ঝরে পরে মিটিমিটি জ্বলে থাকা সুখের জগৎ থেকে অচেনা পথে...

হয়তো সে নিজেও জানে না, হয়তো জানে, ঝরে পড়লো কোন পথের বাঁকে মাঠের বুকে নদীর বুকে নাকি সমুদ্রতলে... অদ্ভুত উদ্ভিদের বৈচিত্র্যের ন্যায় কৌতুহলের প্রশ্ন জেগেই থাকে।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

 নিছক সাধারণ মেয়ের কবিতা

 বলেছিলাম সেদিন 
" একটি কবিতা লিখ কবি!
নিছক সাধারণ মেয়ের ,
লিখতে লিখতে তোমার কলমের 
আঁচড়ের শব্দ স‍ৌরভে যাকে
করে তোলবে অসাম‍ান‍্যা !"

"কালো শব্দটাকে সুসজ্জিত করে সাজিয়ে দেবে
আলোর মহিমায় ,
তোমার কবিতার নায়িকা ; পরী আলোতে 
মহিমান্বিত করে তোলবে সমাজেরে ,
গুণে হবে গুণান্বিতা;
গায়ের রংটা হোক না কালো ।"

হে কবি ! "  নায়িকার
বিচার সভা ভরে দিও অদ্ভূত কলরবে।
কালোর মাঝে শত আলোয়
ভরে দিও কলেবর ,
আবেগী চোখে ঢেলে দিও আগুনের শিখা  ;
যে শিখার দীপ্ত তেজে ছাই হবে কালোত্বের লাঞ্ছনা।"

হে কবি !  তোমার নায়িকা নারীত্বের 
অনুবলে হয়ে উঠবে মহীয়ান ;
পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি,কামজ উদ্দামতা মিটাতে
হাতে তোলবে শানিত বর্ম।
সতীত্বের মর্যাদায় অনুপমা , আর অসীম মমতার প্রগাঢ়তায় হবে উপাস‍্যা।

হে কবি ! কালোর মাঝে আলো ঢেলে
একটি সাদামাটা মেয়ের কবিতা লিখ তুমি,
যার সরল জীবন ; অনুপ্রেরণা
আত্মমর্যাদা ; অহংকার ,
কালোতেই  প্রসিদ্ধি
তিতিক্ষার আকাশে উড়বে মুক্ত বিহগ।

শারদ আকাশ,কাশ শিউলির সখ‍্যতা
তোমার  নায়িকা জীর্ণ পৃথিবীর জীর্ণতা ঘুচাতে
মেলবে  আঁচল  ; অসম্ভবে সম্ভব করে
অট্টহাসিতে ভরিয়ে দেবে আকাশ বাতাস
কালোর জয়গানে মুখরিত হবে বিচারসভা
ঘুচে যাবে মনস্তাপ , নামবে শান্তি।

একটি কবিতা তুমি লিখ কবি
নিছক সাধারণ মেয়ের কবিতা।

অপর্ণা পোদ্দার সাহা

বিষবায়ু

ক্ষতগুলি সেরে উঠুক 
বেড়ে উঠুক মনের লালিত্য
গোপন কুঠুরি হোক জেহাদমুক্ত
এতে যদি হয় ক্ষতি 
সংগোপনে একটু নতি
হাসি ফুটুক সকলের অন্তরে অতি।

চন্দ্রা বিশ্বাস

পান্ডুলিপি 

জীবন এখন হেলতে দুলতে পার হতে চায় রাজপথ
যানবাহন মন ইচ্ছে-সফরে, গতি রোখা দায়,অসম্ভব,
বিবেক ব্যস্ত, উদয়-অস্ত , দিনভর রোজনামচায়
জেব্রা ক্রসিং এ বিবর্ণ সময় , ভালো মানুষীর ঈশারায়।
মগজ ঝিমোয়, আলো-চেতনায়, হিসেব-নিকেশ পদক্ষেপে
কন্ট্রোলরুমে বিবেকবাবুও , অতি সজাগ ফেলে পা মেপে।
পলক ফেলতে মুঠোয় অতীত, বর্তমান বলে হয় কি কিছু? 
ভাবো মন ভাবো, ক্ষণেক দাঁড়াও, হুঁশিয়ার,
ভাবো আগুপিছু ।
ভবিষ্যত ও অতীতের চাপে, শ্বাসরোধে চোখে সর্ষেফুল
মনের গতিটা দাও রুখে,
আর ভুল করে, করো ক্রমাগত ভুল ।

ঝুমা শব্দকর

সেতুকথা

পাড়ে বসে কাটানো কতদিন...
হঠাৎ রৌদ্র ঝিলমিলিয়ে ওঠলে 
নৌকো ভেবে ভুল হয়
নাহ্, আমার কোনো খবর আসেনি
 
সন্ধ্যে হয়ে এলে 
উঠে যাই বালুচর ছেড়ে
      শান্ত রাস্তা থেকে স্ট্রীট লাইট, 
      মানুষের চলাচল
রাত গড়ায়; স্বল্প ঘুমের পদ্য

ক্ষীণ রেখায় পাল তোলা নৌকো
  এপার ওপার জুড়ে 
             অদৃশ্য সেতু রচনা করে।

সন্ধ্যা ভৌমিক

রহস্যের কুহেলিকা

জাগতিক কাজের ভিতর রহস্যের খেলা,
অবিরাম উড়ে যায় পাখির ডানা মেলা সারি...
তাদের গভীর চাহনি সামনের দিকে
তবু মাঝে মাঝে যণ্ত্রণার চিতার দিকে 
চোখ তুলে তাকায় স্থির‌ ‌।

অলকা গোস্বামী

কোনো এক দিন

অদূরেই কৃষ্ণচূড়া গাছ, ঝির ঝির
ছায়া এসে পড়ে ছাদের এক কোনে।
হিমের ছোঁয়া লাগে বাতাসে আজকাল,
ঝরে ঝরে পড়ছে কৃষ্ণচূড়ার পাতাও।
খালি খালি লাগে ছাদের ওই কোনটা।
কেমন একটা আঠালো মায়া ভরা
এই জীবন, কখন অজান্তেই
অচেনা সব চেনা হয়ে যায়,...
আর ঠিক তখুনি .... ছেড়ে যায় সব, ট্রেন জানলায় দৃশ্যের মত।

কোনো একদিন শুধু পড়ে থাকবে, ছাদ.... আর রোদের আলোর ঝির  ঝিরে ছায়া।

নিচে পড়ুন নির্বাচিত ১১ জন তরুণের কবিতা



মো: রুবেল

মায়া

আজকাল বাবা আমাকে সংসারের পাঠ শুনান। 
ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে ঠিকে থাকার পাঠ।
বাবা আততায়ী ক্ষুধা পালন করতো পেটে।
আর আমাদের পালন করতো বুকে।
আমিও শুনি। 
হিম হয়ে আসে শরীর।
অপলক তাকিয়ে থাকি বাবার মায়া ভরপুর চোখে।
বাবা অনর্গল বলতেই থাকলেও
বাবার সংসার পাঠে আমার মনোযোগ থাকে না।
আমি আকণ্ঠ মায়া পান করতে থাক,
বাবা তো জানে না সংসার বলতে
আমি কেবলই বাবাকে বুঝ।।

রূপন মজুমদার

বসন্ত সন্ধ্যা

কোন এক বসন্ত সন্ধ্যায়
আমি কবি হয়ে দাঁড়াব তোমার সম্মুখে
দীর্ঘকাল ধরে বুকে চেপে রাখা মাটির কান্না তোমায় দেব
তুমি সোনামুখী সুঁচ দিয়ে এঁকে রেখো 
সংসারী নকশী কাঁথার মাঝে ভাঁজে ভাঁজে। 

মানুষের রেখে যাওয়া পথে হেঁটে হেঁটে 
কোলাহল জমিয়েছি দুহাত ভরে... তার সাথে..
তুমি চাইলেই তোমার ঐশ্বর্য পথে বিছিয়ে দিব
আকাশের মাত্রাহীন পদচিহ্ন।

যে চোখে জীবন্ত শ্বাস খেলা করে আগুনের সাথে
কিংবা নিঝুম রাতের স্তব্ধ নারীর কথা
তুমি ওই জোড়া চোখে খুঁজে নিও ফ্যাকাসে রঙের ঢেউ।
 
প্রাণের ভেতর যত অসংখ্য নদীর প্রত্নবেদনা  
কখনো ধূলিকণার মতো উড়িয়ে দিয়েছি রাজপথে।
অবলীলায় তাও লিখে দিবো তোমার নামে.... 

কোন এক মাতাল সন্ধ্যায়
এবার আমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে দাঁড়াবো। 
ক্লান্ত পথিকের নীরবতার পাশে।

রাজশ্রী তুমি চাইলে হাত ধরতে পারো।

লিটন শব্দকর

খোলাচিঠি 

ঝিঁঝিঁডাক হারিয়েছে হরিনজন্মের ভেতর 

ক্যামেরায় অশেষ অভাব, রাখঢাক, মর্মে !

মাংসগন্ধি রবিবারে বড়ো রাস্তার পাগলটা
এক হরবোলার সাথে খুব ভাব জমিয়েছে

তুমি কি আমার দেখা গাজনের মাঠে
পুরোনো শেকড়ের ঘ্রাণ খুঁজে পেলে!

কুয়োতলায় সারেঙ্গী, ছুঁয়ে দেখাও প্রজন্মে…

শিউলী দাস

তুমি

তুমি খুঁজে যাও ধরাতলে শান্তির মুখছবি 
আমি দেখি তোমাকে যেমন চিত্রপটে আঁকা রবি।
আমার জীবন গল্পের তুমিই সারাংশ ,
প্রতিটা লেখায় ঘর করেছে তোমারই অংশ।
সূর্যাস্তের গোপন কথা যেমন ধরার বুকে হয়,
আমার অন্ত শেষ বসন্ত যেন তোমার কাছে রয়।

সহিদুল ইসলাম

ধোঁয়াটে হাসি       

এক মুঠো হাসি পেয়ে      
মেঠো পথে কুড়িয়ে,
শকুনের মত নিয়ে পড়ি
খাবলে ঝাপটি দিয়ে।
ডানার উৎসুক শব্দ শুনাই,
সকল মাংশাসীদের।
হিংসায় জ্বলে ওরা,
দহনে আমার আনন্দের।

ধূপকাঠির সাদা ধোঁয়া বায়ুর গায়ে গন্ধ লেখে,
বায়ুতে যেমন বিলিয়ে যায়।
আমার কুড়িয়ে পাওয়া হাসি,
মগজে নিমেষে হারায়।

সুচরিতা পাটারী

ঘনত্ব বনাম পরিবাহীতা

সকালের যে সময়টাতে কম্বলের আমেজ কাটাতে হাঁপিয়ে উঠি,
ওবেলায় উনুনের আঁচে মায়ের কপোল-বর্ষন হয়।
দিন যত বাড়তে থাকে,
কালসিটে আঁচলের আড়ালে বর্ষার জল ক্রমে হালকা হতে থাকে,
বাহুর জংশন ক্লান্ত হয়ে অসার হতে চায়।
 আসলে ঘনত্ব হ্রাসের সাথে সাথে পরিবাহিতাও যে হ্রাস পায়।।

রুবেল হোসেন

শর্তহীন ভালোবাসা

তোমাকে খুঁজে পাই ক্ষণে ক্ষণে।     
সোনালী রাঙা পাখির ডানায়। 
তপ্ত মনে ছুঁয়ে যায়, তৃষ্ণার্ত প্রাণ
সেখানেও তোমার পরশ মাগি
বিনিদ্র রাতও জাগি 

তোমাকে যদি বলি শর্তহীন ভালোবাসো
ভালোবাসবে কি?
যদি বলি আমার কাছে এগিয়ে এসো
দ্বিধাহীন আসবে কি?

চোখটি তুলবে, ঘন কেশগুলো সরিয়ে নেবো,
লাল টিপ পড়িয়ে দেবো
একে অপরের স্পর্শে ম্লান মনে 
ভাগ করে নেবো দুঃখ-সুখ
গড়ে তুলবো মুহুর্তে প্রাসাদ
চোখে চোখ রেখে জন্ম দেবো শত কবিতা।
প্রেম ছাড়া আর কিছু চেওনা
কিছু নেই দেবার মতো,
আছে শুধু শর্তহীন, সেই ভালোবাসা।

সঞ্জয় দত্ত

ছাপ

ঘুম ভাঙলে আমার সকাল হয় প্রতিবারের মতো ।
সন্ধ্যা হতে হতে ভুলে যাই হাজারো দাগের গল্প,
এই গল্প গুলো কেউ মনে রাখতে চায় না,
তা নাহলে পৃথিবীতে অন্ধকারকে কেউ উপেক্ষা করত না!

ভুলে যেতে হবে, নতুনের আশায় বসতে হবে।
এই নিয়ম আমার পূর্বপুরুষ দেখে এসেছেন এবং আমার উত্তরপুরুষও দেখবেন।
এই  পৃথিবীর নিয়ম।
যদি লঙ্ঘিত হত তাহলে আমার অস্তিত্ব বৃথা!

নিয়মের কবলে পড়ে ভাবনার ঘরে সন্ধ্যা নামে।
আমার মতো হাজারো গল্প একটু জল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
হিসেবের খাতায় শূণ্য ছাপ ছাড়া আর কিছু দেখি না!

রমা চন্দ্র

সাধ

সব বাধা টুটে
বহুদূর ছুটে...
আমি পাহাড়ের বুকে,
দেখি সকাল দুপুর সাঁঝে 
এক মহান মৌন 'ঋষি'
যেন ধ্যানমগ্ন নিঃসীম পরম শান্তিতে,
ক্ষণে ক্ষণে অনুভবে প্রকাশিত...
তাঁর অসীম শক্তিতে-
অভিভূত এই আমি-
বোঝেন কি অন্তর্যামি!
পাহাড় গাত্রের সবুজ অরণ্যানি...
নির্ভয়ে বিকশিত-
ফুলে ফলে বর্ণে গন্ধে শোভিত,
পশুপক্ষীর অবাধ বিচরণ...
বর্ণবৈচিত্রে পূর্ণ মধুপের গুঞ্জরণ...
মাতোয়ারা ঝর্ণার অবতরণ...
কতশত জীবের পদচারণ...
বিস্ময়ে দেখি শুনি-
সত্য‌ই 'হিমালয়' যেন এক দেবভূমি!
নাই কোন মন্দির মসজিদ গির্জা 
বিদ্যুৎ আলোর সাজসজ্জা,
শুধু পরম পুরুষ পরম প্রকৃতির খেলা...
মেঘেদের ছুটে চলা...
পাহাড়ের পাদদেশে বহমান... 
নদী জল ছুঁয়ে ফেলা,
কখনো বা উড়ে চলা 
পাহাড় শিখরে-
সূর্য রশ্মিতে স্নানের তরে!
শুধু ভাবি আনমনে 
সঙ্গী হতাম যদি মেঘেদের সনে
যেতাম‌ই ওই 'সুন্দর' এর আলিঙ্গনে!

Oct 27, 2022

অনুপ দেবনাথ

গোপন অসুখ 

আমি একটা খুব গোপন অসুখ চাই।        
খুব গোপন একটা অসুখ।
তাতে অনায়াসে সারিয়ে দিতে,
কোনো চিকিৎসা বেরোখ। 
খুব গোপন একটা অসুখ। 
যেদিন আমার চারা গাছটি বৃদ্ধ হবে।
বসন্তে যতই ফুল ফুটুক, 
ওপ্রান্তের একটি টেলিফোন।
শুধু নীরবতায় সেদিন আমাদের ভাষা হোক।

সুতপা রায়

মিলন হবে কতদিনে

দেশে দেশে পরবাসী
বাঁশি আর নূপুরের মাঝখানে
বোমারু বিমান
কৃষ্ণ মেঘে ঢাকা নীলাকাশ
বাঁশির সুরে শ্যামকল্যাণ
রাগে অনুরাগে বিরহ অভিমান

নালিশ দম্ভ বোমায়  
সুফল কিছু নয়
এসো পরবাসী,
মনের মানুষ কাছে এলে
ফুল ফোটে
ফোটে ফুল যেন বিশ্বময়