Oct 19, 2021

সংগীত শীল

ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক

ধর্মের নামে রাজত্ব খাটানো মূর্খবাসী,

তোমাদের মধ্যে মানবিকতার নেই কোনো চাবিকাঠি;

হিংস্রতা বর্বরতার জন্য কলুসিত বিশ্ব

কি করে দাবি করো নিজেদের ধর্ম শ্রেষ্ঠ? 


ওরে বোকা মানুষকে ভালোবাসো

ভগবান মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস রাখো।

যার দোহাই দিয়ে লুটপাট করছো

এতে কি ভালো হবে মনে করছো!


এবার ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ বন্ধ করো,

মানুষ হয়ে উন্নত মানসিকতা সৃষ্টি করো।

সমরজিৎ গোস্বামী

ব্যক্ত প্রেম

চাঁদনী রাতের মুগ্ধ ছায়ায়, 

ভাসছি আমি মনের হাওয়ায় l

দিচ্ছে ডাক, ভাসছে মেঘ, 

মনে বড়োই উঠছে আবেগ!

রক্তে রাঙা হাঁসির ছায়া 

তোর চোখেতে মধুর মায়া!

তোর হাঁসিতে হাসতে চাই, 

ঐ চোখের মায়ায় ভাসতে চাই l

তোর সেই কাজল কালো চুলের ভাঁজ, 

বন্ধ করে আমার কাজ!

আমার মনেতে আবেগ জাগায়, 

তোকে ও কি তা স্বপ্নে দেখায়? 

অন্ধকার-ও আলো বুঝি, 

তোকেই শুধু স্বপ্নে খুঁজি l

মনের কথা মন-ই জানে, 

কে জানে সে কি যে মানে!

একটি কথাই বলতে চাই, 

তোর মনেতে ঠাই চাই!

কাজী নিনারা বেগম

গোঙানি

শেষ মধাহ্নে নিস্তব্ধ গোধূলির রক্তিম সুরুজ ,,

আজ  বর্নহীন নীল দীগন্তের বুনো হাঁস গুলো ,,

আজ পথ ভ্রষ্ট! 


অধরা লালিত্যে অবরূদ্ধ দুয়ার খুলিল,,

সিক্ত কাঠ গোলাপের পাপড়ির মতো খসে পড়ছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রনয়।। 

এক  অব্যক্ত যন্ত্রনায়  তীব্র ও নিস্তেজ  বোবা  গোঙানি,,

উষ্ণ আদর ও পবিত্র ভালোবাসার  আলিঙ্গনে ভরেছে আঙিনায়,,

সুভাষিত হাসনেহেনা! 


ভালো  বাসার  হাটের আনাচে কানাচে ইচ্ছেরা আজ পন্য,,

দরদাম কষাকষিতে মগ্ন ভালোবাসার উষ্ণ বোবা চাদর,,

হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে ইচ্ছের ঘুড়ির নাটাই সূতোঁগুলো কেটে জীবনকে উপড়ে ফেলেছে মৃত্যুর যন্ত্রণায়।।

সুস্মিতা পাল

শুনছিস কি মা

শুনছিস কি মা ? ‌আজ এই বাংলার দুর্দিনে ,

কি বা বলবো রে মা দুঃখের কথা আর কি ইবা লিখবো ।

বলতে গেলে বাকরুদ্দ হয়ে যাচ্ছি বারংবার ,

আর,‌লিখতে গেলে যে থমকে যাচ্ছি বারংবার ।

এসেছিলি তো মা মর্ত ধামে ছেলে মেয়ে নিয়ে,

ভেবেছিলি তিন চারটে দিন থাকবি বড় আনন্দ উল্লাসে ।

কিন্তু মানুষ রুপি কিছু অশিক্ষিত নর পিশাচ ‌থাকতে দিলো কই?

অষ্টমীতেই হলো যে মা তোর বিসর্জন ।

ক্ষমা করিস মা ,

‌পারলো না যে তোর সন্তানরা তোকে রক্ষা করতে ।

তবুও ‌শুনতে পাচ্ছিস কি মা ?তোর সন্তানদের সেই আর্তক্রন্দন?

তোর সন্তানরা তো ‌ভেবেছিল ঠিক ই তোকে বিদায় বেলায় রাঙাবে যে মা সিঁদুর খেলায় ।

কিন্তু এর আগেই সেই সিঁদুর যে রক্তের খেলায় মেতে উঠবে,‌ কে ইবা জানে রে মা বল !

শুনতে পাচ্ছিস কি মা,

‌আমরা তো তোর উল্লাসে ব্রত হতে চেয়েছিলাম রে মা ‌কিন্তু ব্রত হতে দিলো কই ?

তুই তো মা রক্তাক্ত দেহে কষ্ট পেয়ে চলে গেছিস ঠিক ই কৈলাসে

কিন্তু তুই তো মা সব ই জানিস ,

তোর ধরা ধামের বাংলার সন্তান যে এখনো প্লাবিত হচ্ছে সেই রক্তের দাঙ্গা সাগরে ।

শুনতে কি পাচ্ছিস মা তোর সন্তানদের সেই গহন হাহাকার ?

দেখতে পাচ্ছিস কি মা তাদের অশ্রু ধারা?

আজ তোর সন্তান যে বড় অসহায়,‌মানুষ রুপি কিছু নর পিশাচ দের অত্যাচারে ।

কিন্তু তুই তো মা চলে গেছিস , 

তবে আবারও যে তোকে আসতে হবেই এই বাংলার ধরা তে তোর সন্তানদের রক্ষার্থে ।

‌তবে হে আর উমা রূপে আসিস না মা

এবার আসলে ছিন্ন মস্তা রূপে আসিস মা

তোর সন্তানরা অপেক্ষায় আছে যে ‌ওই দুয়ার পানে তে চেয়ে 

আসবে যে মা কালের দমনে রন চন্ডিকা রূপে নিজ সন্তানদের রক্ষার্থে ।

টিংকু(মামন)নন্দী।

এক পলকের কথা

বেদনাবিধুর কাব্যগাথা আমার অগোছালো কবিতা,

আলোহীন নিরবতায় জীবন বন্তির শেষ শলিতা।

আমি তুষ্ট ওতেই; তাও মানবতার রশ্মি দিকবিদিকে ছড়িয়ে যাক,

বন্ধুত্বের পিঞ্জারাই নিখুঁত সৌহার্দ্যর ভালোবাসায় থাক।

স্মৃতির পটে ভাস্কর হতে যে খোঁজে,

নীরবতার মাঝে চুপকথার গল্প সে বুঝে।

নিঃস্ব নিরব বন্ধনে সম্পর্কগুলো দিগন্ত ঘেঁষে,

বালি মাখা নদী ও একদিন স্রোতধারায় বাসে।

Oct 18, 2021

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ

নিরীহ সে

সে সহে,
সে রহে।
সে অল্পতেই খুশি হয়ে যায়,
তাই সুখ তাকে ডেকে বলে আরে ভাই। 
সে ঠাকুর আছে জানে,
তাই সমস্ত ধর্মকে শ্রদ্ধার সাথে মানে।
সে অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্য করে,
তাই লোকেদের মুখে তার জন্য আশীর্বাদ ঝরে ঝরে পরে।
সে মনে কোনো লোভ, অহংকার রাখে নাই,
তাই দুঃখকে সঙ্গে নিয়েও দুর্গম পথে হাসিমুখে হেঁটে হেঁটে যায়।
সে নিরীহ, সে অসহায়,সে দরিদ্র, সে সয়েছে, 
তাই তার জীবনের অস্তিত্ব এখনও রয়েছে। 
সে সমস্ত ব্যাথা-বেদনা সহ্য করে,
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে মরে।

লিটন শব্দকর

উৎসব

যে কথাগুলি শুনে তুমি ভাঙন দেখো চোখে

আমি চুপটি করেই থাকি এখন সেসব দেখে।


সাইকেলে বেড়োতে মনে করি ডারউইনকে

হাকডাক জারি রাখি এ মনে সে মনে কাগজ


আমার এবং আমাদেরও হৃদয়ে বিশ্বাস আছে

অনেক উৎসবের বাস

আছে তেরোটি পার্বণ আর বারোটি মাস।

দেবদাস কুণ্ডু

দেবীমুখ

আমি একটা মুখ খুঁজছি

খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছি অনেক দূর

একটা মুখে আত্মহত্যার হাতছানি 
একটা মুখে অপমানের অগ্নিশিখা
একটা মুখে অত্যাচারের কালো মেঘ
একটা মুখে পড়ন্ত যৌবনের নিভন্ত আলো
একটা মুখে মৃত ভালবাসার শুকনো নদী
একটা মুখ শরীর বিনিময়ে শিয়ালদহ
লোকালের বিবর্ন জানালায়
একটা মুখে খিদে মরুভূমির উঢ
একটা মুখে জ্যোৎস্না মাখা কান্নার বৃষ্টি
একটা মুখে নারীভ্র্ন হ্ত্যায় অশোকের মুখ
একটা মুখে ধর্যনের নিকষ অন্ধকার।
একটা অন্য মুখ খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছি
অনেক দূর।শহর নগর গ্রাম পার করে
দাঁড়িয়ে আছি সীমান্তের শেষে
এবার কি আমাকে কাঁটাতার পার করতে হবে?

আলমগীর কবীর

জীবনের গতিপথ 

তুমি কি দেখেছো পর্বতমালা থেকে কিভাবে একটা বড় পাথর কণা ভাসতে ভাসতে ছোট নদীতে এসে পড়ে।
ভাসতে ভাসতে আবার আরেকটি বড় নদীতে।  
সে গড়াতে গড়াতে তার দেহকে ক্ষয় করে নিজেকে অনেক পরিবর্তিত করে নেয়। 
ধিরে ধিরে তার দেহের আকৃতি ক্ষয় হতে হতে একটি গোলাকার, মসৃণ, ছোট বালুকণায় পরিণত হয়।
সব শেষে ঠিক সে তার গন্তব্যে পৌঁছে যায় সমুদ্রে

লালন চাঁদ

উৎসব

ইচ্ছেগুলো উড়িয়ে দিই হাওয়ায়
পেঁজা তুলোর মতো উড়ে যায় সারি সারি মেঘ 
স্বপ্ন নেই 
মায়া নেই 
মন ময়ূরীর শাদা পালকে ভাসে সোহাগ মাখা ক্লান্ত দুপুর।।

দুঃখগুলো হাওয়া হয়ে উড়ে যায় 
দুঃখের ভেলায় ভাসে প্রতিদিন নির্বেদ অবহেলা 
আমরা অনাথ 
খেলাঘরে স্বপ্ন আঁকি
ঘুমন্ত পৃথিবীর শরীর জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে বেআব্রু গন্ধের সহবাস ।।

তবু আবির রাঙা রোদে হাত বাড়াই 
জেগে ওঠে আমার আঠারোর সোনা রোদ বিদিশা
তার খোঁপায় নগ্ন হাওয়া 
ঘর্মাক্ত সুবাস
আমি আকাশের ছায়া হয়ে হারিয়ে যাই শৈশবের পুরোনো কলতলায় ।।

ফিরে আসি দুঃস্বপ্নের নষ্টনীড়ে 
পোয়াতি ধানক্ষেতে কৈশোরের শিশির মাখা কথকতা 
ছায়া ছায়া পাথর 
পাথর গলানো মরুতৃষা 
আমরা কেবল গার্ড। সারাদিন পাথর ভাঙি দুফোঁটা রক্তের বিনিময়ে ।।

ঝড় আসছে 
ভাঙছে আকাশ। ভাঙছে পৃথিবী 
গা খুলে জলে নামি। ডুবুরি হই। তুলে আনি দুঃখ 
হাতের তালুতে চাপ চাপ দুঃখ প্রতিদিন জন্মদিনের ফুল হয়ে ফোটে ।।

সিদ্ধেশ্বর হাটুই

স্বাধীনতা

কুয়োর মধ্যে ছিলো ব্যাং

ডাঙায় আনলাম তুলে,

থমকে গিয়ে তাকিয়ে দেখে

গলাটা গেল ফুলে।

কাছুটা সময় ভাবল ব্যাং

কোথায় এলাম আমি

চারিদিকে দেখে অনেক জায়গা

মনে মনে ভাবে- 'কুয়োর চেয়ে দামি।'

এই ভেবে সে লাফিয়ে চলে

এ ডোবা থেকে ঐ পুকুর,

জীবনটা তার সুন্দর হলো

আহা কি মজা ভরপুর ।

ব্যাং পেল তার মুক্তির স্বাদ

দেখল নতুন পৃথিবী,

চাইনা আমি বদ্ধ জীবন

থাকনা নিজ হাতে স্বাধীনতার চাবি।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

সম্ভ্রান্ত,তোমাকে স্যালুট

তোমার সামনে অসহায় মাথা ঝুঁকিয়ে আছে

তোমাকে অসহায় প্রণিপাত করছে -

বিষয়টা বহুৎ পুরোণো

কিছুটা শ্বাসরোধী ধোঁয়া

কিছুটা জট পাকানো অহঙ্কারের মতো


অসহায় লোকগুলো মাথা ঝুঁকিয়ে আছে

ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো একটু আধটু নড়া চড়া করছে।


তোমাকে লোকগুলো প্রণিপাত করছে

ওদের সামনেই সেই স্যালুট স্যালুট রাস্তাটা ধরে

জুতোর খুরে ধূলো উড়াতে উড়াতে

তুমি নিশ্চিতই হেঁটে যাচ্ছো শিরোপাবিহীন পতনের দিকে!

অভিজিৎ দত্ত

কন‍্যাদান

যদি যোগ্য পাত্রে পিতা
কন‍্যাকে না করেন দান 
তাহলে পিতার জীবন হয়
বিষের সমান ।

কন‍্যা হলেন রত্ন 
তাকে করতে হবে যত্ন
তবেই কন‍্যার আশা হবে পূরণ
ভবিষ্যতে কন‍্যাই হবে পুত্রের সমান।

কন্যাদান বড়ো অদ্ভুত প্রথা
আজ একবিংশ শতাব্দীতে
এ কী অদ্ভুত তামাশা?
কন্যারা যোগ্যতায় পুরুষদের সমান
তবে কন্যাদের কেন করা হবে দান?

কন্যা নিজের পছন্দমতো
বেছে নেবে পাএ
অভিভাবকরাও কন্যাকে 
সাথ দেবে প্রতিনিয়ত।
কন্যারা গড়তে পারে    
নিজের ভবিষ্যৎ
যদি আমরা তাদের জোগায়
আত্মবিশ্বাস ও সাহস।

রবিন কুমার দাস

বাংলা ভাষা - আলো আশা

A, B, C, D শিখেছি মা বাংলা শেখার পরে
অ,আ,ক,খ শেখা সে তো তোমার-ই হাত ধরে ,
মুখে- মুখে শিখিয়েছিলে কবিগুরুর ছড়া
বি-এ, এম-এ পাশ করে মা সাঙ্গ করি পড়া ।


বাংলা আমায় শিখিয়ে তুমি করনিকো ভুল
প্রতিবাদের ভাষা শেখায় বিদ্রোহী নজরুল ,
সুকান্ত কে পড়তে দিলে একটু মনে কর
জন্মদিনে হাতে দিয়ে বললে তুমি পড়  ।


পাতায়- পাতায় আগুন ঝরায় প্রতিবাদের ভাষা
যুদ্ধ শেষে প্রিয়তমার কাছে ফেরার আশা,
পড়তে-পড়তে হারিয়েগেছি বাংলা ভাষার কাছে
বাংলা শুধু শিখিনি মা ইংরিজিও আছে ।


বলতে লিখতে শিখেছি মা শুধুই বাংলা নয়
ইংরিজিটা  বলতে এখন হয়না মোটেও ভয়,
অনেক ভাষাই বলতে পারি এখন অনায়াসে
জার্মানি ও ফ্রেঞ্চ ভাষাতো ঠোঁটের ওপর ভাসে।


ভাবছ তুমি তোমার খোকা শিখল কেমন করে
ভাগ্যি তুমি শিখিয়েছিলে বাংলাটা হাত ধরে,
বাংলা যদি না শেখাতে ধরতে পারি বাজি
আমার কাছে "টেগোর " হতো শুধুই ইংরাজি !

প্রীতম চক্রবর্তী

অবৈধ সন্তান

বুকের পাঁজর কাঁপানো চিৎকার,
আর ক্ষুধায় কাতর প্রাণ।
হৃদয় মাঝে হিল্লোল তুলে
নিস্পাপীর অভিমান।

কখনো পথের আস্তাকুঁড়ে,
পড়ে থাকে নব প্রাণ।
কখনো বা জঙ্গলে কাঁদে
অবৈধ সন্তান।

দেখেছো কি তুমি সভ্য সমাজ?
শিশুটির মুখখান,
উদর হতে নিস্কাশিত করে যারে,
মা পেয়েছে ত্রাণ।

পুরুষ নারীর উন্মত্ততা
রেখেছে কলঙ্কের ছাপ।
এদের পাপে নিস্পাপী শিশু,
পেয়েছে অবৈধ শিশু নাম।

সমাজ একে মানেনি কভু,
ঠেলে দিয়েছে হোমে।
বহু কষ্টে বড় হলেও
পরিচিত সে অবৈধ শিশু নামে।

নেই তার কোনো পরিচয়,
অজানা মাতা-পিতার নাম।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে
অবৈধ সন্তান।

সুদীপ্তা চৌধুরী

ভালো আছো তো

দিনের অন্তগমনে;
রাতের শুভারম্ভ!
স্নিগ্ধ আকাশে আচমকা -
মেঘের ঘনঘটা সেই সাথে বৃষ্টিধারা!
সুখের মধ্যাগমনে আচমকা;
দুঃখের কালো ছায়া!
.......
কেটেছে অনেকগুলো বছর।
আঁধার হয়েছে, করেনি ইচ্ছে আলো জ্বালাতে
তোমার মতো কেউ রাখে না আজ -
আমার খেয়াল।
বিছানার পাশের বালিশটা শূন্য।
কতো বছর তোমায় হয় না ছোঁয়া!
ফাঁকি দিয়ে একাই চলে গেলে।
ঐ পাড়ে-
ভালো আছো তো!
আমি তুমিবিহীন নেই যে ভালো।
আমার শূন্য হৃদয়,জীবনযাত্রা,
অনুভূতি, আঁখি;
খুঁজে ফিরে শুধুই তুমি!

মানস দেব

পাগলিটাও মা হবে

 পাগলিটাও মা হবে !
 ভাবলে ভীষণ অবাক লাগে ।
 সভ্য সমাজের চাঁদের আলোয়
 এ যে গ্রহণ দোষ লাগে ।

 মানব রুপী নর - খাদক গুলো
 ঘুরছে এদিক-ওদিক ধর্মের ষাঁড়ের মতো ।
 ভালো-মন্দের পরোয়া না করে
 উদগ্র বাসনা মিটাতে যে শশ ব্যস্ত !

 অবোধ নারী বোঝেনা গর্ভধারণ জ্বালা
 মানুষ দেখলেই পেতে রয় হাত দু'খানা ।
 ক্ষুধার জ্বালায় আশু সন্তান
 পেটের ভিতরে যে হানা ।

 কি দোষ ছিলো অবোধ  পাগলীর জীবনে ?
 নারীদেহের উন্মাদনা দেখায় নি তো কাউকে  !
 তবু কেন ভোগের দাসী হলো সে ?
 মুখোশধারী নর - সিংহদের শাস্তি দেবে কে  ?

চন্দন শীট

জিতেছি হারিয়ে

কেন আজ দুঃখ করো 
পড়ে থাকো স্মৃতির পিছে পিছে 
যা গেছে যাক যেতে দিও
ভুলে যেও কালের সাথে সাথে ।

যে তোমাকে মেরেছে কিল
পিছু ধরোনা তার কাজে কখনো
তোমাকে বোঝেনি সে
যোগ্য ছিলনা সে তোমার জন্য । 

যে তোমাতে অনেক ভিন্ন 
নাহয় তোমার থেকে থাকে পিছিয়ে 
তবু তাকে খুবই ভালবাসো
সদাই সাম্যের গান গেয়ে ।

কিসে তুমি এতো রাগ করো
নাহয় তোমার কিছু নিয়েছে কেড়ে
ক্ষমা করে দিও তাদের উপর 
সব বিচার বিধির উপর ছেড়ে ।

পাপিয়া দাস

ছোটবেলা 

ছোটবেলা বেশ ভালোই ছিল,

বন্ধুবান্ধবীর সঙ্গে  শুধু  মজার    মজার  খেলা।

সহ‍্য করতে হতো না কোনো রকম অশান্তি,

কোনো রকম ঝামেলা।


ছোটবেলাকে বইয়ের পৃষ্টার মতো উল্টে

পৌঁছে  গেছি যৌবনের পাতায়।

নিজের কাঁধের উপর দায়িত্বে  টলমল

ভাবি যদি একটু ভুল যেন না হয়

সংসারের এই পাতায়।


মা-বাবা,ভাই-বোন,ননদ-দেওর

কারোর প্রতি যেন না হয় অবহেলা।

দায়িত্ব  আর কর্তব‍্য‍ পালনে

যেন না হয় আমার  কোনোরকম হেলা।


ছোটো ছোটো গুটিগুটি পায়ে

 হাটতে গিয়ে যে পড়ে  যেত যে মেয়ে,

আজ সে অনেক কিছু শিখছে

সে আমার  মেয়ে।

সেও ছোট বেলাকে আস্তে আস্তে হারিয়ে  ফেলছে।

সময়ের সিঁড়ি  পেরিয়ে।


ছোটবেলার  ছোটসাথী

শুধু খেলাখেলি।

বড় হলে পরে,

থাকেনা মজার  দিনগুলি।

পূজা মজুমদার

পাবো কি পাবোনা

এই যে শুনতে পাচ্ছো আমার শহরে বৃষ্টি হচ্ছে,

বৃষ্টি হলেই তোমায় পেতে মন চায়, 

মুসলধারার স্রোতে তোমায় নিজের করে নিতে মন চায়,

বুকের গহনে তপ্ত চাওয়াকে তোমার তনুতে মিলিয়ে নিতে মন চায়, 

একবার তোমাতে হারিয়ে যেতে মন চায়, 

কাছের সুরে ডাকতে মন চায়,

ভরা বাদলে তোমার বাহুদয়ে নিজেকে লুকিয়ে নিতে মন চায়।

 বাইরের সমাজের তকমা না করে দুজন দুজনায় মিশে যেতে চাই।

একটিবার তোমায় নিজের করতে মন চায়,,,

পরশমনির স্পর্শে জ্বলতে মন চায়।