Sep 14, 2021

রঞ্জন ভাওয়াল

বন্ধু আনে সুখ

বন্ধু হলো দুঃখের সাথী
তাহার সাথে সুখে মাতি
বিপদ কালে পাশে,
এক সাথেতে খেলা করি
মধুর সুখে হৃদয় ভরি
মনে শান্তি ভাসে।

ব্যাধি , জড়া আসে যখন
বন্ধু পাশে আসে তখন
বসে সেবা করে,
সাহস জোগায় ব্যথা বুকে
সুস্থ করে হাসি মুখে
আশায় বুক ভরে।

ধরায় বন্ধু আসে বলে
খুশিতে এই জীবন চলে
প্রাণেতে সুখ রহে,
বন্ধুর মত দোসর য়ে নাই
তাঁর কাছে শান্তি যে পাই
সুখের বন্যা বহে।

সুমন্ত রবিদাস

আগমন

দীর্ঘ দিনের শেষে এসেছে অবশেষে

উমার শুভাগমনের দিন,

শরতের সাদা মেঘ দিচ্ছে জানান

আসছে দিন উমার আগমনের।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে,

কাশফুল উঠেছে জেগে,

বরণ করে নিতে উমারে

প্রকৃতি সেজে উঠছে নববধূর মতো।

নতুন করে আবার উমাকে 

বরণ করে নিতে।

নতুন রঙে, নতুন গন্ধে, নতুন সাজে

যেন আসছে বাঙালি কন্যা গৃহে,

বছর শেষে আসছে

দিন  চারের জন্য মাতৃগৃহে

কৈলাস হতে মর্ত্যে।

চলছে নানা আয়োজন মর্ত্যে

বরণ করে নিতে উমারে

আবার দীর্ঘ এক বছর শেষে

মর্ত্য মানবের মন রয়ে যাবে উমার আগমনে।

অভিজিৎ দত্ত

মানুষ

কী হবে ধনদৌলত নিয়ে

যদি তা মানুষের কাজেই না লাগে?

কী হবে রোজগার করে

যদি পিতামাতাসহ পরিবারকে

পরিষেবাই দিতে না পারলে?

কী হবে ভোগবিলাসে ডুবে থেকে

যদি তোমার জীবনকে

মানুষের কাজেই সঠিকভাবে

না লাগাতে পারলে?

কী হবে অট্টালিকা আর ধনদৌলতের

চূড়ায় বসে থেকে

যদি মানুষের চোখের জল

একটুও না মুছাতে পারলে?

সবচেয়ে বড় ধন মানবিকতা

যেটা না থাকলে কোনদিন

বড় মানুষ হওয়া যায় না।

তাই মানুষ হওয়ায় চেষ্টা করো

কিছুটা হলেও মানুষের পাশে থেকে

মানুষের দুঃখ দূর করো।

দীপান্বিতা পান্ডে

প্রয়োজন

একটা প্রয়োজন যখন খুঁজে বেড়াই মন ৷

সবুজপ্রান্তর ঘেরা সুন্দর ডাক , 

সে যে নামই হোক বড় মধুময়৷ 

বারবার শোনার প্রতীক্ষায় থাকে উর্বর বনভূমি ৷

একটু ঠান্ডা বাতাস একটু বৃষ্টিকণা

প্রয়োজন শুধু এই টুকুর ৷

তবুও তাকে পাওয়া কত কঠিন,

কারণ দুটো প্রাণবায়ু নয় তত্বে লীন।

অথচ একটি তীব্র আকর্ষনে পৃথিবীর কাছাকাছি,

আর একটি শরীর গন্ধে প্রতিটি অনুপরমাণু মন করে নিরিক্ষণ ৷

প্রতিটি মুহুর্ত করে অতৃপ্ত  কামনার উল্লাস  উদযাপন |

সেখ আব্দুল মান্নান

তুমি আসবে

বছরভর অপেক্ষায় থেকে থেকে 

আমরা বড় ক্লান্ত শ্রান্ত

তুমি এসো ক্লান্তি আর শ্রান্তি মোচনের দূত হয়ে

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শোক কাটিয়ে


তোমার আসার খবরে পেয়ে

দেখ বাতাসের বুকে কি উচ্ছাস

গাছেরা কইছে কথা নিবিড় সঙ্গোপনে 

চেতনায় অনুরণন বোবা পাখির গানে

 

সান্ধ্যো আলাপে মুখর থেমে যাওয়া

ঝিঁঝিঁর  বিদীর্ণ তান 

ঢাক কাঁসরের মহড়ায় জেগেছে স্পৃহা 

গ্রামের মুচিপাড়ায়


মণ্ডপে মন্ডপে শিল্পীর কসরত

তোমার রুপাঙ্কনে

জোনাকিরা দলবদ্ধ বিন্দু বিন্দু আলোয় 


কান পেতে শোনো শিশির ভেজা

ভোরের ভৈরবী গান

শিউলি তলায় ঝরে পড়া শিউলির

নিক্কন


তুমি এলেই ঘুচে যাবে অমানিশা তমশা

চূর্ণ হবে অসুরের লোলুপ জিঘাংসা

ফিরবে জীবনের ছন্দ

মাতোয়ারা হবে পৃথিবী তোমার আগমনে।

সপ্তশ্রী কর্মকার

রক্তপাত 

ভাঙ্গা দরজার সামনে কাঁচ রেখে ওর মধ্যে আগুন ঢেলে দাও, 

দেখবে আগুনের আঁচে ঘাম এলেও চোখের জল আসে না,

তখন বুঝে নিও, তুমি মাটির লোক।

ভয়ানক নিঃসঙ্গতায় গভীর রাতে ব্যর্থ কান্না, 

সিগারেটের নীল ধোঁয়ায় নতুন জীবনচক্র 

 রিক্ত অপরাধী মন ভরছে সুখে। 

দুই আঙুলে ধরে সিগারেটের সুখটান ,

কিছু গ্যালারিতে থাকা জলীয় ছবির বিষাদ

মুছে দেয়। 

তখন সব ভুলে হৃদয় ফিরে প্রেমিকার কোলে,

যেনো, স্মৃতির শহরে সাবেকী আলো উঠলো জ্বলে। 

ব্যস্ততার শহরে, গতির সাথে মায়াবী রাত, 

দাবা খেলার অবুঝ চালেতে অঝরে রক্তপাত। 

স্তব্ধবাক শহরে, রুদ্ধ কলম,

নেহাতই সমপাতন..

মাটির শোক যেনো কবিকে দূরে নিয়ে ধরণীর কলিজাকে শুদ্ধ করছে।

শ্রীলিম

লড়াইয়ের জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থেকো বন্ধু!

অনেক পথ চলার এখনও রয়েছে বাকি,

লক্ষ্যে না পৌঁছানো অব্দি থেমো না বন্ধু!

ঝড়ঝাপ্টা তো জীবনে প্রকৃতির‌ই দান,

সব বাধা অতিক্রম করে গেয়ো জয় গান।


জীবন ফেলনা নয় যা যথেচ্ছাচারে হারাবে,

এক আকাশ জুড়ে স্বপ্নেরা খেলা করে,

মোক্ষম সুযোগ পেলেই দাও মারতে হবে,

সপাটে চড় কষিয়ো বিধাতার গালে।


মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হেরে যাওয়া নয় বারংবার,

পরীক্ষা তো সবারই নেওয়া হয়,

আমরা তো সপ্তরথী ঘেরা অভিমন্যু,

লড়াইয়ের জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থেকো বন্ধু!

রাজীব ঘোষ

ওথেলো বেলায় 

ঘুমিয়ে আছে ইন্টারনেটের তীব্র আকাঙ্খার সঙ্গী 
যার স্তবকে স্তবকে কোনো কৈফিয়ত নেই 
শুনছে না কেও নির্জন আওসাবাঁদি থেকে 
পূর্ণাঙ্গ মন কেমনের হ্রিদিমিরা ভেঙে পড়ে 
গ্যাঙক্যানিওনের কুঁড়ে ঘরটির দীর্ঘ সমীকরণে। 

কোথাও কোনো মুনিপত্নি কি দেখছে 
ভাঙা রাত্রিতে তার নিটোল ডাকনামটি ধরে 
বিষণ্ণ অস্থির বেহুদা সময় পেরিয়ে 
ঝাঁক বেঁধে চই চই করে ছুটে আসে 
রহমতে ভারচুয়াল বিশ্বের ললিত মুনিগুলি। 

অপরিশোধিত বেয়ামাগার ছিঁড়ে পড়ে কর্কশ রাস্তায় 
সারি সারি আফিং গাছ এবং টর্নেডো 
অন্তঃশীলে পেকে ওঠা নন্দিত কলাগুলির দিকে 
মগ্নতায় ডিম নাচাতে নাচাতে খুলে ফেলে 
বেহুঁশ ইন্টারনেটের যাবতীয় শস্য ভাণ্ডার। 

বোধিপুরাণে খিদে পায় মুনিপত্নির ওথেলো বেলায় 
ইশারায় ছিঁড়ে ফেলে তপস্যা, ঘনবসতি ঠোঁটে 
সুস্নাত আলিঙ্গন স্তোত্রগানে ঝাঁপিয়ে পড়ে 
অর্বাচীন জলদস্যুর জাহাজের ক্যাসিনোতে 
অজানা প্রবাহ ছিঁড়ে নেয় গেরুয়া ভ্রমণ। 


লিপি ভৌমিক

তোমারই  জন্যে

আমার এ রিদয় গড়েছি আমি

ভালোবাসার অরন্যে,

আমার দুচোখ মেলেছি কেবলই 

তোমাকে দেখার জন্যে।

আনার এ পথচলা চলছি সদাই

তোমাকে জয়ের নেশায়,

আমার এ জীবন উজার  করেছি

তোমারি ভালোবাসায়।

আমার চাওয়া পূর্ণতা পাবে 

তোমাকে পাওয়া ঘিরে,

আমারি তৃষ্ণা  পরিতৃপ্ত হবে মাগো

তোমারি স্বাধীনতার পরে।

আমার এ হাত তোমারি জন্যে 

লিখছে মুক্তি র ছড়া,

আমার এ সংগ্রাম  তোমাকে ঘিরে,

হয়েছে আত্নহারা।

কুশল রায়

উন্মেষ

উন্মাদনা ভুলে গিয়ে মনে আনতে হবে সংযম,

তবেই হবে নব চেতনার জন্ম ঘটবে নতুন অন্বেষণ ৷ 

জাগাও হে বীর যুবক গন মনে আগুন

সব কিছু ভুলে এগিয়ে যাও এটাই যে ফাগুন ৷

মনের মধ্যে সৃষ্টি হবে চরম উত্তেজনা

এগুলো কে হেয় করে দূর করো ওইসব আবর্জনা ৷

তবেই গড়ে উঠবে নতুন জগত, 

ঘটবে এই ধরিত্রীর বুকে 

ঘোর কলিকালে নতুন উন্মেষণ ৷

কেই বা জাগাবে হবে নতুন দিগন্তের পথিক

সে কোথায় ? আসতে তাঁর আর বাকি কতক্ষণ !

মোঃ নুরুল হক

আশা

অন্যের ঘরের সুখের দোলনায়  দুলিত তুমি।

তুমি ফিরবে আমার দোলনায়, সেই আশায় মুগ্ধ আমি

হয়তো সব বাঁদন ছিন্ন করে নয়,

কিন্তু আমার ঘুমের স্বপ্নে আসবে তুমি।

তুমি ফিরব সেই আশায় প্রতিনিয়ত চেয়ে থাকি পন্থপানে

জানি সেই আশার নাইকো কোনো নাইকো মানে।

তোমাকে পাবোনা জানতাম যদিও আমি

তুবও আশায় বুক বানতাম রাইত রজনী।

তোমার স্মৃতি গুলো যখন নাড়া দেয় বুকে

তখন তোমাকে বাস্তব এ পাওয়ার চরম আশা জাগে।

পথিক পথকে হারিয়ে যেমন তার গন্তব্যকে খোঁজে,

আমি তোমাকে হারিয়ে আমার জীবনস্রোত কে খোঁজি।

জীবনস্রোতকে খোঁজে পাবো এই  আশাটাই আমার পুঁজি।

স্নিগ্ধা ভট্টাচার্য

শরৎ তুমি (প্রকৃতি)

শরৎ তুমি, প্রভাত রবির   রাজনন্দিনী। 
শরৎ তুমি, ঘাসে ঘাসে শিশির ছোঁয়া,
শিউলি বিছানো শয্যা।
শরৎ তুমি মধুর মূরতি স্নিগ্ধ কমোলিকা।
শরৎ তুমি সোনালী ধানে রূপের ছটায়  অনন্যা ।

শরৎ তুমি কাশের  বনে মিষ্টি হাসির বন্যা।
শরৎ তুমি রিমঝিম বৃষ্টি  ছন্দে পরশণ।
শরৎ তুমি আলো ছায়ায় মেঘ রৌদ খেলা।
শরৎ তুমি নীল আকাশে সাজাও শুভ্র মেঘের ভেলা।
শরৎ তুমি সরোবরে পদ্ম পাতায় জল থৈ থৈ ঢেউ।
শরৎ তুমি শাপলা,শালুক নাচন তাথৈ তাথৈ।

শরৎ তুমি আগমনী সুর,আকাশে, বাতাসে, মাতৃবন্দনায় "মধুর ধ্বনি আলোয় ভূবন ভরা"।
শরৎ তুমি ঘরে ঘরে আনন্দ উৎসব ধারা।

Sep 12, 2021

সুজিত দে

সৈকতের পাড়ে

সৈকতের পাড়ে গিয়েছি আমি
ঝিনুক ও মুক্তা কুড়াবো বলে,
কিন্তু কুড়ানো হলো না আমার
ঘুরতে ঘুরতে বেলা গেল চলে।

মন প্রাণ ভরে চষে বেড়িয়েছি আমি
সৈকতের রাশি রাশি বালুচরে,
এই সব স্মৃতি ভুলবোনা কোনদিন
মনে থাকবে আজীবন ধরে।

ঘুরতে ঘুরতে ছবি তুলেছি কত
মনোরম জায়গায় নিজের ইচ্ছে মত,
ক্লিক ক্লিক করে ছবি তুলতে তুলতে কখন
যে গ্যালারী ভরে গেছে ছবিতে শত শত।

গিয়েছি আমি হলি ডে পয়েন্ট থেকে শুরু করে
শৈবাল,লাবণী,কলাতলী ও হিমছড়িতে,
গিয়েছি আরও রয়েল টিউলিপ পয়েন্ট,
পাথোয়ারটেক,শাপলাপুর ও ইনানিতে।

আমার সঙ্গে ছিল কত ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধব
কত যে মজা করেছি সারা বেলা,
গল্প-গুজব থেকে শুরু করে হৈচৈ আনন্দ 
কলরবে করেছি কত ধরণের খেলা।

করেছি গোসল খুশিমনে স্বাধীনভাবে
সাগরের স্বচ্ছ নীল নোনা জলে,
সাগরের জোয়ারের তালে তালে দুলেছি কত
ভেসে গিয়েছি তীরে জোয়ারের ঢলে।

Sep 9, 2021

সুষমা দেবনাথ

আগমনীর সুর

আসছে পুজো, আসছে যে মা এবার খুশির পালা।

এক‌‌মুঠো‌ ভাতের আশায় পড়ে আছে কারো শূণ্য থালা।

রকমারি জামাকাপড়, বেড়েছে শপিং মলের কদর।

ম্লান মুখে ফুটপাথে পড়ে আছে খদ্দের হীন দোকানঘর।

আলোয় ভরা প্যান্ডেল, চারিদিকে‌ শুধু আলোকধাধা।

কারো বা পুজোর আনন্দটাই দারিদ্র্যতার শেকলে বাঁধা।

অভাবে আধপেটা কিংবা উপোসেই তাদের দিন কাটে।

মাগো, এই বারেতে আসার সময় খাবার নিয়ে এসো বাটে।

অতনু রায় চৌধুরী

 ভালো থাকা যায়

খোলা আকাশের বুক জুড়ে

হাজারো স্বপ্নেরা ভেসে যায়।

খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া শ্রমিক

আজও করছে বেঁচে থাকার লড়াই ।


নীরবে, নিশ্চুপে সময় হারিয়ে যায়

প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে আজ ভীষণ অসহায়।

তবুও স্বপ্নেরা ভেসে ওঠে

কিছু সুখের আশায়।


একটা ভাঙ্গা বাইসাইকেল নিয়েও ভালো থাকা যায়।

ভালো থাকা যায় জলে ভাতে মিশিয়ে একটি সকাল কাটিয়ে দিলে।

ভালো থাকা যায় কাছের মানুষ আপন করে নিলে।

গঙ্গা সাহা

মা

মাগো মা! তুমি যে মমতাময়ী।

সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি তুমি।

মাগো!

তুমি যে আমার দেখা সবচেয়ে_

অপরূপ সুন্দরী নারী।

মাগো! তুমি যে অন্যন্যা ।

তোমার  গর্ভে  জন্মে সাথ'ক জন্ম।

মাগো!

তোমার পরশে‌  আমি যে ধন্য _

তোমার স্নেহে জীবন পরিপূর্ণ‌‌ ।

মাগো!

তুমি আমার প্রথম দেখা, 

তুমি যে প্রথম ডাক।

তুমি আমার প্রথম পাওয়া,

তুমি যে প্রথম চাওয়া।

কাঁদলে মাগো বুঝতে পারো,

কি আমার চাওয়া।

মাগো! 

দু্ঃখে আমি জড়িয়ে তোমায়,

ভুলি যে সব ব্যাথা।

কষ্টে আমার জল‌ আসে যে,

তোমার চোখ ভরা।

মাগো!

তোমার কোলেই স্বর্গ আমার।

তোমার কোল ওই মোর ধরা।।

মাগো!

এই পৃথিবীর‌ শ্রেষ্ঠ উপহার,

তোমার ওই তো দেওয়া।।

জানতে চাইবে না মা ?

কি সেই  তোমার উপহার?

মাগো!

সে যে তোমার দেওয়া,

নিঃস্বার্থ ‌ভালোবাসা ।।

পান্থ দাস

আগমনী

চারিদিকে শুধু

তোমার সুর,

মন মাতলো

তোমার আগমনে,

আগমনী তুমি

তুমিই মোর

প্রথম ভোর ৷


আজ শহরও যেন

কিছু বলছে,

চারিদিকে শুধু 

আলো আর আলো মাখছে,

নতুন আনন্দলোকে

অন্ধকারও যেন আজ

আলোকে মজেছে ৷

Sep 7, 2021

কার্ত্তিক‌ মণ্ডল

সবুজের আগুন

চলো ! হারিয়ে যাই ঐ সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে

সবুজ আমার বড় প্রিয়
কি মধুর হাত ছানি দেখো , 
ঐ লতা জড়ানো বাঁকা পথের
চলো না খাদের কিনারায় গিয়ে একটু দাঁড়াই ,নিঃসীম শূন্যতায়।

আর নিজেকে বাঁধতে পারি না এক জায়গায়
এই মাটি, জল, বাতাস সাপলুডো খেলার মত চেনা লাগছে যেন,
হারাতে তোমার ভয় কীসের এই গোধুলির রঙ মেখে আষাঢ় আলাপনে মুখর আকাশ।

কী বল চন্দ্রাবলী?
আমার হাতটা ধরতে তোমার এত ভয় !
ঐ দেখো ছেলেমেয়ের দল সবুজের আগুনে পুড়ছে !ভালোবাসার দোয়ারে।

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

(ক)

সুশিক্ষা

পরপর সোপান। নেমেছে সোপান সপ্তপাতালে।

সজ্জিত সেখানে হাজার চুম্বক।

চুম্বকের চুম্বনে দুটি শ্রীচরণ

কম্পনে অগ্রসরমান দোজখের প্রবেশদ্বারে।

ভগবান সেখানে যেন জাগ্রত হাত বাড়িয়ে,

সহাস্য অর্ভ্যথনায় শিখি যমরাজের কাছে

আধুনিকতার সিলেবাস-

শূলে যদিও তিনি চড়ালেন না

থুতুর মহাসাগরে শুধু দিলেন ভাসিয়ে।

তা থৈ থৈ থৈ থুতুর অভ্যন্তরে

অঙ্কখানি অতি সহজ ও সরল-

হৃত মানের কথা জানুক মানুষ

হৃত হুঁশের খবর জানুক মানুষ

আর চিনবে সঠিক আবাসের ঠিকানা অতঃপর।


(খ)

সংস্কার

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

কামান্ধের দুটি নয়নে যে হাত্তয়া থরথর

যে নিশান ওড়ে পতপত,

সেখানে সেখানেই তুমুল সর্বগ্রাসের আলোড়ন।

বিগত মলয় বাতাসে পাতালচারণ

আচম্বিতে এক পরম অরি যেন—

নড়ে না চরণ, নড়ে না গড়ন!

শত্রুর সেই বিষাক্ত লালচক্ষু সাবধানী

ফতোয়া ছড়াতে তৎপর।

মননে-গহনে অশান্ত কামুকের দিশেহারা পল,

পলে পলে সেখানেই কেন প্রবহমান

অকূল গরল-সাগর?

রঞ্জিৎ কুমার পড়িয়া

বিচিত্র রীতি

রাশি রাশি টাকা কড়ি  

                জমি জমা ঘরবাড়ি 

সোনাদানা সিন্দুক ভর্তি,


ছোট ছেলে অফিসার   

                 বড় ছেলে প্রফেসার 

পরিবার শ্রেণী উচ্চবর্তী।


বি পি এল তালিকায়

                চাল গম আটা পায়

রেশনেই কিনে বেচে রেশনে,


বউমা ও নাতনি নাতি

                বি পি এল অনুমতি 

নাম জুড়েছে এই - শেষনে।


দিন আনে দিন খায়  

                 ভাগ চাষি যদু রায়

সংসার চলে কষ্টেসৃষ্টে,


জল বাদে সব কেনা    

              চাষ করে বাড়ে দেনা 

নাম তার এ পি এল লিস্টে।।