মুক্তির স্বাদ
ছোট আদরের মিঠু, বয়স ৭- ৮ বছর হবে। ছোট্ট গ্রামের বাড়ি তাদের, সবুজ সুন্দর পরিবেশে। গাছের ছায়ায় ফুলের বাগানে হেসে খেলে ঘুরে বেড়ায় মিঠু। বাড়িতে মা,বাবা,দাদু,ঠাকুমার সাথে আনন্দে কেটে যায় তার দিন।
বাড়িতে অনেক গাছ, কত পাখী উড়ে আসে বসে গাছে বাসা বাঁধে ।একদিন ঝড় হয়, সেই ঝড়ে বাড়ির আমগাছটা থেকে দুটো পাখীর ছানা বাসা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যায়।
মিঠু তো দেখে খুব খুশী। পাখীর ছানা দুটো পুষবে বলে মনস্থ করে সে। দাদু তাকে একটি খাঁচা এনে দিলেন, তাতে পাখীর বাচ্চা দুটো রেখে শুরু হলো মিঠুর পরিচর্যা। প্রতিদিন যথাসময়ে ওদের জল, দানা দেওয়া হতে থাকলো। বেশ কিছুদিন পরে দেখা গেলো যে, বাচ্চা দুটো বড় হয়ে গেছে, ওড়ার চেষ্টায় ডানা ঝাপটাচ্ছে। মিঠুর দাদু বললেন " মিঠু বাচ্চা দুটো বড় হয়ে গেছে, বেড়াল কুকুর আর এখন ওদের কিচ্ছু করতে পারবে না, ওরা এখন আর খাঁচায় থাকার জন্য নয়, ওদেরকে উড়তে দিতে হবে।" মিঠু বলল, " না দাদু, ওরা আমার কাছেই থাকবে, ওদের আমি ছাড়বো না"।পাখী গুলো আমার সাথে থাকবে খুব ভালো লাগবে আমার।
দাদু বোঝালেন, বন্দী জীবন, সে যতই সুখে থাকুক, কিন্তু মুক্তির আনন্দ তাতে নেই। ওদের এখন আকাশে ওড়ার কথা, খাঁচায় থাকার কথা নয় ওদের। ওরা যখন অসহায় ছিল তখন তুমি তাদের আশ্রয় দিয়ে খুব ভালোকাজ করেছ ওরা এখন সাবলম্বি ওরা নিজদের মতো স্বাধীন ভাবে বাঁচোক। দাদুর কথা শুনে রুমি খুব অনুপ্রানিত হয়, একটু কষ্ট হলেও সে খাঁচা খুলে দাদুর সাহায্যে বাচ্চা দুটোকে উড়িয়ে দেয়। পাখী দুটো উড়ে গেল মুক্তির আনন্দে, মুক্তির স্বাদ যে সবাই পেতে চায়। রুমি ওদের উড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
মিঠু শিশু হয়েও, বন্দী জীবন বা মুক্তির স্বাদ এ ব্যাপারগুলো সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল না থাকলেও, পাখীগুলোর উড়ে যাওয়া তার মনে মুক্তির অনির্বচনীয় আনন্দের পরশ এনে দিল।
স্বাধীনতা কি শিশু মন তা বুঝেবে না।তবে মুক্তির মাঝেই যে স্বাধীনতার আনন্দ তা হয়তো মিঠুর মনে দোলা দিয়েছিলো।