Aug 2, 2021

জয় দাস

১.ভারত

এক দুই তিন 
ভারত স্বাধীন
তিন তিন ছয়
নেতাজীর জয়
ছয় ছয় বারো
ব্রিটিশকে মারো
বারো বারো চব্বিশ নেতাজিকে দেখেছিস?
               
২. ভারত জয়

এক দুই তিন 
যুদ্ধের ঘনিয়ে এলো দিন
চার পাঁচ ছয় 
কাশ্মীর যেতে হয়
সাত আট নয় 
ভারত মাতার জয়
দশ এগাব়ো বাব়ো 
যুদ্ধ শুরু করো
তেরো চৌদ্দ পোনেরো
পাকিস্তান তুমি কাশ্মীর ছাড়ো.....

তরুণ কবির কবিতা প্রকাশ করে আমরা গর্ব বোধ করছি। কবির প্রতি শুভবার্তা রইলো,তুমি ছড়িয়ে পড় সাহিত্যের আকাশে।।


Aug 1, 2021

আব্দুল কাদের

 ওরা বিপ্লবী

আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা

পেয়েছি স্বাধীনভাবে বাঁচতে

সেই সব মানুষদের অকাল প্রাণে।

ওরা ভারত মাতার সন্তান

নিজেদের বুকের রক্তকে বিলিয়ে দিয়ে

নিজের দেশকে স্বাধীন করেছে।

ওরা তো সেই বিপ্লবী।

পরিবার পরিজন ছেড়ে

দেশকে স্বাধীন করেছে

হয়েছে শহীদ দেশের মাতৃভূমিতে

 ওরা যে ভারত মাতার বীর সন্তান

 নিজেদের মাতৃভূমিতে।

মোঃ ইজাজ আহামেদ

ভারত

ভারত! তোমায় আমি সালাম জ্ঞাপন করি,

তুমি আমার জন্মভূমি।

তোমার তিনদিকে সমুদ্র আর একদিকে হিমালয় পর্বত;

তারই মাঝে তোমার উপস্থিতি।

তুমি পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার এক অন্যতম ভূমি।

যুগ যুগ ধরে তোমার কাছে এসেছে ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন জাতির ভিন্ন মানুষজন;

সকলেই তোমাকে ভালোবেসে করেছে আপন।

হুন, কুষান, মোঙ্গল, পাঠান,

জৈন, বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম,খ্রিস্টান-

সকলেই তোমাকে করেছে সমৃদ্ধি সন্মান।

তোমার সন্তানেরা বিশ্বে করেছে বিচরণ,

বিশ্ব দরবারে তোমাকে এনে দিয়েছে খ্যাতি।

তোমার বৈচিত্রেভরা উদ্ভিদরাশি, বৈচিত্রেভরা প্রাণী,

বৈচিত্র‍্যময় মানুষ, বৈচিত্র্যময় মাটি,

বৈচিত্র্যময় মানুষ, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি

বৈচিত্র্যের মাঝে সমন্বয়ই তোমার মূলনীতি;তাইতো তুমি পৃথিবীর সারাংশ ও বৈচিত্র্যের পটভূমি।তাইতো তোমায় এতো ভালোবাসি।

দীপু রায়

স্বাধীনতার স্বরূপ

আগষ্টের পনেরো দুহাজার একুশ,

স্বাধীনতা লাভের পঁচাত্তরটি বসন্ত অতিক্রান্ত হল বলে...

এখনও রাজ অতিথি এলে দেওয়াল গেঁথে পার্থক্যটা তুলে  ধরছি--একদিকে ইনক্রিডেবল ইন্ডিয়া আর অপরদিকে বুভুক্ষু ভারতবর্ষের...।

একদিকে মুষ্টিমেয় বিলিয়নেয়ার-ট্রিলিয়নেয়ার অপরদিকে ফুটপাতবাসী আমার হতদরিদ্র মিলিয়ন মিলিয়ন আর বিলিয়ন ক্ষুধাতুর ভারতবর্ষ...।

বুক ফেটে কান্না বের হয়, অন্তঃকরন হাহাকার করে ওঠে- " ইয়ে আজাদি ঝুঠা হ্যায়"।

প্রতিবেশিদের তুলনায় ক্ষুধা সূচক পিছিয়ে পড়ার লজ্জা মাথা নত করে দেয়।

তবুও শত দুঃখের মাঝেও এক চিলতে আশার আলো।

এই পোড়া দেশের অব্যাহত বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, খেলার জগৎে দাঁপট,সাহিত্য, শিল্প কলায় খ্যাতি-- বাধ্য করেছে সুটেড-বুটেড পশ্চিমা সাহেব-সুবোদের মাথা নত করতে।

এখন সময় হয়েছে 

সমতা-ন্যায়-স্বাধীনতা-সৌভ্রাতৃত্ব কে সংবিধানে লিপিবদ্ধ আক্ষরিক নীতি হিসেবে নয়, জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে চলবার।

এসো হে বন্ধু, তুমি বহুতলের হুজুর,

তুমিও এসো হে বন্ধু ভূ-তলের মজুর,

আমরা হাতে হাত আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটা নতুন করে গড়ে তুলি, এসো সবে--

দেখবে "ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।"

অর্পণ চৌধুরী

বীর বাঘাযতীন

প্রাণ দিতে করোনি দ্বিধা
ভারত মায়ের গর্ব তুমি,
জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে তোমার নিজের জন্মভূমি,
সবাই জানে তোমার সেই বাঘ শিকারের গল্প,
ভোজলি দিয়ে ঘায়েল করেছো আহত হয়েছো অল্প,
ইংরেজদের সামনে কখনো করোনি মাথা নত,
তার বদলে বুকের মধ্যে বুলেট নিয়েছো শত,
রক্তাক্ত করেছে ইংরেজ বুড়িবালামের তীর,
ঝাঁপিয়ে পড়ে দেখিয়ে দিয়েছো কে আসল বীর,
দেশের জন্য করেছে তুমি প্রচুর সংগ্রাম,
করজোড়ে তোমারে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।

Jul 20, 2021

সম্পাদকীয়

একটা মরশুম শুধু আকাশের বুকে মেঘেরা ভেসে বেড়ায় কিন্তু বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে না। বর্ষার মরশুমে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ার সময় যখন সূর্য কিরনের স্পর্শ পায় তখন আকাশের বুকে রঙধনু এঁকে দেয়।কবির মন আর কবির মননশীল চিন্তা ঠিক বৃষ্টি আর সূর্য কিরনের মতো।

এবারের সংখ্যায় প্রত্যেক কলমধারী কবি ও সাহিত্য অনুরাগীরা তাদের কলমের কালি তে মন ও মননের আন্তরিক বাঁধনে ত্রিধারার আকাশে একটা রঙধনু এঁকে দিয়েছেন।সমাজ ও মানবতার প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন আপনারা এবারের সংখ্যা ইন্দ্রধনু তে।আপনাদের কলমে সমৃদ্ধ হোক সাহিত্য, সমৃদ্ধ হোক সভ্যতা ও মানব সমাজ।আগামী প্রজন্মের জন্যে এই অবদান রেখে যাবে আপনাদের কলম ত্রিধারার মাধ্যমে। সকলের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

ধন্যবাদজ্ঞাপনে

চয়ন সাহা (সম্পাদক)

ত্রিধারা সাহিত্য পত্রিকা 

আলমগীর মাসুদ

কবর জিয়ারতে কবিতা পাঠ 

(অণুগল্প)

সেদিন কবি সাদেক শামীম বলছিলেন, পাগলের বাণী কিন্তু এখন মহাশ্রমের দেয়ালে লেখা হয়। আমি বরাবরই তাকিয়ে থাকি কবির ঠোঁটে। দেখি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতোই সত্য উচ্চারণ করছেন কবি। তারপর যখন পকেটের ভেতর স্যামসাং গ্যালাক্সিটা শব্দ করলো―ওটার স্ক্রিনে তাকাতেই বউয়ের কথা মনে পড়লো। সে রাতেই বউয়ের মেসেজ, একটা তাবিজ আনিও নূর হুজুর থেকে। বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা হয়তো জায়েজ অথবা না। তবু ইদানিং স্নান করার সময় লুঙ্গিটা খুলে রাখি। কারণ বউ পোয়াতি হওয়ার পর থেকে ডাক্তারবাবু কলেমা পড়ার মতোই মুখস্থ করে দিয়েছে―বউ সামনের ক’মাস কাজ করতে পারবে না। বিষয় বউয়ের গর্ভে আমার পোলা।

কবি সাদেক শামীমের ঠোঁটের কথা আবার মনে পড়ে গেলো। তার কবিতা আওড়ানোর ভঙ্গিমা কল্পনা করতে করতে দ্রুত সঞ্জীব ঠাকুরের পায়ের সামনে পড়ি। ঠাকুরকে বললাম, একটা বাণী দিন লিখে আপনার অপ্রকাশিত। ঠাকুর জানতে চাইলেন, অপ্রকাশিত দিয়ে কী করবি? বললাম, আপনার আগের রচনাসমগ্র তো সবাই গিলে ফেলছে তাই নতুন ছাড়া অসুখ ছাড়বো না বউয়ের। পেগের গ্লাসটা ধুতির পাশে রেখে ঠাকুর পষ্টস্বরে চেঁচিয়ে শব্দ করলেন, ওই ফাজলামো করিস আমার লগে।

ঠাকুরের খানকায় কতো চেহারার নারী পুরুষ। সেদিক না তাকিয়ে দ্রুত কবির পরিচয় দিলে, মুখে এক পেগ দিয়েই জানতে চাইলেন, বলতো তোর মূল কথাটা কী? খানকায় উপস্থিত নারী পুরুষগুলো মূলত বিভিন্ন জাতের। এক পুরোহিতের দিকে তাকিয়েই বললাম ঠাকুরকে, কবি সাদেক শামীম সেদিন কবরস্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া ও সূরাহর জায়গায় জীবনানন্দের একটা কবিতা পড়েছেন। মূলত সে ভরসায় আমার পোয়াতি বউটার ভয় কাটাতে―আপনার একটা বাণী নিতে আসছি ঠাকুর।

নিয়তি রায় বর্মন


নীরব ক্রন্দসী
 
ক্লান্তিহীন সমুদ্রের ফেনিল ঢেউ
হৃদয় দিয়ে দেখে নীরব ক্রন্দসী
খানিক বাদেই মিলে যায়।

জীবনদায়ী বাতাসের বয়ে যাওয়া 
কখনো মারণ ঝঞ্ঝারূপে
কেড়ে নেয় জীবন জীবিকা।

স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে ওঠে 
বংশের ধারা রক্ষায়-
হোক সে প্রাণী আর উদ্ভিদ।

নীরব ক্রন্দসীর অবিরত ক্রন্দন
সংসার সীমান্তে হাবুডুবু
বাঁচার আকুতি নিয়ে।

বাঁচিয়ে রাখার প্রবল তোড়ে 
বেঁধে রাখে সকলকে
অব্যক্ত বেদনাকে জয় করে।

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

মনসার গান

শ্রাবণের কান্নরাতে কাঁপানো মোমউঠোন

যুবতী দুলে দুলে সাপিনীসুরে গেয়ে যায়

মনসার বিলাপীগান। আলোপিদিমে

উজ্জ্বল হয় তার নাকফুল

বেয়ে গড়ানো অশ্রুপ্রপাত।

ধুয়ার সুরে গলে যায় পদ্মাপুরাণের 

তুলট পাতার শরীর।


গ্রামশিল্প অবিরাম হৃদয়ের চিঠি ওড়ায়

প্রাচীন ডাকবাক্সের কুঠুরি থেকে।

এ গানেও কালসন্ধ‍্যার তীব্র দাগ থেকে

মুক্তির জন‍্যে আসরের দোহারেরা 

একসুরে গায়, ওমা বিষহরি–

করতলে এঁকে দাও করোনাবিহীন সকাল‌।

সোলিম মুস্তাফা


কত মধু কাঁটাতারে

কী লিখছিস রে কবি ? মেয়েটা
কথা দিয়ে যে এলো না, সেটা ?

বুঝেছি. এসব নয়, আরও গম্ভীর বিষয়—
খুবই গভীর, যেন পাকিস্তানের 
ড্রোন হামলাটিও খেলনা মনে হয় !

রোম উদ্গমের পয়লা তারিখ 
জানা যায় না, আগুনের পরশমণি
রবি ঠাকুরের আঙুল থেকে সকল
বালিকার বুকে
ছ্যাঁৎ করে জ্বলে উঠেছিল—
আগুনে ভেজা সে গল্প 
আলতার মতো এখনো নামে— 
যেন জল !

সব রক্ত কি আর যুদ্ধের হয়
কত মধু কাঁটাতারে, জানিস পাগল !

কেউ তো মরে না—
অপচয় হয়।

তৈমুর খান

 

বিশ্বাসের ক্রম সন্ধ্যায় 

যন্ত্রণার কার্নিশে জ্যোৎস্না গড়ায় চাঁদ 
আমি কল্পনাদের উহ্য রাখি 
না বাজুক আজ তাদের হাতের চুড়ি 

ক্ষুধার্ত আত্মা জ্যোৎস্নার আমানি চেয়ে চেয়ে 
মধ্যযুগের কোনো অস্পষ্ট কাঠবেড়ালি 
যার শব্দে কোনো শস্য নেই 
নিষ্ফল মন্বন্তরে নিরুচ্চার কাতরানি 

কোন্ আলো আর কোন্ ধর্মোৎসবে যাবে সে? 
সবই নষ্ট ঈশ্বরের পদাবলী, ঘৃণিত আবেগ 
ঝড়ের দাপট সহ্য করে ঘনঘোর বর্ষণ ক্লেশে 
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে অটুট সংবেদনায় 

ভিখিরি যুগের সংকটে আবিল ছায়ার দহন পাক খায় 
নিষিক্ত জ্বরের ঘামে ক্লান্ত উল্লাস 
কোথাও পৌরুষ নেই শুধু বিহ্বলতা কাঁপে 

মানুষের কাছে চূর্ণ মানব, ক্ষয়িষ্ণু বীর্য 
অযোগ্য আদিম প্রশ্রয় পড়ে আছে—
এক তস্তরি উত্তরণ অথবা চুমুকে চুমুকে নিগূঢ় আত্মজোশ 
আজ বিশ্বাসের ক্রম সন্ধ্যায় যদি নামে ! 

অপাংশু দেবনাথ

সাবমেরিন বন্দরে

একা হতে হতে পথে,নদীমুখী হবো,

এ ছিলো সপথ। 


বালি খুঁড়ি,সাদা সাদা ঝরঝরে মিহিবালি সব,

ওঠে আসে মুঠো মুঠো ।

মরমি এ বালুকা ছড়াই,

কোনো এক প্রত্নপাঠে চলো ভাস্কর হই ।


মায়াবীক্ষণে আতপ ধুলো উড়ে,

প্রতিদিন সিলিকায় ভাগ করি দেহতাপ।


তোমার সাথেই মনে মনে,একা হই কোনো সাবমেরিন বন্দরে।

সৌমিত বসু

মায়া বৌ - ১২২

জলের নিচে তলিয়ে গেছো তুমি

হাত বাড়ালে রক্ত উঠে আসে

কন্যাহারা মায়ের দু-চোখ জুড়ে

এখন কেন তোমার ছবি ভাসে?


চিনতো তোমায় নরম ঘাসের আলো

চিনতো তোমায় আগুনরঙা তারা

'বলছে চিনি' কতো মানুষ আজ

তোমায় আমার চেনাই হলো না।

রুদ্র মোস্তফা

রোপন করা ঋণ 

ওরা কারা, শস্যের জমিনে রোপন করছে ঋণ—

শাসনের আলে কাত করে রাখে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য?

কেন শুধু ওদের বসন্ত সংগ্রামের এক রঙে রাঙা, 

কেন ভাতের বসন্ত ছাড়া কোন ঋতু ছোঁয় না হৃদয়? 

কত শত ঋতু আসে-যায় সৌখিন বাতাসের শাঁখায়

ওদের নারীদের শরীর নিরালম্ব সরল রেখায়  —

কত রমণী আঁকে খোয়াব ভাঙে খোঁয়ারি চোখের খাঁচা—

ডানা ঝাপটানোর জীবন—ওদের কাছে খাঁচাই বাঁচা।

অথচ দুই পক্ষের নদী একই পাহাড় ঘেঁষে বয় —

তবু অপর পক্ষের ক্ষুধা একটু বেশি বৈচিত্র্যময়। 

দুই পক্ষের একই চাঁদ অথচ জোছনায় তফাত

দুই পক্ষের এক সূর্যাস্ত—উদয়ের দারুণ সকাল

সব কিছুর মধ্যে এমন বেড়িবাঁধ কারা বেঁধে দিল? 

সব রাষ্ট্রের পিঠে চেপেছে— নিজের মনে হাঁটছে দেশ

তবু যে দেশে-রাষ্ট্রে পার্থক্য,হাঁটায় এমন রকমফের 

কে দূর করবে ভেদাভেদ,সারিয়ে তুলবে দারুণ ঘা? 

রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে যারা ছোটাছুটি করে রথে চেপে যেতে যেতে কতোটা দেখবে কৃষকের কান্না দৃষ্টি মেপে! 

কতোটা আর মাপবে তারা নিভু নিভু দিনের ওজন

শাসনের নামে সমতায় সুশাসন ভালোবেসে?

তবু স্বপ্ন বুকে উঠে শিস মানুষ দাঁড়াবে সমতায়—

কাতারে কাতারে কান্না ভুলে এক সফল সম্ভাবনায়।

ডঃ শৌভিক বাগচী

 

ঝড় 

দরজাটা তুমি 

বন্ধ রেখেছো 

এমনটা কি ভালো?

বাইরে যে ঝড় 

 নীড় ভাঙা কেউ 

বলছে ,দরজা খোলো।


তোমার সোহাগে 

রাত্রিযাপন 

বিনিদ্র মধুমাস 

পুড়িয়ে দিচ্ছে 

কালের আখর 

তপ্ত প্রাণের শ্বাস।


দরজাটা তুমি 

বন্ধ রেখো না 

একটু খুলে রাখো 

গভীর রাতের 

উষ্ণ আঁধার 

একটু হলেও মাখো।

বিজন বোস

 

কল্পতরু

তুমি আসবে বলেই

দিয়েছি ঘুঙুরে তাল

অন্তরে তান,

বাগানে বাড়ায়েছি কল্পতরু 

চোখে ধরেছি নীল মেঘ,

শার্টের বোতামে বেঁধেছি 

ঝলমলে  রাত।


গোলাপ হাতে নেমেছি

 নিষ্কাম প্রেমের পেশায়।

তৃণভূমিতে  নেমে এসো আজ

চিরসবুজ বৃক্ষ তোমার অপেক্ষায়,

তোমার কোমল স্পর্শ,

 বিষ্ময়কর মায়াবী আলোয়

আমার চোখ সূর্য হয়ে উঠবে।

আর সেই পূণ্য আলোয়

দুষ্ট প্রেমিকের ব্যাঘ্র দৃষ্টির কাছে

শিকারি হরিণে পরিণত হওয়া 

নিষ্পাপ প্রেম

পারিজাত হয়ে ফুটবে।

অর্ধেন্দু ভৌমিক

 

জন্ম-মৃত্যু

'জন্ম' কী বুঝার  আগেই জন্ম হয়েছিল--

শুক্র আর ডিম্বকোশ মিলে

ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা মাতৃ-জঠর সারে 

হামাগুড়ি থেকে শব্দ শেখা...


আঁধার হলে পাখিদের ঘরে ফেরা

সকালের একবুক আশা ... 


আশার প্রহর গুনে গুনে

হঠাৎ থমকে যায় ...

কমল সরকার

 

মফস্সলগাথা

দিলদরিয়ায় ডুইবা দেখছি 
থই নাই। 

তার মনটা নাকি খুবই সরল —
ভাও নাই। 

অথচ তার কত কথা!  গোঁসাইদাদুর কথকতা 
যদুর লগে, মধুর লগে;
গলির মাথায় বাদামওলা,
মটরদানা কাবলিছোলা
কিনবো না তাও গপ্প কইরা
সময় কাটায় খুব অযথা। 
আমার চোখে চোখ মিললেই —

রাও নাই। 

আমার নাহয় হ্যাংলা  শইল —
বল নাই। 

কিন্তু আমার আর যা আছে, একমাত্তর আমার কাছে
সেইগুলা তো আর কারো নাই
বুকের মইধ্যে আকাশ নাই
সেই আকাশে বিষ্টি নাই
বিষ্টি হইলে একটামাত্র 
ছাতায় ভিজার আশ নাই। 
এইলা আমার হাছা কথা — 

ছল নাই। 

আমার একটা ভাঙা সাইকেল। সাইকেল তো না —
পাখির মতন উইড়া বেড়ায়
ঘোড়ার মতন চইড়া বেড়ায়
শাসন বারণ ভুইলা গিয়া
দুইন্যা দিঘাইল ঘুইরা বেড়ায়৷ 
তারে কত বইতে কইলাম

বয় নাই। 

তারে নাকি বাপ দেখবো, দাদা দেখবো
দেখলে পরে পিঠের মইধ্যে
কাঁচা কঞ্চির ঝাড় ভাঙবো। 
বুক চিতায়া কইতে চাই—
আমি তো তোর লগেই থাকবো। 
ওই ছ্যামড়ি! ভয় পাস ক্যা?

ভয় নাই। 

চাইলে আমি কইতে পারতাম —

কই নাই।

ডঃ রঞ্জিত দে

ফেনী

নিরেট ব্যাথার দামগুলি গুনতে গুনতে,
বুঝিলাম আমার চেতনার গোধূলি বেলায়।
ভেসে যায় মন মোর ফেনীর স্রোতে,
অনুভূতি মিলে যায় বিচিত্র বেদনার সাথে।
ভেসে যায় আমার সার্থকতা, ব্যর্থতা,
ফেনির ফেনার ছায়া-নিবিড় স্রোতে।
ফেনীই আমার গঙ্গা, ফেনীই আমার কৃষ্ণা,
ফেনীই আমার মধুমতী, ফেনীই মিটায় তৃষ্ণা।