May 29, 2023

সুমিতা চৌধুরী

কবিতা
চলো সবুজ শহর গড়ি
      
আমরা যখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে বন্দী,
ঠিক তখনই প্রকৃতি মেলেছিল  তার ডানা,  
দূষণহীন স্বাতন্ত্রের অবসরে,  
স্বচ্ছ হচ্ছিল তার নির্বাসিত, নিজ রচিত শিল্প।
যেন পূর্ণাবয়ব চিত্র ফুটে উঠছিল নয়া ক্যানভাসে। 
তবু তার মনের অলিন্দে ক্ষত ছিল বড়োই গভীর, 
তাই সে, সেই রোষে আজও  ফেটে পড়ে মুহুর্মুহু,
প্রচন্ড তেজে, রুদ্র তাণ্ডবে আঘাত হানে মানবসভ্যতার উপর। 
আমরাই পারি তাকে শান্ত করতে, 
রাখতে অমলিন তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যকে,
করতে নবজীবন দান, প্রকৃতি তথা মানবসভ্যতাকে।
বিলাসবহুল জীবনযাত্রকে খানিক লাগাম টেনে,
আবর্জনার পাহাড় নামিয়ে,
রাসায়নিকের প্রয়োগ কমিয়ে, 
প্লাস্টিক বর্জন করে। 
চলো গাছ লাগাই, তোমার-  আমার ছাদে, বারান্দার টবে, রাস্তার ধারে, 
সবুজ হোক শহর।
বাসা বাঁধুক পাখি আপন নীড়ে, 
দিনগুলি হোক মধুর, সুন্দর, 
পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙা এক ভোরের আলিঙ্গনে। 
প্রকৃতি হোক শান্ত, নিজ বৈচিত্র্যতায় সুন্দর, চির সবুজ, 
সকল ঋতু তার নিজ রূপ মাধুরীতে দেখা দিক আবার এই ধরার 'পরে।
বুক ভরে নির্মল শ্বাস নিয়ে বাঁচি তুমি- আমি, 
তোমার- আমার হাতে গড়া সবুজ শহর যে, ভীষণরকম দামী।।

মোঃরুবেল

কবিতা
অহম আরোগ‍্য
                          
আমার পূর্বপুরুষেরা বাবাকে শূন‍্যতা এঁকে দিতেন।
বাবা এই শূন‍্যতার পথে হেঁটেছেন বহুকাল।
এটা পরম্পরাগত শূন‍্যতা।
এই শূন‍্যতায় হাঁটার কারণ জানি না।
এখন বাবাও আমাকে শূন‍্যতা এঁকে দেন।
আমি হাঁটি বাবার মতো।
ক্লান্ত হই।
ক্লান্ত চোখ আলগোছে বন্ধ হয়ে আসে।
চোখ বন্ধ হলেই ভাবি এই বুঝি সব গেলো, নিঃস্ব হলাম।
কিন্তু না সব শূন্যতা নিঃস্ব হবার নয়।
অনেক শূন‍্যতা ভালোবাসা শেখায়। অহমহীন ভালোবাসা।
পূর্ণ মানুষ শূন‍্য হলে সব অহম ছুড়ে ফেলে  চলার খোরাক হয় ভালোবাসা,

এটা বোঝার সাথে সাথে 
আমি তার নাম দিলাম অহম আরোগ‍্য।

লিটন শব্দকর

কবিতা
গাছভোরে

বছর চারেক আগে এক ভোরবেলা দেখা একটি স্বপ্ন এখনও 
স্বপ্নই রয়ে গেলো। তবু আমি তোমাদের সে স্বপ্নের কথা শোনাবো। 
              দেখলাম দলে দলে মানুষ সারিবদ্ধভাবে হেঁটে চলেছে আমাজন রেইন ফরেস্টের দিকে। আবছা কোনো এক দেবতা অথবা মানুষ হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে দিলো। তারপর কিছু বীজ ছিটিয়ে দিল শহরের দিকে। কতকটা বীজ পড়েছে রেস্তোঁরার বারান্দার পাশে। কতকটা অফিসগুলোর আনাচে কানাচে। কতকটা রেলরাস্তার আনাচে কানাচে। কতকটা ধর্মীয় চাঁতালের আশেপাশে। কতকটা নদীর ধারে। কতকটা ফেলে রাখা মাঠে। কতকটা শহরের বুক বরাবর। 
সকালের সূর্যোদয় পর্যন্ত কেটে গেছে অনেকগুলি বছর। আর গাছেরা আবার বলছে 'এসো'!
হয়তো আমিও খুব তাড়াতাড়ি মিশে যাবো হাঁটাপথের সারিতে।

অলকা গোস্বামী

কবিতা
সবুজ পাতার ইতিহাস

সূর্যটা বড্ড জ্বালায়,
সবুজ পাতায় ভরে দেয়
ছোপ ছোপ কালি;
পাথুরে রাস্তায় বসে
আনমনা বিষন্ন যুবতী,
ঝড় নাকি আসছে,
আছড়ে পড়বে দিনের শেষে।
একপশলা ভিজে বাতাস
ছুঁয়ে যায় ঠোঁট,
প্রেমিক সেও
ঝড়ের মতোই আগন্তুক।

বিষন্নতা ঝরে পড়ে
শুকনো পাতার মত।
চুলে কৃষ্ণচূড়া গুঁজে
তৈরি কালো মেয়েটি,
তার পাথুরে শরীরে
ঝড় বইবে,

আগামী কোনো এক দিনে
নগরায়নের উৎসবে
ঝক ঝকে মসৃণ রাস্তায়
ধূলো উড়িয়ে যাবে
শহরমুখী মানব শকট।

প্রদীপ কুমার মাইতি

কবিতা
বিপন্ন পরিবেশ

প্রকৃতির শোভা ধরায় ছিল সুন্দর পরিবেশে, 
পরিবেশ আজ বড় বিপন্ন
দূর্যোগ ঝড়ে ভাসে।

মুক্ত ছিলো পশু-পাখি 
বাতাসে ছিলোনা বিষ,
সবুজ বনানী পরিবেশে প্রাণ
দিয়ে গেছে অহর্নিশ।

সিক্ত হতো রুক্ষ মাটি 
আষাঢ়-শ্রাবন এলে,
সবুজ  প্রাণেরা  তুলতো মাথা
মুক্ত ডানা মেলে

কারখানার ধোঁয়ায় দুষিত বাতাসে 
ভরেছে শরীর বিষে,
পরিবেশ আজ ধংসের পথে 
থাকবে কি অবশেষে?

সবাই মিলে দূষণ রোধে
নামবো পথে মোরা,
মুক্ত বাতাসে জয়ের নিশানে
ছুটবে রথের ঘোড়া।

সোনালী গোস্বামী

কবিতা
নদী কথা

সময়ের বেড়াজালে জীবন বয়ে চলে,
নদী ও চলে তার ধারা প্রবাহে।
গ্ৰামের ঐ শুভ্রানদী কতনা স্মৃতি আঁকড়ে আছে,
তার কল-কল,ছল-ছল জলধ্বনি আজো শুনা যায় শান্ত দুপুরে।।

কত নবীন কত প্রবীনের আসন ছিল নদীতীরে,
কত কাহিনীর সাক্ষী রেখেছে নদী আপন নীরে।
শুভ্রা ঠিক যেমন ছিল তেমনই থাকতে চায়,
কিন্তু এ মানবসমাজ তাকে তেমন থাকতে দিলনা হায়।‌।

শুভ্রার শুভ্রতা করেছে নষ্ট কত গুনীজন,
শিক্ষিত এ সমাজে আছে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন।
আবর্জনায় ময়লার তার জল হয়েছে নষ্ট,
স্বচ্ছতার নির্বাচনে এরা কখনো হবেনা শ্রেষ্ঠ।।

নদীর কথা রয়ে যাবে চিরদিন নদী মননে,
শুধু শুভ্রা চায় তাকে মানব যেন রাখে যতনে।
আরো কত সবুজ প্রানের স্মৃতির পাতায়,
শুভ্রা বাঁচতে চায় স্বচ্ছতার প্রতীকের খাতায়।।

শ্বেতা ব্যানার্জী

কবিতা
সখেদ

আমি দু'হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলি ….
পৃথিবী, 'তুমি আমার' ....
নিরুত্তর পৃথিবী, বাতাস বলে কবে ছিলাম তোদের!
শুধুই তো কবির কলমে ঠাঁই। 
তবে যে আমার উঠোনে জ্যোৎস্না'রা হাঁটে,
দোলনচাঁপার গন্ধ কোল জুড়ে বসে,
তাহলে তো  বলার অধিকার আছে 'এসব আমার' 
তোরা  মানুষ,  শুধুই ধ্বংস কে করে অধিকার।
প্রেয়সী রূপ কে শুধুই করেছিস্  ব্যবহার। 
পৃথিবীর এ-ই আসবাবে  নেই আমার  অধিকার!? 
ছেঁড়া মেঘের ফাঁকে যে সূর্য হাসে,
বহুদূর থেকে মেঘ ভেসে আসে,
বাউণ্ডুলে ঢেউ উঠে নীল সাগর বুকে, সে সব  তবে কা'র? 
সে-ই সব আত্মাদের সভ্যতার হাতুড়ি'তে করেছিস্ 
ঘায়েল বারবার। 
এখন বোঝ তবে, হলুদ বসন্ত   গেলে চলে 
ছাই রঙে মুখ ঢাকে  পৃথিবী আবার,
তবে; কী বলতে চাও! এ পৃথিবীতে অধিকার নেই আমার?

অধিকার দিতে পারি ; তার আগে প্রায়শ্চিত্তের দরকার।

মায়া রানী মজুমদার

কবিতা
প্রকৃতির সুরক্ষায়

প্রকৃতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের 
             ব্যাঘাতের কাতর যন্ত্রণা, 
ধৈর্য্যের চরম সীমা 
             অতিক্রান্ত চেতনা।
আতঙ্কগ্রস্ত সময়ে নেই যে 
              কোন রকম শান্তনা, 
খেসারত দিতেই তো 
              মোদের এত অবমাননা।
সবুজ বনের সবুজ মনের
              নেই তো কোন উপমা, 
স্বজ্ঞানের ভুলের 
              নেই তো কোন ক্ষমা।
স্বজ্ঞানে করো কাজ 
              হয়ো না বিগলিত, 
একটু ভুলের কারণেই 
              মানুষ হয় ধরাশায়িত।
সজ্জিত হয় ধরণী
              এক অপরূপ সাজে,
প্রকৃতির সুরক্ষার তরে
              লেগে পর কাজে।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

কবিতা
হরিৎ চাই

এত সবুজের মধ্যে থেকেও বড় বিপন্ন বোধ করি
সবুজ আজকাল তার গাঢ় রং হারিয়ে কেমন 
ধূসর রঙে সাজিয়ে ফেলছে নিজেকে।
এত অভিমান ! এত যন্ত্রণা ওর বুক জুড়ে! 

পরতে পরতে আমরা মেখে দিয়েছি ধোঁয়া, কালি
পাতাগুলো ধুলো বিবর্ণ হয়ে তাকিয়ে আছে 
আমাদের দিকে সব হারানো দৃষ্টি নিয়ে, 
এই বুঝি আমরা কিছু মিরাকেল করে দেব!
আদতে , নষ্ট করা ছাড়া আমাদের কোনো গুণ নেই,
নেই সৃষ্টি করার, সৃষ্টি বাঁচানোর ক্ষমতা বা তাগিদ। 

মেঘেরা পালা করে এখনো আসে বলে , জল ঝরায়
তাই আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারি, ফুসফুসে হাওয়া ভরি।

সবুজ বিপন্ন নয়, ক্রমাগত বিপন্ন হচ্ছি আমি, আমরা
আমাদের অনাগত প্রজন্ম, আমাদের অস্থি মজ্জা ।
কুঠারের গায়ে লেগে থাকা গাছের কষ আসলে 
আমার, তোমার , আমাদের সকলের শুকিয়ে আসা রক্ত

হাঁপরের মত শ্বাস নিতে গিয়ে যখন হৃদপিন্ড ঠেলে
বেরোতে চায়, তখন ও কেন ভাবতে পারিনা 
এত সবুজ দিন দিন ধূসর হচ্ছে কেন!
হাওয়া জুড়ে শীতল মধু বুকে প্রলেপ দিচ্ছেনা কেন!

বিপন্ন মানুষের পাশে এখন হরিৎ চাই 
ঘন সবুজের হরিয়ালি চাই , পাতায় পাতায়
রোদের ঘামতেল চাই, আকাশ জুড়ে নীল চাই।

রমা চন্দ্র

কবিতা
মানবতার দীপ

প্রদীপের নীচে অন্ধকার...
বিজ্ঞান কি টর্চের আলো-
না গণ্ডিবদ্ধ বৃত্তাকার!
ল্যাম্প পোস্টের নিয়ন বাতিতে-
পথ-ঘাট কি একাকার...
না মনের কোনে নিকষ আঁধার!
উত্তরের খোঁজে নীদ্রাহীন চোখ-
চৈত্রের আকাশে..
ঝড়ের পূর্বাভাসে !
দাবদাহে রুক্ষ জীবন...
নদনদী ও শুষ্ক ভীষণ...
নাই বরষণ...!
ক্রমাগত নিধনে সবুজ...
ভগ্নপ্রায় খাদ্য শৃঙ্খলে-
মানুষ আজও অবুঝ!
চকিত বিদ্যুৎ আলোকে-
দূর নীহারিকা হতে কে যেন বলে,
'হে মানুষ অন্তরে মানবতার দীপ জ্বালো'!

রিপন সিংহ

কবিতা
নতুন চাই

আমি জন্মেছি এই পৃথিবীতে তাইতো আমি এখানে,
হয়তো ব্যাঙ নয়তো কীট হয়ে আসতে পারতাম;
তবে এসে আমি তোমাকে পেয়েছি
পেয়েছি তোমার প্রেমকে।

এই অবিশ্বাস জীবন স্বপ্নে ভরা জীবন,
যা চেয়েছি তাই পেয়েছি;
শুধু তোমাকে পেলাম না
বিস্ময়ে আনন্দে প্রেমে ভরা এই জীবন।

তবে এই পৃথিবী খুবই ক্ষুদ্র,
সারা পৃথিবীকে আমি চোখে দেখতে পাই
স্পর্শ করতে পাই
এর জন্য হতে হবে রাজেন্দ্র।

জঞ্জাল মুক্ত হও,
শুধু আমি আমি নয় সবাই মিলে আমি
হয়তো যে কাজের এসেছি তা পূরণ হয়নি।

আমি অত্যন্ত খুশি এই সমৃদ্ধ পৃথিবীকে দেখে,
হয়েছে শিল্প হয়েছে বাণিজ্য;
সবাই আজ উন্নত
তবে জাগ্রতর পেছনে ঢের অশুভ অঙ্গ রয়েছে।

হয়তো এই অশুভের কারণে থাকবে না আমার অস্তিত্ব,
তবুও আমি পেছন ফিরেনি
বৃক্ষের অঙ্গে ঢিল ছুড়লে যেমন ফিরিয়ে দেয় সুস্বাদু ফল;
জন্মে জন্মে তোমার হৃদয়ে থাকবো জীবনভর।

সুপ্রতিম ভৌমিক

প্রবন্ধ 
সবুজ উদ্ভিদমালা, প্রাণীকুলের প্রাণদাতা

চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি আমাদের জীবন স্বরূপ । প্রাকৃতিক অম্লজান সরবরাহকারী, সবুজ বৃক্ষ আমাদের প্রাণবায়ু দাতা । তথাপি বিশ্বজুড়ে মূঢ় মানব সে' চিরন্তন সত্য জানা সত্ত্বেও নির্বিচারে অবাধে বৃক্ষচ্ছেদন করে সবুজ উদ্ভিদ-বনানীর ক্রমশঃ হ্রাস ঘটিয়ে যাচ্ছে । যার দরুণ প্রকৃতির বাতাবরণ আজ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে । প্রাণীজগতের নিঃশ্বাসে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে গাছেরা আমাদের প্রশ্বাসবায়ু অক্সিজেন দান করে থাকে প্রতিনিয়ত । সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে জীবজগত সতত জীবন ধারণ করে । 

       কিন্তু বৃক্ষরাজি ধ্বংসের ফলে প্রাণীজগতে অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর ভারসাম্য রক্ষা দুরূহ হয়ে পড়েছে । সেহেতু অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটছে বায়ুমণ্ডলে । বিশ্বমানব আজ প্রাকৃতিক অক্সিজেনের বদলে কৃত্রিম অক্সিজেন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে । এতদ্ব্যতীত, অতিমারী মহামারীর নিদারুণ কবলে অক্সিজেনের অভাব হেতু শত-সহস্র জীবন মৃত্যুমুখী হয়ে পড়েছে আজ । 

     সুতরাং, বিশ্বজুড়ে মানবসমাজ বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার্থে, অক্সিজেনের অভাব দূর করতে, বিশেষভাবে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষপালন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে মনোনিবেশ করা একান্ত প্রয়োজন । প্রত্যেক মানুষকে এ' ব্যাপারে সচেতন হওয়া সর্বাংশে উচিত নচেৎ ধ্বংসের করাল গ্রাসে প্রাণীজগতের নিশ্চিহ্ন হওয়া অবশ্যম্ভাবী । তাই পরিবেশ রক্ষণে আমরা বিশ্ববাসী, সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বিশ্বজুড়ে সবুজ বনানী,বৃক্ষরাজি রক্ষার্থে, বর্দ্ধনার্থে ও পালনার্থে শপথ গ্রহণ করা উচিত ।

লিয়া শারমিন হক

গল্পপকথা
ক্রোধ

রকিব লুকিয়ে রয়েছে।সিঁড়ির নীচে অন্ধকার যেখানে ঘন সেখানটিতে।সেই সকাল দশটা থেকে এখানে।রকিবের পরনে ধূসর পান্জাবী।হাতে, মুখে আর সেই ধূসর পান্জাবীতে চাপ চাপ রক্তের দাগ শুঁকিয়ে কালচে হয়ে গিয়েছে।চিমসে গন্ধ বের হচ্ছে।ঠকঠক করে কাঁপছে রকিব।”কি করবো এখন কোথায় যাবো? এ কি হয়ে গেলো? কেন করলাম? আমার হাতে খুন…আহ্! আর কিছুই যে ভাবতে পারছিনা! আল্লাহ্ বাঁচাও আমায়! তেমন কিছুই নয় কলেজ ঈদে বন্ধ।রমজান মাস স্যারকে টেবিলে খাবার দিয়েছি ঘড়ি ধরে শেষ রাত সাড়ে তিনটেই গরম ভাত, আলু ভাজা, ঘন মসুর ডাল,ডাবল ডিমের অমলেট। বিদ্যুৎ স্যার খাওয়া শেষ করে উঠে বেসিনে হাত ধুচ্ছিলেন। কাছে গিয়ে মিন মিন করে বলেছিলাম,”স্যার মন কেমন করছে বা…ড়ি যাবো?” ব্যস! শুনেই উনি ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তাকিয়ে, “কি বললি তুই? তোকে তো বলেছি এক বছরের ভেতর বাড়ি যাবার কথা মুখে আনবি না।” আমি ভয়ে একটু দূরে পিছিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।ঐ ঘরেরই পশ্চিম দিকে বইয়ের আলমারি যে দিকে তার পাশে।চিৎকার করতে করতে উনি ছুটে আমায় মারতে এলেন।হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তাই দিয়ে আমার উপর চড়াও হলেন।গ্লাস, বাটি, প্লেট ভেঙ্গে চুরমার! এক পর্যায়ে টেবিলের উপর ছুরি ছিলো ওটা উঠালেন আমার ওপর।আমি অত মার খেয়ে ভয়ে কাঁপছিলাম।উনি আমার শিক্ষক আমি কি করে উনার উপর কথা বলতাম? শুধু তো এতটুকুনই বলেছি, স্যার ঈদে ছুটি দিন।বাড়ি যাবো।মাকে ভীষন দেখতে ইচ্ছে করছে,মাকে কাল স্বপ্নে দেখেছি এতটুকুন ও বলে উঠতে পারিনি।উনি কেন কিছুতেই ছুটি দিতে চাননা? আমার মাথায় আসেনা? রাজ্যের যত কাজ আমায় দিয়ে করান।ঘরের ফায়ফরমাশ বাইরের কাজ।কলেজের পড়াশুনার পাশাপাশি সব আমায় করতে হয়।আমার দম ফেলবারও সময় থাকেনা।মাঝে মাঝে মনে হয় এই পৃথিবীতে বেঁচে থেকে কি লাভ? বুদ্ধি হওয়া থেকে শুধুই কস্ট আর কস্ট! আমায় তো দেখবার কেউ নেই।বাবা মারা গিয়েছেন সেই আমি যখন ছোটো।বাবার চেহারা মনেও পড়ে না আমার।বাবা বেঁচে থাকলে এমন হতো না নিশ্চয়? কত কস্টে মা আমায় এত দূর পড়িয়েছেন।সে শুধু আমিই জানি।কত দিন মা আর আমি না খেয়ে থেকেছি! কেউ কোনো দিন জানবেনা সে কথা।কে খেলো কি না খেলো কার কি যায় আসে? মানুষের বাড়ি কাজ করে করে মা আমায় পড়িয়েছেন।আমি SSC তে GPA 5 পেয়েছিলাম।আমার মায়ের সে কি আনন্দ? আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন আমার দুখিনী মা।উনি আমার মাথায় চুমু খেতে খেতে আশীর্বাদ করেছিলেন,”অনেক বড় মানুষ হ্ বাবা! মানুষের মতন মানুষ হ্ !” এই অনেক বড় মানুষ হওয়া আমার? এই দিন দেখবার জন্য উনি আমায় আশীর্বাদ করেছিলেন? মা মা…ও মা..! কি ভাবে তোমার সন্মুখে দাঁড়াবো আমি? বলে দাও.. মা বলে দাও…! সেই মানিকগঞ্জের বিলাসপুর গ্রাম থেকে ঢাকায় কলেজে ভর্তি হবার জন্য এসেছি। আমাদের গ্রামের বিদ্যুৎ স্যার ঢাকায় থাকেন।উনি রেজাল্ট শুনে বলেছিলেন,”ঢাকায় চলে আসিস আমি ব্যবস্থা করে দেবো।” বিদ্যুৎ স্যার আগে আমাদের গ্রামের “বিলাসপুর সরকারী উচ্চবিদ্যালয়” স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।পরবর্তীতে উনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং ঢাকায় স্থায়ী হন।বিদ্যুৎ স্যার বলেছিলেন,”আমার এখানে কিছুদিন থাক্ তারপর হোস্টেলে উঠে যাস্।” আমি ঢাকায় কোনোদিন আসিনি কিছুই চিনিনা। উনার কথায় আশ্বস্থ হয়েই এসেছি।উনি যে ভাবে আশ্বস্থ করেছিলেন মা ও আপত্তি করেননি।বললেন,”আচ্ছা বাবা তুই যাহ্।উনি যখন এত করে বলছেন। আর আমাদের মানুষের উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় কি বল্? কে আছে আমাদের? ঢাকা শহরে আপন বলতে কেউ নেই। কাউকে তেমন চিনিও না।যাহ্ বাবা আল্লাহ্ র  নাম নিয়ে তুই যাহ্।” ব্যস চলে এলাম।কলেজে ভর্তি হলাম।স্যারের বাসায় উঠেছি।স্যার বলেছেন, “যত দিন হোস্টেলে সিট না পাশ্ এখানেই থাক্!”

চন্দ্রা বিশ্বাস

হচ্ছেটা কি ইস্ 

হচ্ছেটা কি ইস্  -----
মনের মধ্যে হঠাৎ কেন জমেছে এত বিষ? 
হে ঈশ্বর, দোহাই তোমার বায়ুদূষণ রুখে,
"জল পড়ে আর পাতা নড়ে" দিন দেখাও ফিরে সুখের। 
দিব্যি ছিলাম সবাই সবুজ খুশি মেখে মুখে,
সবুজ সে সুখ কাঁটা হয়ে আজ বিঁধছে কেন বুকে? 
গাছপালা নেই, প্রকৃতি বিমুখ, নকল সুখের লোভে,
মানুষই এবার সাজবে দানব, জল না পাওয়ার ক্ষোভে।
নগরায়ণের দর্পে জীবন চেয়েছে আকাশ ছুঁতে,
বহু বাসনার বহুতলে বসে সুখকে ছিনিয়ে নিতে। 
আজ "বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই বঞ্চিত করে" ফিরিওনা মুখ,
বর্ষা এসো শপথ নেবো, ফেরাবো সবুজ, হয়োনা বিমুখ। 
প্রকৃতির পায়ে কোদাল চালিয়ে,হারিয়ে ফেলেছি অমূল্য ধনে,
জীবন সে ঋণ শুধবেই দেখো,সবুজায়নের প্রতিফলনে ।

বিদিতা সেন

কবিতা
বিবর্ণ সবুজ

প্রকৃতি যেন কাঁদছে আজ! 
দেখে সবুজের বিবর্ণ সাজ।
ধোঁয়ার আড়ালে লুকানো আকাশ, 
নেই সে  শীতল মৃদু বাতাস। 
চাঁদের হাসি হয়েছে ম্লান, 
ধরা যেন করছে অগ্নিস্নান। 
বনাঞ্চল নিয়েছে মরুর আকার, 
নগরায়ন হয়েছে ক্রমশ সাকার। 
গগনচুম্বী অট্টালিকারা দাড়ানো উচ্চশিরে, 
ভোরের রবি মুখলুকানো ঐ দিগন্তের আড়ে। 
বনের  খোঁজে সব বন্যেরা বেড়ায়, 
পাঁখিরা তাদের ঠিকানা বাড়ায়। 
স্বল্পবর্ষায় হয় ভূমিস্খলন,
কে রোধিবে অরন্য লুন্ঠন? 
ক্রমশ বাড়ছে গ্রীষ্মের উত্তাপ, 
পারি  কি? বুঝতে প্রকৃতির সন্তাপ! 
নব প্রযুক্তি আর শিল্পায়ন
পুরাতন ভূলে চাই নবায়ন, 
সবুজ হ্রাসে আজ বিশ্ব উষ্ণায়ন
তবেকি এবার ধংসেরই আয়োজন? 
এবার মিলে করি ঐ প্রতিজ্ঞা -
পরিবেশকে যেন না করি অবজ্ঞা। 
পৃথিবীকে সাজাবো সবুজের আবেশে-
বাঁচবো সবাই সুস্থ পরিবেশে।।

গীতশ্রী ভৌমিক

কবিতা
সব বিধ্বংস পথে....

সভ্যতা, সমাজ উপড়ে ফেলে দেবে উষ্ণতার বেড়াজাল। 
সবুজবীথির স্যঁতস্যতে কেটে বানিয়ে নিলি কংক্রিটের জংগল!
এবার জংগলবিহীন ওই ঝাঁ চকচক তোর শব বইবে 
তার সভ্যতা মেনে!

মনচলি চক্রবর্তী

গল্প কথা
গ্রীষ্মের এক  তপ্তদুপুর 

স্কুলের ঘন্টা বেজে উঠলো ডংডং শব্দে ।গরমের ছুটি পড়তে আর ও কিছু দিন বাকি আছে। ভরদুপুরে স্কুলে ক্লাস চলছে ।

বাইরে কাঠফাটা রোদ।আগুন ঝড়ছে সূর্য  কিরণে। ক্লাসের লেইজার টাইমের ঘন্টা বেজে গেছে। প্রচন্ড গরম পড়েছে, কবে গরমের ছুটি পড়বে? 

ছাত্র ছাত্রিদের মুখে মুখেএকই কথা। 

লেইজারে, ক্লাস থেকে একে একে সবাই বেড়িয়ে গেলো। 

ক্লাসরুমের বাইরে  গিয়ে বারান্দায় জানালাটার পাশে দাড়িয়ে বাইরের আম গাছটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

সবুজ সবুজ কাঁচা আম ঝুলছে গাছে।কি যে ভালো লাগছে দেখে।গাছটা মনে হলো আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কি যেনো বলতে চাইছে।

আম গাছটা আজ আবার আমার সেই  ছোটবেলার  স্কুলে কাটানো  গরমের দুপুরের কথা,গরমের ছুটির কথা সব  কিছু বলতে চাইছে মনে হয়। 

সেই স্কুল জীবনের আম গাছটার কথাই মনে   হয় বলতে চাইছে এই গাছটা।

 গ্রীষ্মের দুপুরে অপেক্ষায় থাকতাম কখন লেইজার টাইমে ঘন্টা  বেজে উঠবে।আর বাইরে গিয়ে আমরা বন্ধুরা মিলে লাল,হলুদ,সাদা আইসক্রিম খাবো।পেপসি আইসক্রিম খেতে তো ভীষণ ভালো লাগতো আমার।তা নিয়েও আমাদের মাঝে  হাসাহাসি চলতো।এসবের  মাঝেও আনন্দ ছিলো অন্যরকম। 

গরমে আচার কিনে স্কুলের বারান্দায় বসে  খেতাম সবাই মিলে।  এক বন্ধু কাঁচা আম কতগুলো  আর নুন নিয়ে এল স্কুলে। লেইজারের ঘন্টা পরতে না পরতেই সবাই বেড়িয়ে গাছের নিচে বসে আনন্দে আম খেতে শুরু করতাম।

কত মজাই না করেছি স্কুলে।তখন এরকম কোল্ড ড্রিংকস ছিলো না।আমরা লাল হলুদ রঙের আইসক্রিমেই খুশী থাকতাম।

গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কখনো কখনো ক্লাস  না হলে গাছের ছায়ায় বসে কথা বলে আমরা সময় কাটাতাম।বাড়িতে ফিরে এসে মায়ের হাতের বানানো লেবুর সরবত অমৃত লাগতো।গরমে এর চেয়ে বেশি তৃপ্তি আর কোনো সরবতে লাগতো না।

গরমের ছুটি পড়তে না পড়তেই মামার বাড়ি যাবার জন্য তৈরি থাকতাম।মামার বাড়ি গরমের ছুটি কাটাবো।কি মজা..

মামার বাড়িতে গিয়ে গরমে পুকুরে ডুবে বসে থাকতাম, সাঁতার কাটতাম। পুকুর থেকে উঠতেই চাইতাম না।

মামার বাড়ির পুকুরে মাছ ধরা, জলে পা  ডুবিয়ে বসে থাকা।গরম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার রাস্তা খুঁজে বেড়াতাম। মামার বাড়ির পেয়ারা গাছে উঠে ঝুলে থাকা। পেয়ারা পেরে খাওয়া আম কুড়িয়ে আমের টক ঝাল ভর্তা খাওয়া।সারাদিন নানা রকম দুষ্টুমি করে বেড়াতাম।

দিদা আমসি রোদে দিলে চুরি করে খেয়ে নিতাম। গাছে উঠে  কাঁচা পাকা সব লিচুর ডাল ভেঙে নিয়ে আসতাম। আনারস গাছ থেকে আনারস কেটে  টক রান্না করে দিতে বলতাম মাকে।গরমে ডাল দিয়ে আমের আচার, আনারসের টক দারুণ  লাগতো খেতে।

এসব স্মৃতি চিরকাল মনের গভীরে বেঁচে থাকবে।

 গরমের ছুটি শেষে ফিরে আসার পথে মন খারাপ করে  মায়ের  হাত ধরে ফিরে আসতাম।

গ্রীষ্মের এক দুপুর আমার ফেলে আসা  শৈশবের, স্কুলের, গরমের  ছুটির,মামার বাড়িতে কাটিয়ে আসা দিন,  গরমের  ছোট ছোট টুকরো স্মৃতি গুলো সতেজ করে দিলো।  আম গাছটা কথাগুলো  সব মনে করিয়ে দিলো।  আনন্দে  মনটা  এত বছর পরেও আবার যেনো প্রাণবন্ত  হয়ে উঠলো।

 হঠাৎ  চমকে উঠলাম। পিঠে কে  যেন হাতটা রাখলো, তাকিয়ে   দেখি  রিমা।রিমা বলছে - কিরে অপু লেইজার তো শেষ।ঘন্টা পরলো শুনলি না যে, ক্লাসে যাবি না?

যাবো তো, চল বলে ওর সাথে  কথা বলতে বলতে আমরা দুজন ক্লাসে ঢুকে গেলাম।

সপ্তমিতা নাথ

কবিতা
অস্তিত্ব 

আমার জন্ম
মায়ের মা ডাকে,
সুখ দুঃখের ভাটিয়ালি গানে,
সীমানা বিহীন বরাক পদ্মার-
মাছ ধরা ঘোলাটে জলের, 
পদচিহ্ন ধরে পূর্বপুরুষের
বাংলার ঘরে।

আমার শৈশব 
বৃষ্টির ঝিরঝিরি, নদীর কল-কল 
শালিক টিয়া চড়ুইর চিক-মিকি তে
ঘুমপাড়ানি গান, ছন্দ-ছড়া -কবিতা বলে ,
অ-আ-ক-খ বর্ণমালার হাত ধরে 
বাংলায় বলে।

আমার যৌবন 
ভাটফুলের গন্ধে ভরা
মাঠঘাট পথ ধরে কাবাডি খেলা 
পান্তা ভাত ও মায়ের আঁচলে মুখ মুছে 
তৃপ্তির দুপুর বেলা
রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রেম 
জীবনানন্দের গল্পে 
বাংলাকে ভালোবেসে।

হঠাৎ এক কালো রাতে 
দুঃস্বপ্নে পূর্বপুরুষ এসে 
আমায় বলে, "
মোদের অস্তিত্ব দিয়েছিলাম তোর কাঁধে "
অস্তিত্ব নাকি ভুলতে হবে!
না ভেবেই কথা দিলাম 
"জান দেবো তবু জবান দেব না।"
 রক্ত স্রোতে বইবে খরস্রোতা বরাক 
তবুও হবে না কখনো অচলা।

আমরা দশ ভাই কানাই 
চন্দ্র, হিতেশ, সত্যেন্দ্র,
সুনীল,তরুণী,শচীন্দ্র 
কুমুদ,কোমল বীরেন্দ্র।
হয়ে রইলাম বাংলার চিরপ্রহরী
১৬ বর্ষতেই বোন কমলা,
হয় গেল১৯ এর চিরপরী 
এবারে,চির সুরক্ষিত মোদের বাংলাপুরী।

কল্যাণী ভট্টাচার্য্য

কবিতা
আগামীর পৃথিবী

আজ এই বিশ্ব চরাচরে
যতো মুখোশের জঞ্জাল
পরিশ্রান্ত পৃথিবী আজ
সত্যের অগ্রগতি স্তব্ধ। 

জাগবে কি সত্যের প্রাণ
দূর আশার আলো জ্বলবে কি
প্রতি আঙিনায়
সত্যের আলোয় ভরবে কি এই অসুস্থ পৃথিবী। 

করেছি অঙ্গীকার
আগামীর পৃথিবী হোক সুন্দর নির্মল
হোক শিশুদের বাসযোগ্য
ধরণী আবার সেজে উঠুক
পাখিরা আবার গেয়ে উঠুক। 

নন্দিতা দাস চৌধুরী।

বিশেষ নিবন্ধ
অমৃতাস্তে  ভবন্তি

১ম পর্ব
শক্তির সত্য রূপ হচ্ছে  সৌন্দর্য। আকাশে মেঘের  মধ্যে বাস্পাকারে যে জলের  সঞ্চয় হয় বিশুদ্ধ জলধারা  বর্ষনেই তার প্রকাশ। গাছের  ভিতর যে রস সিঞ্চিত হতে থাকে তার প্রকাশ পাতার সাথে ফুলের সাথে মিশ্রিত হয়ে। গাছের পূর্ণ শক্তি  তার ফুল, ফুলের মধ্যে  লুকিয়ে আছে  তার বীজ ই হচ্ছে  ভবিষ্যতের অরণ্য অর্থাৎ  অমরতা। জন্ম লাভ ই অমর হয়ে যাওয়া নয়। বিরাট কে জানাই অমরত্ব লাভ।  অসীমের উপলব্ধিতে ই আমরা সৃষ্টিকর্তা। তাঁর  অভাবে বিকলাঙ্গ। সৃষ্টি  রক্ষার জন্য প্রকৃতির  আশীর্বাদ অপরিহার্য। জীবন বাঁচিয়ে রাখার জন্য  গাছপালা বন জঙ্গলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শ্বাস নিঃশ্বাস তার অবদান। প্রকৃতির কাছ থেকে আমরা প্রভাত, মধ্যাহ্ন  অপরাহ্ন, সায়াহ্ন, অর্ধরাত্রি, শেষরাত্রি, জেনেছি। এই প্রকৃতির বিভিন্ন রূপকে বিভিন্ন নাম দিয়ে ঋতুর তারতম্য বোধ হয়েছে।  প্রকৃতির খরতাপে যখন জীবের জীবন সংকটময়  হয়ে উঠে তখনই পশু পাখি গাছপালা উদগ্রীব হয়ে উঠে। ধরনীর শুষ্ক ধূলিকণা যখন বাতাসে ঝড় তুলে তখনই প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে তার পরিবর্তন আসে। আকাশে কালো মেঘের গর্জনে নেমে আসে বর্ষার জলধারা। তার রস স্পর্শনে স্নিগ্ধ করে পৃথিবীকে।

সূর্যের প্রখর তাপ থেকে  পৃথিবীকে স্নিগ্ধ করে  রাখতে শীতল ছায়ার প্রয়োজন। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বন জঙ্গলের  যেমন প্রয়োজন তেমনি  জঙ্গলে বসবাসকারী জীব জন্তুরও বিশেষ প্রয়োজন । শুধু মাত্র জেনে রাখলেই হবে না, তাতে আন্তরিক যোগদান ও বিশেষ তত্বাবধান জরুরী,বনকে সুন্দর  করে  তুলতে হলে নিয়ম মাফিক  বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছ লাগাতে হবে। জঙ্গলে যে প্রাণী বাস করে তাদের  সুরক্ষার জন্য জঙ্গলকে পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। কারণ এরা  আমাদের দেশের সম্পদ। জঙ্গলের জীবজন্তু  শহরের বন্দী খাঁচায় বেশি দিন বাঁচতে পারেনা।তার স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া আইনতঃ দন্ডনীয়। পশু পক্ষী জীব জন্তু আমাদের জীবন রক্ষার  অনুকূল। বন বনান্তকে সুন্দর ও সুষ্ঠ রাখা আমাদের  কর্তব্য। 

কলকারখানা অফিস আদালতে আমরা কাজ করি জীবিকা রক্ষার্থে কিন্তু জীবন রক্ষার্থে চাই  অসীমের উপলব্ধি,তা না হলে আমরা প্রয়োজন মেটাতে যে কাজ করছি তা হয়তো মিটে যাবে কিন্তু অমরত্ব লাভ হবে না।  আমরা নিজেদের জীবন যাপনের জন্য সামর্থ  অনুযায়ী নিবাস তৈরি  করি, বন্য প্রাণীদের নিশ্চিন্তে  জীবন রক্ষার জন্য  পরিকল্পিত বন তৈরী  করা প্রয়োজন।