Mar 31, 2023

সন্দীপ সাহু

তুমি, শুধু তুমি

তোমার শব্দ-রঙ আঁকবে ঝরণা!
নেয়ে নেয়ে আমি ছোঁব রামধনু,
ছোঁব আকাশ-মাটির প্রেমক্ষণ,
ছোঁব প্রজাপতির রাঙানো ডানা,
ছোঁব জোছনা মাখানো সূর্য-রঙ,
ছুঁতে ছুঁতে পৌঁছে যাবো তোমার কাছে।
অপেক্ষায় রয়েছো তুমি, শুধু তুমি।
তোমার সমস্ত রঙটুকু অগস্তমুনির
মতো নিঃশেষে পান করে,

কৃষ্ণ হয়ে উঠবো, অনন্ত প্রেমিক।

কুশল ভৌমিক

তিস্তা যেদিন ভাগ হয়ে যায়

তিস্তা যেদিন ভাগ হয়ে যায়
বাতাসের বিপরীতে দোল খায় টাঙ্গাইল ও হুগলী 
সীমান্তের মতো সম্পর্কগুলোও আটকে থাকে
বর্ডারলাইন বরাবর -কাঁটাতারে। 

গঙ্গার জল একই নিয়মে গড়িয়ে পড়ে পদ্মায়
একই বাতাসে দুলতে থাকে
যশোর রোডের শতবর্ষী বৃক্ষ 
রবীন্দ্র-নজরুল একই দ্যোতনায় দূর করে দেয়
যাবতীয় সেমিকোলন, হাইফেন 
কেবল ভিসা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে 
দিদাইয়ের চোখের জল 
রাষ্ট্রের ভেতর তৈরি করে নো-ম্যানস ল্যান্ড! 
ভদ্রেশ্বর সি,সি,চ্যাটার্জি রোডে ছড়িয়ে পড়া
বড়ো মামার দীর্ঘশ্বাস 
গঙ্গা পদ্মা যমুনা পেড়িয়ে আছড়ে পড়ে 
সদুল্যাপুর স্কুল মাঠে
আঁজলা ভরে সেই দীর্ঘশ্বাস মা তুলে দেয় 
দিদাইয়ের আঁচলে। 

সেই থেকে দিদাই জানে
তাঁর হৃৎপিন্ড বরাবর কেউ চালিয়েছে করাত 
এপার-ওপার 
মাঝখানে তিস্তার জল 
টকটকে লাল...

রুদ্র মোস্তফা

মুখোমুখি শুন্যতায়

মুখোমুখি শূন্যতায় রোদের হরতাল 
ছায়ার স্লোগানে ভিড়ে গেছে আমাদের নাগরিক মন।
তবু চোখ কাঁপে তোমার বারান্দার টানে 
বাসন্তী,ভেঙে ফেলো ভেজা খোঁপা 
ঠোঁটে মাখো জমানো বসন্তের লাল 
মনের ভূমি তলিয়ে যাক দৃষ্টির অনুপ্রাসে 
চোখে চোখে শুরু হোক ভূমিকম্প 
প্রতীক্ষার উপত্যকায় উড়িয়ে দাও হাসির পতাকা 
ঝুলবারান্দার আঙটায় ঝুলিয়ে দাও
অনেক কথার বিকেল  
আমি কংক্রিটের অনশন ভেঙে খুলে নেবো  
শরীরভাঙা রাতের সরস গল্প। 

শান্তনু ভট্টাচার্য

মার্চপাস্ট 

নিঃসঙ্গতাগুলো চোখের সামনে 
মার্চপাস্ট করে যাচ্ছেএগিয়ে যাচ্ছে - 
হলুদ অরণ্যের পাতায় পাতায় লেগে আছে আগুনের ক্রোধ 

হাতে বেহালা  
মন চাইছে বেজে উঠুক- ম‍্যাডি ওয়াটার ব্লুজ
কিন্তু ছড় সরছেনা কিছুতেই

এক একটা ক্ষণকালে
নদী... মেঘ...চায়ের দোকান 
লেখার কাগজ -ছেড়ে গেল আমায়,
রেখে গেল নির্বাসন

সেটাই চেটেপুটে গিলতে গিলতে
গোধূলি বেলায় বসি নিজের মুখোমুখি 

 খুব  ইচ্ছে -

একদিন দরজায় সমুদ্র এসে 
হাত ধরে নিয়ে যাবে দখিনা দিগন্তে
যেখানে শুধু পূবালী বাতাসের মার্চপাস্ট
...আর নির্বাসিত আমি

পৃথ্বীরাজ দেবনাথ

১. অধমর্ণ

জন্মের ঋণ পরিশোধ করব বলে পথে এসে দাঁড়াই,
এই পথে ছায়া নেই,
উত্তপ্ত নগ্ন রৌদ্রের বসেছে বাসর এই নির্জলা কান্তারে, 
এমনকি নিদ্রার কাছেও স্বপ্ন আর অবশিষ্ট নেই।

২. প্রত্যাশা

হঠাৎ কোন এক আর্দ্র সন্ধ্যায়,
কবোষ্ণ আলিঙ্গনে যিনি আমায় আবদ্ধ করবেন,
তিনিই জরা,নামান্তরে নিষাদ।
নিষাদের কোনদিন প্রতিষ্ঠা হয়নি,
তবুও যুগযুগান্তে নিষাদ রাত্রি জাগে,
শাশ্বত নক্ষত্রলোক চোখে নিয়ে।

৩. মৈত্রেয়

তৃষ্ণার্ত হয়ে বসে আছি,
রসের খোঁজ নেই।
রসাতল বেয়ে 
ডুবে যাও ভোগবতী ধারায়,
আমার সমাধি ফল্গুতে,
আমার অনন্ত উত্থান নৈরঞ্জনায়।
আমি তৃষ্ণার্ত হয়ে বসে আছি,
বোধিসত্ত্ব অভিলাষে।

৪. অনুসন্ধান

গতিময় মানুষ কি নিজেকে খুঁজেছে
ছায়ায়, স্বপ্নে বা রমণে?
ভাবনার পরৎ সব খুলে ফেলে
মানুষ কি নিজেকে খুঁজেছে
নির্জন নগ্নতায়?
আমি জানি যে বাস্তবতার
বহির্ভাগেই রয়েছে দীপালিকার আলো,
কারুকার্য, মৈথুন ভাস্কর্য
  আর গর্ভগৃহে
যিনি শূন্য, তিনিই ধারণ করে রেখেছেন
শূন্যময়তার কৃষ্ণগর্ভ মেঘ।
ক্রমশ তিনিই ঝরে পড়বেন দুর্বার গতিতে
আত্মবিগ্রহের বেদীতে, ধ্যানে, ধ্যানবিন্দুর মগ্ন চূড়ায়।

অদিতি তুলি

ভ্রুম

অক্ষিপটে কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়
ইট পাথরের চার দেয়ালের এই ঘরটাকে একটা প্রাগৈতিহাসিক নড়বড়ে দোতালা বাড়ি মনে হয়
আঁচিলে উত্তরের হাওয়ায় দোলে গৃহকর্ত্রীর জলরঙা শাড়ি 
প্রশস্ত রোয়াক বাড়ী
পরিচ্ছন্ন একটা রন্ধনশালা 
শিমুল তলায় রান্নাবাটি পুতুল খেলার ঘর
তুলসীতলায় মাটির প্রদীপ 
শানবাঁধানো সবুজ জলের ঘাট
হিজলতলায় কানাঁকুয়োর অদলবদল ডাক
ধবধবে সাদা সিথাঁন
মায়া মায়া এক চিরচেনা মুখের অবয়ব
যেতে যেতে হাওয়ায় মিলায় 
চোখের তারায় অব্যক্ত দৃশ্যপট
তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের অস্ফুট মায়াডাক 
কপালের ভাজে প্রখর রোদের তাপ
উষ্ণতা কেবলই ছুঁতে চায় সেই শ্যামল শীতল হাত

তীব্র জ্বরের মরশুমে
পুড়ে যায় শরীর 
পুড়ে যায় অভুক্ত হৃদয় 
পুড়ে যায় সমস্ত দিনলিপি 

অক্ষিপটে কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়
কেটে গেলে ভ্রুম
ইট পাথরের একটা চার দেয়াল জেগে রয়!! 

(তেসরা মার্চ তেইশ)

নমিতা সরকার

জীবন জলের নদী 

যে নদীর তীরে আত্মার ভীড় জমাতে অধীর আগ্রহে, পাড়ের সুডৌল মাটিগুলো দু'হাতে আবেশে আবেগে জড়িয়ে নিতে জীবন জলের পিপাসায়...

সে নদী তোমার আজ বড় অচেনা, চেনা সেই দুই পাড়ের শিহরিত কাশফুলের দোলা যেনো বিষকাটালির গাছে ছড়িয়ে আছে তোমার চোখের বালিতে...

কেনো যে আর নদীর বুকে ভীড় জমাও না, জল তরঙ্গে মেতে ওঠো না, নেচে ওঠো না, হেসেও ওঠো না জোৎস্নার আলোয়।

অথচ নদীর কূলে মাথা রেখে কত রাত কত প্রহর কেটে ভোর হতো জল তরঙ্গের খেলায়...

নদী তোমার আত্মার গন্ধ নিয়ে অপেক্ষা করে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, নদীর বুকে কবে আবার ভীড় জমাবে ভীষণ আবেশে, ভালোবেসে নদীর জলে ভেজাবে আবার কবে তোমার প্রেমের হাত।

কাজি নিনারা বেগম

বিষন্নতা 

বিষন্নতায় কাটিয়ে উঠতে গিয়ে আবারও থমকে গেলাম। ভেবে ছিলাম একটু স্বস্তির  নিঃশ্বাস   নেব।  না যূগের আবর্তিত সব হারানো সুর। স্বপ্নিল আশায় বন্ধ দূচোখ উলঙ্গ পৃথিবীতে আমি পাগল না বৈরাগী না সন্ন্যাসী। ভাবনার খুঁজি তাকে ঐ ধরাধামে মহাকাল কোথায়। আকাশে আজ শৈল্পিক রঙের সমাহিত সাদা নীলে কূজ্জটিকা। আধ ফালি চাঁদ পাশাপাশি শুক্র গ্রহের মিলন। কবির হাজারো কবিতারা ছন্দে ছন্দে প্রচলিত মুল কাব্যের যবনিকাপাত।

অভিজিৎ পাল

তুই যে পুরুষ

তুই যে পুরুষ -
  বুকের ব্যাথা বুকেই রাখিস
  মুখ ফুটে তুই বলিস নে , 
  হৃদয় ভেঙে চূর্ণ হলেও
  উফ্টুকো তুই করিস নে । 

তুই যে পুরুষ -
  সবার দায় মাথায় তুলে
  পেছন ফেরে তুই তাকাস নে , 
  সবার মনের খেয়াল রাখিস
  নিজের দিকে তুই দেখিস নে। 

তুই যে পুরুষ -
  সংসারের ফেনিল উচ্ছ্বাস দেখে
  নেশায় বুদ তুই থাকিস নে , 
  মরু নেশায় ছুটতে ছুটতে
  নোনা জলের খেয়াল তুই রাখিস নে । 

তুই যে পুরুষ -
  ঝিনুক থেকে মুক্তো বিলিয়ে
  আফ্সোসটুকু তুই করিস নে, 
  ভেঙে ভেঙে তুই গড়ে যা
  মুখ খুলে কাউকে যেন বলিস নে ।

ঝিমলি আচার্য

 নদী মুক্তির সন্ধানে 

 ক্লান্ত নিরীহ নির্বাক আমি
খুঁজি  মুক্তির নিশানা ।
তোমার চরণ আমার বুকে
তাইতো একটু সাহস জাগে  
তুমি যদি নদী হতে --
আমি যেতাম ঘুমের দেশে ।
ক্ষুদ্র মাঝি ক্ষমা প্রার্থী 
এত- মহৎ গুণ আমার আছে নাকি ?
নিরলস ভালবাসায় গুছিয়ে নিয়েছ 
বৃহৎ সংসার ।
স্নেহের আলিঙ্গনে ডুবিয়ে রেখেছ 
কত প্রাণ কত উদ্ভিদ ।
আকাশ বাতাস ভূমিপৃষ্ঠে--
জীব জগৎ তোমার মায়ায় 
             "জীবিত"।
অনাহারের মুখে আহার তুলেছ 
পলি জমি সাজিয়ে ।
প্রতিবাদ করেছো স্বগৌরবে 
নিরব ভূমিকা নিয়ে ।
 কখনো অপরাধীর 
চিহ্ন রেখেছো যত্ন করে 
তোমার তীরের ধারে ।
অভিমানে রাগে ফুলে ফেঁপে  
উঠে, কত প্রাণ কত ঘর বাড়ি 
নিংড়ে নিয়েছ তোমার গর্ভে ।
তোমার প্রতিবাদের ভাষা 
বোঝতে আমরা অপারগ ।
মা -- হওয়া বড়ই কঠিন 
যে " মা " সেই পারে ।
নির্বোধ আমরা করছি প্রবঞ্জনা
 "প্রশ্রয় আজ হারিকাষ্ঠে  "
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার স্পর্শ--
মা তো আছেই পাশে ।
ভরসার হাত মাথায় নিয়ে 
চঞ্চল পৃথিবী অবিরাম চলে ।
সহিষ্ণুতার গ্লানি ভেঙ্গে
মায়ের আঁচল ছিন্ন করে--
যেও নাকো তুমি ঘুমের দেশে ,
আমি থাকি তোমার সন্তান হয়ে  ।

শুভ্ৰা সাহা

বসন্ত স্বপ্ন

এই বসন্তে একটি রঙিন স্বপ্ন-
বার বার উঁকি দেয়- আড়াল থেকে,
গহন আড়াল-- কোনদিন যা --
চাপাও পড়েছিল না,,
ভাবনায়ও আসেনি সে মোহ ।

 নতুন উৎপত্তিস্থলটা এখন
 অনেক অতি আধুনিক,
 আধুনিকতা সৌখিনতাকেও
 যেন ছাড়িয়ে, তাড়িয়ে,, দুমড়ে মুচড়ে ,
 একাকার করে তোলে।

 ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও অঙ্কুরোদগম. হয়।
 কিন্তু তার মধ্যে জল ঢাললে-
 সর্বনাশ !  ফিকে হয়ে যাবে সব ৱঙ,
 হয়তো জৌলুস বিহীন হয়ে -
 তাৱ গর্ভপাত ঘটবে।

 এ যেন আবিৱ রঙের ফানুস,
 রাঙিয়ে দিলে চেহারাটা কেমন-
 অন্যরকম --সৌখিন ,
 জল ঢাললে -মেকঅ্যাপ- ধুয়ে মুছে সাফ।         
আবার সস্থানে বিরাজ ।

 তবুও বসন্ত রঙিন তো করে মন,
হোক না মরীচিকা --
যাক না ধুয়ে আবিৱ প্ৰলেপ,
তবুও দুইয়েৱ মাঝখানটা
এঁকে দেয় -রঙিন স্বপ্নের ঠিকানা।

অলকা গোস্বামী

ঘুম

যত্নে আহ্লাদে কাছে ডাকি,
চোখ ভরে.... কই আসে না
সে তো।
অনেক সাধতে হয় 
চোখ দুটি 
বুজে পড়ে থাকা রাতভর ।
কত কত ইচ্ছের সমাহারে
স্বপ্ন গড়ে
নিয়ে যায় হাত ধরে
গলি ঘুঁজি , নদী পারে।
কখনও আমার ছোট্ট হাত ধরে
 শৈশব 
পৌছে দেয় বাড়ীর দোর গোড়ায় ।
ভোরের আলোয় কুয়াশার মত
মিলিয়ে যায় আদর ঝরা রাত।

কোনো কোনো রাত 
ভীষন অন্ধকার
কারচুপি, লড়াই,
জন জঙ্গল, ভীড়....।

 কৌরব ভিড়ে হারিয়ে
 নিজেকে চিনতে পারি না।
ঘুম ভেঙে ত্রস্ত আমি,
প্রখর রোদে পলাশ রং মেখে, 
 খুঁজে ফিরি পাণ্ডব নীড়।

সঞ্জয় দত্ত

১.বিবাহ

কেউর বিয়ে হলে আমার খুব মায়া হয়,
তাকে ইচ্ছে করে ঠেলে দেওয়া হয় আগুনের মুখোমুখি।

২. বন্ধন

জীবনের সাথে অংক করে দেখি,
সমাধানের হাত বাড়িয়েছেন মা আর ফলাফল এসেছে বাবা।

লিটন শব্দকর

বাঁশি 

মায়ের জন্য মন কেমন করা রোদ, 
সারাদিন ধরে ছায়াতে বেজে যায় একটি বাঁশি
              কিশোরের মুখের আয়নাআলোয়
              আগামীর ছবি 
যতটুকু দারিদ্রতা 
        গৃহস্থবাড়ির দাওয়ায় ভিজেছিল এককালে 
        সেই ভিজে বিদঘুটে গন্ধ 
        অ্যালার্মের সাথে সাথে অভিনব রূপ নেয়
প্রতিদিন নতুন করে ভুলে যাই শৈশব, কৈশোর
বাঁশি আর যাপন

রমা চন্দ্র

সংলাপ

এখন রাত্রি এগারোটা-
শুয়ে পড়েছে কোলাহল,
জনপথ জনবিরল
মালবাহী যান চলছে অবিরল...
মায়াবী এক স্বপ্ন হরিণের 
নিঃশব্দ আনাগোনা-
নিশাচর শিকারীর ধূর্ত পদচারণা...
নিয়ন আলোর নিচে-
পাহাড়াদার সারমেয়র ঘুম,
দূরের ক্যাফেতে- 
চীনি লাইটের আলোয় উৎসবের ধূম
আধপাগলা এক পথিক নির্ঘুম-
একাকী পথচলা...
বাতাসের সাথে কথা বলা
সুর হয়ে ফেরে দখিনা বাতাসে
কোন এক খোলা বাতায়নের আশে
যেথা কস্তুরির সুগন্ধ ভাসে...!
বন্ধ অলিন্দ পথিকের মনে এনে দেয়-
শ্মশানের চন্দনের গন্ধ
কবরের গোলাপের বিলাপ...
কফিনের উপর ঝরে পড়া 
বসন্ত ফুলের কিছু সংলাপ...
এমন ভাবেই পথিক আর ঘড়ির কাঁটা-
ভাঙে গহীন রাতের নিকষ আঁধারটা...!

অভিজিৎ দত্ত

নারী 

আমি নারী 
সব পারি 
তবে মানুষরূপী পশুদের কাছে 
কেন আমরা হারি? 

দেখোনি মা দুর্গার দানবদলনীরূপ 
পড়োনি দশভুজা হয়ে উঠার কাহিনী 
তবে কেন নিজেকে ভাবো অসহায়  ? 
চাই শুধু আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক হওয়া
দেখবে কখন যেন বদলে গেছে পৃথিবী টা।

নারী তোমাকে শ্রদ্ধা করি 
তোমার থেকেই সৃষ্টি সকলেরি 
তোমাকে যারা করে হেয়,অমর্যদা
বৃথা তাদের জন্ম নেওয়া ।
যেখানে তুমি পেয়েছো সম্মান আর শ্রদ্ধা
সেই সমাজের হয়েছে অগ্রগতি 
পেয়েছে সকলের ই প্রশংসা।

তবে আর দেরী কেন নারী?
এখনই উঠে দাঁড়াও 
সব বাধা ,বিপদকে হারিয়ে 
পৃথিবী কে বদলাও ।

বিধর্না মজুমদার

 একবিঘা জমি

তোমার জমির মালিক হতে চাই 
একবিঘা জমির!
একবিঘা জমি আমার স্বপ্ন, 
আমার ভালোবাসার প্রতীক।।

কল্যাণী ভট্টাচার্য্য

আমি সেই মেয়ে

আমি সেই মেয়ে
যে রাত জেগে বসে থাকে
শুধু স্বপ্ন দেখে আর
কবিতা লেখার বায়না ধরে। 

আমি সেই মেয়ে
যার মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা প্রতিবাদ
উগরে দিতে চায় কবিতার মাঝে
কিন্তু আর পারে না। 

আমি সেই মেয়ে
যে কবিতার মাঝে ভাবান্তর কে
প্রকাশ করতে চায়
কিন্তু হয়ে উঠে না। 

হ্যাঁ
আমি সেই মেয়ে
যে নাকি কবিতা লেখার জন্য
বার বার হোঁচট খায়
আবার উঠে দাঁড়ায়। 

তবুও
কবিতা লেখার চেষ্টা করে
আবার পড়বার ও সাহস পায়। 

কবিতা আমার প্রাণের প্রাণ
কবিতা আমার বিশ্বাস। 
কবিতা আমার হৃদয় ভরা
আমার আনন্দ দান। 
কবিতার মাঝে পেয়ে থাকি আমি আমারই স্থান।

শুভ্রা সাহা

বিজয় লক্ষ্মী নারী

নিতাই আজ প্রায় দেড় মাস পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছে ।করোণা নেগেটিভ আসার পরও ওকে , আরো অনেক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল । কারণ ওর লাঞ্চে ইনফেকশন ধরা পড়েছে ।এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্রাম নিতে হবে। কিন্তু এই অভাবের সংসারে কিভাবে বিশ্রাম নেবে নিতাই?    নিতাই ভাবে --হয়তো আমাকে বাঁচাতে দেনার দায় এক গলা হয়ে আছে।   তবুও রক্ষা আমার একার হয়েছে। ঘরের আর কারও হয়নি । নতুবা  সব বরবাদ হয়ে যেত।  ভাগ্যিস সেদিন বাজারে করোনা টেস্ট করিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমার তো কোন উপসর্গ ছিল না। সামান্য একটু গলা ব্যথা ছিল। তাতেই বিকেলে খবর এলো আমি পজেটিভ।  হাসপাতাল থেকে তো ঔষধ , পত্র লিখে ছেড়ে দিয়েছিল.। বলেছিল কিছু লাগবেনা, বাড়িতে গিয়ে ওষুধ গুলো খাবেন , আর আলাদা ঘরে থাকবেন। কারো সঙ্গে মিশবেন না । সব আলাদা ব্যাবস্থা রাখবেন। কিন্তু আমার ঘরে বৃদ্ধ মা-বাবা বউ  চার বছরের বাচ্চা । তাই ডাক্তারদের কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করে হাসপাতালে রয়ে গেলাম। কারণ আমার এই ছোট্ট বাড়িতে আলাদা থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। 

হাসপাতালে থেকেই   ঘরের  লোকজনের দুর্দশার কথা চিন্তা করে  সারাক্ষণ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে  নিতাই। টাকা পয়সাও  ছিল না তেমন কিছু। সঙ্গে কয়েকশো টাকা ছিল, সেটা রমনী বাবুর হাতে বাড়িতে পাঠিয়েছে। এতে আর কদিন  গেছে   ?  যদিও হাসপাতাল থেকে শুনেছে দীপ্তি  ওর ছোট্ট, স্টেশনারি দোকানটা  খুলে বসেছে।  নিতাই এর ধারণা এতদিনে হয়তো বোকা দীপ্তি দোকানটার বারোটা বাজিয়ে  লাটে তুলে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত, সংসার চালাতে নিজেকে হয়তো দিনমজুরের কাজ করতে হবে। 

কতই না সাত পাঁচ ভেবে চলছে নিতাই। এতদিনে হয়তো দীপ্তি নিজের গলার চেইন, কানের দুল, সব গয়নাই বিক্রি করে দিয়েছ। মনে মনে এসব কথা ভাবতে গিয়ে ওর পাশে অটোতে বসা দীপ্তির গলার দিকে তাকায় ।দীপ্ত ওকে আনতে গিয়েছিল হাসপাতাল থেকে । নিতাইদেখে, না - চেনটা তো গলায়ই আছে! কেমন চকচক করছে! কানের দুল আছে ,হাতের বালা টাও তো রয়েছে!  দীপ্তি কে দেখলে তো মনে হয়না ও অভাবে আছে ! কত টাকা দেনা করেছ কে জানে  ! 

দীপ্তিও যেন অনেকদিন পর আজএকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এতদিনে মানুষটাকে ঘরে ফেরাতে পেরেছে । কিনা গেছে ওদের উপর দিয়ে এই দেড় মাস । সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎই নিতাই এর পাশের দোকানের রমণী বাবু  এসে খবর দেয়, নিতাই এর করোণা হয়েছে। হাসপাতালে  ভর্তি  হয়েছে। এগুলো আমাকে দিয়েছে বাড়িতে পৌঁছে দেবার জন্য। এই বলে, কয়েক শ' টাকা দোকানের চাবি আর ওর বাইসাইকেল টা বাড়িতে দিয়ে যায়। তারপর   থেকেই তো শুরু দীপ্তির সংগ্রাম । কিভাবে সংসার চালাবে। বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি ,ছোট্ট একটা বাচ্চা । দোকান বন্ধ ,রোজগার নেই । খাবারের ব্যবস্থা নেই । অন্যদিকে স্বামী হাসপাতালে। কি করবে দীপ্তি ?. তাছাড়া দীপ্তি সাদামাটা আটপৌরে মেয়ে । লেখাপড়া ক্লাস এইট পর্যন্ত ।, তেমন কোনো চালাকচতুরও নয়। তবুও পাড়ার ক্লাব থেকে কিছু সাহায্য করেছে। কিন্তু সেটাতো সাময়িক। হাসপাতালের খরচ আছে । সবকিছু হাসপাতাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না । দীপ্তি যেন অথৈ জলে পড়ে । 

    ওদের পাশের বাড়িতেই থাকে মহিলা মোর্চার সদস্যা রীতা। ওর স্বামী হাসপাতালে আছে জানতে পেরে  , খবর নিতে বাড়িতে এসেই  দীপ্তি র করুন কাহিনী শুনে ওকে সাহস দেয় , ওকে সহায়তা করার  আশ্বাসও দেয়। 

রীতার পরামর্শমতো একদিন অভাবী দীপ্তি নিজের  স্বামীর ছোট্ট স্টেশনারি দোকানটি খুলে বসে। দোকানে  জিনিসপত্র  বিশেষ কিছুনেই । দোকানে  বসেই দীপ্তি বুঝতে পারেে, কেন ওদের এতদিন এত অভাব অনটনে দিন কাটাতেে হয়েছে। নিজেই   ধীরে ধীরে মালপত্র দেখে দেখে  দাম দেখে নেয় ও বিক্রি করতে শুরু করে দেয়।  রীতা   ও মহিলা মোর্চার কয়েকজনে মিলে ওকে কিছু টাকা ধার দেয়  ,দোকানের  মাল পত্র কেনার জন্য।  ধীরে ধীরে দীপ্তি জড়তা কাটিয়ে  নিজের মধ্যে  শক্তি সঞ্চয় করে তোলে। দীপ্তির দোকান ফুলে-ফেঁপে উঠে । মালপত্রে দোকান. ঠাঁসা ঠাঁসি । সকাল ৮ টা থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত বাজার খোলা। দীপ্তির এখন আর দোকান থেকে  মুখ তোলার উপায় নেই । পাড়ার মহিলারা বেশিরভাগই দীপ্তির দোকানের কাস্টমার । সঙ্গে অন্যান্যরা তো আছেই। এই দেড় মাসেই দীপ্তি একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে। নিতাইয়ের ছোট্ট দোকানটি আজ জিনিস পত্রে ঠাঁসা হয়ে বাজারের মধ্যে সেরা স্টেশনারি দোকান হয়ে উঠে । 

  হঠাৎই ভাবনার ছেদ পড়ে । অটো এসে বাড়ির দরজায় দাঁড়ায়। ঘর থেকে অটোর আওয়াজ শুনে বৃদ্ধ মা-বাবা আর ওর ছেলে বাইরে বের হয়ে আসে । নিতাই এতদিন পরে বাড়িতে ঢুকে  দেখে বাড়িঘর বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন  । 

তাছাড়া ঘরে কিছু নতুন আসবারপত্র ও এসেছে। নিতাই দীপ্তিকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই নিতাইয়ের মা বলে ---এ সব বৌমার জন্য হয়েছে । বৌমা আমাদের ঘরের লক্ষী । আর ও তোর দোকান কে খুব ভালোভাবে চালিয়েছে। এমন সময়  রীতা ও মোর্চার দিদিরা এসে উপস্থিত হয়।  রীতা নিতাইকে বলে  ---আপনাকে দেখতে এলাম। আর জানাতে এলাম  ,দীপ্তি আজ বিজয় লক্ষ্মী নারী । ওকে আমরা  ৮ই মার্চ মহিলা মঞ্চে সম্বর্ধনা দেবো।

দীপু দেবনাথ

স্বার্থপর কবি  

আমি একজন স্বার্থপর কবি,                              
কবিতার লেখা ছাড়া কিছুই বুঝতে চায় না        
কিন্তু, আমার লেখার মূলে রয়েছে                               
যারা আমায় স্বার্থপর বলেছে                                 
আমি সেই ডানা কাটা পাখি                                  
অন্যের ডানা ধার করে
উড়তে চাই আপন সুখে
আমি একজন স্বার্থপর কবি                      
শূন্যতাকে ভরাটের স্বার্থে
পারি দিয়েছি জন সমুদ্রে 
নীতিগত ভাবে আমরা কেউ সত নয়,                        
রয়েছে তাই স্বার্থের ছটা
আমারও কবিতায়
প্রদীপের ন্যায় দগ্ধমান কবি কথা,
পরন্তু বিকেল ফুরোলেই  জাগে কবি চেতনা                 
মনের ভাষা কবিতায় ফুটে,
লোকের মুখে সবেই যেন স্বার্থের ছটা