১. অধমর্ণ
জন্মের ঋণ পরিশোধ করব বলে পথে এসে দাঁড়াই,
এই পথে ছায়া নেই,
উত্তপ্ত নগ্ন রৌদ্রের বসেছে বাসর এই নির্জলা কান্তারে,
এমনকি নিদ্রার কাছেও স্বপ্ন আর অবশিষ্ট নেই।
২. প্রত্যাশা
হঠাৎ কোন এক আর্দ্র সন্ধ্যায়,
কবোষ্ণ আলিঙ্গনে যিনি আমায় আবদ্ধ করবেন,
তিনিই জরা,নামান্তরে নিষাদ।
নিষাদের কোনদিন প্রতিষ্ঠা হয়নি,
তবুও যুগযুগান্তে নিষাদ রাত্রি জাগে,
শাশ্বত নক্ষত্রলোক চোখে নিয়ে।
৩. মৈত্রেয়
তৃষ্ণার্ত হয়ে বসে আছি,
রসের খোঁজ নেই।
রসাতল বেয়ে
ডুবে যাও ভোগবতী ধারায়,
আমার সমাধি ফল্গুতে,
আমার অনন্ত উত্থান নৈরঞ্জনায়।
আমি তৃষ্ণার্ত হয়ে বসে আছি,
বোধিসত্ত্ব অভিলাষে।
৪. অনুসন্ধান
গতিময় মানুষ কি নিজেকে খুঁজেছে
ছায়ায়, স্বপ্নে বা রমণে?
ভাবনার পরৎ সব খুলে ফেলে
মানুষ কি নিজেকে খুঁজেছে
নির্জন নগ্নতায়?
আমি জানি যে বাস্তবতার
বহির্ভাগেই রয়েছে দীপালিকার আলো,
কারুকার্য, মৈথুন ভাস্কর্য
আর গর্ভগৃহে
যিনি শূন্য, তিনিই ধারণ করে রেখেছেন
শূন্যময়তার কৃষ্ণগর্ভ মেঘ।
ক্রমশ তিনিই ঝরে পড়বেন দুর্বার গতিতে
আত্মবিগ্রহের বেদীতে, ধ্যানে, ধ্যানবিন্দুর মগ্ন চূড়ায়।