কথামৃত
থামতে শেখোনি!
এই ছিল তোমার শেষ আপ্তবাক্য।
জবাব দিতে পারিনি।
সে যে বোহেমিয়ান, থামতে শেখেনি! স্রোতে প্রতিস্রোতে বহে চলেছে সে--
সাগর পেরিয়ে দিগন্ত ছুঁতে চায়!
অথচ তুমি তাকে চিনতে পারলে না।
চিনতে পারলে না তার জীবন আকরিকের ভাস্কর্য!
এমনকি জানার চেষ্টাটুকুও করলে না তোমার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে!
তুমি বারবার বলেছিলে,
সে আত্মশ্লাঘাতে ভরপুর।
না--, তোমার বিচ্ছিন্ন ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল!
তার অসম্পূর্ণ সত্তাটা তোমারই অববাহিকার ঘাটে পাবে কোজাগরী পূর্ণতা,
আর সেই ঘোলাটে স্বপ্নেই ছিল সে আবেশিত!
নিবিড় নিলয় অলিন্দে বেড়ে যায় তার রক্তপ্রবাহ তোমার অতলান্তিক আনকোরা আকুলিবিকুলি স্পর্শে, বার--বার।
দীক্ষিত করেছিলে ভোরের মন্ত্রে,
বলেছিলে কবিতায় ডুবে যেতে,
যে কবিতার পরতে পরতে খোদাই আছে খাজুরাহোর কথামৃত।
তবেই প্রতিধ্বনিত হবে অনুচ্চারিত শব্দে পড়ন্ত হৃদয়ের জীবন্ত জিজ্ঞাসা!
জানো, বড্ড জানতে ইচ্ছে করে, তুমি কেমন আছো?
বই পড়ছো ?
সঞ্চয়িতার মলাট ছিঁড়ে অস্থিকঙ্কাল বেরিয়ে গেছে,
তবুও বারবার তাকেই পড়ছো!
পুরোনো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন করে কিনে আনো
চোরাবালির কথামৃত!