Nov 29, 2022

অপাংশু দেবনাথ

ষট্‌পদী-এক

আজন্ম বুকে চাষ করেছি স্বপ্ন কিংবা ভুল,
সারা জীবন ধরে জেনেছি, আমিই প্রথম ফুল।

হেঁটে যাও বলে হাওয়ায় ওড়ে সে আঁচল,
এই জীবন বুঝি শেখায়, ভালোবাসা সমর্পণ।

স্নান সেরে ওঠে এখনো কি পোড়াও শরীর?
বুকে চাষ করি বারোমাস তোমার অসুখ!

তৈমুর খান

পরজন্ম

পথ গুটিয়ে থাকুক 
গুটিয়ে থাকুক পথ 
তস্তরিতে পাণ্ডুবর্ণ আলো 
আবছা ভবিষ্যৎ।
 
মুঠোয় জোনাক রাখি 
জোনাক রাখি মুঠোয় 
সঞ্চয় এটুকুই 
পিপাসা থাকুক কলসির ফুটোয়।
 
দুয়ার আগলায় চোখ 
চোখ আগলায় দুয়ার 
নিঃস্ব ইচ্ছাগুলি বাঁচে 
বাঁচিয়ে রাখে খোঁয়াড়।
 
জলছবিতে সূর্য 
সূর্য জলছবিতে 
পরজন্ম এঁকে রাখি 
নিসর্গ নিশিতে।

সৌমিত বসু

মায়াবৌ - ১৩১

ছাই উড়ছে। চোখের ওপর দিয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো ছাই উড়ে যাচ্ছে বাতাসের সীমানা পেরিয়ে। আমি ভাবি ,কোথাও হয়তো বা লেগেছে আগুন। কারো পুড়ে যাওয়া আসবাব ,বিছানাপত্র হু -হু করে ছড়িয়ে পড়ছে বুঝি বাতাসের সাথে।

ইস্কুলে বেরোবো ,আবার সামনে সেই ছাই। আমি ভাবি, কারোর জীবনে বা লেগেছে আগুন। সংসার ভেঙে ভেঙে চতুর্দিকে। তারই  ছাই ওড়ে দিনের বাতাসে।

বিকেলে পার্কে দেখি মুখচোখ সাদা হয়ে ছাইয়ের প্রলেপ। এবার ভেবেছি ,কারোর কবিতাখাতা হয়তোবা আগুনে পুড়ছে।হয়তোবা পুড়ে যাচ্ছে হারমোনিয়াম।

রাতে স্বপ্নের ভেতর দেখি ছাই ওড়ে। আলোটা জ্বালাই।ছাইগুলো মেখে নিই দু-হাতে আঙুলে।ভালো করে দেখি ,ও মেয়ে ,এতো তোর শরীর পোড়া ছাই।

কুশল ভৌমিক

মানুষ কে উড়তে দিন 

মানুষ কে উড়তে দিন
কেননা প্রতিটি মানুষ ভেতরে ভেতরে
একেকটা পাখি
পরিযায়ী মেঘের মতো মানুষ ভেসে বেড়াতে চায় আত্মরচিত সুনীল আকাশে 
দোহাই আপনাদের, এমন অদৃশ্য শেকলে
মানুষকে বাঁধবেন না
তাকে দিন উড়বার স্বাধীনতা। 
একবার, অন্তত একবার,মানুষ বুঝতে শিখুক -
এইসব কাঁটাতার, ব্যারিকেড, সংবিধান
নরেন্দ্র -ট্রাম্প-ওসামাদের বাইরেও
 মানুষের একটা আকাশ আছে,
যে আকাশটা শুধুই মানুষের। 

মানুষ কে উড়তে দিন
মানুষ বিশ্বাস করুক -
উন্মুক্ত আকাশটাই মানুষের মাতৃভূমি।

অনিক রায়

শ্মশানের যৌবন

হ্যাঁ ফিরেছে শ্মশানের কাঙখিত যৌবন, 
শ্মশান সাজছে নব আভরণ।

সাজাও সাজাও নদীর পাড়ে ফুলশয্যার খাট, 
বয়সের বাধা নেই কাকে যে টেনে নেবে- 
পেতে যৌবনের স্বাদ!
নতুন নাটে নাম হয় বসে চাঁদের হাট। 

হ্যাঁ শ্মশানের যৌবন ফিরেছে, আগুনে  ঘেরা চাদরে। 
শ্মশানের নাকি অহংকার হয়েছে, শ্যামা মা-র আদরে- শুনেছি যার দিকে তাকায় শ্মশান, 
তাকেই মোহিত করে।
যৌবনের অস্তি রাখে শেষ কাঠের কোটরে, 
তোমরা বাজাও খোল করতাল।
 চর্চা হোক শ্মশানের যৌবনের, 
নীরব নিশিত জ্বালাও প্রদীপ-
একে একে সঙ্গী হবো যৌবনের, প্রতিটি ক্ষণের।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

হাসি মোহন

তার গোলাপ ঠোঁটের হাসিতে
আনন্দ ছড়ায় বাতাস,
পলাশ রাঙা কপোল আভায়
রঞ্জিত হয় আকাশ,

তার বকুলচোখের তীর চাহনি
আদর বোলায় মনে,
গালে হাত দিয়ে ভাবছি তা'ই
বুঁজাচোখে আনমনে।

দাঁতপড়া মুখে ফ্যালফ্যালিয়ে
তখন বুড়ি দিল দেখা
"রসে মজেছ দাদুভাই!" -বলে
দিল মোরে ঝটকা,

"যাও সরে চামড়াকুচোঁ
দাঁতপড়া বুড়ি",
তেড়েমেড়ে বুড়ি বলে
"এককালে বুড়িও ছিল ছুড়ি,

এককালে এই রূপবাহারে
মজত রাজ্যের ছোড়া,
এই রূপবাহারে মুগ্ধচোখে
তোর দাদু হত আত্মহারা,

এখন আমার দিন গেল
মনে কি ধরবে তোর?
আন না এক রূপসুন্দরী
চামড়াকুঁচ পর্যন্ত কর ঘর।"

এই কি তবে রূপের মোহন
কচুরজলের মত!
বুড়ি ভাঙেনি স্বপ্ন,সত্য দেখালো
দিনের আলোর মত।

সুমিতা বর্ধন

ভিন্নতা

মনে হয় নিরুত্তাপ, নির্জীব একটি মানুষ,
উত্তাপের মাত্রা  কবেই শূন্যের কোঠায়, 
দিন যায়, সময় বয়ে  যায়
সেই গতিতে  কোন ফারাক  পড়ে না,
পার্থিব গতিতেও যে অবিশ্বাস,
চলার পথে কেমন একটা ধোঁয়াশা অন্ধকার,
সেই অন্ধকারের গতি পথ ধরেই
নির্জীব, নিরুত্তাপ মানুষের চলা,
হঠাৎ খেয়ালের বশে  দৃষ্টি  যায়
অন্ধকারের আকাশ ফুঁড়ে 
ভোরের  সূর্য উঠে,
কিন্তু ঐ সূর্যের তাপ ও যে 
বড়োই  শীতল ঠেকে।

রুদ্র মোস্তফা

প্রথা বিলুপ্তির পরের প্রথা 

ক্রীতদাস পিতার নয়নে কেউ পুঁতে ছিলো হিরে,
আভিজাত্যের আশায় রোজ সে চোখ খনন করছি...
অনেক বিপ্লব বয়ে গেছে কাগজের বুক চিরে  
আমরা তবু খনির মজুর জন্ম দিচ্ছি অভ্যাসের আঁতুড়ঘরে।
ভুলে যাচ্ছি কে কার জনক!
চোখের সুরঙ্গ ধরে খুঁজছি ভালো থাকার সকল শর্ত
খুঁড়ে চলছি পুঁজির গোপন গর্ত! 
রূপকথার রঙিন আদর ভুলিয়ে দিচ্ছে সমাজ
কথার রূপে আমরা হারাচ্ছি কণ্ঠের নির্মল স্বাধীনতা 
পুত্রের চোখ ফসকে পালাচ্ছে পিতার কোলাজ 
প্রতিদিন ভুলে যাচ্ছি পূর্বের পরাধীনতা। 
কেউ বলেনি হিরায় বিষ থাকে, 
কখনো কেউ প্রশ্ন করেনি, কে চড়ালো তার মূল্য? 
খনি ভেবে খুঁড়ে চলছো যাকে 
সে যে তোমার-ই পিতা,তুমি যে তারই সমতুল্য। 
পাথর গড়িয়েছে অনেক 
না দেখে মায়ের মুখ,দেখছি নয়া সাম্রাজ্যের ঘোমটা 
নিজেই বিক্রি করে নিজের মাথা 
আমরাই টিকিয়ে রাখছি দাস প্রথা— প্রথা বিলুপ্তির পরে।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

জেব্রার থিওরোম  


জেব্রার সাদা কালো দাগে হাত বুলিয়ে কেউ কি সমাধান করতে পারে জ্যামিতির থিওরোম? চিড়িয়াখানা থেকে বেরিয়ে এসেছে যে স্কুল, সেখানে আমার সেকেন্ডারীর ক্লাসটা ঝোলানো আছে ধার করা জামার ছেঁড়া পকেটে।

টানটান টাকার-সেতার বাজে ফেমাস স্কুলে। শহরে শহরে শিক্ষকদিবসের ইভিনিং শো-তে আজকাল খুব ভীড়। আমার কি আর ম্যাট্রিক, থুরি, সেকেন্ডারীটা পাশ করা হলো না? আকাশ থেকে উড়ে আসে বইএর বিচিত্র মলাট; কাকের পালকেরা লেপ্টে থাকে ল্যাপটপের সৌখীন ঘাসে। জীবনের ক্যালেন্ডার আর পরীক্ষার সিলেবাসে কোন তালমিল আছে কি? তবুও যানজটে দিশেহারা আমি পৌঁছে যাই প্রেইরী ঘাসের জঙ্গলে। সেখানে ফিস্‌ দেয়া সম্ভ্রান্ত ছেলেমেয়েরা ঘাসের বেলুন ফোলাচ্ছে। জেব্রার জামা পরে শিক্ষকেরা ঘুরে ঘুরে ঘাস খাচ্ছে।

বিজ্ঞাপনের সাইরেণ বাজলে তথাকথিত শিক্ষা পর্ষদের জুতোর লেস খুলে যায়। ঘোষিত  হয় – হায়ার সেকেন্ডারী পাশের ধূলোট বাদামী রাস্তা পোলট্রির মুরগীদের মতো মিথ্যে মিথ্যা মিথ্যা! মেশিনে ঢালাই করা নতুন নতুন রাস্তা চলে গেছে অসম্ভব সমস্ত বর্ণাঢ্য থিওরোমের দিকে, সেখানে সোনার খনি বাজছে! আপাততঃ টাকা দিয়ে কয়েকটা ফড়িং ধরে আনতে পারলেই এডুকেশন সিস্টেম ছাত্রদের গলায় ঝোলাবে কর্পোরেট মেডেল, ভূর্য্যপত্রের স্বাক্ষরবিহীন ডিজিটাল মার্কসশীট।

বর্ণাঢ্য থিওরোম আর মেশিনে ঢালাই নতুন রাস্তারা সুনীল আকাশের দিকে মাস্টার্স ডিগ্রীর ডিজিটাল রুমাল নাড়ছে। কয়েকটা সাদা পায়রা সেই সব রুমাল পকেটে গুঁজে তাদের স্বচ্ছ্বল ডানায় অন্য দিগন্তের দিকে উড়ে গেলো, যেখানে লকারে ঘেরা জীবনের ডিকশেনারি। 

জেব্রার সাদাকালো দাগে হাত বুলিয়ে ভাবাচ্যাকা আজও আমি বসে আছি থিওরোমের কিনারায়। বিষয়টা খুবই সহজ, অথচ আমার এখনোও ম্যাট্রিক পাশটা হলো না।

কৃষ্ণকুসুম পাল

প্রেমের কবিতা

হিমালয় কবিতা লিখছে-
বরফে ঢেকেছে শরীর
সৃষ্টি হচ্ছে নদী
আকাশে তুলেছে শির
তাই সে মৌন।
               
সাগর কবিতা লিখছে
নোনা জলে উঠছে গর্জন
বুকে খেলছে অসংখ্য প্রাণী
চোখে নেই ঘুম
তাই সে উত্তাল।
               
কবি কবিতা লিখছে-
অসীম বিশ্বে সে একা
প্রেমেপাগল,প্রতিবাদে আগুন
সে হিমালয় হতে চায়
সে সাগর হতে চায়
তাই সে প্রাণ বিলায়।

আব্দুল গফফার

এখন বড় একাই লাগে

নীলাঞ্জনা একবার তাকিয়ে দেখো,
আমার দুচোখের পলক স্তব্ধ!
তোমার পটলচেরা চাহনিতে একবার দৃষ্টি ফেরাও,
শুভদৃষ্টি হয়ে ফিরে আসুক -
তোমার গভীর অনুরাগের ছোঁয়া।

নীলু তোমার মনে পড়ে,
যেদিন আমাদের প্রথম দেখা-
আগুন আর বৃষ্টি খেলায় মেতে উঠেছিল,
বৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে তোমার উতলা মন,
গ্রাস করেছিল আগুনের আঁচকে!

ওত পেতে বসে থেকে, 
কত সময় কেটে গেছে প্রেমালাপে;
কখন জন্ম নিয়েছিল ঘর বাঁধার স্বপ্ন বুঝিনি-
যে স্বপ্ন বৃষ্টি আগুনকে মাড়িয়ে,
আজও ফানুসের মত ছুটে বেড়াচ্ছে!

জানো তোমার ভালোবাসার অঝোড় বৃষ্টিতে - 
অবগাহন করে চলেছি নিরন্তর।
কোনদিন আর আসবে না, শুভলগ্নের সেই মুহূর্ত,
আগুনে জ্বেলে পুড়ে খাক আমার মনবাগান।
আমাকে এখন বড় একাই লাগে!

নমিতা সরকার

সত্য

ঘুম আমার জেগে আছে রাতের শহরে আলোক সজ্জার ভীড়ে ব্যস্ততার শহরে -
গাড়ির সাইরেনের বেজে ওঠা সমস্ত শব্দ উপেক্ষা করে হৃদয়ে বেজে উঠে একটি শব্দ আমি কে বা কে আমার?
মাতাপিতার বিন্দু বিন্দু রক্তকণিকা ক্ষয় করে পৃথিবীর বুকে যে জীবন প্রতিস্থাপন করেছি তাদের হতে পেরেছি? না তাদেরও হতে পারি নি - 
তাই তোমারো হতে পারি নি, তবুও সেই তোমাকেই খুঁজি বারবার -
আমার জন্মই বলে দিয়েছে মৃত্যু অনিবার্য তাই আমি শুধুই তার।

রাহুল সিনহা

নিশিডাক

এই কলহপর রাত ও অমিল সিডেটিভ
লিখে রাখে বায়বীয় হাতছানি,
যতটা তীব্র মনখারাপ আমাকে
বন্দরের দিকে টেনে নিয়ে গেছে,
তার সুরে হারমোনিকা বাজাও,
হয়তো চন্দ্রাহতের মতো
ফিরে আসবো তোমার জানালায়।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

ঘনছায়া আশ্রয়


প্রতিদিন নিভৃতে তোমার  সাথেই কথা বলি আর ডুব দেই অতলে,
ভালো করে তাকিয়ে দেখি অগোছালো জীবনটাকে যা এখনো অপেক্ষায় রাত গুনে,
প্রেমিক  হওয়া তো সহজ কথা নয় তবুও পা তো সেদিকেই বাড়াই,
আকাঙ্ক্ষা আরাবল্লী পর্বত, প্রতিনিয়ত ছুটছে পূর্ণা গিরণা খাম্বাতের টানে,
যে ঘাটে তুমি মাঝি সে ঘাটেই আমার জলসোঁই সে যত ঝড় তুফানই হোক না কেন,
যে ভাবনা আমায় অন্তরে অন্তরে বাউল করে সেতো তোমারই অভ্যর্থনা, এক ঘনছায়া আশ্রয়।

শান্তনু মজুমদার

 ইন্দ্রের সভা (গল্প )


শুভ সকালের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে নিজের প্রিন্টিং এর দোকানে যাচ্ছিল সাইকেলে করে। চন্দ্রাদের বাড়ির সামনে ভিড় দেখে এগিয়ে গেলো। জ্যেঠিমার শরীর এমনিতেই ভালো নেই অনেকদিন ধরে। কিছু আজে বাজে ঘটে গেলো না তো আবার। কিন্তু কেউই যে বাড়ির ভেতর ঢুকছে না করোনা আতঙ্কে। 

শুভ ঢুকবে কি না ভাবছে। এমনিতেই চন্দ্রার বাবা শুভকে দু' চোখে দেখতে পারেন না। কোন প্রেম টেম নয়। শুধু সমবয়সি বন্ধুত্ত্ব। মনের মিল একটু বেশী। কিন্তু উনাকে কে কি বোঝাবে। চন্দ্রার বাবা তো শুভকে সুযোগ পেলে অপমান করতে ছাড়েন না। উনি চাকরি বাকরি করে না এমন ছেলে একদম পছন্দ করেন না। তাও আবার সামান্য দোকানদার শুভ, যে কিনা উনার মেয়ের সাথে একটু যেন বেশী ঘনিষ্ট। একদমই সহ্য হয় না উনার।

অনেক সাহস করে, আর বাড়ি থেকে বেরোবার সময় একটা ঘটনার কথা মনে হতেই শুভ তাদের বাড়িতে ঢুকে গেলো। 

কি বাজে অবস্থা। মাসিমা অসুস্থ হয়ে পরে গেছেন বাজে ভাবে। এমনিতেই দুটো কিডনী  খারাপ। পড়ে গিয়ে কিডনী জয়েন্টে আরো মারাত্মক ব্যথা পেয়েছেন। চন্দ্রা আর জ্যেঠু একা তুলতে পারেননি মাটি থেকে। রুগ্ন মানুষটার সাথে তারা দুজনও নিচে বসে রয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায়। জ্যেঠু নিজেও অসুস্থ খুব। পারকিনসন্স, স্পন্ডালাইটিস এর সমস্যা আছে। অ্যাম্বুলেন্সে চন্দ্রার সাথে শুভও উঠলো। লোকাল হাসপাতাল থেকে রেফার করা হল রাজধানীর গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতালে। সব মিলিয়ে প্রায় দু' লাখ টাকা লাগবে। অপারেশন হবে। 

চন্দ্রার বাবা সারা জীবন সামান্য বেতনে সরকারি চাকুরি করেছেন। যা রোজগার করেছেন সব স্বামী, স্ত্রীর চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও বড় মেয়ের বিয়েতেই শেষ। পেনশনের টাকা দিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চলে। ফোনে চন্দ্রার মুখে দু' লাখ টাকার কথা শুনে    পাগলের মত এদিক ওদিক অনেককেই অনুরোধ করলেন এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্যে। বড় মেয়ের জামাই কিছু টাকা পাঠালো। দুদিনে ৫০ হাজার টাকা ব্যবস্থা হল। বিমর্ষ হয়ে পড়লেন তিনি। তখনই জানতে পারেন উনার অপছন্দের শুভ তার তিনটি দামী কম্পিউটার, একটি দামী প্রিন্টার ও প্রজেক্টর বিক্রি করে এবং নিজের কিছু সেভিংস মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে নিয়েছে।

প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত। চন্দ্রার মা আজ অনেকটাই সুস্থ। শুভ আর চন্দ্রা আজ উনাকে নিয়ে বাড়ী ফিরছে। ট্রেনে আসার সময় চন্দ্রা শুভকে বললো, "জানিস শুভ আমি জানতাম মার কিছু হবে না। যেদিন মা পড়ে গেলো ঠিক তখনই আকাশে ইন্দ্রের সভা বসেছিল। আমি আগে কখনো দেখি নি। কিন্তু বইতে পড়েছি। তখন ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করলে সবাই মিলে আশীর্বাদ করেন।"

শুভ মনে মনে হাসে। ওইদিন সাইকেলে উঠার আগে আকাশে চোখ পড়তেই দেখেছিল সূর্যের চারিদিকে গোল রামধনু। আগে কোনদিন দেখে নি। মাকে ডেকে দেখাতেই মা বলেছিল, "প্রণাম কর বাবা, ইন্দ্রদেবের সভা বসেছে। তোর মঙ্গল হবে। আশীর্বাদ নে বাবা। তুই যা করবি তাতেই জগতের মঙ্গল হবে। তোরও ভালো হবে।"

চন্দ্রাকে বলল শুভ সেই কথা। দুজনেই দুজনকে নতুন করে আজ দেখতে লাগলো। সাতরঙা তৃপ্তির হাসি দুজনের মুখে।

সাগর শাহ্

তোমরা হও আগুয়ান

ওহে নওজোয়ান হও আগুয়ান
ভাঙ্গ জালিমের ঘাঁটি।
বাংলায় আজ আগাছা জন্মেছে,
অনুর্বর আজ মাটি। 

নজরুল সুকান্ত ফিরবে কবে.! 
প্রতিবাদী এক মিছিল হবে,
গরীব দুঃখী আছি সবে।
বলো না,বলো আমায়
তারা আবার ফিরবে কবে.?

কে আছ এমন, কে এমন রবে ?
তবে কি কেউ নেই.!
যে এমন তাদের মতো হবে।
তবে কি গরীব দুঃখী ভোগবে.!
নিপীড়ন নির্যাতনে,
বিদ্রোহ জানাবে শুধু মনে মনে।

বাংলার মাটি হবে খাঁটি, 
যদি তোমরা হও আগুয়ান। 
ওহে নবীন নওজোয়ান 
আমার উদাত্ত আহ্বান, 
তোমরা হও আগুয়ান।

মো: রুবেল

সমর্পণ

যে মেয়েটা তোমার বুকে আকাশ খুঁজে।
যে মেয়েটা ঐ আকাশের পাখি হতে চায় অনায়াসে।
যে মেয়েটার 'তুমিহীন' প্রবল প্রলয়ের উদ্ভাবন।
যে মেয়েটার সব তোমার নামেই সমর্পণ।
যে মেয়েটা স্বপ্ন সাজায় অবিরত।
যে মেয়েটা সব প্রথা ভাঙে নিজের মতো।
যে মেয়েটার মেঘের মতো জমাট দুঃখে,
যে মেয়েটা 'সুখ বলতে' তোমায় বুঝে।
যে মেয়েটা তোমায় নিয়ে বাঁচতে বলে,
আর যাই হোক
সে মেয়েটা তোমায় ভালোবাসতে জানে।।

শান্তনু মজুমদার

আর কত দিন

কাজে মন বসে না।
দেখেছি বাবার মনভাঙা খাটুনি,
আপোষহীন চুপ জীবন।
মাথার খুলিটাকেও সাদা হয়ে ছাই হতে দেখেছি।
বুক ভেঙেছে, চোখ ভেজে নি।
কেউ তাঁকে মনে রাখেনি।
শুধু দাগ গুলি থেকে গেছে 
আলোচনায়।

মুক্ত পথিক এবার ভবঘুরে হতে চায়।
গলি পথ, মাঠ, অন্যের ড্রইংরুম,
বইয়ের গন্ধ, ট্রেনের কামরা-
মানুষ থেকে অনেক আলাদা।
তারা শর্ত লঙ্ঘনে হারিয়ে যায় না দূরে।
দুহাত মেলে কাছে টানে।

আকাশ অনেক বড়,
তোমার পৃথিবী বিশাল,
চোখের সীমানা ছাড়িয়ে বৃষ্টি পরে।
সেই বৃষ্টিতে আমি ভিজি।
আর কটা দিন, ভিজতে দাও।
যতদিন না খুলিটা সাদা হয়।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

চন্দ্রাহত

অভিসার রাত্রিতে 
ছায়াপথের সাথে কত রাত হেঁটেছে চাঁদ।
বিনিদ্র যাপনে ফিরেও দেখেনি  
আকাশের নীলিমায় ছিল সমর্পণের ইঙ্গিত।
নিঃশব্দ পদচারণায়  
চন্দ্রাহত জোছনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে 
মুখ ঢেকেছিল মেঘের ওড়নায় 
সাথে ছিল অগুনতি নক্ষত্রপুঞ্জ।
সূর্যের প্রতীক্ষায় থাকা আলো
তখনো বিদ্রোহ করে নি 
সেরকম প্রতিবাদের ভাষা 
ওদের জন্য লিখে রাখেনি কেউই।
লিখেছিল শুধু আলোকবর্ষ,
দূর থেকে বয়ে এনেছিল 
অনেক উল্কাপাতের সাথে আশঙ্কার সারি।
ধূমকেতু তখনো জাগেনি
যে পরিমাণ আলোর প্রয়োজন  
আশ্লেষে, প্রতিবাদে অথবা বিদ্রোহে
সেটুকু ধূসর হয়ে মিশেছিল সূর্যের সাথে ।
রোদের সাগর সাঁতরে পেরিয়ে এলে
ছায়াপথের মোহনায় মেশা যায় 
একথা চাঁদও জানে।।

পারমিতা মুস্তাফি

তুমিই মূল

ঝড় উঠেছে এলোমেলো সব,
কতই না রং মাখবো -
কত যে সাজবো দিঘল  চুলে,
কত না আচার শুনবো।
বর  এলো বর এলো -
কাজলা দিদির মেয়ে,
দেখতে এসে বললো শেষ -
আমি তোমার হয়ে।
সেই যে এলো রাজকুমার -
রাজপুত্র শুয়ে,
এক যে আছে রাজ কন্যে -
কদমতলা হয়ে।
হাসি খুশি মিনতি দি -
ঘুমিয়ে আছে চিতে,
এক যে আছে চাঁদমামা -
গাইছে সমান শীতে।
চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে -
গন্ধে ভরা ফুল,
একুল ওকুল দুকুল আছে -
তুমিই আমার মূল।