Oct 13, 2025

কুশল ভৌমিক

একলা বাহানা

মনে কর  কুনুহানে কেউ নাই
তুমি হাঁটতাছো অচেনা দ্যাশের অপরিচিত রাস্তায় 
তহনও তোমার পকেটে ধলেশ্বরী নদী
বুকের ভেতর চুম্বনের লাল দাগ
পিঠে বাপজানের মাইর
মায়ের আওলাঝাওলা বকাঝকা 

মন খারাপের বৃষ্টি মোচড়ানো বিকালে
তুমি বইয়া থাকো যমুনায়
তোমারে রবীন্দ্রনাথ ছাড়ে? 
উস্টাখাওয়া ঢেউগুলা তুমারে ডাকে না? 
ফুইটা থাকা কাশফুল তুমারে জিগায় না

কেমুন আছো মিয়া? 

মাইনষের ভিতরে সাইটা থাকলে
যেমুন তুমার একলা হওয়নের ছটফটানি 
তেমুন দূরে গেলে 
চেনা মাইনষের গন্ধও তুমারে ছাড়ে না
স্মৃতিগুলা কিলবিল কইরা দংশন করে। 

একলা হওয়ন সোজা না।

বহুর ভিতর মানুষের একলা হওয়নের বাহানা
একলা হইলেই মানুষ বহু হইয়া যায়।

অনুরাগ ভৌমিক

শব্দ ও ছন্দের রেসিপি 

তোমার পাকা ধানের মতো মন,
যেন এক সঙ্গীত ডেকে নিয়ে যায়-
প্রাণে প্রাণে খেলা করবে তাই।

আমি একা মানুষ, দূর থেকে ঝর্ণার গান—হরিণ চঞ্চল রৌদ্র- ছায়া দেখি।

তোমার মুখ জ্যোৎস্না দর্পণ,কুল কলঙ্ক ভুলে সজাগ ঘাস পেরিয়ে 
এক অপ্রাপ্তির খুঁজে ছুটে যাওয়া।

আমি পরাস্ত গোমতীর পারে বসি,
দেখি উচাটন ঢেউ;
কখনো দেখি বৃষ্টির পর উঠানে 
শালিখ পাখির পিকনিক।

ধীরে ধীরে আমার বিকেল ভারী হয়, তখন ও চর্চা করি শব্দ ও ছন্দের রেসিপি...

নবীনকিশোর রায়

দীর্ঘ কালোছায়া 

বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে  কালোছায়া দীর্ঘ হয়। 
অবিশ্বাস জন্ম নেয় মানুষের ভিতরঘরে... 

মনুষ্যত্ব ক্রমে শূন্যে এসে ঠেকে,পশুশক্তির উত্থানে রক্তস্রোত বয় প্রকাশ্য রাজপথে, শান্তির মিছিল ভেঙে যায় মাঝপথে।

একতরফা রাষ্ট্রদলন, 
পাথর আর লঠির জোরে, 
প্রতিরোধের মাথা থ্যাঁতলে দেয়, 
মেরুদণ্ড হারায় মাথা, 

সর্বত্র গ্রাস করে রাজদণ্ড, অসহায় বিচারের বাণী
কেঁদে  ফিরে যায়... 

সোমেন চক্রবর্তী

 রঙ

এসো হলুদ হই
দিন যেমন গড়ায় 
কাঁচা রঙ জ্বলে যেভাবে বাদামী হয় শেষে

নয়তো নীল
একটা দু:খ, কাতরতা,
দুজনকে ঘিরে আর্তি;

লাল হবে?
লাবণ্য, ঠোঁট, গোলাপ, সিঁদুর।

অন্ধকার অপ্রিয় নয় ঠিকই,
শুধু রঙ হারিয়ে ফেলি। 
ভয় হয়, যদি আবার ফিরে আসতে হয় কোনো এক হাতের কাছে!
থাকুক অভাব , 
একাকীত্ব পা ছড়িয়ে বসুক দুয়ারে
 আজীবন

পিছুটান রাখা রঙ আর চাই না

লিটন আচার্য

একটা খোঁজ (অনুগল্প)

এখন রাত গভীর। প্রতিবিম্বে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখি। একফালি গামছা। জানান দেয় উলঙ্গ ন‌ই। অথচ জানি, কী ভীষণ রকম আবরণ হীনতায় ছেয়ে আছে দেহমন। বুকের প্রতিটি রোমকূপের উৎসস্থলে লুকানো আছে সুপ্ত অহংকার যত। আমিত্বের নাগপাশ ঘেরা প্রতিটি শিরা উপশিরা। ভাসানের ভেলায় চেপে অক্ষম সৃষ্টির আস্ফালন আমার। কী আশ্চর্যরকম পদলোভি। লেহন পরাঙ্গম। চামচা পরিবেষ্টিত। 

এই শহর গভীর অতলান্ত খাদে। আমাদের অসুখে পা*ক নিমজ্জিত। যেন তেন প্রকারেন স্বীয় মত স্থাপনারথায়, বাগদেবী বন্দনায় মাতি। চাতুর্য আহরন সিদ্ধি অস্টোত্তর শতনাম শ্রবণে। পাপীকে ঘৃণায় পারদর্শী আমার স্বীয় পাপের গড়ায় তা দেই তাকিয়ায়। অন্যের মুখে ঝাল খাওয়া আমি, কেবল ঘটনা দেখি। ঘটনার অন্তরালে লুকানো ঘটনা আপন ফরিয়াদ শোনাতে মাথা খুঁড়ে মরে। আমরা চোখ মুদে র‌ই। ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো উল্লাসে নাচি। পর নিন্দার পান চিবোই মহানন্দে। পিক্ ছুড়ি ঈষৎ সাদা দেয়ালে। কাক চরিত্রে আপন চক্ষু মুদি। প্রতিবার পার পেয়ে গঙ্গাস্নানে শুদ্ধ আমার অন্গূলি আস্ফালন করে, অপরের বিচ্যুতির পান খসা-তে। 'ইয়ার মেরি বাত শুনো/এইসা এক ইন্সান চুনো/ জিসনে পাপ না কিয়া হো/জো পাপী না হো।' কী অবলীলায় ভুলে যাই।

পরিত্রাণায় অসুরাং, বিনাশায় চ সাধুনাং স্ত্রোতরে দীক্ষিত। এতটুকু বাঁধেনা কুটকচালিতে, ব্যক্তিগত হুক্কাহুয়ায়। কী নিষ্ঠুর নির্মমতা। অর্জিত না সহজাত বোঝা ভার।

-- এই যে মশাই শুনছেন, ও মশাই আপনাকে বলছি।

-- বলুন। 

-- আপনি দেখেছেন কোথাও? 

-- কি বলুন তো?

-- মন। অপুর মতো আমারও একটা মন ছিল জানেন, কোথায় যে হারিয়ে ফেললাম,

পিয়ালী সেনগুপ্ত

ঠাঁই নাই

দিন বদলে যায়, সময় বদলে যায়,
দ্রুত বদলাতে থাকে ক্ষণ।
বদল নাকি বদলানো,তুচ্ছাতি তুচ্ছ হতে থাকে মন।

কাল যে ছিল চোখের মনি,রুপোর জবা কালীর পায়ে,
ক্ষণের বদলে হঠাৎ করেই,কালির ছিটে তাঁরই গায়ে।

বদল, বদলা, বদলানো,ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায়,
"ভালো ছেলে"র তকমা সাঁটা,হঠাৎই, 
"পরিবেশ শত্রু" হয়ে যায়। 

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক লেখা,অনেক কাদা ছোড়াছুঁড়ি, 
ক্ষণের বদলে আমেদুধে মিশ খেয়ে নেয়, 
আঁটির শুধুই গড়াগড়ি। 

শিরদাঁড়াটা ভাঙ্গা যাদের,তাঁদের আবার বদল কিসের? 
বদল, বদলা বড্ড নেশা, বাতাস এখন বদলার বিষের। 

ভাবছি বসে তাই, বদলের দলে
ভিড়বো? নাকি? বদল হয়ে যাই? 

শিরদাঁড়া যে বড্ড শক্ত,কেমনে বদলে যাই? 
বড্ড জ্বালা! শান্তি চুলায়, বদল, বদলায় তাই আর।

Oct 12, 2025

অনুরুপা বনিক

আনমনা শুধু 
 
কেন জানি এত আনমনা শুধু সে,
ভুলে যায় দেওয়া কথা আর হারানো  সুর,
মনে কি যেন ভয়ে নীরবে ‍থাকে সারাদিন,
কোন কাজে বসে না মন 
মন যে বড় চঞ্চল,
এ কোন ধারা  বয় ঘরে রয় না  মন,
শোনে না যে কোন বারন 
যখন খুশি রাঁধে যায় সে আবার চুল বাঁধতে ,
শুধু আনমনে রয়ে রয়ে গোপনে কারে যে ভালো বাসে,,
সে যদি জানতো কারে যে ভালো বেসে মন হারিয়েছে,,
শুধু আনমনে বসে রয়ে যেত না ঘরে,
হয়তো সে ভালো বাসে মোরে 
দেখেছি সেদিন রাস্তার মোড়ে,
পারি নি বুঝতে তার চোখের ভাষাতে ,
সে যে আনমনে শুধু বসে থাকে

অমিত সরকার।

এসো সাজিয়ে দি 

কতদিন হলো তোমাকে সাজাই নি,
কেমন যেন এলোকেশী হয়ে আছ তুমি,
চোখের ঘুম উধাও করে কর্তব্যে ব্যস্ত,
কত দিন তোমার দিকে ফিরে তাকাই নি।
শ্রান্ত ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে চুপ হয়ে একাকী বসে,
মন বলছে  কেন তোমার খবর নিই নি?
এসো আজ তোমাকে সাজিয়ে দি।

বিনয় শীল

অনন্ত প্রবাহী

নিরন্তর গতি মোর
বলছি আমি তাই,
কোনো কালে কারো তরে
কভু থামি নাই ।।

জীবন আমার জেনো
আদি-অন্ত হীন,
মোর অঙ্গে দাগ কাটে
বৎসর মাস দিন ।।

অনন্ত প্রবাহী আমি
তবু নিমেষকাল,
অতিব মহত্ত্বপূর্ণ
মহিমা বিশাল ।।

জীবন যাপিছো যারা
এই ধরাতলে,
অবজ্ঞা করো না মোর
প্রতি অনুপলে ।।
     

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

ছায়া-ভার

অফিসপাড়ার গাছের ছায়া 
                   ঝাঁকি জালের মতো ঝেঁকে ধরে
শহর শিলচরের ফুটপাত চোরাবালি হয়ে আছে,
শহরের প্রতিটি পথ 
                   মহাকালের দরবারে সাক্ষ্য দিচ্ছে অহরহ,
                   -শালিক-জোড়ার চলচ্চিত্র।
সেই সঙ্গের ও বিচ্ছেদের ছায়াছবি কাঁধে ভর করে আছে,
এগোতে পারি না যে!

স্মৃতির সাথে বৈরিতা হলে
চারপাশে দাবানল জ্বলে ওঠে
অথচ প্রহ্লাদের মত সে বেঁচে যায়, ......।
কেন যে যায় না ধ্রুবতারার মতো আলোকবর্ষ দূরে!
মাথা নত করে বয়ে যেতাম এই জীবনভার।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

ক্ষুধার গ্রহণ

ছোট্ট খোকন দাঁড়িয়ে গঙ্গার পাড়ে
হঠাৎ দূ-র হতে শোনে 
"ধর খোকন ঐটা ধর"।
অমনি করে লাফিয়ে গঙ্গার উত্তাল স্রোতে।
যেন পুরো ভারতবর্ষটাকে ধরার ইচ্ছে।।

খোকনের জোড় ঝাঁপ ক্ষুধার আরেক নাম,
স্রোতের বিপরীতে ওর গতি
নিদারুণ জীবন ঝুঁকি।।
শঙ্কিত জনতার কোলাহল,ছোট্ট খোকনের অদম‍্য ক্ষুধা 
নিভৃতে  কাঁদে পরিবর্তিত সমাজ।

আধুনিক ভারতবর্ষের চকচকে সূর্যে
ক্ষুধার গ্রহণ  স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও।
ছোট্ট খোকার এক জোড় ঝাঁপেই 
অঙ্কিত সকল সমীকরণ।।

সপ্তশ্রী কর্মকার

ঋতুমতী

বাউন্ডুলে দুপুরে যখন বসে 
দেখি বেগুনি কালেম পাখি
শ্যাওলামাখা বাগানে পায়ের 
ছাপে আলপনা এঁকে দেয়

নষ্টা অনুভূতিগুলি বারবার
বাধ্য করে 
সুড়কি হাতে ঢিল ছুঁড়তে,

কিন্তু জ্বরে পুড়ে যাওয়া ভেজা মাটিতে,
ভুল রাতের সঙ্গমে জন্মানো 
ফলগুলি বিছিয়ে রাখি সযত্নে -
প্রশয়ে যেন ওরা ঋতুমতী হয়ে আসে

ভবানী বিশ্বাস

আশ্বাস 

ভালবেসেছি বলে
যাব না কোথাও।
কাছেই বসে থাকি
গান শুনাও, কবিতা পড়ো
আমিও গাই 
সুরে সুরে মেলাই তাল।

হঠাৎ চুপ হয়ে যাও।
হাতটি চেপে
তাকিয়ে থাকো।
কী ভাবো তখন?

ভয় নেই, 
থাকব বলেই ঘর বেঁধেছি।

অদিতি তুলি

যাপিত জীবন

‎কোজাগরী জ্যোৎস্নায় শুদ্ধ স্নান সেরে উঠেছে প্রিয় সপ্তপর্ণী! 
‎রাত্রি দ্বিপ্রহর -
‎আনন্দময়ীর উঠোন জুড়ে কি সুতীব্র ঘ্রাণ 
‎নাম না জানা ভিনদেশী পাখির ডাক মিলিয়ে যায় উত্তরে 
‎এইসব নির্বাণের রাতে নিদ্রাদেবী পলাতক
‎অনির্দিষ্টকালের প্রহর গুনছে একটা অলস মস্তিষ্ক 
‎বিরামহীন পথে উড়ে যায় -
‎দাহ না করা সেইসব স্বপ্নের শুকনো পাতা
‎রাত বাড়ে, বাড়ে জীবনবোধ 
‎প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খেরোখাতা! 
‎প্রাচুর্যের এই নাগরিক কোলাহলে আমি নির্বাক হয়ে যাই
‎এ কেমন বিড়ম্বনা 
‎আমি তো কেবলই মায়া-দীঘির এক বিন্দু স্বচ্ছ  জলের মত জীবন চেয়েছিলাম
‎সরল আটপৌরে নির্লিপ্ত! 
‎হে অদৃষ্ট আমায় মৃত্যুদন্ড দাও নয়ত নবজন্ম দাও!
‎সপ্তমবর্ষী বালিকার জীবন 
‎স্নিগ্ধ আচঁলতলে বিষ্ময়ে যে গায়ে মাখে কোজাগরী আলো!

পাপিয়া দাস

বার্ধক্য 

আমার দিদিমা সাংসারিক বাজার সাজিয়েছেন,
বাজারের পরসায়  ছেলে, মেয়ে ,নাতি নাতনি ,নাত বৌ, নাতিন জামাই, নাত ছেলে মেয়ে ,আরও কত কি!

সব  সাজিয়ে বসেছে বলেই
আজ আনন্দ মনে,
কিন্তু বার্ধক্য এসে  বাধা দেয় ঐ সাংসারিক দোকানীকে, আজ আনন্দের দিন হলেও 
আর পরসা সাজিয়ে নিজে বসে থাকতে পারছেনা,
শুধু অন্তিমধামে চলে যেতে চায়,
বার্ধক্য প্রতিদিন একটু একটু ঠুকরে ঠুকরে খায়  কাঠঠোকরা পাখির মতো,
মনে আনন্দ নিয়ে আনন্দবাজারে থাকতে চাইলেও 
দেহ আর দেয় না,
বার্ধক্য জনিত দূর্বলতা বাঁধা দেয় প্রতি মূহুর্তে।

সহিদুল ইসলাম দেবযান

সারেং

বিভূঁই শহরে চড়ছি ভেড়ার মতো
নদীর চড় ডাকে ঘন রাইতে।
ধানের ক্ষেতের তাজা গন্ধ নিয়া
ঘুমাইতে চাই একটা ধুরুম কাইতে।

যন্ত্র আমার অন্ত্র কাঁপায়
শহর যেন আস্ত রোবটখানা। 
নোঙর ফেলে বন্দরেতে থাকি
শহর কন্যা আর আমি বেগানা।

কিত্তাম যাবো পাড়ার কোলে হায়
আমার তো নাই রে সারেং-বউ।
অপেক্ষাতে নাই তো কেও সেথায়
এই বিদেশে কই পাই ঘর কও?

দুলাল চক্রবর্তী

বাস্তবতা মেনে নিয়ে 

জীবনটা স্বপ্নের সিঁড়ি তো নয় যে 
তরতর করে উঠে যাবো!
চরাই-উৎরাই আছে পায়ে পায়ে 
দুর্নিবার আশার তাড়না আছে শত
অমলিন স্মৃতিরা প্রকট যেন নিরবধি।
মরুতৃষ্ণার কাছে এক গণ্ডুস জলে কি হবে?
চলমান জীবনটা থেমে নেই --
অস্থির চিত্তে বেদনার ভিক্ষাভাণ্ড
কত বইবো আর?

প্রশ্ন করেছিলাম --পাইনি উত্তর।
অতলান্তিক সাগরের বুকে চোরাস্রোত 
সজাগ থাকা যে বড় দায়।
ক্ষুধার্ত পথশিশুটি পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে 
প্রচণ্ড তাপদাহে অস্থির সবাই 
মাঝপথে যাবেনা থামা।
রাতে গাঢ় কালো মেঘের স্তর ভেদ করে 
রূপালী চাঁদের আলোর ছটা দেখি।
বিবর্তনের মূর্ত প্রতীক।
জীবন -নদীতে খেয়া বাইবো কত আর!

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

শালুকপাতায় কথার মালা

দিনগুলো সব এমনি কাটে অনাদরে অবহেলায়
অগোছালো প্রহর কাটে নির্জনে নিরালায়।
স্মৃতির সমাধি তলে হাজারো স্বপ্ন অধরা 
অসময়ে খসে পালক নীড়হারা
তোমার সাথে বলার মত সযতনে সাজানো কথা
নিরজনে বসার আশায় মেঘমন্দ্র গোপন ব‍্যথা
সঙ্গোপনে 
জীবন কাটে তোমায় ভেবে, অদরকারে।
শ্লেটপেন্সিল মোছার মত কবিতা লিখি
মনঃপুত হয়নি বলে ভুলের ঘরে তুলে রাখি
তোমার জন‍্য শালুকপাতায় কথার মালা
গেঁথেছিলাম কবিতা করে
রয়ে গেল খাতার বুকে, চিরঘুমে তেমনি করে। 
দিনগুলো সব চলেই গেল 
অগোছালো কথার ফাঁকে।
জীবনতরী বৈঠা বেয়ে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে
পিছন পানে চেয়ে দেখি কেউ নেই আজ আশেপাশে 
ভিড়ে ঠাসা ভুল শহরে  
কেউ জানেনা আমার কথা
ঠিকানাবিহীন নৌকা আমার পাল তুলেছে অচিনপুরে।।

লিকা দেবনাথ

কলমের ক্ষমতা

একটা কলম শুধু কলম নয়, সে এক আগুন,
যার কালি দিয়ে লেখা যায় ভাগ্য, সৃষ্টির সংগুন।
হাতের মুঠোয় ধরা সে ক্ষুদ্র এক অস্ত্র,
তবু তার ছোঁয়ায় বদলে যায় রাজ্য, নীতি, শাস্ত্র।

কারো জীবনে আনে আলো, কারো বুকে শোক,
এক লাইনেই গড়ে তোলে ভালোবাসার লোক।
সে লেখে শান্তির গান, আবার যুদ্ধের ডাকে,
কলমের খোঁচায়ই সাম্রাজ্য কাঁপে চোখে চোখে।

শব্দের ভিতর লুকিয়ে তার অগণিত গল্প,
যে গল্পে জন্ম মেলে, আবার হয় শেষ ফলক।
কখনো সে বিচারক, কখনো কবির প্রাণ,
তাকে নিয়ে বদলে যায় সভ্যতার সব গান।

জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে সে এক দিশারী,
একটা কলমেই লুকিয়ে থাকে হাজার শক্তির ভারী।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

একটা আকাশ

একটা আকাশ থমকে থাকুক
চোখের পলক ঘিরে
খুঁজবো না প্রেম এই পৃথিবীর
লক্ষ লোকের ভীড়ে। 
একটা আকাশ ডাকলে আমায়
স্নেহ প্রীতির সুরে
হাজার তারায় বাঁধবো বাসা
রইবো না আর দূরে। 
একটা আকাশ মাথায় থাকুক
ধরবে মাথায় ছাতা
উদাস হাওয়া বইবে যখন
রক্ষা করবে মাথা। 
একটা আকাশ সাঁঝের বেলায়
আসুক আমার কাছে
চন্দ্র তারার আলোক মালায়
মাতবে ভূবন পাছে। 
একটা আকাশ পাগলামি তার ছড়াক হৃদয় জুড়ে
কল্পনাতেই আঘাত হানুক মিষ্টি মধুর সুরে।