Sep 12, 2021

সুজিত দে

সৈকতের পাড়ে

সৈকতের পাড়ে গিয়েছি আমি
ঝিনুক ও মুক্তা কুড়াবো বলে,
কিন্তু কুড়ানো হলো না আমার
ঘুরতে ঘুরতে বেলা গেল চলে।

মন প্রাণ ভরে চষে বেড়িয়েছি আমি
সৈকতের রাশি রাশি বালুচরে,
এই সব স্মৃতি ভুলবোনা কোনদিন
মনে থাকবে আজীবন ধরে।

ঘুরতে ঘুরতে ছবি তুলেছি কত
মনোরম জায়গায় নিজের ইচ্ছে মত,
ক্লিক ক্লিক করে ছবি তুলতে তুলতে কখন
যে গ্যালারী ভরে গেছে ছবিতে শত শত।

গিয়েছি আমি হলি ডে পয়েন্ট থেকে শুরু করে
শৈবাল,লাবণী,কলাতলী ও হিমছড়িতে,
গিয়েছি আরও রয়েল টিউলিপ পয়েন্ট,
পাথোয়ারটেক,শাপলাপুর ও ইনানিতে।

আমার সঙ্গে ছিল কত ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধব
কত যে মজা করেছি সারা বেলা,
গল্প-গুজব থেকে শুরু করে হৈচৈ আনন্দ 
কলরবে করেছি কত ধরণের খেলা।

করেছি গোসল খুশিমনে স্বাধীনভাবে
সাগরের স্বচ্ছ নীল নোনা জলে,
সাগরের জোয়ারের তালে তালে দুলেছি কত
ভেসে গিয়েছি তীরে জোয়ারের ঢলে।

Sep 9, 2021

সুষমা দেবনাথ

আগমনীর সুর

আসছে পুজো, আসছে যে মা এবার খুশির পালা।

এক‌‌মুঠো‌ ভাতের আশায় পড়ে আছে কারো শূণ্য থালা।

রকমারি জামাকাপড়, বেড়েছে শপিং মলের কদর।

ম্লান মুখে ফুটপাথে পড়ে আছে খদ্দের হীন দোকানঘর।

আলোয় ভরা প্যান্ডেল, চারিদিকে‌ শুধু আলোকধাধা।

কারো বা পুজোর আনন্দটাই দারিদ্র্যতার শেকলে বাঁধা।

অভাবে আধপেটা কিংবা উপোসেই তাদের দিন কাটে।

মাগো, এই বারেতে আসার সময় খাবার নিয়ে এসো বাটে।

অতনু রায় চৌধুরী

 ভালো থাকা যায়

খোলা আকাশের বুক জুড়ে

হাজারো স্বপ্নেরা ভেসে যায়।

খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া শ্রমিক

আজও করছে বেঁচে থাকার লড়াই ।


নীরবে, নিশ্চুপে সময় হারিয়ে যায়

প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে আজ ভীষণ অসহায়।

তবুও স্বপ্নেরা ভেসে ওঠে

কিছু সুখের আশায়।


একটা ভাঙ্গা বাইসাইকেল নিয়েও ভালো থাকা যায়।

ভালো থাকা যায় জলে ভাতে মিশিয়ে একটি সকাল কাটিয়ে দিলে।

ভালো থাকা যায় কাছের মানুষ আপন করে নিলে।

গঙ্গা সাহা

মা

মাগো মা! তুমি যে মমতাময়ী।

সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি তুমি।

মাগো!

তুমি যে আমার দেখা সবচেয়ে_

অপরূপ সুন্দরী নারী।

মাগো! তুমি যে অন্যন্যা ।

তোমার  গর্ভে  জন্মে সাথ'ক জন্ম।

মাগো!

তোমার পরশে‌  আমি যে ধন্য _

তোমার স্নেহে জীবন পরিপূর্ণ‌‌ ।

মাগো!

তুমি আমার প্রথম দেখা, 

তুমি যে প্রথম ডাক।

তুমি আমার প্রথম পাওয়া,

তুমি যে প্রথম চাওয়া।

কাঁদলে মাগো বুঝতে পারো,

কি আমার চাওয়া।

মাগো! 

দু্ঃখে আমি জড়িয়ে তোমায়,

ভুলি যে সব ব্যাথা।

কষ্টে আমার জল‌ আসে যে,

তোমার চোখ ভরা।

মাগো!

তোমার কোলেই স্বর্গ আমার।

তোমার কোল ওই মোর ধরা।।

মাগো!

এই পৃথিবীর‌ শ্রেষ্ঠ উপহার,

তোমার ওই তো দেওয়া।।

জানতে চাইবে না মা ?

কি সেই  তোমার উপহার?

মাগো!

সে যে তোমার দেওয়া,

নিঃস্বার্থ ‌ভালোবাসা ।।

পান্থ দাস

আগমনী

চারিদিকে শুধু

তোমার সুর,

মন মাতলো

তোমার আগমনে,

আগমনী তুমি

তুমিই মোর

প্রথম ভোর ৷


আজ শহরও যেন

কিছু বলছে,

চারিদিকে শুধু 

আলো আর আলো মাখছে,

নতুন আনন্দলোকে

অন্ধকারও যেন আজ

আলোকে মজেছে ৷

Sep 7, 2021

কার্ত্তিক‌ মণ্ডল

সবুজের আগুন

চলো ! হারিয়ে যাই ঐ সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে

সবুজ আমার বড় প্রিয়
কি মধুর হাত ছানি দেখো , 
ঐ লতা জড়ানো বাঁকা পথের
চলো না খাদের কিনারায় গিয়ে একটু দাঁড়াই ,নিঃসীম শূন্যতায়।

আর নিজেকে বাঁধতে পারি না এক জায়গায়
এই মাটি, জল, বাতাস সাপলুডো খেলার মত চেনা লাগছে যেন,
হারাতে তোমার ভয় কীসের এই গোধুলির রঙ মেখে আষাঢ় আলাপনে মুখর আকাশ।

কী বল চন্দ্রাবলী?
আমার হাতটা ধরতে তোমার এত ভয় !
ঐ দেখো ছেলেমেয়ের দল সবুজের আগুনে পুড়ছে !ভালোবাসার দোয়ারে।

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

(ক)

সুশিক্ষা

পরপর সোপান। নেমেছে সোপান সপ্তপাতালে।

সজ্জিত সেখানে হাজার চুম্বক।

চুম্বকের চুম্বনে দুটি শ্রীচরণ

কম্পনে অগ্রসরমান দোজখের প্রবেশদ্বারে।

ভগবান সেখানে যেন জাগ্রত হাত বাড়িয়ে,

সহাস্য অর্ভ্যথনায় শিখি যমরাজের কাছে

আধুনিকতার সিলেবাস-

শূলে যদিও তিনি চড়ালেন না

থুতুর মহাসাগরে শুধু দিলেন ভাসিয়ে।

তা থৈ থৈ থৈ থুতুর অভ্যন্তরে

অঙ্কখানি অতি সহজ ও সরল-

হৃত মানের কথা জানুক মানুষ

হৃত হুঁশের খবর জানুক মানুষ

আর চিনবে সঠিক আবাসের ঠিকানা অতঃপর।


(খ)

সংস্কার

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

কামান্ধের দুটি নয়নে যে হাত্তয়া থরথর

যে নিশান ওড়ে পতপত,

সেখানে সেখানেই তুমুল সর্বগ্রাসের আলোড়ন।

বিগত মলয় বাতাসে পাতালচারণ

আচম্বিতে এক পরম অরি যেন—

নড়ে না চরণ, নড়ে না গড়ন!

শত্রুর সেই বিষাক্ত লালচক্ষু সাবধানী

ফতোয়া ছড়াতে তৎপর।

মননে-গহনে অশান্ত কামুকের দিশেহারা পল,

পলে পলে সেখানেই কেন প্রবহমান

অকূল গরল-সাগর?

রঞ্জিৎ কুমার পড়িয়া

বিচিত্র রীতি

রাশি রাশি টাকা কড়ি  

                জমি জমা ঘরবাড়ি 

সোনাদানা সিন্দুক ভর্তি,


ছোট ছেলে অফিসার   

                 বড় ছেলে প্রফেসার 

পরিবার শ্রেণী উচ্চবর্তী।


বি পি এল তালিকায়

                চাল গম আটা পায়

রেশনেই কিনে বেচে রেশনে,


বউমা ও নাতনি নাতি

                বি পি এল অনুমতি 

নাম জুড়েছে এই - শেষনে।


দিন আনে দিন খায়  

                 ভাগ চাষি যদু রায়

সংসার চলে কষ্টেসৃষ্টে,


জল বাদে সব কেনা    

              চাষ করে বাড়ে দেনা 

নাম তার এ পি এল লিস্টে।।

ভগবতী ভৌমিক

আপন হল পর

যখন কোনও ব্যক্তির 

থাকে না ধনসম্পত্তি,

তখন সকলের কাছে 

সে একজন ভিখারি।

মাথার উপর নির্মল আকাশ 

পায়ের নীচে মাটি,

তবুও তার ব্যথাভরা জীবনে

মেলেনি একটু শান্তি।

একদিন যখন সব ছিল তাঁর 

মানুষও ছিল পাশে তাঁর।

যখন সে সব হারালো

ভিখারি বলে তাড়িয়ে দিল।

বিপদে পরে আত্মীয়স্বজন 

বলতো তাকে আপনজন,

একটু সুখে পরে গেলেই, 

ভুলে যায় কে আপন কে পর।

অংকিতা বর্মণ

অকুন্ঠ

মহালয়া হতে বিজয়া দশমী শূন্য।

বিজয়া দশমী হতে মহালয়া পূর্ণ॥

সুখ হতে দুঃখ শূন্য।

দুঃখ হতে সুখ পূর্ণ॥

দিন হতে রাত শূন্য।

রাত হতে দিন পূর্ণ॥

পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা শূন্য।

অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পূর্ণ॥

জন্ম হতে মৃত্যু শূন্য।

মৃত্যু হতে জন্ম পূর্ণ॥

মেঘ হতে রৌদ্র শূন্য।

রৌদ্র হতে মেঘ পূর্ণ॥

চোখ হতে অন্ধত্ব শূন্য।

অন্ধত্ব হতে চোখ পূর্ণ॥

সুশ্রী হতে বিশ্রী শূন্য।

বিশ্রী হতে সুশ্রী পূর্ণ॥

সৎ হতে অসৎ শূন্য।

অসৎ হতে সৎ পূর্ণ॥

জ্ঞানী হতে অজ্ঞানী শূন্য।

অজ্ঞানী হতে জ্ঞানী পূর্ণ॥

ষষ্ঠী পুজা হতে দশমী পুজা শূন্য।

দশমী পুজা হতে ষষ্ঠী পুজা পূর্ণ॥

আগমন হতে গমন শূন্য।

গমন হতে আগমন পূর্ণ॥

Sep 6, 2021

প্রীতম চক্রবর্তী

কুঁড়েঘরে উমা

আকাশে সাদা মেঘের শোভা বাতাস পেল প্রাণ;

ধরায় এসেছে উমা নিয়ে নব গান।

পরনে জামদানি শাড়ি আর উজ্বল গয়না;

সুন্দর মুকুট উমার চোখ ফেরানো যায় না।

সঙ্গে আছে দুটি মেয়ে অপূর্ব সুন্দরী;

দেখতে অদ্ভুত দুই পুত্র চোখ ফেরাতে নারি।

মাটির উমা ধরায় এল নব সাঁজ ধরে;

ধরার উমা কান্না করে মাটির কুঁড়েঘরে।

নতুন পোশাক দেয়নি বলে করছে উমা কান্না;

ছেঁড়া জামা পরনে তার করছে শুধু বায়না।

মাটির উমার হচ্ছে পূজা মন্ডপে মন্ডপে;

ধরার উমা খাবার পায়নি কাঁদছে ফুঁপে ফুঁপে।

বড়লোকের ঘরের উমা পূজোয় সেজে ঘুরে;

গরীব ঘরের উমা পূজোর পথে ভিক্ষা করে।

দশমীতে মায়ের কাছে সবাই কতো বর চায়;

কুঁড়েঘরের উমা শুধু দুবেলা খাবার চায়।

রাজা দেবরায়

তবুও

দুঃখের উৎস খুঁজতে গিয়ে

জড়িয়েছি আরো কষ্টকে।

স্পর্ধাহীনভাবে নিজেকে

নিয়ে উল্লাসে মেতেছি!

তবুও

ডাঃ শ্যামোৎপল বিশ্বাস

সুধাশব্দ

মন  যেন  ব্যাকুলতার  আকাশ  রাশি,

কাব্যিক  মৃগয়াক্ষেত্রেও  থেকে  অনন্ত পর্যন্ত  তার  সীমান্তপুরে,

শব্দশিকারী  হৃদয় জমা  করে  চলছে  আমার  পংক্তিরসনা,

তৃপ্ততায়  হাতছানি ভারী  হয়ে ওঠে  ব্রহ্মান্ড জুড়ে।

দেবাদৃতা ভৌমিক

পথের শেষে দেখা

হঠাৎ করেই মেঘ ঘনিয়ে আঁধার

নিপাট ভালো রোদমাখা এক দিনে,

মনের ভেতর হুহু করে ঝড় বয়

বিচ্ছেদ কেন বৃষ্টি ডেকে আনে?


প্রকৃতিও বুঝি মনের গোপন বোঝে,

ঝড় তুলে দেয় যেন মনের সমতুল্যাঙ্কে!

তবু দু'চোখ বেয়ে অকাল তুমুল বারিধারা,

বৃষ্টি কি সামঞ্জস্য রাখতে পারে সেই সঙ্গে?


তুমি চলে গেলে যেন মৃত সব বাগানবিলাস,

তুমি না থাকলে সাধের কাঠগোলাপ ম্লান,

তোমায় ছাড়া মুখের হাসি সাজবে না কখনো,

তোমায় না পেলে বিরহ জ্বরে ভোগে মন-প্রাণ।


দীর্ঘশ্বাসে আশ্বাস বাঁধি বুক ভরে,

শিয়রে এসে ঠিক দাঁড়াবে তুমি আমার...।

বালিঘড়ির প্রহর শেষ পথে পৌঁছয়,

তবু ফিরে আসা বোধহয় মানা তোমার!


আলোর চেয়েও তীব্র যে গতি আছে,

মন তোমার পানে সদা ছোটে সেই নির্নিমেষে;

তোমার খোঁজে পথহারা হবো এবার,

তোমার-আমার আবার দেখা যদি হয় পথের শেষে!

মনীষা দেবনাথ

মা আবার এসো

কাঁশফুলের ছোঁয়ায়,শিউলির গন্ধ,

মেতে উঠেছে ভুবন।


আকাশ তুলোর মতন ভেসে থাকা মেঘ,

হালকা শীতল বাতাস,

জানান দেয় শরৎ আসছে।


আগমনী গান আর চারিদিকের আলোকসজ্জায়,

বাঙালির মন প্রস্ফুটিত হয়েছে ।

মেতে উঠেছে আনন্দে।


মহালয়ার প্রভাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের,

"আশ্বিনের শারদ প্রাতে 

বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জির",

শুনে মনে হয় দেবী দূর্গা পদার্পণ করল।


সপ্তমীতে মার অকালবোধন,

অষ্টমীর অঞ্জলি,

নবমীর ভোগ প্রসাদ,

বাঙালির আনন্দ জমজমাট ।


দেখতে দেখতে দশমী

মা আর থাকবে না ।

ভারাক্রান্ত মনে চোখে জল নিয়ে,

মাকে বলতে হয়, মা আবার এসো।

Sep 5, 2021

হর্ষময় মণ্ডল

না বলা কথা

বিকেলে লোকাল ট্রেনে

হাই স্কুলের দিদিমণি ফিরত 

দু-তিনটি ব্যাগ কোলে, পাশে

কখনো গোল করা খাতার বান্ডিল

তবুও উল বুনে যেত একমনে।

বুঝতে পারতাম অভ্যাসে বুনছে উল।

চাকরির সুবাদে গম্ভীর থাকলেও

দৃষ্টিতে বুঝতে পারতাম 

তার হৃদয়ের মেঘটা

কোথায় যেন বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে।


বদলে গেছে অভ্যাস 

এখন উল বোনেন না

মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন,

মানে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন।

আরো মনোযোগে গম্ভীর হন।

কিন্তু মেঘটা আরও জমাট দেখি।


অবসরের দোরগোড়ায়

তবুও ফাঁকা সিঁথিতে আজোও।

জানা হলো না কিছুই 

মেঘ সরাতে আজকে কি কিছু বলবো!

রণজিৎ রায়

সন্ত্রস্ত আগমনি পথ 

অমর প্রেমের অকাল মৃত্যুর স্মৃতিসৌধ এ নয়

শিল্প কলায় সমৃদ্ধ এক ইমারত

স্থপতির মনের খেয়ালে অদ্ভুত ঝলকানি

হয়তো আগুনে পোড়াতে সামান্য বাকি

রাজা-বাদশার প্রেম কাঁচকঙ্কনের মতো ভঙ্গুর।


খাঁটি দুধ-কলা দিয়ে মসৃণ লিঙ্গকে কত সাধনা

ভাং খেয়ে পেত্নিকে জড়িয়ে থাকা বর

তিন প্রহর  টিকে থাকা আধুনিকার দুঃসাধ্য

তথাপি তেমন বরেরই আরাধনা

সংস্কারের পথে হাঁটলেও মনের কামনা অন্য।


প্রথম প্রেমের বিরহ বেদনায় হৃদয় ভেঙে দুরমুস হলে

দুচোখে দৃষ্টি নিয়ে অন্ধের মতো হাতড়ায়

এমন মানসিক অসাম্যের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা--

সমকামী, বৃহন্নলা না রূপান্তরকামী ?


পৃথিবীর যুক্তিবাদী চোখ ধ্রুবতারার মতো

অতন্দ্র প্রহরী

অলৌকিকতার ঝুলি নিয়ে

মহাপুরুষের আগমনি পথ আজ সন্ত্রস্ত !

সুমন ব্যানার্জী

ঢেউ মেলানোর ছবি 


ঝুপ তাল আর চুপ তাল

তাতেও নড়ছে না গো শহর,

আসছে বছর আবার হবে

মন খরচের বহর।


জানলা খোলা পরী,বার

আরের বেলায় রবি,

পাহাড় তুলে রাখে

এক ঢেউ মেলানোর ছবি।


কবির কথায় জল

শোনা ছোট্ট নদী ফুল,

হঠাত রবার দিয়ে

সবাই মুছতে যাব ভুল।


শুরুর কথা হয়

জীবন, আবার শুরু যেন,

বার বার ভালোবাসি

তাই উড়ছি যে এখনো... ।

নীলমাধব প্রামাণিক

অভিমুখ 

আমাদের কি সেভাবে কোথাও 

যাবার আছে !

যেখানে খুশি যে যার মতো চলে যাচ্ছে ।


এখন মুশকিল হলো যেটা 

মোটেও ঠিক ঠাক বোঝা যাচ্ছে না

কে কোন দিকে যেতে চাইছে ।


চলার পথে কেউ কেউ ভুল করে 

একাধিক দিক বেছে নেয় ।

খানিক এদিক খানিক ওদিক ঘুরে 

ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে দিকহারা হয় ।


কারো চলা মনমতো নয় আদৌ 

এক দিকে মুখ করে দাঁড়ালে 

বাবা মা ঘুরিয়ে দিচ্ছে অন্য দিকে ।

মায়া রানী মজুমদার

বট বৃক্ষ  

সুবিশাল এক বটবৃক্ষের,শস্য হেন বিচি।

পক্ষীরা সব বৃক্ষ ডালে করে কিচমিচি।। 

আত্মরক্ষায় বৃক্ষডালে পক্ষী করে বাসা। 

ছোট বড় বাসা বাঁধে,করে অতীব খাসা।।

ঝড় বাদলের ঝাপটায় কভু বাসা'ই নষ্ট।

তাই'না দেখে  পক্ষীদের হয়  খুবই কষ্ট।।

ছোট্ট পক্ষীছানা ওরা,উড়তে নাহি পারে।

আচমকা ঝড়'ঝাপটায় নিচে যায় পড়ে।। 

কারো যায় পা ভেঙ্গে, ও কেউ যায় মরে।

অসহায় মা'পাখী তখন কি'ই আর করে।।

বোবা পক্ষীরা তখন শুধু অদৃ্ষ্টেরে দোষে।

দিন রাত নীরবে শুধু, চক্ষু নীরে ভাসে।।

পথিকেরা নেয় বিশ্রাম বট-বৃক্ষ ছায়ায়।

শীতল পবনে জুরায় দেহ স্নিগ্ধ'মায়ায়।।

রাখালেরা বাজায় বাঁশি, তরুতলে বসে।

স্নিগ্ধ ছায়ায় মুগ্ধ মায়ায় বৃক্ষপত্র খসে।।

দারুণ আবেগে বাজায় রাখালিয়া সুর।

করুণ বাঁশির সুর, ভেসে যায় বহুদূর।। 

সহ্য করে রৌদ্রতাপ,বটবৃক্ষ দানে ছায়া।

ছায়া দানে মাতৃহেন স্নেহ, মমতা, মায়া।।