Jul 20, 2021

রুনা নন্দী

হলুদ বনের প্রজাপতি

চোখে চোখে দেখা ,মৃদু হাসি রেখা।

তারপর দূরত্ব  গেলো কমে

এলো কাছাকাছি।

মনের ভিতর একনদী ঢেউ,

চোখ ভরে উঠলো জলে।

 সূর্যটা সরে গেছে,

বেশ কিছুটা দূরে।

এমনসময়--

একজন শার্টের কলারটা ঠিক করে দিল,

অন্যজন   শাড়ির আঁচল।


ঝড় এলো, শুরু হোলো বৃষ্টি--

গাছের তলায় ভিজছে দুজন


যদিও একসময় বৃষ্টি  গেল থেমে

তবু আজ থামবেনা ওরা।

একসাথে হেঁটে যাবে 

ওরা হেঁটে যাবে পৃথিবীর পথে।

Jul 19, 2021

কল্যাণ দাস

মিষ্টি স্বপ্ন 

স্বপ্ন বীণার তারে , এক সুমধুর তানে 

সুর ধরেছি নাম না জানা 

প্রভাত পাখির গানে।

সে যে আপন মনে গান গেয়ে যায়

মিষ্টি সুরে হিমেল হাওয়ায়,

মোর জানালার পানে।

তার মনের কথা আমার কানে,

শোনায় সে তার সুরের টানে,

সাতটি সুরে শুনিয়ে সে গান

মন ভরিয়ে যায়।

আমি হয়ে মগন  বাজাই যখন

বহে বাতাস  জাগে তপন,

বীণার তারের ঝংকারেতে

নাচে পাখি  হাসে ভুবন।

ফুল কলিরা ডালে ডালে

নাচে সুরের তালে তালে,

মৌ পিয়াসী ঐ ভ্রমরা

আপন সুর ই যায় যে ভুলে।

সহসা সেই  বীণার তারে

রবির কিরণ  উঁকি মারে,

উষ্ণ পরশ চোখের পরে

নিল আমার ঘুমটি কেড়ে।

বন্ধ খিলে হাতটি তোলে

জানালাটা তাই দিলাম খোলে,

মিষ্টি স্বপ্ন গেল চলে

নাম না জানা  পাখির দলে ...

সো ওম্

শেষের সেদিন

ভুলিনি শেষের সেদিন, অস্তরাগ এর শেষ দিন,
ভুলে থাকার সহজ পাঠ, শিখিনি যে কোনদিন,

মুছে গেছে দিন মুছে গেছে রাত মুছে গেছে রাতদিন,
মুছে দিলে সব নিজ হাতে তবুও স্মৃতিটা অমলিন,
দুরন্ত দুটো পথ এসে শেষে  মিশে ছিল একবাঁকে,
সবুজে সবুজ বনানী হয়ে  এগিয়েছে এঁকেবেঁকে,

সহসা এক বালিঝড় এসে ঢেকে দিল দিকবিদিক,
ঝড়ের আড়ালে লুকিয়েছো তুমি একা পথ আমি এদিক,
তোমার পথরেখা হল যে বিলীন তোমার-ই বালিঝড়ে,
ঝড়ের এপারে দাঁড়িয়ে আজ‌ও পথ খুঁজি প্রান্তরে।

ভুলিনি শেষের সেদিন, অস্তরাগ এর শেষ দিন,
ভুলে থাকার সহজ পাঠ, শিখিনি যে কোনদিন-
ভুলিনি শেষের সেদিন, অস্তরাগ এর শেষ দিন,

ভুলে থাকার সহজ পাঠ, শিখিনি যে কোনদিন।।

বদরুদ্দোজা শেখু

জাতিস্মর

সবুজবরণ বসুন্ধরা ,মেঘবরণ চুল

জলভারের শ্রাবণ-মেঘে রাত করেছে ভুল

উলুঝুলু যায় উড়ে যায় দিগন্ত পাহাড়

আকাশমাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় দিব্য একাকার,

নামে যখন অঝোর ধারায় , সোঁদা মাটির গন্ধে

দিগ্বিদিকে পরব শুরু মাতোয়ারা আনন্দে

ছন্দে জাগে ঊষর মরু তরুলতা অরণ্য

ফিরে আসে বসুন্ধরার তারুণ্য লাবণ্য,

বন্য ভাষায় ভাসে মেদিনী পদ্মা ব্রহ্মপুত্র

দুঃখসুখের ভেলায় ভাসে জীবন বিচিত্র ---

মরুতীর্থে হিল্লোল উঠে , কারুকৃত্যে ভিক্ষা

কখনো ভাসান কখনো পাষাণ উদ্গ্রীব প্রতীক্ষা,

তার অবদান প্রাণের ধারা দুঃখ খরা বন্যা।

বাদলধারায় মেঘেরা হারায়, জলজন্মের কন্যা

বাষ্পজন্মে মেঘজন্মে চক্রপরস্পর

পূর্বজন্মে জেগে থাকে আদিম জাতিস্মর।।

রণদীপ সিংহ

ধুপ কাঠি   

একটি ধুপ কাঠি স্বর্গের ছোঁয়া -

এনে দেয়,----

যখন, আমার মা লাল পাড় --

শাড়ি পরে - দুর্গা-- লক্ষ্মী-- 

কিংবা জগদ্ধাত্রী মাকে অর্চনা করে।


একটি ধুপ কাঠি অমরাবতীর সুখ এনে দেয়,--

যখন, কোন প্রবীণ ব্যক্তি স্নান

সন্ধ্যা আহ্নিক সেরে,

দোকান খুলে গণপতি বাপ্পা কে

ধুপ কাঠি জ্বালিয়ে দেয়।


একটি ধুপ কাঠি তে,--

স্বর্গীয় সুখ অনুভূত হয়,

যখন , কোন মন্দিরে --

পূজারী ধুপ জ্বেলে আরতি করে।

মনে হয় মর্ত্যের যতো সুখ,

এই দেবালয়ে!

লোভ - লালসা - কাম - ক্রোধের

উপরে যার স্থান!


একটি ধুপ কাঠি অতন্দ্র প্রহরী

যখন কোন পোয়াতি নারী,

সাঁঝের বেলায় পাশের বাড়ি যায়    


একজন ড্রাইভার জানে,

একটি ধুপ কাঠি তার--

সারাদিনের শুভ সূচনার ,

একমাত্র হাতিয়ার!


আবার এই ধুপ কাঠি দুঃখ সাগর

যখন, উঠোনে শায়িত লাশ!

চারদিক ঘিরে আছে তাঁর ,--

আত্মীয় - পরিজন।

মাঝখানে শায়িত অকাল মরনে ,

চলে যাওয়া স্বজন!

শিয়রে তাঁর ক' টি ধুপ কাঠি --

আপন মনে ক্ষয়ে চলেছে ,

শবদেহের মতোই তাঁর মৃত্যুর -- শেষ প্রান্তে !


একটি ধুপ কাঠির গন্ধ তখন --

সৌরভ দেয় না,

দেয় এক বুক হতাশার,-

নিদারুণ অনুভূতি!

চলে যাওয়ার বেদনা 

ক্ষয়ে যাওয়া র যাতনা

এক ঘোর অমানিশার ,--

অসহনীয় যন্ত্রনা !!

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

প্রস্তরীভূত নবান্ন

পাঁচতারা হোটেলে বেবীদের সাথে আমরা নবান্ন নবান্ন খেলছিলাম!

তখন সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় দুলে উঠলো ধানশীষের মুখ

ডায়োড লাইটের প্রচুর জোছনা রুখে দিচ্ছিল চাঁদের মহিমা

বিশাল বাথটাবে ছায়া ফেলছিলো পূণ্যিপুকুরের দীঘি।

শ্রমজীবি মার্বেল-পাথরের দেয়ালে

উঁকি মারছিলো শতাব্দীর প্রস্তরীভূত মানুষের হাত।

কেক-কাটা, মোমবাতি আর পপ মিউজিক জ্বালাবার শব্দে শব্দে

কতগুলো মৃত আবছায়া একসাথে শুরু করলো গণসংগীত 

ব্রোঞ্জ স্ট্যাচুটার পাদানি থেকে গড়িয়ে পড়লো লাল মদ

মনে করিয়ে দিল গ্রামান্তরে জোতদারগুলোর শীতল রক্ত।

অনেকগুলো আত্মা পাঁচতারা বিল্ডিংএর ছাদে তখনো কাঁদছিলো -

কারণ নবান্নের মাসে এইসব কৃষকেরা আত্মহত্যা করেছিলো!

রঞ্জিত চক্রবর্তী

ও মানুষ তুমি কী চাও

ও মানুষ তুমি কী চাও

তোমার অস্তিত্ব হোক বিসর্জিত

তোমার স্নেহের টান থাক তোমাতেই সীমিত?

তোমার আগমন কী শুধু-

স্বপ্নমাখা বিলাসের দাঁড় টানতে

তোমার জন্ম কী শুধু-

ধন, জীবন, যৌবনের খেলা খেলতে?

তোমার গৃহস্থ জীবন শুধু কী-

আমার আমিকে ধরে রাখতে?

তুমি না মানুষ‌!

মন থাকেনা মানুষের ভিড়ে।

তোমার কী পড়ে না চোখে 

কত দুঃখের জাগরণ

তুমি সে রূপ দেখেও চেয়ে থাকো।

ও মানুষ তোমার বুকের কপাট খোলো

মরার আগে প্রতিদিন একবার ভাবো

দেওয়া আর নেওয়া

যাওয়া আর আসা ছাড়া

কিছুই নেই তোমার

তুমি যে মরণশীল।

Jul 18, 2021

দুলাল চক্রবর্তী

ইন্দ্রধনু

গোধূলীর শেষ লগ্নে

তরী খানা তীরভূমির দিকে

ক্রমশঃ এগিয়ে চলছে।

দুটি চোখ যেন ঝিমিয়ে পড়ছে।

অবসন্ন এ দেহ, তবুনেই অবসর।

শ্রান্ত- ক্লান্ত মন

ব্যাকুল প্রত্যাশা ছিলো--

গোধূলীর রক্তরাগে মিলাবো

হিসাব,

স্মৃতিগুলি জমেছে নিরন্তর।

আকাশের নক্ষত্ররাজি

আলো জ্বেলে দিয়েছে--

তারই মাঝে খুঁজি তব

নীল আঁখিজোড়া

শুধু অনুভব আর অনুভব।

স্বপ্নের বাসরে ছিলো

তোমার নব সাজ,

উদ্বেলিত চোখে আপন খেয়ালে

স্বপ্নঘোর রচিয়াছি আমি।

সেই সোনাঝরা দিনে আমি

পাইনি উত্তর।

সম্বিত ফিরে পেতেই

বুঝিয়াছি আমি--

ভেঙে গেছে খেলাঘর,

তমসায় আচ্ছন্ন।

বেদনার ভিক্ষাভান্ডে

জ্বালায়ে আগুন ভূলুন্ঠিত সমস্ত

আবেগ--

একাকীত্ব করেছে গ্রাস

ক্রমে ক্রমে,

মনের মাধুরী সাহারার বুকে

হয়েছে গ্রাস,

বিদগ্ধ মনের গোপণ আস্তানায়

নেই কোন প্রাণের ইঙ্গিত।

সুব্রত ভৌমিক

শুভ্রতা

না তুমি ব্যথা নয়,

উৎসের নবীন পাতা।

বিষন্ন দিনে যতই কাঁদ,

শেষে হবেই হাসা।


হয়তো আজকে আঁধার রজনী

শোষণের কারাগার।

বর্ষা ঋতুতে জাগ্রত হবে

বসন্তের পারাপার।


রৌদ্র স্নাত দিনের সময়,

ক্লান্ত বিকেল আশার।

সাঁঝের বাতির শুভ্র আলোয়

ঘুচবে রাতের আঁধার।


অনুকূল নয়, ভুলে ভরা হলে

পাকের আঁধার পাবে।

প্রতিকূল চল, জোরটা তোমার

শক্তি যোগান দেবে।


পর্ণমোচী পত্র মোচনে

আশার আলোয় থাকে।

ষষ্ঠ ঋতু আসবে যখন,

উঠবে নতুন ঝাঁকে।


নাপাওয়া শোকে বিভোর হয়ে

ভুলেভরা স্রোতে নয়।

প্রতিরোধ গড়ে প্রতিকূল চল,

হবেই আলোকময়।

রাজীব পাল

জল সমাধি

অমৃত বেলায় রাধা কুন্ডে যত পদ্ম ফুটে,

কাদামাটির গর্ভে শালুকে তাদের জন্ম।


মৃণাল শালুক হতে জল পথ ভেদ করে,

উঠে আসে জল আর বায়ুর সন্ধি স্থলে।


তার শিরে বয়ে আনে পদ্ম কলি,

বায়ুর ছোঁয়ায় কলি ফুল হলে-

স্থান হয় দেবালয়ে।


পড়ে থাকে শালুক- মৃণাল অতলে অবহেলিত -

চোখে বুকে এক পুকুর জল সমাধিতে।

সৈকত মজুমদার

অনলাইন রিলেশন

তোমার সাথে আমার প্রথম আলাপ 

ইনস্টাগ্রাম থেকেই

তারপর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার 

তোমাকে আগে সেভাবে চিনতাম না। 

পরে তোমার টাইম লাইনে কিছু ছবি দেখেছি 

বেশ আকর্ষণীয় বটে,

যখন একে অপরের প্রেমে পড়ি আমরা

তখন আমাদের পরিচয়ের মাত্র এক মাস


তারপর রোজ সকাল দুপুর সন্ধ্যা

আমাদের কত কথা, 

রাত ঘুমোতে যেতেও একবার ভিডিও কল

অথবা একটা সেলফি চাই,

দুজনের পরিবারের সদস্যদের 

নানান বাধা বিপত্তির পরও

আমরা যোগাযোগ বন্ধ রাখিনি।

আমাদের ঘুম হত না

একদিন একবেলা কথা না হলে

মন কেমন করত দুজনের। 


আমাদের কত পরিকল্পনা ছিল 

এই সাময়িক অনলাইন রিলেশন 

একদিন পূর্ণতা পাবে, কিন্তু

আমাদের প্রেম অপূর্ণ রয়ে গেল আজও


তুমি হঠাৎই 

যোগাযোগ ছেড়ে দিলে গত লক ডাউনে,

তারপর আমি কত কবিতা লিখেছি

কত বিরহের স্ট্যাটাস দিয়েছি

তুমি আর দেখোনি, অথবা 

অন্যের মোবাইল থেকে দেখেছ 

আমার অজান্তে বোধহয়


আচ্ছা, কখনো ভেবে দেখেছ কি 

একটা সময় আমরা কত কথা বলতাম,

আর এখন আমাদের কথাই হয় না;

আমি ভাল নেই, অথচ 

তুমি দিব্যি আছ

ফেসবুকে নিজের ফটো আপলোড করছ;


তুমি কেমন বদলে গেছ!

সময়ের সাথে সাথে মানুষ 

এতটা বদলে যায় 

তোমার সাথে পরিচয় না হলে জানতেই পারতাম না।

একটা সময় তুমি যাকে পাগলের মতো চাইতে

আজ তাকে এমন ভাবে দূরে ঠেলে দিলে

যেন আমার সাথে কখনও কথাই হয়নি তোমার।

সম্পা বৈদ্য

জীবনের মানে

বহুবার বহু হাহাকার 

জমেছে হৃদয়ে গভীর আঘাত।

রোগ জরা মৃত্যুতে কেঁদেছি আমি

নিস্তার নেই জেনে।

এইটুকু বুঝে একদিন রাতে 

ভেবেছি পালাই স্বামী পুত্র সংসার ছেড়ে।

খুব সন্তরপনে নামছিলাম যখন বিছানা ছেড়ে। 

ছেলে বলল "মা যেও না আমায় ছেড়ে!"

শুদ্ধোধনের পুত্র

সিদ্ধার্থ তুমি।

তুমি মহামানব।

ঘুমন্ত স্ত্রী সন্তানরে  রেখে 

ঘর ছেড়ে খুঁজেছিলে জীবনের মানে।

সেই জীবনের মানেই 

খুঁজে চলেছি নিরন্তর।

 নিস্তার নেই রোগ,জরা,মৃত্যু থেকে।

 জেনেও নিরলস বেঁচে আছি।

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ


অজানা সন্ধান

দীর্ঘ বাদল গর্জে গেল মাথার উপর,
অজ্ঞানতায় কেটে যাওয়া এক পক্ষকাল।
মৌনতা আর অসারতার জীর্ণ আবরণ ছুঁড়ে ফেলে,
উঠে বসি একবুক নড়বড়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করে ।
কি যেন তাড়া করে চলেছে সমস্ত অন্দরমহল জুড়ে।
অতঃপর,
উইপোকাদের অধিকৃত কাটাকুটি কাগজের ভাঁজ খুলে আবিষ্কার করি,
মেটো গন্ধ মাখা আধভেজা
টুকরো টুকরো ঝাপসা স্মৃতি।
অস্ফুট স্বরে কি যেন বলতে চাইছিল সেদিন ওরা
আমার আঙুল জড়িয়ে।
ভেবেছিলাম শুনবো সেদিন
সময় নিয়ে সব অজানা কথা।
হঠাৎ করেই শুরু হলো ঝড়ো হাওয়ার মিছিল।
মুহূর্তেই আঙুল ফসকে উড়ে গেল ওরা হাওয়া দের গায়ে ভেসে।
জানার পথে অজানারে খুঁজে বেড়াই আজও।
ক্লান্ত, আজ বড্ড ক্লান্ত প্রাণ।
তবুও যেন খান্ত হয়নি
বুক জুড়ে ধেয়ে চলা,
সেই আধভেজা স্যাঁতসেঁতে কাগজের ভাঁজে লুকোনো আমার অজানা সন্ধান।

দেবব্রত সুত্রধর

বাঁচার প্রত্যাশায়

আশা যখন ভেঙ্গে যায় নিরাশারা উঁকি মারে অন্ধকারে,

তখন একটি বিলুপ্ত তারা ঝাপসা আলোয় বেরিয়ে আসে আকাশ-বাড়ি উঠোনে,

স্থিমিত আলোয় হাত বাড়ালেই যেন খোঁজ পাই আমার মৃত দেহ,

অজগরের মত চলছি সহস্র বছর ধরে, 

পচন ধরেছে অনেক আগেই

কিছু ঔষধী বীজ রেখেছি বলে গন্ধটা সবাই পায়না,

যারা পায় তারা পাশ কেটে যায় আমার সিমান্তের ওপার দিয়ে,

তখন নাম না জানা এক সিমান্ত আরোহী আমার কানে কানে বলে যায়

'মানুষ মরে প্রতিনিয়ত মরে

এক একটি বাঁচার প্রত্যাশায়'!

সম্রাট পাল

অসুখ

এই ধুলাশরীর নিয়ে 

একাকী দাঁড়িয়ে আছি

শূন্য পৃথিবীর ক্রোড়ে


তারাভেজা রাতের ক্ষীণ আলোয়

ক্ষয়ে যায় ঘুমের রেণু


অসুখের পৃষ্ঠাঙ্ক দেখে

ক্রমে এপাশ থেকে ওপাশ ফেরে মহাকাশ

দাঁড়িয়ে দেখি 

কীভাবে জেগে থাকে মানুষ

তন্দ্রাতুর বিছানার গায়ে

সুমন পাটারী

অকালবৃদ্ধের গান

দেখো লেখার জন্য যে বিকট অন্ধকার দরকার

তা আমার কাছে নেই,

বাঁচার জন্য যে উজ্জ্বল আলো দরকার

সে পরিমান আলোও নেই আমার কাছে। 

ভালোবাসবার মতো বিরাট হৃদয় আমার নেই,

ভালোবাসার ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য

সমপরিমান কৌশল ও বুদ্ধি আমার মাথায় নেই।


উড়া তো দূর,

হাঁটার জন্য যে মাটি

তা আমার পায়ের তলায় নেই।

আঁকড়ে ধরার জন্য

যে হাত ছিলো তা রূপোর তারের মতো

ঝালাই হয়ে লেগে আছে

ফেলে আসা মানুষের ফাঁটলে ফাঁটলে,

ন্যাঁড়া মাথায় চুল গজালো বৃদ্ধলোকের

ফুল ফল হয়ে কখন বীজ পুতে দিলো,

বামন কখন লম্বা হয়ে ঘরের মুঠোয় ঢুকিয়ে নিলো চাঁদ

আমি ভাবতে ভাবতে কখন বেলা কোথায় গেলো,

ঘড়ি নেই, কম্পাস নেই,

কি করছি এখানে? বলতে পারো-- কোথায় যাবো?

ডাঃ লিয়াকত আলি লস্কর

তোমার দেওয়া গোলাপ

আজ সেই রোজ ডে।

আমার হাতে হাত রেখে,

তুমি তো বলছিলে 

"তুমি আমার সব"

আমার হাতে হাত রেখে,

তুমি তো কেঁদে ছিলে

"আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না"

সেদিন একটা গোলাপ দিয়ে বলেছিলে

"আমি তোমাকে ভালোবাসি"

আমি তোমাকে ছাড়া ,

এক মূহুর্ত বাঁচবো না।

আমি তোমাকে সেদিন বোঝাতে পারিনি।

আমি বললাম , তুমি বড়লোক,

কত সুন্দর তুমি, মায়াবী,

আভিজাত্য আর অলংকারের 

মোড়া তোমার পৃথিবী,

তুমি আমার সাথে থাকতে পারবে না।


তবুও তুমি জেদ করলে।

আমার মুখটা চেপে ধরে বললে,

আমি তোমাকে ভালোবাসি

আর তোমাকেই চাই।

পৃথিবীর কোনো শক্তি 

আমাদের কে বিচ্ছিন্ন করতে

পারবে না, তুমি আমার,

আমি তোমাকে ভালোবাসি।


আমার সব সত্তা দিয়ে 

তোমাতে হারিয়ে গেলাম।

তোমাকে দেখতে পেলাম,

শরতের শিশির ভেজা ঘাসে।

তোমাকে দেখতে পেলাম ,

বিকালের রামধনু রঙের মেলায়।

তোমাকে দেখতে পেলাম ,

সন্ধ্যার হংস বলাকার দেশে।

তোমাকে দেখতে পেলাম ,

একফালি চাঁদের আলোয়।

তুমি আটকে গেলে ,

আমার হৃদয় জুড়ে,

অন্তরের গভীরে অন্তরস্থলে।


তারপর একদিন বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় ,

তোমাকে জোর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসালো।

তোমার কিছু করার ছিলনা।

প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেললে।

তুমি চলে গেলে,সবার অজান্তে ,

তোমার আর কোন খবর নেই।


তোমার দেওয়া  গোলাপ টা এখন 

ব‌ইয়ের ভাঁজে আমি যত্ন করে রেখেছি 

শুকিয়ে গেছে ,

আর তার সুবাস ও নেই,

এখন তার পাপড়ি গুলো 

ব‌ইয়ের পাতায় জমাট বাঁধা।


তুমি আমার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে

হাত ধরলে এক অভিজাত পরিবারের।

অসহায় ,আশ্রয়হীনদের ভালোবাসার

কোন দাম নেই।

কিন্তু আমি আজো ও তোমাকে ভালোবাসি 


তাই এই রোজ ডে তে,

প্রতিবার আমি 

এই গোলাপটার দিকে তাকিয়ে থাকি,

হয়তো তুমি কোনো দিন  

ফিরে আসবে।

আমার কাছে ।।

রঞ্জন ভাওয়াল

ভাবনা

তুমি আমার রাত জাগা নো পাখি

স্বপ্নে ভরিয়ে যাও-

ভোরের বেলায় কোথায় হও যে উধাও

বেদনায় ভরে উঠে আঁখি।


দিনের বেলায় ভাবাও আমায়

আসবে কি তুমি আমার রাতের পাখি?

মন লাগেনা কাজে, আকাশ পানে দেখি

ভুগবোনা তো কেবল নিরাশায়।


মুগ্ধতায় দেখি নীল আকাশ

সারা সকাল বিকাল দু'বেলা,

তোমর সাথে লুকোচুরি খেলা

মন ভরিয়ে দিলে বিপুল আশ্বাস।


সন্ধ্যা বেলায় বাতায়নে বসি

ভাবি আসবে আমার রাতের পাখি,

আমি থাকবো না একাকী

 ভরবে মন -উতল হবে হাসি খুশি।


হঠাৎ কখন ফিরে এলে ইচ্ছে ডানা মেলে

আনন্দে চিৎকারী তারস্বরে,

আমার অতিথি ফিরেছে মোর দ্বারে

মনে হয় কোন মায়ায় ছলে।


থাকবো না আর গৃহ বন্ধনে আবদ্ব

যেথায় নেই দূষন- ঘৃণা বিচ্ছিন্নতা,

আছে শুধু প্রেম, শান্তি-মানবতা।

চলবো পথে থাকবে না ধরার সীমাবদ্ধ।

মোঃ রুবেল

আমি ঈশ্বর দেখেছি

যতবার তোমাকে ভালোবেসেছি,

ঈশ্বরের মতো ভালোবেসেছি।

কারণ তোমার ভালোবাসাও অসীম।

যেমন অসীম ঈশ্বরের।

আমি ঈশ্বর দেখেনি,

দেখেছি তোমাকে।

একটি নিঃসঙ্গ সময়ে ঈশ্বর যেমন বন্ধু হয়,

তেমনি তুমিও।

ঈশ্বরের চোখে ক্রোধ,ঘৃণা,অভিমান নেই

শুধু ভালোবাসা ছাড়া।

তেমনি তুমিও ভালোবাসা বিলিয়ে দাও আমায়।।

তুমি আমার ঈশ্বর।

আমি যাকে রোজ চোখে দেখি,

এক  ঈশ্বরীয় প্রেম নিবেদনের আদলে।

লিটন শব্দকর

অথচ শ্রাবণমাস

কথা হয় রোজ নক্ষত্রের বারান্দায়

তারায় তারায় রাত গুটিগুটি পায়ে

অথবা শ্রান্ত বৃষ্টি নামে জলের ঘুমে।

যদি আসো খবরের জাহাজঘাটায় 

তুমিও সেদিনের অচেনা গল্পকথায়,

প্রতিটি বিকেলে মরমের জানালায়

ঠিক এক কাপে সাদা ধুয়ো ওঠা চা

আর এরকম ম্যাগনোলিয়া এখনো

ধরা দেয় কিনা কোথাও-খবর দিও

একশোটি বছর পর শ্রাবণের শেষে 

শাড়িতে পাগলঘ্রাণটাই মেখে নিয়ো

ডেকো আমায় বোধের বারান্দাটায়।