Jan 30, 2023

প্রদীপ কুমার মাইতি

সেই ছেলেটা

যে ছেলেটা কলেজ ক্যাম্পাসে
ছিল সবার সেরা,
কাজ না পেয়ে ঘুরে বেড়ায় 
জীবন দিশেহারা। 

সেই ছেলেটা মিছিল করে
ঝাণ্ডা নিয়ে হাতে,
শিক্ষান্তে কাজের দাবি
অধিকার ফিরে পেতে। 

সেই ছেলেটার অপরাধ শুধু 
কাজের দাবি ছিলো, 
পুলিশ ভ্যানে বন্দী হয়ে
লালবাজারে গেলো। 

সেই ছেলেটা হসপিটালে
পাঞ্জা লড়ে একা,
সুকান্ত-নজরুলের কবিতা গুলো
বলে যায় একা-একা। 

সেই ছেলেটা কেমন আছে? 
জানতে ইচ্ছা করে,
কাজের দাবিতে শহিদ হয়েছে 
পুলিশের  অত্যাচারে।

শৈলেন দাস

পাপ 

পাপের ঘোড়ায় পরিপূর্ণ আজ মানব জাতির গ্রহ
হয়তো এবার নিঃস্ব হয়ে
নুতন সৃষ্টি হবে।সাজবে 
আবার প্রথম থেকে অপূর্ব রূপ নিয়ে।স্থাপন হবে সর্বস্ব আবার,বিনাশ প্রায়
ঘনিয়ে আসছে আতঙ্ক তাই বেড়েই চলছে.......

অনুভব ধর রায়

চিঠি দিও

চিঠি দিও,
তোমার না বলা কথাগুলো লিখে—
হলদে খামে কিংবা পাখির পায়ে বেঁধে,
পাঠিয়ে দিও; আমার মনের কোনো এক দিকে।

চিঠি দিও,
শত যান্ত্রিক বাঁধা উপেক্ষা করে,
স্মার্টফোনে কথা কিছুদিন বা নাই হোক!
তোমার হাতের স্পর্শে উজ্জ্বল হোক—সেই চিঠিখানা।

চিঠি দিও,
তোমার রোজ ভালোবাসার অভ্যাসে,
শত ব্যস্ততার ফাঁকে; আমি সেই চিঠি পড়ে নেবো,
যতই জোৎস্না ভর্তি হয়ে চাঁদনী রাত আসুক—
কিংবা বৃষ্টি হয়ে ভিজুক সেই চিঠিখানা!

চিঠি দিও,
তোমার মন খারাপের দিনে,
না কোনো আন্দোলনে,
আকাশের ঠিকানায় লিখে কিংবা মনের সকল অভিযোগ জানিয়ে দিও,
তবুও চিঠি  দিও!
তোমাকেই শুধু লিখে দিও।

চিঠি দিও 
ঐ যৌবনে ফিরে গিয়ে নয়,
মনের কথা লিখে দিও—
এই যুগ যেন স্নিগ্ধ হয়।

স্বপন দেবনাথ

দাস মহল (গল্প)

প্রথম পরিচ্ছেদ

খুব ব্যস্ত আজ দাস বাড়ি । চারদিক আলোক সজ্জায় সজ্জিত, সকলের চোখে মুখে অনাবিল আনন্দ ,আত্মীয় স্বজনদের ভিড় জমেছে আজ 'দাস মহলে'। অনেক দূর দূরান্ত থেকে গরিব দুঃখীও আজ এখানে আমন্ত্রিত, কারণ দাস মশায় হাজার হাজার জন গরিব দুঃখীদের খাদ্য-বস্ত্র বিতরণ করবে । বলতে গেলে খুব বড়ো মনের মানুষ তিনি । গ্ৰামে গ্ৰামে বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন অন্তত ছয় - সাত খানা তো হবেই , শুধুমাত্র গরিব দুঃখীদের কথা ভেবে। তাদের তো দূরের নামি দামী বিদ্যালয়ে পড়ার সামর্থ্য নেই, তাই । শুধু তাই নয়, উনার গ্ৰামে উনার মায়ের নামে অর্থাৎ 'শান্তিময়ী প্রাথমিক হাসপাতাল' নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন , সেটাও গরীবের কথা চিন্তা করে । 

         আজ হ‌ইহুল্লুর গরম হয়ে আছে মহল । যদিও বিয়ে বলে কথা। ছোট ছেলে বিনয়রাজের বিয়ে , পাশের গ্ৰামের পৃথ্বিরাম দাসের মেয়ের সাথে । দুজনেই ছিল বিরাট জমিদার, গ্ৰামে দুজনের স্থান‌ই ছিল সকলের ঊর্ধ্বে। তাদের মধ্যে খুব সুন্দর এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল । এই বন্ধুত্ব সেই ছোট বেলা থেকেই। আজ এই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে, সেই ভেবে ভেবে দাস মশায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছেন।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

তবু ভালোবাসি

অনেক শব্দের মিলন শেষেও কবিতা হল কই!
প্রাণসঞ্চার করতে সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটিয়ে তবেই 
নীরবে চেতনার গভীরে অকপটে আলোর রেণু ফোটে 
ধরতে গেলেই ফানুস হয়ে দিকশূন‍্যপুরে ছুটে।
বাক‍্যবন্ধের ছলনায় কত আঁকিবুকি শেষে 
মায়াজাল রচনায় ব‍্যর্থ আমি থাকি বসে।
কুয়াশায় ঢাকা চরাচরে, পাহাড় নদী একাকার 
ইন্দ্রজাল ছড়ায় সোনালী আভা এপার ওপার
নতুনের সূচনায় গেঁথে যাই অফুরান কথার মালা
ভালোবাসা আর মন্দবাসার পাশাপাশি বসে থাকা।
আমিও এক সহযোগী আখরযাপনে 
এই ভেবে সুখ কিনি 
ভালোবাসি ছন্দকবিতা , কেউ না জানলেও আমি জানি।।

কল্যাণী ভট্টাচার্য্য

আবেগ

উদ্যেম আবেগে চলেছি আমি
ছেঁড়া পাতার টুকরো কাগজে। 
কে হবে গো আমার সঙ্গীনি
মন যে আজ বড়ই মাতাল। 
নিত্যদিনের শেষ কি আছে
দেখবো বলে মন প্রাণ প্রান্তদেশে। 
মহুয়ার বনে চলেছি ছুটে
নিত্যদিনের বাঁচার অধিকার নিয়ে। 
আসব নিয়ে বরন করে
ছায়াতলে বিশ্রাম ধীরে ধীরে। 
শেষের ঘরে কি আছে গো
বাসনা জাগে দেখিবার তরে। 
হিমেল বাতাস দাপিয়ে বেড়ায়
কোথায় মানুষ কোথায় যায়। 
হারিয়ে যায় বহুদূরে
ওগো তুমি কেন আজ বারে বারে চাও বাহিরে।

স্বরূপ দেব

পণ মুক্ত সমাজ গড়ি

গ্রামের এক ছোটো মেয়ে নাম ববিতা
তাকে নিয়ে লিখবো আজ আমি কবিতা,
বাবা মায়ের আদরের একমাত্র মেয়ে
কিছু দিন পরে তার হবে যে বিয়ে।।

ঘর বাড়ি জমি জমা সবই দিয়েছে বেচেঁ,
ব্যাংক ব্যালেন্স যা ছিল
সবই শেষ অবশেষে।।

এইসব দেখে মেয়ে বললো 
কেঁদে কেঁদে শেষে,
সাজিও না আমায় তোমরা 
এমন বধূ বেসে।।

বাবা মায়ের অভাগিনী এই যে মেয়ে
বাবা মায়ের কথা ভেবে কাঁদে চেয়ে চেয়ে।
আদরের ছোটো মেয়ে বাবা মায়ের জান,
অবশেষে ঠিক রাত 12.35
দিয়ে দিল তার প্রাণ।।

মানুষের মানসিকতা কবে পরিবর্তন হবে,
এভাবে সমাজের বুকে কতো 
ছোটো কলিরা আর ঝড়ে যাবে।।

আসুন সবাই আজ 
কর জোড়ে শপদ করি,
সুন্দর ,সুস্থ করে এক
পণ মুক্ত সমাজ গড়ি।।

অলকা গোস্বামী।

ফেলে আসা দিনগুলো।

মেঘলা আকাশ ছুঁয়ে আছে
সুপুরি আর নারকেল গাছের মাথা,
একান্ত আপন, মায়াময় কতকিছু,....,

ছেড়ে আসতে
আবারও মুচড়ে উঠলো বুকটা,
অব্যাক্ত কান্না দলা পাকিয়ে
উঠে আসছিল ক্রমশ।
দিনের শেষ বেলায়
ক্লান্ত ডানা ছুঁয়ে সূর্য অস্ত যাচ্ছিল।
বিষাদের ছায়া পথেই 
সুখের ঠিকানা।
কত কিছু বাকি আছে এখনও।

চিবুক ছুঁয়ে বয়ে যায়
তরল ভালোবাসা।
রাত যত গভীর হয়...
আকাশ নেমে আসে,
চারপাশে গোল হয়ে বসে,
কত তারা,
বিচ্ছুরিত আলোর
জোয়ারে ভেসে যায় যাবতীয়
সুখ দুঃখের গল্প,
আঁধার ফিকে হয়,
ধীর লয়ে উঠে আসে ভোর
আরেক নূতন দিনের চেলি পরে।

শর্মি দে

বিয়োগান্তক যবনিকা?

প্রিয় সুমি,

বিয়োগান্তক যবনিকা? মেনে নেবে?
তোমার অভিধানে তো নেই!
               তাহলে মানবে কেন? 
হয়তো কালের স্রোতে ভেসে যাবে!
খেলতে হবে যে তোমার খেলা।
নয়তো সময়কে থামতে হবে.... 
কর্ম  তোমার বেজায় ফেলা।।

পরিচয়ে কী বা যায় আসে?...মনুষ্যত্ব সবটা!
তবে সফলতা? নিশ্চয়ই কিছুটা।
জীবে প্রেম সর্বজনে..সর্বকালে
জীবনের খড়কুটো?.. কুড়িয়েছ।
হওনি শুধু আত্মহারা পথভোলা।।

টাকার অঙ্ক ?.. বাড়তে পারে
লোভ নেই ,নেই যে লালসা
চাওয়া নয় পাওয়া নয় 
শুধু জীবনকে ভালোবাসা।
হারিয়ে যাওয়া উদাসী হাওয়ায়
ভেসে যাওয়া মেঘের ভেলায়
পাতার নৌকোয় ভাসছ নীরে
পেছন দিকে তাকাও না ফিরে
পৌঁছে গেছ
         যথাস্থানে..যথাকালে।

আবেগে ভরপুর.. আসক্তি হীন
ধৈর্যহীনতা...ছিল না
কোনোদিন
স্বপ্নে বিভোর, বেঁচে আছ তাই
কর্তব‍্যে অটল, এতটুকু দ্বিধা নাই
হওনি শুধু ভালোবাসায় মনভোলা।।

ঈশ্বরে বিশ্বাস ,আছে পূর্ণতায়
মন্দিরে নয় ,আছে জীবাত্মায়।
অহঙ্কার ? অনেকটা, দৃঢ় চিত্তের
মর্মস্পর্শীতা ! টইটুম্বুর, সাথী নিত‍্যদিনের।।

পার না শুধু কান্না চাপতে,
অন‍্যায় মুখ বুজে,সহ‍্য করতে
নি:স্ব, আকিঞ্চন তবু
               দিতে চায় যে মন।
স্বার্থপরতা... নেই যে বারতা
              শুধু আত্মসমর্পণ।।

বিদিতা সেন

তৃষ্ণার্ত আশা

ক্রমশ বয়ে যাওয়া ক্ষনগুলো
হারিয়ে যায় দূরদেশে, 
ক্রমশ ক্ষয় হওয়া আশাগুলো
বিলীন হয় অবশেষে। 

ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুগুলো
মরু হয় আঁখিপরে, 
ক্রমশ শান্ত হওয়া তরঙ্গগুলো
স্থির হয় চিরতরে। 

বক্ষ পাজরে রক্ত বিন্দু গুলো
বেঁধেছে জমাট আজ, 
বাষ্পে ভাসা ভাবনা গুলো
ধরেছে মেঘের সাঁজ। 

তৃষ্ণায় থাকা আকাঙ্ক্ষা গুলো
খূঁজে বেড়ায় জলধারা, 
মনখারাপের কারণ গুলো
যখন করে দিশেহারা। 

অন্ধকারে চলা রাস্তা গুলো
পাবেকি চাঁদের আলো ? 
মনে বসা মন্দ গুলো
উড়িয়ে দেওয়া ভালো। 

ভেসে যাওয়া ভাবনাগুলো
পাবে নতুন আস্তানা, 
তৃষ্ণার্ত সেই আকাঙ্খা গুলো
পাবে সাগরের ঠিকানা। 

ক্ষয় হওয়া আশা গুলো
ফিরে পাবে তার পূর্ণতা, 
চলমান সব ক্ষনগুলো
কেনইবা যাবে বৃথা ? 

ছেঁটে ফেলা ডানাগুলো
আবার চায় উড়তে, 
সুপ্ত মনের ভয় গুলো
আজ বাধ্য দূর হতে।।

দুলাল চক্রবর্তী

দুলাল চক্রবর্তী

দুরন্ত শিশুরা রোদ-বৃষ্টি মানে না
জলে- কাদায় খেলছে তাই,
মনের আনন্দে প্রাণ খুলে চলুক
হাসি- আনন্দ থাকা চাই ।

শৈশবের এই দিনগুলি একদিন
স্মৃতি হয়ে থাকুক মনে,
বাধা-বিঘ্ন বিঁধে না তাদের
জীবন কাটুক সবার সনে।

আদুল গায়ে খালি পায়ে
কাটছে জীবন হাসিমুখে,
শৈশব যেন চুরি না হয়
থাকুক ওরা মহাসুখে।

সুখ-দুঃখের নেইকো বালাই
মুক্ত মনে সবাই থাক,
জীবনের কোন গ্লানি রবে না
স্পর্শ করবে না দুঃখের পাক।

ধনী-গরীব নেই ভেদাভেদ
জীবন চলুক সোজা পথে,
প্রতিষ্ঠা পাক ওদের জীবন
চলুক জীবন জয়রথে।

প্রতীক হালদার

পাল্টে দিলি জীবন খানা 

হঠাৎ করে এসে  মনে 
বাঁধলি সুখের ঘর,
জীবনটাকে পাল্টে দিলি
বইল খুশির ঝড়।

করলি আপন এক নিমেষে 
বদলে দিলি সব,
তোকে পেয়ে বোবা মনে
উঠল কলরব।

হাজার বারণ পেরিয়ে দুজন 
স্বপ্ন দেখা শুরু,
অনেক বাধা,ভাবনাতে তাই
বুক করে দুরু-দুরু।  

কি যে হল মাঝপথেতে 
করলি আমায় একা!
অভিমানের চড়ল পারদ 
দিলি না আর দেখা!

কষ্ট গুলো বুকেই জমে
তবুও দূরে তুই!
বাস্তবেতে পাই না খুঁজে 
স্বপ্নেতে তাই ছুঁই!

সুজন দেবনাথ

নেতাজি হীনা মরুভূমি 

তুমি বলেছিলে রক্ত দিতে 
বিনিময়ে দেবে স্বাধীনতা, 
সেদিন তুমি কথা রেখেছো 
কেটে শৃংখল পরাধীনতা। 

তবু ধরণী আজও কাঁদে 
আখিজল রাখে আঁচলে, 
আনন্দরা পথ ভুলে যায় 
তুমি লুকিয়ে আছো বলে।
 
মা যেন আজও সন্তানহারা 
সদাই দিশেহারা তার মন, 
তোমার মতো দামাল ছেলে
সমাজে আজও প্রয়োজন।

তোমার ত্যাগের স্বাধীনতা
দেখো লুন্ঠিত পথে-ঘাটে, 
পাষাণের মতো চুপটি করে 
তুমি রয়েছো কোন বাটে?

এই শূন্য ভূমি পুণ্য হতোনা 
সেদিন যদিনা আসতে তুমি, 
আজ স্বাধীনতাও অসম্পূর্ণ 
যেন নেতাজি হীনা মরুভূমি।

অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

বন্ধন মুক্তি

এই পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জীব মু্ক্তির আশ্বাসী। 
আর আমরা তো শ্রেষ্ঠ জীব,
 মুক্তির উল্লাসে আমরা সব চেয়ে বেশী খুশি।
বন্ধন কোনো জীবেরই সহজাত প্রবৃত্তি নয় 
সে পরাধীন ভারতের দাসত্বের বন্ধন হোক আর স্বাধীন ভারতের কাঁটা তারের বন্ধন। 
তবে বিশ্বের সব চেয়ে কঠিন বন্ধন হলো
সম্পর্কের বেড়াজালে গড়ে উঠা মোহ মায়ার বন্ধন।। 
আজ আমি সকল বন্ধন থেকেই মুক্তি চাই। 
চাই না মিথ্যে মোহ মায়ার বন্ধনে আটকে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকতে। 
এ বন্ধন চলন্ত হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় 
বাড়িয়ে দেয় শিরা উপশিরায়  প্রবল রক্তচাপ। 
হে সর্বশক্তি মান, হে পরম পিতা,  
তুমি কান পেতে শুন আরাধকের করুণ আর্তনাদ। 
আমি শুধু মুক্তি চাই, মুক্তি ; 
এ জড় জীবের বন্ধন থেকে মুক্তি। 
আমি চাই না অট্টালিকা, প্রাসাদ কিংবা রাজবাড়ী 
যারা চায় তাদের দাও ভূরি ভূরি 
আমি শুধু মুক্তির আশায় তোমার দুয়ারে করি ঘুরাঘুরি।।

ভীম ঘোষ

জীবন অর্ঘ

চোখের ইশারায় বৃষ্টি ঝরছে,
বৃক্ষের ক্ষত স্পর্শ করি
শিহরণে।
স্রোত বইছে বিনিময় হচ্ছে 
কথা ।
কথার নিজস্ব ঠিকানায়,
মহাবৃত্তে শৈশবে।
পরস্পর বিপরিত টানে 
অতি বিষাদ ।
সুন্দরের বর্ণময় প্রেরণায়
মুগ্ধ হচ্ছি ।
চাকা ঘুরছে ভেতরে 
বন বন বন,
উৎপীরণ বাড়ছে সবটাই 
খেলা ।
চুম্বন করি শিশিরের 
সবুজ পাতায়।
সবটাই তুচ্ছ নয় ,
জীবন অর্ঘ সংলাপে ।

শ্বেতা ব্যানার্জী,

ক্ষমাহীন খিদে

শব্দের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত থেকেও আজও পারলাম না জন্ম দিতে প্রকৃত সৃজন । উষ্ণ জমির বুকে 

রক্তাক্ত  শীতলপাটি আর  রয়ে গেল কিছু শীতল স্নায়ুযুদ্ধ।  

শব্দের কাছে কবিতা চেয়েছি,বিনিদ্র রাত তার সঙ্গলাভে সরিসৃপের গরল গিলে অন্তরে উষ্ণতার পাপ পুষেছি, ভেবেছিলাম আমার উচ্ছ্বলতার মাস্তুলে আর নিভু নিভু নীল কাজলে ফেনিল স্বপ্ন আঁকবে এসপ্রেসোর ধোঁয়া ঢাকা   চুমুক। 

না, আমি শুধুই সম্মোহিত হয়েছি ঘোরলাগা সময়ে

শব্দকে যখনই অনুভবে বাঁধতে চেয়েছি তখনই কাঙাল হয়েছি।

ক্ষমাহীন সময় বুঝি এইভাবেই  দৌড়ে যায়---

স্বপ্নের মিথ্যে আশ্বাসে যত জ্ঞানী হয়েছি ততই ঝুঁকতে ঝুঁকতে ক্ষইতে শুরু করেছি। 

ধিক্ আমাকে, চারপাশে এতো খিদে, এতো ক্ষোভ,শত দুঃখের মেঘ। তবুও রোদের সন্ধানে জলীয়বাষ্প হতে চেয়েছি! বন্যার সিঁড়ি বেয়ে সমুদ্র খুঁজেছি! কিন্তু শব্দের যজ্ঞে নিজেকে সঁপে যোগ্য হয়ে উঠতে আজও পারিনি।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

শীতের শহর

আমার শহর জুড়ে শীত এখন, কুয়াশার ঘুম ঘুম ,
বালির বিশাল  চড়া পড়ে আছে অজগরের মত ।
আমার প্রিয় পুরুষ মহাবাহু বিশ্রামে , রোদের উম
মেখে সটান শুয়ে আছি জনহীন কলরবে।
ধোঁয়া ধোঁয়া চায়ের কাপে হুশ হাশ , নিমেষে 
শুষে নিতে চাই উষ্ণতা। চা অথবা মানুষ
উষ্ণ হলেই উপভোগ্য, ঠান্ডা হয়ে গেলে শুধু
গিলে ফেলা । 

আমার শহর এখন রোদ খোঁজে দিনে , আর রাতে
নিজেকে সঁপে দেয় আগুনের ভাঁজে ভাঁজে।
শীত নেমেছে শীতের চাদর গায়ে  , পায়ে পায়ে
পৌঁছে গেছে আমার কাছে, তোমার কাছে ।
এসেছ যদি, থেকে যাও কিছুদিন এই শহরে
আমরা মনে মনে কোথাও খুঁজে নেই একবুক উষ্ণতা
অথবা গরম ধোঁয়া উঠা এক কাপ গরম চা।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

জীবন জমিন

সব জমি জমি নয়
জমীর উর্বরতা না মেপে বীজ রোপন,
যতই হোক সব কিছু পরিমান মতন ডাঙ্গা পতিত নিষ্ফলা
বন্ধ্যা জমিতে কখন ফলেনা ফলন৷
কত কিছু ফলের আশায় প্রয়োজন,
বীজ সার জল সূর্যালোক
 সর্বপরি দেখভালের একজন৷ আগাছার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে সমূলে উৎপাটন ,
রোগ ভাইরাস আরো কত কি৷
তারপর আসে প্রতিক্ষার ধন
তাতে অধিকার একমাত্র সেই তারই৷
চোখ এসে পড়ে চতূর্ভুজ ত্রিভুজ বর্গাকারে ,
এসে এসে জড়ো হয় অংশিদারের বন্টননামা রেখার আকারে ৷

মীরা পাল

অনিশ্চয়তার সময়টুকু!

এখন আর জ্যোৎস্নার জলে গা ভাসিয়ে দিই না
যদিও অনিশ্চয়তার মেঘ এখন সারা আকাশ জুড়ে,
বাঁধভাঙা প্রবল জলোচ্ছ্বাসে এক লহমায় জীবন ভাসিয়েছিল খরস্রোতে!
শহর জুড়ে সেদিন ছিল শুধু মন খারাপের বর্ষা,
বন্যার জলে ডুবে থাকা শহরেও জীবন খুঁজতে দেখেছি,
মানব সৃষ্ট বিপর্যয়; বুকের ভিতর অবিরাম ক্রন্দন,
বাঁচার লড়াই, সর্বস্বান্তের হাহাকার গুঞ্জরণের ঝড়..
জেগেছিল কেবল নৈশব্দ আর অব্যক্ত উৎকন্ঠা রাত একাকী...
অবচেতনের প্রতিটা রাত জানে জমানো কষ্টকথা,
তাইতো আর মায়ার বাঁধনে জড়াতে সাহস হয় না-
অথচ জ্যোৎস্না রাতের আলো ভালোবাসার মালা গেঁথে
আবারও মায়ায় জড়াতে চায়।

আভা দেব কানুনগো

আভা দেব কানুনগো

পথে স্মৃতি মন্থনের বীজ বপন
কথা ভাঙা গড়ার নীরব সাক্ষী
সাক্ষী শৈশবের দুরন্তপনা,যৌবনের সুপ্ত প্রেম
প্রথম রামধনু দেখা সেই ক্ষণস্থায়ী কাল,
সেই পথ আজও ব্যস্ত,ব্যস্ত নই আর আমি
কতো চেনা হয়ে যায় অচেনা 
অচেনার ভিড়ে সেই আমিকে খোজার বৃথা চেষ্টা
চেনা জানার ব্যাস ক্রম ক্ষীয়মান
নবরূপে নব প্রজন্ম। 
 ছায়া সঙ্গীরা যেন আজ আলোকবর্ষ দূরে
প্রতি মূহুর্তে নিজেকে চেনা নতুন করে
তাহাদের ভিড়ে মিলে যায় আপন প্রতিবিম্ব
শুকনো পাতারা জানান দিয়ে যায়
আগামী'র ধারাপাত