Sep 30, 2023

সন্দীপক মল্লিক

মনন এখন

মনন এখন নষ্ট খুঁজে হৃদয়-পূঁজের ব্যবসা করে !
সবুজ এখন সঞ্জীবনী শপথ খোঁজে না ! !
ফাগুন এখন আগুন-পাখির পাখনা ধরে ;
সৃজন-আদর অঙ্গ-সুবাস সত্যিই বোঝে না !

হায় রে আমার কষ্ট-কাঁকন রাঙা হাতের পরশ পেলি না !
ব্যথার বেহাগ নিঃশেষিত ; ভালোবাসার আদর দিলি না !

অঙ্গ এখন অর্থনৈতিক পাপের সংসার গড়ে !
মতবাদের তৃষ্ণা এখন সবুজ বোঝে না !
আলো এবং জ্যোতির দিশা দূরত্বেরই নেশায় !
পেশায় এখন অবক্ষয়ের তিক্ত বিভূষণা !

বিপ্লব উরাং

টাক ডুমা ডুম

টাক ডুমা ডুম ঢোলক বাজে
রবি ঋষির বাড়িতে।
আসছে পুজা বাজছে ঢোলক
ইঙ্গিত দিচ্ছে আওয়াজে।
পুজোর চাইতেও খিদে বেশি
পেটের দানা মেটাতে।
হরদিনেই রবি ভাবে-
বায়না এবার পাবেতো?

স্টীরিওতে ঢোলক বাজে-
টাক ডুমা ডুম ডুম।
কম খরচে ঢোলক পেলে
নেবে কি,রবিকে?
ভাবতে ভাবতে রবি মামা।
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে। 
স্টীরিওতে বাজছে ঢোলক-
টাক ডুমা ডুম ডুম।

নবীনকিশোর রায়

ছুটি

ছোট্ট সোনামণিরা 
এসো নাচগান শিখি
এসো শিখি ছড়া
আর কবিতা আবৃত্তি। 

পড়তে হবে অনেক বই
ভারি হয়ে গেলে মন
ঘরের কোণে কেন বসে রই? 

চলো এবার ধরি বায়না
ঘরে বসে আর রব না
বেরিয়ে পড়বো ছুটির দিনে 
চলো  সবাই আপন মনে। 

প্রজাপতি যেথায় উড়ে বেড়ায়
পাখিরা যেথায় গান গায়, 
পুকুরে ভাসে শাপলা পদ্ম
সাঁতার কাটে হাঁসের দল
চলো দেখে আসি
চলো সবাই  যাই। 

ছোখ জুড়াবে মন জুড়াবে
তোমার আমার ছুটির দিন 
আনন্দ আর হাসি খেলায় 
কাটবে সারাদিন 

টিংকুরঞ্জন দাস

নিজেকেই দেখি না

সকাল বেলার সূর্য যখন
 উঠে হেসে খেলে
মিষ্টি মধুর মনটা তখন
আনন্দে যায় নেচে।
শিউলি ফুলের সুবাস কুড়াই
ভোরের নির্জন পথে
জুঁই চাঁপা কেতকি জবা
বলে তাদেরও নিতে।

নাম না জানা আরও কত
ফুল যে গাছে আছে
তাদেরও যদি না দেখি তবে
সবকিছুই মিছে।

সব ফুলেতেই গন্ধ আছে
তীব্র কিংবা মৃদু
ভ্রমর ঠিকই বুঝতে পারে
কোন ফুলে কি মধু।

আমরা মানুষ বাহির দেখেই
করি গুণের বিচার
ভেতরেও যে কিছু থাকতে পারে
ভাবি না একটিবার।

প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে সবই
আমরাই বুঝিনা
দোষ চাপাই অন্যের ঘাড়ে
নিজেকে দেখি না।

আব্দুল গফফার

এবার পূজোয়

এবার পূজোয় নতুন জামা
আনন্দেতে হাসি,
ঝড় বৃষ্টির ভ্রুকুটি তে
জলকাদাতে ফাঁসি।

সকাল থেকে বিকেল গড়ায়
পাড়ায় পাড়ায় গোল,
ছেলেবুড়োর নেই যে ভেদ
বল দুগ্গা মাইকির বোল।

এবার পূজোয় জমিয়ে খাওয়া
বায়না ধরে হুলো,
বাপের এবার পকেট ফাঁকা
এড়িয়ে তাকে চলো।

এবার পূজোয় নাচ আর গান
ফুর্তি হই হুল্লোড়,
কেউবা ভালো, কেউবা খারাপ
হাসপাতালেতে দোড়।

এই কটাদিন থাকতে ভালো
ডাকি দুগ্গা মা'কে,
মাগো তুমি ভালো রেখো
সবার রাখো সুখে।।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

পূজোর ধুম্ 

আহা, লাগল  পূজোর ধুম্ 
কুমোর  ঠাকুর মূর্তি গড়ে
নেইকো চোখে ঘুম,

শিশির ভেজা ভোর
তাকতাধিনা তাকতাধিনা 
ঢাকের মধুর সুর,

মন লাগে না কাজে
ঘন্টা কাঁসর বাজে
ঐ বুঝি রে ত্রিশূল  হাতে
দুর্গা মা সাজে,
             
সিংহ ঘাপটি মেরে
অসুর পানে ফিরে
অসি হাতে অসুর আসে
মোষের পেটটি  ফুঁড়ে,

শিউলী ফুলের মালা
সাজিয়ে পূজোর ডালা
আকাশ জুড়ে আলোর ছটা
মন হল উতলা,

নতুন রঙে সাজি ,
ঢেং কুড়াকুড় ঢেং কুড়াকুড় 
বাদ্যি ওঠে বাজি,
             
কাশের বনের রাজি
ধরণী উঠলো সাজি,
নদীর বুকে গান গেয়ে যায়
শ্যামলা গাঁয়ের মাঝি।

শুভ্রা দেব

দুরন্ত কৈশোর
            
একঘেঁয়ে নিয়মের ছক ভুলে
রঙতুলি ফেলে এবার
আকাশের বুকে আঁকো...
ছন্নছাড়া স্বপ্নরাশি।

তুমি আজ 
বোকা ঐ বাক্সে বন্দী!
ছিঁড়বে কবে ঐ 
যান্ত্রিক বেড়াজাল?

মুঠোফোনের দেওয়াল ঠেলে
ভেঙে দাও খেলার মাঠে...
লুকোচুরি ,গোল্লা, 
পকেট ভরা মার্বেলের শীতঘুমে।
 
ক‍্যারিয়ারের খাঁচা খুলে
মেতে উঠো আজ 
মন মাতানো ছন্দতালে
উন্মাদ উড্ডীন দুরন্ত কৈশোর।

সুজন দেবনাথ

শিশুর আগামী

নিতাই দাদার একটি ছেলে 
নাম রেখেছে খোকা,
কথায় কাজে খুবই চালাক 
হয়নিতো সে বোকা।

খোকা থাকতো পরম যত্নে 
ছিলোনা তার ত্রুটি,
সাড়া বাড়ি নাচাতো খোকা 
হতোনা কারো ছুটি।

হই হুল্লোর সব আনন্দগান 
শুধুই খোকার তরে,
নিত্য চাঁদের হাট যেন তাই 
নিতাই দাদার ঘরে।

হঠাৎ একদিন থেমে গেল 
সেই চাঁদেরই হাসি,
খোকন সোনার হাতে আর 
বাজে না তার বাঁশি।

যেদিন থেকে খোকার হাতে 
মোবাইল উঠে এলো,
সেদিন থেকেই ছোট্ট খোকা 
হাসতে ভুলে গেলো।

খোকা এখন দেয়না সাড়া 
কেউবা যদি ডাকে,
এখন যে তার দু-দুটি চোখ 
মোবাইল স্ক্রিনে থাকে।

খিদে পেলেও বলেনা খোকা 
দাওনা একটু খাবো,
ছুটির দিনেও আর বলেনা
মামার বাড়ি যাবো।

খোকার এমন আচার দেখে
চিন্তা বাড়লো সবার,
তাড়াতাড়ি দেখালো তারে
মনোবিদ ডাক্তার।

পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শেষে
ডাক্তার দিল আভাস,
এক জায়গায় থেমে গেছে 
তার মানষিক বিকাশ।

তাকে দিতে হবে খুব আনন্দ
রাখতে হবে খুশি,
বন্ধুদের সাথেও মেলামেশা  
আগের চাইতে বেশি।

দূরে রাখুন মোবাইল থেকে
আপনার সন্তানকে,
সুস্থ ও সুন্দরে গড়তে দিন
শিশুর আগামীকে।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

কাক আর ধূর্ত শিয়াল

ধূর্ত শিয়াল পণ করেছে ধোঁকা দেবে কাককে ,
উপায় খোঁজে কিভাবে মে কাত করবে তাকে ৷
গাছের ডালে বসে আছে ভোলা ভালা কাকটি '
মুখে নিয়ে মাংসের টুকরো খাবে সুখে সেটি ৷
শিয়ালের তাই ভারী লোভ কি করে পাই ওটি,
বুদ্ধি মাথায় খেললো তখন নিতেই হবে সেটি ৷
মিষ্টি মিষ্টি কথার জালে ফেললো বেঁধে তাকে,
তখন সে গলে গেলো জলের মতো ভালবাসার চোটে ৷
যেই না মুখে এনেছে কথা ওমনি গেলো পড়ে,
শিয়াল তখন খপ করে সেটি মুখে নিল ভরে ৷
বোকা কাকা রইলো চেয়ে বিস্ময়ের চোখে,
 ধূর্তশিয়াল খাচ্ছে মাংস আপন মনের সুখে ৷
আসল কথা হল যেটা সবাই নয় সত্যি,
মিষ্টি কথার প্রলোভন যতই হোক মিষ্টি৷

খুকু রানী দে

সুখের ঠিকানা 

সুখ নামের ঐ পাখিটা
যায় যে কোথা উড়ে,
যায় যে পাখি দিয়ে ফাঁকি 
সোনার শিকল ছিঁড়ে।

সুখ পাখিটা যায় যে উড়ে
কোন সুদূরে অচিনপুরে
সপ্তসাগর পাতাল পুরে
কোন মেরুর ঐ অন্ধকারে।

পাইনা চাওয়া উল্টা হাওয়া
পল্টি  দিয়ে ধায় ,
ধরতে নারি বুঝতে পারি
কোন ঠিকানায় !

দেয় না ধরা দিশে হারা
খুঁজে খুঁজে পাগলপারা 
মূল ঠিকানা জানলে পরে
নিতাম তারে ঝাপটে ধরে।

ধরতে পারি মনোবেড়ী
দিতাম তারি পায়, 
রাখতাম তারে বন্দী করে
হৃদপিঞ্জিরায়।।।

গোপী নাথ ঘোষ

ঝরা বকুল

স্বপ্নগুলো এলোমেলো 
শুকিয়া যাওয়া ফুল।
ভোরের পথে কুড়িয়ে ছিলাম
ঝরা বকুল।

চৈত্র মাসে ভরা তাপে
শীতল হাওয়ায় দোল।
তুমি আমার সকাল সাজে
পাওয়া না পাওয়ার বোল।

ইচ্ছে ছিল পাবো কতক
পাইনি কতক তার।
পেয়েছি আবার চাইনি যতক
আনন্দতো তায়।

স্বপ্নগুলো এলোমেলো 
শুকিয়া যাওয়া ফুল।
ভোরের পথে কুড়িয়ে ছিলাম
ঝরা বকুল।

রমা চন্দ্র

খুশির পরশ

এসেছে শরৎ
খুশির পরশ...
ঝরা শিউলির ঘ্রাণে
ফুল কুড়ানোর আনন্দ...
শিশুদের মনে,
মাঠে হাসে কাশফুল-
শুভ্র নরম তুলতুল
নীলাকাশে ভেসে আসে
শ্বেতবরণ মেঘকন্যা
বয়ে আনে-
শারদ উৎসব বন্যা...,
বিদ্যালয় দেয় ছুটি
বাঁধা রুটিন টুটি
আনন্দে লুটোপুটি... 
বুকে নিয়ে মিলনের সুর-
শৈশব আনন্দে হয় ভরপুর,
দিন গোনে বিস্ময়ে
কেমনে দূর্গা মা বধ করবে অসূর!

জয়িতা ভট্টাচার্য

উৎসব 

রং-বেরঙের ঘুড়ির মাঝে
নীল আকাশে বৃষ্টি সাজে
ভাসছে মেঘের ভেলা।
ঢাক বেজেছে,ঢোল বেজেছে
কাশফুল ওই নদীর ধারে,দুুলছে।
ছুটছে যত বাচ্চা-বুড়ো
গাইছে সবাই গান,
উৎসব হোক সবার মাঝে,
ঐক্যের কলতান।

মনচলি চক্রবর্তী

মুঠোফোনে ছবি

ভাই বোনে খুনসুটি আর মিষ্টি ভালোবাসা
আজকাল আধুনিক প্রযুক্তিতে বাধা
নিজস্বিতে ব্যস্ত আজ  ক্ষুদে শিশুরা
হাসি আনন্দে ভাইবোনের মুখখানা ভরা
আয় আয় কাছে আয় আমার ছোট্ট বোন
বয়ে যায় বেহিসেবী আনন্দের এই ক্ষন
ভাই বোন একসাথে হাসি হাসি মুখে
মুঠোফোনে মোরা ছবি তুলি মহাসুখে।

নীলোৎপল গোস্বামী

বলে দিতে হয়না

ছোট ছোট রবিবার
আসে দেখো বারবার
সব্বার জীবনে,

ছিপ ফেলে পুকুরেতে
বসে থেকে সারা রেতে
মাছ ধরে ক'জনে?

গাছের যে ফল ঝুলে
রসেভরা দুলে দুলে
সবগুলি পায় কি সব্বাই?

খাটুনিটা না হলে
লেখাপড়া যায় জলে
এ যেন ব্যয়হীন অব্যয়।

ফেললেই ছিপ জলে
বুঝিয়েছি বলে বলে
মাছ ধরা যায়না,

বুঝেসুঝে হাত দিলে
কার্যতে ফল মেলে
এ আর বলে দিতে হয়না।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

দুগ্গা ঠাকুর

আনন্দময় শরৎকালে 
গাছে গাছে শিউলি ফুটে ।
সকাল বেলায় শিশির পড়ে
ঘাসগুলো সব সেজে ওঠে ।।

কুমোর গড়ে দুগ্গা ঠাকুর 
বাদ্যি বাজে ঢ‍্যাম কুড়কুড় ।
মনের ভেতর খুশির লহর 
স্বপ্নে ভেসে যাই বহুদুর ।।

বেলুন কিনব, মুখোশ কিনব 
কিনব ভেপু বাঁশী ।
খেলনা গাড়ি কিনব অনেক
থাকব হাসি খুশি ।। 

বাহনগুলো বাড়ল কত
ভীষণ ইচ্ছে দেখার ।
হাঁস বেচারা উড়েই চলে 
সময় পায় না বসার ।।

সেবার পুজোয় ফুলের তলায় 
ইঁদুর চাপা ছিল ।
দেখতে পাইনি চোখ জুড়িয়ে 
মনে দুঃখ হল ।।

পেঁচার চোখটি তেরছা ছিল
ময়ূর ছিল ছোট ।
যতই বলি কেউ শোনেনা
সেলফিতে তুলে ফটো ।।

সিংহ দেখে ভয় করে
অসুর ভীষণ রাগী ।
সামনে যাওয়া বারন
তাই মায়ের হাত ধরে থাকি ।। 

এত অস্ত্র দুর্গার হাতে 
বন্দুক কেন নেই ।
জানতে চাইলে পাড়ার দাদারা
জবাব দিল হেসেই ।।

এই সময়ে পড়তে হয় না
আসল কথা এইটি ।
বকাঝকা শুনতে হয়না
ভীষণ মজায় থাকি ।।

মাধুরী লোধ

বর্ষা

বর্ষা এলো ব্যঙ ডাকলো
ঝি ঝি র ঘুম নেই
জোনাক জ্বলে মিটিমিটি
খুশির সীমা নেই।
মাঠ ঘাটের সবুজ বরণ
হাঁসের ডুব সাঁতার
ঝিরিঝিরি জলের ফোঁটা
দোকান খোলো ছাতার ।
কৃষাণ ভাই বেজায় খুশি
হবে আমন ধানের চাষ
খাই খোরাকি আসবে এতে
 বেচবে বারোমাস ।
মেছুনি দিদি বড়শি হাতে
ধরেন টেংরা পুটি শোল
বর্ষা এলেন জল নিয়ে
খেতে দেবেন দ ই খ ই ।
খোকা খুশি খুকু খুশি
আজকে ইস্কুল বন্ধ 
উঠানে ভাসবে কাগজের নৌকা
আহা আহা কি আনন্দ !!!

রীতা চক্রবর্তী ( লিপি )

বিল্টুর গল্প

বিল্টু এ পাড়ার এক পরিচিত নাম। দামাল ছেলে হিসেবে ওর যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু ওর দামালপনার আড়ালে যে একটি সংবেদনশীল মন আছে একথা কিন্তু অনেকেই জানে না। আজ এখানে সেসব গল্পই বলব।

                      ওই যে দূরে, এ পাড়ার একেবারে শেষ প্রান্তে বহু পুরোনো হলুদ রঙের ছাদ পেটানো একতলা একটি বাড়ি, সেটাই  বিল্টুদের বাড়ি। তিন পুরুষ আগে ওর ঠাকুরদা এই বাড়িটি বানিয়েছিলেন।  ওদের বাড়ির পেছনদিকে একটি বাগান ও তৎসংলগ্ন একটি ঘাট বাঁধানো পুকুরও আছে। এখন ওখানে আম কাঁঠাল সহ নানা বড় বড় গাছ গাছালি ও  গুল্মলতা ওদের  বাড়িটিকে প্রায় ঢেকে ফেলেছে। ওই ছায়া ঘেরা এলাকায় বিল্টু সারাদিন রাজত্ব করে বেড়ায়। শালিক চড়ুই দোয়েল সহ আরো কত নাম না জানা পাখি ওদের বাগানে এসে বাসা বেঁধে আছে! বেড়ে ওঠার সাথে সাথে  ওই পাখিগুলো, পুকুরের মাছ, বাড়ির পোষা বেড়াল সকলের সঙ্গে ওর প্রগাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে ওদের দানা খাওয়ানো, ওদের সঙ্গে সময় কাটানো ওর নিত্যদিনের কাজ।

                   বিল্টু পড়াশোনায় যেমন তুখোড় তেমনি উদার মনের। ভালো ছাত্র হওয়ার সুবাদে স্যারেরাও ওকে খুব স্নেহ করেন। প্রাথমিক স্কুল পেরিয়ে সে এবার মাত্র হাইস্কুলে পদার্পণ করেছে। তবু ক্লাশে ওর বিচক্ষণ বুদ্ধি ও দরদী মনের জন্য ওর বন্ধু মহল ওকে ক্লাশ ক্যাপটেন বানিয়ে দিয়েছে। বন্ধুদের কাছে বিল্টু মানেই মুশকিল আসান।

              একদিন বিল্টু স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখল ওদের গেটের পাশের ড্রেনে একটি বেড়াল ছানা পড়ে ওই নোংরা জলে খাবি খাচ্ছে। ও একছুটে ঘরে ঢুকে পিঠের ব্যাগটি বিছানায় ছুঁড়ে ফেলেই বাইরে বেরিয়ে গেল। পেছনথেকে মা চেঁচিয়ে ডেকে দুরন্ত ছেলের পিছু নিয়ে দেখলেন, ড্রেনের জলে খাবি খাওয়া একটি বেড়াল ছানাকে বাঁচানোর জন্যই ওর এত তৎপরতা। ও কত বুদ্ধিই না এঁটে যাচ্ছে তখন। অবশেষে একটু কসরত করে একটি বড় কাঠের টুকরো নিয়ে একপাশ ধরে অপর পাশ ড্রেনের জলে ডুবিয়ে দিতেই কুঁকড়ে যাওয়া বেড়াল ছানাটি কাঠ বেয়ে ওপরে উঠে এলো। এতে বিল্টুর আনন্দ আর ধরে না। মায়ের গজগজ এড়িয়ে সেদিন ও ওর ফ্রেন্ড ফিলোসফার ও গাইড দাদুভাইর সঙ্গে জোট বেঁধে বেড়াল ছানাটিকে পরিস্কার জলে স্নান করিয়ে একটু দুধ খেতে দিল। এরপর থেকে ওই ছানাটি ওদের বাড়িতেই থেকে গেছে। বিল্টু ওর নাম রেখেছে কুটুস। কুটুস এখন বিল্টুর খুব ন্যাওটা হয়ে গেছে। যতক্ষন বিল্টু বাড়িতে থাকে ততক্ষণ ওর পায়ে পায়েই ঘুরে বেড়ায় আর ম্যাঁও ম্যাঁও করে ল্যাজ নাড়ায়। 

         বিল্টুর মায়ের হয়েছে যত জ্বালা। ওর এসব দুরন্তপনা লাগাতার চলতে থাকে আর মায়ের ধরে যেন প্রাণ থাকে না। কিন্তু যার প্রশ্রয়ে বিল্টু এমন খেয়াল খুশি ঘুরে বেড়ায়, তিনি হলেন ওর প্রাণপ্রিয় ঠাকুরদা। তাই মা বিশেষ কিছু বলতেও পারেন না। সেদিন বিল্টু স্কুল থেকে ফেরার পর প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো সঙ্গে আলোর ঝলকানি ও বজ্রপাত। এক একটি বজ্রপাতের শব্দে যেন  কানে তালা লেগে যাচ্ছে। সঙ্গে ঝড়ের দাপট। এদিকে মায়ের চোখ বাঁচিয়ে বিল্টু কখন ছুটে চলে গেছে বাগানে! আম গাছের মগ ডালে থাকা পাখির বাসাটি ভেঙে কোন পক্ষীশাবক নিচে পড়ে গেছে কিনা সেসব পরখ করতে । এরপর ওর  দাদুভাই ই সেদিন আতঙ্কিত হয়ে ছুটে গেছিলেন এই ঝড় জল থেকে নাতিকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঘরে ফিরিয়ে আনতে। এমনি করেই দিনভর বিচ্ছু ছেলেটি সকলকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।

                           এইতো গতবার পুজোর সময় বিল্টু কী কান্ডটাই না ঘটিয়েছিল। ব্যাপার খানা হলো এই, বিল্টুর অস্টমীতে পড়ার নতুন জামাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মা যখন হন্যে হয়ে খুঁজে বিল্টুকেই জিজ্ঞেস করলেন,ওর দাদুর বাড়ি থেকে পাঠানো আকাশ নীল জামাটি কোথায় আছে, তখন বিল্টু বললো "মা ওটা আমি আমার স্কুলের বন্ধু সন্তুকে দিয়ে দিয়েছি"।

—সে কী রে!! কেনো?

 —জানো ওর না একটিও নতুন জামা হয়নি এবার। ওরা ভীষণ গরীব মা। ওর বাবা একটি মুদি দোকানে কাজ করেন। এবার ওনার খুব অসুখ হয়েছিল তো তাই ওনার সব টাকা ঔষধ কিনতেই খরচ হয়ে গেছে"। ক্ষুব্ধ বিস্মিত মা একটু রাগত স্বরে বললেন " তাই বলে তুই আমায় একবার জিজ্ঞেস করবিনা ? ওটা তো তোর দাদুর দেওয়া সব থেকে সুন্দর জামা ছিল"।

—তাতে কী হয়েছে মা!! আমার তো অনেকগুলো জামা হয়েছে। ওর বুঝি একটাও হতে নেই! অগত্যা মা আর কী করেন। তিনি চুপ হয়ে গেলেন। 

                 এমনি বিল্টুকে নিয়ে যে কত গল্পগাথা আছে ,সেসব লিখতে বসলে একেবারে মহাভারত হয়ে যাবে। যাক আজ আমি বিল্টুর গতকালের ঘটনাটি লিখেই আমার গল্পের ইতি টানছি। 

              এইতো গতকাল ওরা সবাই পুজোর বাজার করতে গেছিল। বিল্টুর এসব দোকানে দোকানে ঘোরাঘুরি একদম পোষায় না। ওকে হাতছানি ‌দেয় খোলা আকাশ। কিন্তু মা তো নাছোড়, ছেলেকে নিয়েই যাবেন। হঠাৎ বিল্টুর মনে পড়ল, বাজার শেষে নিশ্চয় রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া হবে, এই লোভেই সে যেতে রাজি হয়ে গেল। এরপর সারাদিনের বাজার হাট শেষে ক্ষুধার্ত ক্লান্ত সকলে বিল্টুর তাগিদে বাজারের পাশেই একটি পর্দা ঘেরা হিমশীতল রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করলেন। বিল্টু গোল গোল চোখে দেখছে, ওখানে সবাই ওর জিভে জল আনা চিকেন চাউমিন খাচ্ছে। বিল্টুও চিকেন চাউমিন খেতে চাইল এবং ওদের টেবিলে খাবার পৌঁছতেই ও গোগ্রাসে খেতে আরম্ভ করল। খেতে খেতেই হঠাৎ কী যে হলো, প্লেটটি সরিয়ে রেখে বিল্টু কাঁচের সুইংডোর ঠেলে বাইরে বেরিয়ে গেল। অনুকম্পা নিয়ে মা পেছন থেকে বলে উঠলেন, 'কি হলো বিল্টু, কোথায় যাস'? ততক্ষণে বিল্টু বাইরে বেরিয়ে গেছে। ফিরে এলো একটি মলীন জীর্ণ জামাকাপড়ের ধূলো বালি মাখা নোংরা ছেলের হাত ধরে। ছেলেটিকে ওর পাশে বসিয়েই বলল, 'ওর জন্যও একটা ডিশ অর্ডার করো তো মা! আমি যে খাচ্ছিলাম ও বাইরে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখছিল। ওর বোধকরি ক্ষিদে পেয়েছে আর চাউমিন খেতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। ছেঁড়া জামা দেখেই বুঝেছি ওরা খুব গরীব। এতো পয়সা নেই ওদের,তাই আমাদেরই তো ওদের খাওয়াতে হবে, তাইনা মা? ছেলের কথা শুনে মায়ের চোখ জলে ভরে উঠল। তিনি সারাদিন ছেলেকে কত বকাঝকা করেন! স্কুলের টিফিন বন্ধুদের বিলিয়ে দেয় বলে কত অভিমান করেন!  আর ছেলে কেমন মায়ের অজান্তেই মানবিক গুনগুলো নিয়ে বড় হয়ে উঠছে! তিনি মনে মনে দুইহাত জোড় করে ঈশ্বরকে প্রণাম করে বললেন, ' ঠাকুর তুমি ওর এই মনটি বাঁচিয়ে রেখো। বড় হয়েও জেনো এমনি করেই ওর মনে সকলের প্রতি দয়া মায়া, শ্রদ্ধা সম্মান,প্রেম ভালোবাসা অটুট থাকে। তবেই আমার বিল্টু আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে। তুমিই দেখো ঠাকুর"। বলেই তিনি আরো এক প্লেটের অর্ডার করতে কেশ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলেন...।।

মৌসুমী গোয়ালা

খুকির সকাল 

শরৎ কালের সকাল বেলা, 
শিশির ভেজা শিউলির মেলা।
খুকির হাতে ফুলের সাজি,
চড়াই শালিক বেজায় পাজি।
চুপটি করে ফুল সরায়,
খুকিকে ওরা রোজ কাঁদায়।
আজ হয়েছে জবর রাগ,
বলল ডেকে তোরা ভাগ।
নয়ত পাবি বেতের ঘাত,
এক ঘা খেলেই কুপোকাত।

ঝিমলি আচার্য

পুজোর ছুটি 

তাক ধি নাধিন ধিন 
আসছে ছুটির দিন ।
পড়ার নেইকো চাপ
সব কিছুতেই মাপ ।
সুযোগ বুঝে বায়না ,
'দুর্গা পূজা 'তাই  
অল্পেতে কিছুই হয়না ।
শুধুই দিন গুনি আসবে 
কবে জগতদলনী ।
বুকে ভীষণ ব্যথা 
শুন 'মা 'আমার কথা ---
থাকো না চার এর বেশি 
ছুটির দিন বাড়লে 
হবো অনেক খুশি ।
দাদা ঢাক বাজা 
কি মজা কি মজা ।