Sep 30, 2023

তৈমুর খান

ট্রেনের মজা 

ঝিকঝিক ছাড়ে ট্রেন কুককুক বাঁশিতে 
মন তাই মেতে ওঠে ফিকফিক হাসিতে। 

ঘরবাড়ি ছাড়িয়ে ট্রেন ছোটে ভোঁ ভোঁ 
দুইকানে হাত দিলে বাতাস বাজে সোঁ সোঁ। 

জানালার ধারে বসে মন তাই উড়ছে 
সারা মাঠ অস্থির সব দেখি ঘুরছে। 

সূর্যটা সাথে সাথে সেও দেখি ছুটছে 
সকালের মিঠে রোদে কাশফুল ফুটছে। 

ট্রেনে চড়া ভারি মজা দুলছে তো দুলছেই
ঘুম ঘুম চোখগুলি খুলছে তো খুলছেই!

কুশল ভৌমিক

বন্ধু

বন্ধু কী আর সংজ্ঞাতে হয় কিংবা পুথি-কাব্যতে
হৈ-হৈ-হুল্লোড় গল্পগুজব জমাট কোনো আড্ডাতে
বন্ধু কী হয় শ্রাবণ মেঘের হঠাৎ বৃষ্টিতে
দারুণ কোনো উপন্যাসের অবাক করা সৃষ্টিতে।

বন্ধু কেবল বন্ধনে হয় জীবন কিংবা মরণটানে 
বন্ধু হলো দুইটি দেহে এক আত্মা গানের সুরে
বন্ধু মানেই সুরে সুরে গিটারের তার
চেতনায় মূল্যবোধে মিলে একাকার।

দুই হৃদয়ের এক কবিতা বন্ধু তারে কয়
চোখের আড়াল হলেও যেজন মনের আড়াল নয়।

কমল সরকার

বদ বদল

প্রধানমন্ত্রী নোট বদলেছেন
কং-সিপিএম জোট বদলেছেন 
আমজনতা ভোট বদলেছেন
গণতন্ত্রের বুকের চোট 
বদলায়নি৷ 

টলিনাইকা বর বদলায়
অর্থমন্ত্রী কর বদলায়
ভাড়াটেরা ঘর বদলায়
মধ্যবিত্তের গলার জোর 
বদলায় না। 

মুকুল রায় দল বদলান
দুর্নীতিবাজ ছল বদলান
কলমিস্ত্রী কল বদলান
অভাগিনীর চোখের জল
বদলায় না৷ 

যেসব লোকে  বদলা নয়
বদল চেয়ে পথ হেঁটেছে
ঊর্ধ্বে  ছুড়ে নিজের থুতু 
নিজের মুখেই খুব চেটেছে,
বিবেক খুয়ে নিজেই তারা 
আপাদশির বদলে গেছে;
বাদবাকি যা হওয়ার কথা
সেসব কিছুই বদলায়নি।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

যাবে, তোতন?  

একটা দিন, অন্ততঃ একটা দিন! আমার কথায় রাজী হবে? 
সঙ্গে যাবে? তুমি আমার সঙ্গে যাবে? অন্ততঃ একটা দিন!  
খুঁজতে খুঁজতে কোথায় যাই? 
সাধ হয়েছে তোমায় নিয়ে ছোট্টবেলা খুঁজতে চাই!

এই আমার যা কিছু ছিল ভরিয়ে দেবো তোমার হাত 
সকাল বেলার সূয্যিপ্রণাম
হাঁটার পথে বেড়া-ভাঙ্গা স্কুল, কঞ্চি হাতে রমেশ মাষ্টার
দুপুর একতারা বোষ্টুমী
মায়ের হাতে ভাতের থালা, কাঁঠালপিড়ি
সজনেগাছের শুয়াপোকা, ফড়িং ওড়া, বেড়ার ধারে ছাগল-ডাক
বিকেলবেলা ফুটবলের মাঠ, জামা প্যান্টে চোরের-কাঁটা
নেবে তুমি?

এই আমার যা কিছু ছিল তুলে দেবো তোমার হাতে
বরফ কাঠির আইসক্রিম, ফেরিয়ালার সুরেলা ডাক
রেশনদোকান, চালের লাইন
বাঁদরনাচ ডুগডুগির খেল, কাঠের বাক্সে বায়োস্কোপের গান
হাডুডু খেলা, ডান্ডা-গুলি, নাকি দারিয়াবান্ধা?
বিকেলবেলা পাগল-পিসির আকুল-ডাক, সূর্যডোবা ঝিলের ধার
কেরোসিন ল্যাম্প, তুমি কি নেবে?

তোমার থেকে ফিরিয়ে নিলাম ভিডিইয়ো গেম
তোমার থেকে ছিনিয়ে নিলাম অন-লাইন ক্লাস
তোমার থেকে খুলে নিলাম টিভির চোখ
তোমার থেকে ফেরত নিলাম টিফিন বাক্সে পেস্ট্রি-কেক
তোমায় দিলাম পকেটভর্তি টসটসে কুল, ডাসা পেয়ারা, ঝালের নুন
তোমায় দিলাম ছেলেবেলা আমার, হারানো দিন
পীচরাস্তার ভ্যাঁপু নয়, তার বদলে তোমায় দিলাম হারিয়ে যাওয়া মাটির পথ!
একটা দিন, অন্ততঃ একটা দিন! আমার কথায় রাজী হবে? 
সঙ্গে যাবে? অন্ততঃ একটা দিন!

রুদ্র মোস্তফা

যেখানে রাসেল থাকে 

জোছনা মেখে তারা হয়ে 
শৈশব ধরে কে জিরুচ্ছে? 
শিশুর স্বপ্ন — স্বপ্ন চুইয়ে 
পাখায় কারা রং মাখাচ্ছে!

সবুজ ঘাসে শিশুর পায়ে 
লেগে থাকা শিশির কণা 
মেঠো পথে ডানে বায়ে 
ভিজিয়ে দেয় চোখের কোণা। 

বাইসাইকেলে ছোটোবেলা 
ডাক নাম ভুলে স্বপ্নে বোনা 
কে বা ডাকে এই অবেলা 
রাসেল সোনা রাসেল সোনা! 

সব সৌন্দর্যে রাসেলের বাস 
আনন্দ-চোখ তাকে আঁকে।
মানুষের মন শিশুর নিবাস 
শৈশবে তাই রাসেল থাকে।

তুষারকান্তি রায়

ভুল মাশুল

আদার ব্যাপারী টেকো জাহাজের খোঁজে তে
বেলতলা গেলে এক পেটো এলো গুঁতোতে
একলাফে বেলডালে টেকো ঝোলে গাছেতে
কাঁচা বেল ফেটে কষ ঝুলে পড়ে মুখেতে
আঠা দিয়ে আটা মুখ বলবার চেষ্টায়
ঠাস করে প্রাণ ফেটে মরবে কী শেষটায়?
পেট ফুলে তানপুরা মাথা করে ঝা ঝা
সিমপ্যাথি কাছে এলে পায়ে বলে যা যা
তা বলে কী ছাড়া যায় ? ঝুলে ভুগে মরলে! 
বলবে কি পাঁচজন ? ছুঁতো-নাতা করলে!
একে একে কবিরাজ এলোপ্যাথি বদ্যি 
চোখে - নাকে - কানে ঢালে নানা রস পথ্যি 
ঝরঝর কলকল কিড়মিড় কাঁপুনি 
বাঁচবার আশা জাগে মুমূর্ষু চাহনি । 
সকলের হা মুখ , কোত্থেকে কে জানে 
দলবদলুর এক সখা এলো সেখানে
দেহটা রোদেতে রেখে ঘোল ঢেলে মাথাতে
মগজ ধোলাই করে জিলিপির ছাঁচেতে
সোজা হয়ে বসে টেকো , আহ্লাদে মশগুল 
আর কোনো দিন তার হবে না এমন ভুল 

সন্দীপক মল্লিক

মনন এখন

মনন এখন নষ্ট খুঁজে হৃদয়-পূঁজের ব্যবসা করে !
সবুজ এখন সঞ্জীবনী শপথ খোঁজে না ! !
ফাগুন এখন আগুন-পাখির পাখনা ধরে ;
সৃজন-আদর অঙ্গ-সুবাস সত্যিই বোঝে না !

হায় রে আমার কষ্ট-কাঁকন রাঙা হাতের পরশ পেলি না !
ব্যথার বেহাগ নিঃশেষিত ; ভালোবাসার আদর দিলি না !

অঙ্গ এখন অর্থনৈতিক পাপের সংসার গড়ে !
মতবাদের তৃষ্ণা এখন সবুজ বোঝে না !
আলো এবং জ্যোতির দিশা দূরত্বেরই নেশায় !
পেশায় এখন অবক্ষয়ের তিক্ত বিভূষণা !

বিপ্লব উরাং

টাক ডুমা ডুম

টাক ডুমা ডুম ঢোলক বাজে
রবি ঋষির বাড়িতে।
আসছে পুজা বাজছে ঢোলক
ইঙ্গিত দিচ্ছে আওয়াজে।
পুজোর চাইতেও খিদে বেশি
পেটের দানা মেটাতে।
হরদিনেই রবি ভাবে-
বায়না এবার পাবেতো?

স্টীরিওতে ঢোলক বাজে-
টাক ডুমা ডুম ডুম।
কম খরচে ঢোলক পেলে
নেবে কি,রবিকে?
ভাবতে ভাবতে রবি মামা।
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে। 
স্টীরিওতে বাজছে ঢোলক-
টাক ডুমা ডুম ডুম।

নবীনকিশোর রায়

ছুটি

ছোট্ট সোনামণিরা 
এসো নাচগান শিখি
এসো শিখি ছড়া
আর কবিতা আবৃত্তি। 

পড়তে হবে অনেক বই
ভারি হয়ে গেলে মন
ঘরের কোণে কেন বসে রই? 

চলো এবার ধরি বায়না
ঘরে বসে আর রব না
বেরিয়ে পড়বো ছুটির দিনে 
চলো  সবাই আপন মনে। 

প্রজাপতি যেথায় উড়ে বেড়ায়
পাখিরা যেথায় গান গায়, 
পুকুরে ভাসে শাপলা পদ্ম
সাঁতার কাটে হাঁসের দল
চলো দেখে আসি
চলো সবাই  যাই। 

ছোখ জুড়াবে মন জুড়াবে
তোমার আমার ছুটির দিন 
আনন্দ আর হাসি খেলায় 
কাটবে সারাদিন 

টিংকুরঞ্জন দাস

নিজেকেই দেখি না

সকাল বেলার সূর্য যখন
 উঠে হেসে খেলে
মিষ্টি মধুর মনটা তখন
আনন্দে যায় নেচে।
শিউলি ফুলের সুবাস কুড়াই
ভোরের নির্জন পথে
জুঁই চাঁপা কেতকি জবা
বলে তাদেরও নিতে।

নাম না জানা আরও কত
ফুল যে গাছে আছে
তাদেরও যদি না দেখি তবে
সবকিছুই মিছে।

সব ফুলেতেই গন্ধ আছে
তীব্র কিংবা মৃদু
ভ্রমর ঠিকই বুঝতে পারে
কোন ফুলে কি মধু।

আমরা মানুষ বাহির দেখেই
করি গুণের বিচার
ভেতরেও যে কিছু থাকতে পারে
ভাবি না একটিবার।

প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে সবই
আমরাই বুঝিনা
দোষ চাপাই অন্যের ঘাড়ে
নিজেকে দেখি না।

আব্দুল গফফার

এবার পূজোয়

এবার পূজোয় নতুন জামা
আনন্দেতে হাসি,
ঝড় বৃষ্টির ভ্রুকুটি তে
জলকাদাতে ফাঁসি।

সকাল থেকে বিকেল গড়ায়
পাড়ায় পাড়ায় গোল,
ছেলেবুড়োর নেই যে ভেদ
বল দুগ্গা মাইকির বোল।

এবার পূজোয় জমিয়ে খাওয়া
বায়না ধরে হুলো,
বাপের এবার পকেট ফাঁকা
এড়িয়ে তাকে চলো।

এবার পূজোয় নাচ আর গান
ফুর্তি হই হুল্লোড়,
কেউবা ভালো, কেউবা খারাপ
হাসপাতালেতে দোড়।

এই কটাদিন থাকতে ভালো
ডাকি দুগ্গা মা'কে,
মাগো তুমি ভালো রেখো
সবার রাখো সুখে।।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

পূজোর ধুম্ 

আহা, লাগল  পূজোর ধুম্ 
কুমোর  ঠাকুর মূর্তি গড়ে
নেইকো চোখে ঘুম,

শিশির ভেজা ভোর
তাকতাধিনা তাকতাধিনা 
ঢাকের মধুর সুর,

মন লাগে না কাজে
ঘন্টা কাঁসর বাজে
ঐ বুঝি রে ত্রিশূল  হাতে
দুর্গা মা সাজে,
             
সিংহ ঘাপটি মেরে
অসুর পানে ফিরে
অসি হাতে অসুর আসে
মোষের পেটটি  ফুঁড়ে,

শিউলী ফুলের মালা
সাজিয়ে পূজোর ডালা
আকাশ জুড়ে আলোর ছটা
মন হল উতলা,

নতুন রঙে সাজি ,
ঢেং কুড়াকুড় ঢেং কুড়াকুড় 
বাদ্যি ওঠে বাজি,
             
কাশের বনের রাজি
ধরণী উঠলো সাজি,
নদীর বুকে গান গেয়ে যায়
শ্যামলা গাঁয়ের মাঝি।

শুভ্রা দেব

দুরন্ত কৈশোর
            
একঘেঁয়ে নিয়মের ছক ভুলে
রঙতুলি ফেলে এবার
আকাশের বুকে আঁকো...
ছন্নছাড়া স্বপ্নরাশি।

তুমি আজ 
বোকা ঐ বাক্সে বন্দী!
ছিঁড়বে কবে ঐ 
যান্ত্রিক বেড়াজাল?

মুঠোফোনের দেওয়াল ঠেলে
ভেঙে দাও খেলার মাঠে...
লুকোচুরি ,গোল্লা, 
পকেট ভরা মার্বেলের শীতঘুমে।
 
ক‍্যারিয়ারের খাঁচা খুলে
মেতে উঠো আজ 
মন মাতানো ছন্দতালে
উন্মাদ উড্ডীন দুরন্ত কৈশোর।

সুজন দেবনাথ

শিশুর আগামী

নিতাই দাদার একটি ছেলে 
নাম রেখেছে খোকা,
কথায় কাজে খুবই চালাক 
হয়নিতো সে বোকা।

খোকা থাকতো পরম যত্নে 
ছিলোনা তার ত্রুটি,
সাড়া বাড়ি নাচাতো খোকা 
হতোনা কারো ছুটি।

হই হুল্লোর সব আনন্দগান 
শুধুই খোকার তরে,
নিত্য চাঁদের হাট যেন তাই 
নিতাই দাদার ঘরে।

হঠাৎ একদিন থেমে গেল 
সেই চাঁদেরই হাসি,
খোকন সোনার হাতে আর 
বাজে না তার বাঁশি।

যেদিন থেকে খোকার হাতে 
মোবাইল উঠে এলো,
সেদিন থেকেই ছোট্ট খোকা 
হাসতে ভুলে গেলো।

খোকা এখন দেয়না সাড়া 
কেউবা যদি ডাকে,
এখন যে তার দু-দুটি চোখ 
মোবাইল স্ক্রিনে থাকে।

খিদে পেলেও বলেনা খোকা 
দাওনা একটু খাবো,
ছুটির দিনেও আর বলেনা
মামার বাড়ি যাবো।

খোকার এমন আচার দেখে
চিন্তা বাড়লো সবার,
তাড়াতাড়ি দেখালো তারে
মনোবিদ ডাক্তার।

পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শেষে
ডাক্তার দিল আভাস,
এক জায়গায় থেমে গেছে 
তার মানষিক বিকাশ।

তাকে দিতে হবে খুব আনন্দ
রাখতে হবে খুশি,
বন্ধুদের সাথেও মেলামেশা  
আগের চাইতে বেশি।

দূরে রাখুন মোবাইল থেকে
আপনার সন্তানকে,
সুস্থ ও সুন্দরে গড়তে দিন
শিশুর আগামীকে।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

কাক আর ধূর্ত শিয়াল

ধূর্ত শিয়াল পণ করেছে ধোঁকা দেবে কাককে ,
উপায় খোঁজে কিভাবে মে কাত করবে তাকে ৷
গাছের ডালে বসে আছে ভোলা ভালা কাকটি '
মুখে নিয়ে মাংসের টুকরো খাবে সুখে সেটি ৷
শিয়ালের তাই ভারী লোভ কি করে পাই ওটি,
বুদ্ধি মাথায় খেললো তখন নিতেই হবে সেটি ৷
মিষ্টি মিষ্টি কথার জালে ফেললো বেঁধে তাকে,
তখন সে গলে গেলো জলের মতো ভালবাসার চোটে ৷
যেই না মুখে এনেছে কথা ওমনি গেলো পড়ে,
শিয়াল তখন খপ করে সেটি মুখে নিল ভরে ৷
বোকা কাকা রইলো চেয়ে বিস্ময়ের চোখে,
 ধূর্তশিয়াল খাচ্ছে মাংস আপন মনের সুখে ৷
আসল কথা হল যেটা সবাই নয় সত্যি,
মিষ্টি কথার প্রলোভন যতই হোক মিষ্টি৷

খুকু রানী দে

সুখের ঠিকানা 

সুখ নামের ঐ পাখিটা
যায় যে কোথা উড়ে,
যায় যে পাখি দিয়ে ফাঁকি 
সোনার শিকল ছিঁড়ে।

সুখ পাখিটা যায় যে উড়ে
কোন সুদূরে অচিনপুরে
সপ্তসাগর পাতাল পুরে
কোন মেরুর ঐ অন্ধকারে।

পাইনা চাওয়া উল্টা হাওয়া
পল্টি  দিয়ে ধায় ,
ধরতে নারি বুঝতে পারি
কোন ঠিকানায় !

দেয় না ধরা দিশে হারা
খুঁজে খুঁজে পাগলপারা 
মূল ঠিকানা জানলে পরে
নিতাম তারে ঝাপটে ধরে।

ধরতে পারি মনোবেড়ী
দিতাম তারি পায়, 
রাখতাম তারে বন্দী করে
হৃদপিঞ্জিরায়।।।

গোপী নাথ ঘোষ

ঝরা বকুল

স্বপ্নগুলো এলোমেলো 
শুকিয়া যাওয়া ফুল।
ভোরের পথে কুড়িয়ে ছিলাম
ঝরা বকুল।

চৈত্র মাসে ভরা তাপে
শীতল হাওয়ায় দোল।
তুমি আমার সকাল সাজে
পাওয়া না পাওয়ার বোল।

ইচ্ছে ছিল পাবো কতক
পাইনি কতক তার।
পেয়েছি আবার চাইনি যতক
আনন্দতো তায়।

স্বপ্নগুলো এলোমেলো 
শুকিয়া যাওয়া ফুল।
ভোরের পথে কুড়িয়ে ছিলাম
ঝরা বকুল।

রমা চন্দ্র

খুশির পরশ

এসেছে শরৎ
খুশির পরশ...
ঝরা শিউলির ঘ্রাণে
ফুল কুড়ানোর আনন্দ...
শিশুদের মনে,
মাঠে হাসে কাশফুল-
শুভ্র নরম তুলতুল
নীলাকাশে ভেসে আসে
শ্বেতবরণ মেঘকন্যা
বয়ে আনে-
শারদ উৎসব বন্যা...,
বিদ্যালয় দেয় ছুটি
বাঁধা রুটিন টুটি
আনন্দে লুটোপুটি... 
বুকে নিয়ে মিলনের সুর-
শৈশব আনন্দে হয় ভরপুর,
দিন গোনে বিস্ময়ে
কেমনে দূর্গা মা বধ করবে অসূর!

জয়িতা ভট্টাচার্য

উৎসব 

রং-বেরঙের ঘুড়ির মাঝে
নীল আকাশে বৃষ্টি সাজে
ভাসছে মেঘের ভেলা।
ঢাক বেজেছে,ঢোল বেজেছে
কাশফুল ওই নদীর ধারে,দুুলছে।
ছুটছে যত বাচ্চা-বুড়ো
গাইছে সবাই গান,
উৎসব হোক সবার মাঝে,
ঐক্যের কলতান।

মনচলি চক্রবর্তী

মুঠোফোনে ছবি

ভাই বোনে খুনসুটি আর মিষ্টি ভালোবাসা
আজকাল আধুনিক প্রযুক্তিতে বাধা
নিজস্বিতে ব্যস্ত আজ  ক্ষুদে শিশুরা
হাসি আনন্দে ভাইবোনের মুখখানা ভরা
আয় আয় কাছে আয় আমার ছোট্ট বোন
বয়ে যায় বেহিসেবী আনন্দের এই ক্ষন
ভাই বোন একসাথে হাসি হাসি মুখে
মুঠোফোনে মোরা ছবি তুলি মহাসুখে।