Oct 12, 2025

সঞ্জয় দত্ত

শরৎ

পথের কাছে একা রেখে গেলাম সুখ,
ফিরতে দেরি হল বলে
অভিমানে যে ছায়াটুকু এসেছিল মেঘের
তার কাছে প্রশ্ন,
প্রিয় শরৎ
সুতা কাটা ঘুড়ির মতো উড়ে গেলে কেন?

বিবেকানন্দ রায় বর্ধন

দিগন্ত

'দিগন্ত' ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে
দিগন্ত রেখার ওই পাড়ে।
কল্পনা আর বাস্তবের যাঁতাকলে
কেউ উড়ায় নি শান্তির পতাকা!
চিরহরিৎ বৃক্ষের পাতা ঝরে জীবন জুড়ে।
চৈতন্যের বেলাভূমি সিক্ত হয় 
অনর্গল রক্ত ক্ষরণে,
সবুজে সবুজ পাতা ঘেরা জীবনে ও
চৈত্র আসে,ঝড়ো বাতাস
এলোমেলো করে দিয়ে যায় 
কল্পনা আর বাস্তবের নরম মাটি!
চির সবুজ বৃক্ষের ও বেদনা থাকে
পাশের পর্ণমোচী বৃক্ষ তা বোঝে না,
চৈত্রের খরতাপ ঋতু পরিবর্তনে
বেআব্রু হয়ে তাকায় ঈশ্বরের দিকে!

আশাহত 'দিগন্তর' জীবনে তাকে
বোঝার মতো কেউ নেই,
নদীর স্রোতে বয়ে চলে
ময়লা আবর্জনা,হিংসা ঘৃণা
মান অপমান,অব্যক্ত কথা নিয়ে ওই সুদুরে-------

রাহুল শীল

শূন্য 

প্রতিটি বিষাদ ভরা রাতে 
আমরা আঁকি নিজ প্রতিমা,
গাঢ় বর্ণ অথচ আত্মশোকের আভা !

এই শোকগ্রস্ত শহরের আলো
প্রতি ঘরে নিভে গেলে 
জ্বলে ওঠে স্বনির্মিত শূন্যতার রেণু।

মনচলি চক্রবর্তী

অহল্যাবাই 

অহল্যা বাই ছিলেন এক সাহসিনী, পূণ্যতীর্থে দীপ্তি,
অশান্ত যুগে আনলেন শান্তি, ধর্মে রাখলেন নীতি।
কাশীর ঘাটে গড়লেন মন্দির, সেবায় জীবন দিলেন,
রাজার বেশে নয়, মানুষের মেয়ে হয়ে হৃদয়ে জায়গা নিলেন।

বন্দনা নয়, সম্মান হোক তাঁর কর্ম ও উদারতায়,
শক্ত হাতে নিলেন ভার, ইতিহাসে রইলেন পাতায়।
নারীর যে গৌরব গাঁথা, অহল্যার জীবন সেই প্রেরণা,
জ্ঞান ও সেবার পথে হেঁটে আনলেন নবজ্যোতির সজীব সঞ্চারনা।
সংস্কৃতির কণ্ঠে বাজে আজও তাঁর কীর্তির রাগ,
অহল্যা বাই—নারীশক্তির এক অনন্য উদাহরণ, চির অম্লান ভাগ।

পূর্ণাল মজুমদার

আমি ও মেঘ

একলা মেঘ ক্লান্তি নিয়ে ডাকছে আমায় কাছে।
বলছে আমায় আলতো করে জড়িয়ে রাখ ভালোবেসে।
মেঘের দেখি বায়না অনেক কত শখের বাহার।
আমার বাপু অনেক কাজ আগলে রাখার স্বপ্ন এবার ছাড়।
ভালোবাসি বললেই কি ভালোবাসা যায়?
ভালোবাসার উপযুক্ত কারণ যে চাই।
মেঘ বলছে, হীরে চাইনি মানিক চাইনি চেয়েছি ভালোবাসা।
তাতেও নাকি আমি করছি ভিত্তির প্রত্যাশা।
এখন মেঘকে আমি বোঝাই কি করে, দুনিয়াটাই এমন।
বিশ্বাস এখন তলানিতে,তাই সর্বক্ষেত্রেই স্বার্থরক্ষা প্রয়োজন।

রাজীব আচার্য্য

পাহাড়

পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে 
আকাশটা যতই কাছের মনে হয়। 
সে তো ততটা কাছের নয়, 
পরিশ্রম করলেই তার সফলতা হয়। 

ঘরে বসে না থেকে কর্ম করতে  চলো
অলসতা বেশি দিন ঠিকে না কাহারও
বিশাল বড় বাড়ী, টাকা অনেক বেশি,
তাই তো তোমার চোখে লাগে না।

অসহায় মানুষের কান্না আর হাসি,
গুজব ছড়িয়ে আছেন বড়ো ভাল, 
মনে রেখো সবার মনে আছে তার পবিত্রতার আলো। 
অন্যের কর্ম দেখে তুমার কেন হিংসা হয় ? 

জীবনে সফলতা আছে কর্মেই তার পরিচয়
যতই করো গালমন্দ, পারবে না কিছু করতে
সততা আর নিষ্টা আছে, সবার কাছেতে,
বসে খেলে রাজাও ফকির হয়।

পরিশ্রম করলে গরীবও ধনী হয়, 
সম্মান দিলে সম্মান পাবে, হবে না অসম্মান
সবাইকে শ্রদ্ধা করো করবে তোমায় গুনগান
বিদ্যা আছে তোমার জানি বুদ্ধি বড়ই কম।

সততার দিকে চেয়ে আছ তাই তোমার পরিচয়
কিছু মানুষের সম্মান তুমি পাবে এ করো না আশা, 
অপদার্থতা ব্যবহার করে করবে তোমায় নিরাশা,
যে মানুষ শিক্ষক হয়ে শিক্ষকে করে না সম্মান
অযোগ্য বানিয়ে রেখে করে শুধু অসম্মান।।

আলম সাইফুল

গণবিপ্লবটি ঐক্যের ডানায় আরও স্বপ্নবাজ হয়ে উঠুক

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই সে ঘুরে আসুক কৃষকের উঠান, শ্রমিকের হাতুড়ি কাস্তে কোদালের ধার, কামারের হাপর, নাপিতের ক্ষুর, কাঠুরিয়ার করাত, যাত্রানটীর সাজঘর মোটকথা মেহনতী নাগরিকের ক্ষুধা-দাওয়াই-লেখাপড়া আর মাথার উপরের নিরাপদ ছাদ থেকে; সর্বহারার উঠান থেকে

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই পতাকার শত্রু, গণশত্রু আর ফ্যাসিস্ট শক্তিকে চিরনিষিদ্ধ করে দাও, কপাটে খিল লাগিয়ে দাও চোর আর চোরের বাচ্চাদের জন্য  

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই জ্ঞানবৃক্ষগুলো হে বেড়ে ওঠো, ছুড়ে ফেলে দাও মাকালফল মহাকালের, বন্ধ করে দাও আফিমের চাষ

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই ইতিহাসকে এগিয়ে নাও, বিপ্লবকে এগিয়ে নাও 

লোভে নয়, ন্যায়-নিষ্ঠুরতার নিরিখে 

মহাসময়ের এই বিন্দুকেই পরিধি করে ঘুরবে বৃত্ত এমন নয়, বিপ্লবও মহাকালের মহাকাব্যের অনুঘটক 

তাই শেষ বিপ্লব বলে কিছু নেই, বিপ্লব জীবনের সমান, ভুলোনা যেন

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই বিপ্লবের উদ্ভাসিত আলো ঐক্যের ডানায় আরও স্বপ্নবাজ হয়ে উঠুক।

দেবাশীষ গোস্বামী

একাকিত্ব 
     
আলো-আঁধারে যেখানেই যায় -
মাথার মধ্যে স্বপ্ন নয়,শান্তি নয়,
কোন এক একাকিত্ব কাজ করে! 

এ কোনো সেন্টের ধোঁয়ার মতন নয় - নয় ধূপকাঠির গন্ধ -
যেন এক হৃদয় পুড়ানো বোধ! 
যা আষ্ঠে -পৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে আমাকে। 
যার বিকট গন্ধে ফেঁপিয়ে উঠেছে মনোপ্রান,
মন-সংসার জ্বালিয়ে তুলছে তার ঘ্রান। 

ঘরে -বাইরে যেখানেই যায় -
হৃদয় মাঝে হাসি নয়, কান্না নয়,
কোন এক একাকিত্ব কাজ করে। 
ইচ্ছে করে সব কিছু উপেক্ষা করে 
নতুন করে স্বপ্ন দেখতে-
আমার আমিকে নিয়ে। 
কিন্তু সুযোগটা পাচ্ছি কই?

তন্দ্রাহীন একাকিত্ব  সকাল থেকে রাত পাহারা দিচ্ছে। 
সেই অতন্দ্র একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে, 
সবার মাঝখানে বসে উল্লাসে-আনন্দে মেতে উঠছি। 
কিন্তু উত্তরণের পথে পাচ্ছি কই!

সব কিছু অসহ্য মনে হয়,
সব স্বপ্ন তুচ্ছ মনে হয়।
বুকের মাঝে শান্তি নয়, সুখ নয়,
কোন এক একাকিত্ব কাজ করে!

অঞ্জন ব্যানার্জ্জি

অস্থির সময়

অস্থির সময় মাটি ছুঁলে
কণ্ঠ ছাড়ে সাহানা
মুছে যায় ঠোঁটের হাসি
নাভিমূলে জমে আতঙ্কের ময়লা
উদ্যম হারায় প্রাণ
সব হারিয়ে ন্যাংটো হৃদয়
মন্বন্তরের ভিখারির মতো শ্বাস নেয়
খোঁজে বাঁচার প্রেরণা
তখন শব্দরা লং মার্চে
নিবাত  বাতাসে কবিতার খাতায়
তোলে প্রতিবাদী পতাকা
জোগায় বাঁচার অস্ত্র।

সুপ্রতিম ভৌমিক

শারদ প্রকৃতি

শারদাকাশে
শুভ্র মেঘ ভাসে,
দুরু-দুরু সমীরে
বিহঙ্গের বিচরণ,
কূজন রবে নীলাকাশে ।
আগমনী সুরে সুরে,
কাননে কাশফুল,
শতদল দোলে,
শিউলি হাসে ।

বিশ্বজিৎ মানিক

অমর রূপসী বাংলা 

সবুজ ধানগাছে ঝুঁকে পড়া নিস্তব্ধতা,
ভোরে কাকের ডানায় ছিঁড়ে যাওয়া প্রথম আঁচড়,
নদী-- অদৃশ্য স্রোতের গোপন জলরঙের ক্যানভাস,
তালগাছ-- দীর্ঘ ছায়ায় জমে থাকা একাকীত্ব।

শিশির--ভাঙা কাঁচের উপর জমে থাকা ঠান্ডা অক্ষর,
জোনাকি-- অন্ধকারে ক্ষুদ্র বিদ্যুতের বিস্ফোরণ,
চাঁদ-- আকাশের বুকে টাঙানো সাদা প্রদীপ,
যার আলোয় গ্রাম ঘুমিয়ে থাকে শক্তির আঙিনায়।

পথের ধুলোয় মিশে থাকে কাক আর কোকিলের পদচিহ্ন,
কৃষকের ঘামে ভিজে ওঠে শস্যের প্রতিশ্রুতি,
বট গাছের ছায়ায় জমে থাকে শৈশবের হাসি,
ডাকে ফেরিওয়ালা-- প্রভাত হাটের সুরে।

এই বাংলাই অমর স্বপ্নের প্রতিলিপি
এখানে ছবি হয়ে থাকে কবির নীরবতা,
প্রকৃতি লিখে দেয় এক অনন্ত উপাখ্যান--
রূপসী বাংলা হৃদয়ের চিরকালীন আলোক ছায়া।

আলমগীর কবীর

ইতিহাসের পথ

যেখানে বাধা, সেখানেই জন্ম নেয় নতুন পথ।
পাথরের দেয়াল যতই উঁচু হোক,
মানুষের স্বপ্ন তার চূড়া ছুঁয়ে ফেলে।
ঝড় যতই ভয়ংকর হোক,
তার ভেতরেই জেগে ওঠে আগুন—
যা আলোকিত করে ভবিষ্যতের দিগন্ত।

ইতিহাস কখনো সহজ পথে তৈরি হয় না।
অবহেলা, দুঃখ, শোষণ, বঞ্চনা—
এসবই ইতিহাসের গর্ভধারণ।
যেখানে বাঁধা, সেখানেই মানুষ শেখে
অসীম ধৈর্যের পাঠ, সংগ্রামের মহাকাব্য।

একজন পথশ্রমিকের ঘামে,
একজন স্বাধীনতার সৈনিকের রক্তে,
একজন মায়ের অশ্রুতে—
বাধার প্রতিটি ফোঁটায় গড়ে ওঠে ইতিহাস।

কারণ ইতিহাস মানে শুধু অতীত নয়,
ইতিহাস মানে মানুষের অবিনাশী জয়গান।
যেখানে বাধা, সেখানেই ইতিহাস গড়ে—
যেন শিকল ভাঙা সুর,
যেন ছাইয়ের ভেতর থেকে ওঠা অগ্নিশিখা।

সুধীর রায়

বল্লভী 
        
হে বল্লভী! কাজলা নয়না মনোহারণী
এলোমেলো কেশ দোলে হিমেল হাওয়ায়,
কপালে সিঁদুর ফোঁটা; নূপুর পরা পা-য়!
আকাশে সূর্য হাসে, বল্লভী উঠোন কোনায়!!

বিন্দু বিন্দু শিশির ঝরে এলোমেলো কেশে,
হাতে শঙ্খ,পা-য়ে‌ আলতা; অপরূপা বেশে!
ফুলদানি হাতে, ফুল রাখে তাতে; ছিঁড়ে গাছের ফুল,
নীল শাড়ি পরে, গুন গুন করে; দোলে কানের দুল!!

নাকে নোলক, পা-য়ে আলতা; ঠোঁটে রাঙা হাঁসি!
চাপা সুরে গান করে-"প্রিয় তোমায় ভালোবাসি"....
ফুলে ফুলে প্রেম মালা গাঁথে বল্লভী!
স্বপ্নের তরী বেয়ে ছবি আঁকে.......... কবি!!

হে বল্লভী! হে বল্লভী! মনোহারিণী -
তুমি যেন আকাশের চাঁদ, 
জ্যোৎস্না ভরা জামিনী;
রূপের সাজে যেন রূপবতী কামিনী!!

শিপ্রা সূত্রধর রায়

কাটাকুটি 

মনেতে ইচ্ছা ছিলো বনেতে শকুন 
ফুলের কাটাঁর সাথে ভ্রমরের ও গুনগুন। 

ভয়ের লাগাম যদি আগাম ছিঁড়ো 
লাগবে না সঙ্গী একটা  কাউকে বড়ো। 

ঘুণটাকে খুন করে ফেলো ভাগাড়ে 
মুক্তির হাওয়া লাগে ভয়ের শিকড়ে। 

মুখরিত স্বপ্নেরা, অপহৃত মেঘ 
আকাশে নীলিমা রাশি, কেটেছে উদ্বেগ। 

আড়ালে কান্না নয় মুক্তির পান্নায় 
হামাগুঁড়ি শিরদাঁড়া সটান দেখায়। 

দীপালিকা জ্বলজ্বল পিপীলিকা সরালে 
পতপত উড়ে ঘুড়ি লাটাইটা ঘুরালে। 

যুক্তির বাটখারা অতঃপর চাপালে
দাঁড়িপাল্লার কাটাঁ বরাবর তাহলে।

চোখের জলে স্বপ্নের কাজল মুছবে না 
মাথা উঁচু করে বাঁচা খাঁচার ভেতর মরবে না। 

শম্পা ঘোষ

প্রতিবিম্ব 

পশ্চিমে ঝড় উঠলে ঈশান কোণে মেঘ ,
শিরায় শিরায় আত্মদহন আর বিশ্বাসে ভ্রম -
রং বদলে আবহাওয়া এমন বিপরীতমুখী স্রোত 
ভেসে যাওয়ার টানে আঁকড়ে ধরে বিশ্বাসের মুখ ,
জ্বলতে জ্বলতে শুধু আত্ম দহনের চিত্রকল্পনায়
ভেসে যায় মহাজাগতিক স্বপ্নরা;
কেউ সাড়া দেয় না 
শুধু দূরত্ব বেড়ে যায় 
সাথে আটকে থাকে স্বার্থ সংসার, 
মুছে যাওয়া অভিমান
 আর মাটির উনুনের খিদে 
যেন মিলেমিশে একাকার ....
এক কাপ লিকার চায়ে আসলে আমি 
প্রতিবিম্বের প্রতিচ্ছবি র ফসিল হয়েই বেঁচে থেকে যাই।


ছন্দা দাম

রূপকথার গল্প

বাদলের ডাক শুনে হাত বাড়ায় আকাশের দিকে
ছুঁতে চায় দুফোঁটা মধু জল
আঁধারের ধার ঘেঁসে যে নদী বয়ে যায় ধীর লয়ে
তার নিঃশব্দ চলন অবিচল,
বুকের চোরা গাঙে বান এলে চোখে অপ্রকাশিত যে
কেউ না রাখুক পাতা ঝরা বিকাল মনে রাখবে তাকে।

এক উঠোন শূন্যতার মাঝখানে হেঁটে চলে যায় সে
বিরহ কাকে বলে কজন বোঝাতে পারে বলো?
নিরব নিভু নিভু প্রদীপের শিখাটির বুক কেঁপে ওঠে
ধোঁয়াশার বাঁক বেয়ে মেয়েটি ইতিহাস হতে চলে গেল!

জিজ্ঞেস করেছ কি তাকে...কি গো ভালো আছো?
জানি এমন কথা জানতে নেই,
ভাত কাপড়ের শান্তির বিনিময় বেঁচে দিয়েছে স্বভূমি যে
তার অস্তিত্ব...না না কখনো মানতে নেই!!

তবু সে চলে রঙচটা আঁচলে বয়ে নিয়ে জীবনের বীজ
বুকে তার বাঁধা জীবনের অক্ষয় তাবিজ।।

বিশাল দাস

অনন্ত প্রেম তুমি

অনন্ত প্রেম তুমি, সীমাহীন স্বপ্ন,
নীরব হৃদয়ে বয়ে চলো গোপনতম।
চাঁদের আলোয় যেমন জোনাকির হাসি,
তেমনই তুমি আমার রাতের উপাসী।

নিঃশব্দ প্রহরে যে ভালোবাসা জাগে,
তুমি সেই গান, হৃদয়ে যে লাগে।
আকাশে ভাসা এক টুকরো মেঘ,
তোমার স্মৃতি শুধু সুখেরই রেখ।

তুমি যে ছায়া, রোদের পরশে,
আমার প্রতিটা মুহূর্তে ফিরে ফিরে আসে।
তোমার নাম ধরে জাগে যে বৃষ্টি,
তারই সুরে বাজে প্রেমের দৃষ্টি।

সব ঋতুতে তুমি, বসন্তের ছোঁয়া,
আমার কবিতায় তুমি অনুরাগে মোয়া।
চোখের পাতায় জমে থাকা চাওয়া,
তুমি তা পূর্ণ করো নীরবে, ভরপাওয়া।

তুমি হারাও না, ছিলে আছো সবখানে,
আমার জীবনরেখায় আঁকা প্রতিটা গানে।
অনন্ত প্রেম তুমি, নিঃশেষ নয়,
তোমার ছোঁয়াতে প্রতিটা ক্ষণ সজীব হয়ে রয়।

সঞ্জয় পাল

শুভ শারদীয়া 

বছরভর অপেক্ষার পর বাজলো আগমনীর সুর, 
দশভূজা মা ফিরে এলো করতে সবার দুঃখ দূর।
কাশফুল হাওয়ায় দোলে শিউলি ছড়ায় মিষ্টি গন্ধ,
কুয়াশাচ্ছন্ন স্নিগ্ধ সকাল আনে যে উৎসবের ছন্দ।

কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই আট হোক কিংবা আশি,
শারদোৎসব সবার মুখে ফোটায় আনন্দের হাসি।
বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসবপ্রিয় শারদীয়া দুর্গাপূজা, 
চিন্ময়ী দেবী মৃন্ময়ী রূপে সেজে উঠছেন দশভূজা।

চারিদিকে আলোর মেলা গান বাজছে ঐ প্যান্ডেলে,
পুরোহিত আরতি করছেন ধূপ ধুনো আর ক্যান্ডেলে।
দেবীর বোধন হবে এবার এলেন ঊমা তাঁর বাড়িতে, 
মাকে বরণ করতে মেয়েরা যাচ্ছে লালপেড়ে শারীতে।

শাঁখ,কাসর ও উলুধ্বনিতে পূজো মন্ডপ হলো মুখরিত,
অশুভ শক্তির বিনাশকল্পে দূর্গতিনাশিনী মা আবির্ভূত।
রাতজেগে হবে পূজো দেখা নতুন কাপড় গায়ে চাপিয়ে,
ঘোরাঘুরি করে ক্ষিদে পেলে ফুচকা স্টলে পরো ঝাঁপিয়ে।

অষ্টমীতে অঞ্জলী দিতে যাই দেবী দূর্গতিনাশিনীর সন্মুখে,
মন্ত্রোচ্চারনে আরাধনা করে তৃপ্তির আভা সকলের মুখে।
ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ নেই এই আনন্দধারা সবার জন্য,
দেবীর আরাধনায় ব্রতী হয়ে জীবনটাকে করে তোল ধন্য।

এবারের পূজো কাটুক ভালো হাত রেখে একে অন্যের হাতে,
মায়ের আশির্বাদ বর্ষিত হোক ভালো থেকো সবে একসাথে।
মা দূর্গার কাছে করি বন্দনা আসুরিক শক্তি বিনাশ হোক,
কেটে যাক সব দুঃখ ও গ্লানি মর্ত্যের দূর্গারা ভুলুক শোক।

পাঁচটা দিন সকলের জন্যই মহোৎসবের আমেজে ঘেরা,
এরপরেই মনখারাপের ক্ষণ দশমীতেই যে মায়ের ফেরা।
চোখের জলে বিদায় দেবো ঢাকে বাজে বিসর্জনের সুর, 
আবার এসো মা ফিরে তুমি করতে আমাদের দুঃখ দূর।

Nov 13, 2024

তৈমুর খান

ব্যবসা

রোজ আমাদের বিবেক বিক্রি হয়
রোজ আমাদের লজ্জা বিক্রি হয়
তোমরা শুধু দোকান খুলে রাখো
তোমরা শুধু ব্যবসা চালাও

শরীর জুড়ে তোমার দোকান
শরীরী দোকানগুলি
আমরা শুধু মোহ কিনতে যাই
আমাদের শুধু মোহের নেশা পাই

কোন্ আগুনে পুড়তে থাকে দেশ?
কোন্ আগুনে পুড়তে চায় মন?
কেউ বোঝে না, মন বোঝে না
পুড়তে পুড়তে সবাই নিঃশেষ

সবাই দেখি বিজ্ঞাপন দেয়
 বিজ্ঞাপনে শরীরী আশ্লেষ 
সব পর্দা উড়ে গেলে একইরকম টান
সব দোকানেই এখন শুধু সহজলভ্য কাম।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

মহারাজ তোমাকে আজও ভোলেনি

দূরে ব্লাস্টিং-এর আওয়াজ, পৃথিবীকে খুঁড়ছে মানুষ।
সমস্ত গাছগুলি দীর্ঘকায় সৈনিকের মতো স্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে আছে
যেন এক্ষুনিই কুচকাওয়াজ শুরু হবে।
এইসব সুসংবদ্ধ সৈনিক বৃক্ষের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছি
আমি মহারাজ!

ঢাল তলোয়ার দূরে ফেলে এসেছি আজ
হালকা নীল আকাশ খাটিয়েছে সামিয়ানা
গাছপোকা কিংবা ঝিঁঝিঁরা ধরেছে সানাই।
আমার শরীরে এখন কোনো লং মার্চ নেই, নেই কোন আস্ফালন
এই মুহূর্তে যে কোন মানুষের সঙ্গে
আমি মহারাজ, ভাগাভাগি ভাত খেতে পারি।

বাতাস আঁচড়ে দিচ্ছে বন-বালিকার চুল।
ওগো হলুদ মেয়ে, তুমি তো আমারই ছিলে
সেই কবে কতকাল আগে
আমরা দুজনে একই সঙ্গে ঝুলতাম
পাগলা হাওয়ায় ছুটতাম
ঘাসের জঙ্গলে গড়াগড়ি যেতাম।
বালিকা, তুমি আজ কোথায়?
অদলবদলের স্রোতে কোথায় তুমি হারিয়ে গেলে?

এই দ্যাখো, জঙ্গলের মধ্য দিয়ে তোমার মহারাজ হেঁটে চলেছে
একা একা সঙ্গী নেই সাথী নেই
শুধু সুন্দর পোষাকের নীচে একটা সিসের ভারি জামা, কিংবা রক্ষাকবচ।
এখনও হয়তো তুমি নীল শাড়ি দুলিয়ে আনমনে হেঁটে যাচ্ছ
যেন এক রাজকন্যা।
মনে কি পড়ে তোমার মহারাজকে
যাকে তুমি চুপি চুপি মুকুট পরাতে।

এই অনন্ত বনমালার মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে
আকাশে একটা দুটো করে তারা ফুটবে
দূরে বক্সাইটের খাদানে ব্লাস্টিং এর আওয়াজে 
আমি থমকে গিয়ে দেখবো
তোমার জেন্টেলম্যান দিনগুলো ক্যালেন্ডারে উল্টো হয়ে ঝুলছে।

পথ হাঁটতে হাঁটতে কোন এক স্ট্রীটে
তুমি এখন অসহায় থমকে দাঁড়িয়েছ,
আকাশের তারায় চোখ রেখে 
তোমার নাকেও ভেসে আসছে পুরোণো দিনের গন্ধ!

হু হু করে বাতাস বইছে।
সরলবর্গীয় অরণ্যের সৈনিকেরা এখন আমার সামনে কুচকাওয়াজ করবে,
আর অক্ষমতার আক্রোশে আমি আদেশ দেব নক্ষত্রকে: ‘নীলডাউন হও।’
তারপর ক্যাম্পে ফিরে গিয়ে আহত সৈনিকের মতো অসহায় পড়ে থাকব
শুধু একটা কথাই বলার জন্যে: ‘মহারাজ তোমাকে আজও ভোলেনি।’