Sep 30, 2023

গৌতম চন্দ্র

শব্দরূপ

বৃষ্টি পড়ার টুপ্ টুপ্
কোলাব্যাঙের থুপ্ থুপ্
মাছের লেজের ছুপ্ ছুপ্
বসন্ত বৌরির ঘুপ্ ঘুপ্
বানর ছানার ঝুপ্ ঝুপ্
হনুমানের হুপ্ হুপ্
হৃদয় ডাকে ডুপ্ ডুপ্
ঢোলের বাদ্যি ঢুপ্ ঢুপ্
খাবার খেয়ে গুপ্ গুপ্
খুকু শোনে চুপ্ চুপ্!

প্রতীচী ভৌমিক

সঙ্গী

কে গো  ওটা,  মিথ্যা  ঝুটা
আমার  মতো হাঁটো? 
সকাল  বিকাল  লম্বা হও যে
দুপুর বেলা  খাটো? 

ভোরের বেলায়  পূব আকাশে
সৃর্যি প্রণাম করি,  
সে ব্যাটা ও প্রণাম  সারে 
আমার  পিছন ধরি। 

দুপুর বেলা  হন্যে  হয়ে 
খুঁজে  মরি বৃথা,
আমার সাথে মিশে  থাকে 
আষ্টেপৃষ্ঠে  বাঁধা। 

বিকাল বেলা  সূর্য  ডুবে 
দেখি অন্যমনে, 
সে ও তখন  সূর্য  দেখে
লুকিয়ে সঙ্গোপনে। 

আমি  দৌড়ালে সে  ও দৌড়ায়
দাঁড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে,
হাত নাড়ালে নাড়ায় হাত
বসলে বসে থাকে। 

অন্ধকারে  হারিয়ে যায় সে
ধরতে পারি  নাকো, 
আলো জ্বাললে সটান  হাজির 
বকলে যাবে নাকো। 

নৃপেশ আনন্দ দাস

শিশুই যেন রবে

১
শিশুরা সব ফুলের মতো,
ফুলের মতো হাসে ।
সেই না হাসি দেখে সবাই,                                    
আগ বাড়িয়ে আসে ।।

২
আয় রে শিশু, আয় রে তেড়ে,
তোদের জায়গা নে রে কেড়ে,
জয়ের ধ্বনি দিয়ে দিয়ে,
আধমরাদের গা মেরে ।।

৩
কথায় কবে গেছে রে কে, মানবতার ইতিহাসে ।
কাজের জনে সবাই মানে, সবাই ভালবাসে ।।

৪
আজকে শিশু, কাল বিকেলে জানি বড় হবে ।
ফুলের ছোঁওয়া গায়ে মেখে, শিশুই যেন রবে ।।

পাপিয়া দাস

বুড়ো মাষ্টার

ছোটবেলায়  ছিলো
এক বুড়ো মাষ্টার আমাদের 
দুপুরবেলায় পড়াতেন ছ'দিন
শুধু রবিবারটাই ছিলো বাদের।

প্রতিদিন একই ভাব
এসেই বলতো পড়া লেখো যা যা ছিলো স্বল্প
বসে বসে ঘুমিয়ে  যেতেন
আর আমরা জোড়ে দিতাম গল্প।
ভাইতো একদম দেখে দেখে
লিখে ফেলতো সব।
আমি বলতাম বলে দিলে
বেত পড়বে তোর ওপর দপ্ দপ্ দপ্।

সেকি!কান্ড 
রোজই  একই ব‍্যাপার
ভাই দেখে দেখে লিখতো সবই
আমার চোখের সামনে।

আমি বলে দেব।দেখে কেন লিখিস
বললে কি আর হবে? দোষ নয়তো আমার 
ভুল তো করছে এ বুড়ো মাষ্টার

সোনালী মণ্ডল

দীপুর দেখা 

দীপু এলো গ্রাম ঘুরতে,
পুজোর ছুটির দিন গুলিতে।
ঠাম্মা দাদু গল্প শোনায়,
বসিয়ে কোলে দুপুর বেলায়।
দাদুর সঙ্গেই হেঁটে হেঁটে,
দেখে দীপু সেই তল্লাটে।
সকাল বেলা হাটে যাওয়া,
বিকেল হলে পুজোর খাওয়া।
সন্ধ্যা কালে ঠাকুর দেখা,
দীপুর সবই নতুন শেখা।
ইচ্ছে হলেই দৌড়ে মাঠে,
খালি পায়ে রৌদ্রে হাঁটে।
শাপলা দেখে খালের জলে,
মাছ ধরার ছিপ ফেলে।
গাছে উঠে পেয়ারা পাড়ে,
খেয়াল মতো বাছুর ধরে।
দাদুর চশমা চোখে নিয়ে,
ঠাম্মার পান মুখে দিয়ে।
ছড়ি ঘোরায় সবাইকে,
চোখ রাঙিয়ে ভীষণ বকে।
এমন করেই কেটে গেলো 
দীপুর ছুটির দিন গুলি,
শহরে ফেরার দিন এলো
সঙ্গে যাবে স্মৃতির ঝুলি।
চায়না দীপুর শিশু মন
অট্টালিকার খাঁচায় থাকতে,
গ্রামের এই সহজ জীবন
পাবে কি আর শহরেতে ?

দীপা সরকার

ব্যাঙের ছাতা

আচ্ছা খুড়ো, বলতে পারো;
এমন কেন হয়!
মাশরুমকেই সবাই কেন ব্যাঙের ছাতা কয়?
মাশরুম তো আমার প্রিয় খাবার মা রান্না করে দেয়,
সত্যি সত্যিই ব্যাঙ বুঝি সেটা মাথায় দেয়?

তোমার মতন তারও কি হাতে ছাতা থাকে?
ধুর! তার তো আর হাত নেই ছাতা ধরে রাখে।

কেমন যেন গোলমেলে সব,
বুঝি না বাপু কিছু,
এত প্রশ্ন কেন যে আমার পিছু পিছু।

মাশরুম নাকি ব্যাঙের ছাতা...
এটা কি করে হয়?
সবাই যে কেন মাশরুমকেই ব্যাঙের ছাতা কয়?

বলছি দাঁড়া সব উত্তর এবার থামা প্রশ্নের মেলা,
তোর এত প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার ফুরোবে এ বেলা।
ছাতার মতো দেখতে বলেই একে ছাতা কয়,
ব্যাঙ এসে বৃষ্টির দিনে এর তলেই রয়।
ব্যাঙ থাকে বলেই বোধ হয় একে ব্যাঙের ছাতা বলে।
প্রিয় খাবার খেয়ে নে এবার,
এতো কথা না বলে।
আর শুনে রাখ—
ব্যাঙের ছাতা মাশরুমও হয়,
এক জিনিসের দুটো নাম হলে।

বিশ্বজিৎ মানিক

সূর্যি মামা
              
আমি আলোর রাজা সূর্যি মামা
অন্ধকারে কেউ দেখে না ।
দিনের বেলায় আলো নিতে
সুযোগ পেলে কেউ ছাড়ে না ।
আমি যে আলোর রাজা সূর্যি মামা ।

তাপ আমার বেড়ে গেলে
লোকে আমায় মন্দ বলে।
তাপের শিখায় জ্বলবে বলে
কেউ আসে না আমার কাছে ।
আমি যে তাপের রাজা সূর্যি মামা ।

আমার শক্তিতে যারা
দিনের বেলায় মাতোয়ারা,
দিন শেষে তারাই আবার
খবর কেউ রাখে না আমার ।
আমি যে শক্তির রাজা সূর্যি মামা ।

পান্থ দাস

ঠাম্মা 
     
ঠাম্মা
ও ঠাম্মা
আমার বাড়ি কই ?

জমিয়েছি যে
এক মুঠো আবদার 
আদর দেবো কই ?

ঠাম্মা 
ও ঠাম্মা
মা তোমার কই ?

সোহাগে যে তুমি
বায়না করে
রাগটি করো কই ?

ঠাম্মা 
ও ঠাম্মা
ঘোমটা তোমার কই ?

ঘুমের দেশে
গল্পে হারিয়ে
আমিও চেয়ে রই ৷

নীতা কবি মুখার্জী

এসো ভাদু মা


ভাদর মাসে ভাদু পূজা ,ভাদু আনতে চল,
কেমন ভাদু নিবি তোরা আমার কাছে বল।

এসো ভাদু, বসো ঘরে, সাজিয়ে দেবো পান,
তোমার বিয়েতে দেবো ভাদু খাট-পালঙ্ক দান।

আমার ভাদু বাচ্চা-মেয়ে চুল বাঁধতে জানে না,
শান্ত-শিষ্ট লক্ষ্মী -মেয়ে কান্না-কাটি করে দাও না।

সোনার মত রঙ ভাদুর কুচবরণ চুল
রূপের বর্ণন করতে গিয়ে কবি করেন ভুল।

ভাদর মাসের সংক্রান্তি হবে ভাদুর জাগরণ,
তালের লুচি, তাল -ঘাঙরা করবো কতো আয়োজন।

আমার ভাদু রূপের ডালি, আলো ঝলমল করে,
সাত রাজার ধন একলা মাণিক,সবার চোখে ধরে।

এমন সুন্দর ভাদু-মাকে জলে দেবো কেমনে?
আবার এসো ভাদু তুমি পূজা করবো যতনে।

অভিষেক অধিকারী

দত‍্যি দানব

সাত সমুদ্দুর পেরিয়ে
এল এক দত‍্যি 
এই হল গল্পের সত‍্যি

অচিনপুরের রাজার রাজ‍্য
করলো সে যে ছাড়খাড়
কোন প্রজাকেই রাখল না সে আস্ত।

দূরে এক ছোট্ট কুটীর 
সেখানে থাকে মা আর খোকা
খোকা বলে করব আমি ধ্বংস
দৈত‍্যের বংশ।

খোকার কাছে আসে এক মুনি
মন্ত্রপূত তরবারি দেয় সে খোকার হাতে।
মুনি বলে তরবারির তিন প্রহারে
দত‍্যি হবে কাত। 

তরবারি নিয়ে খোকা অচিনপুরে আসে
তিনপ্রহারেই করে ধ্বংস 
দৈত‍্যের বংশ।

রাজার মেয়ে নিয়ে খোকা চলে গাঁয়ের পথে।
খোকার মা ঘরের ভিতর আম সন্দেশ মাখে।
 তাই খেয়ে খোকা আর রাজকুমারী নাচে। 

সঞ্জীব কুমার রাহা

 একটা পাগল,

একটা পাগল,কবিতা লেখে
একটা পাগল প্রকৃতি দেখে
পাগলটা ঘুরে বেড়ায়,
জীবনবোধের রসদ খোঁজে

পেটে নেই ভাত,গায়ে নেই জামা
তবু পাগলটা কবিতা লেখে
ও রাত জাগে, সূর্যোদয় দেখে আগেভাগে
ওর অসীম ধর্য্য।পাগলা কবিকে প্রনাম।

দীপু দেবনাথ

খেলার পুতুল 

চুল বেঁধেছি শাড়ি পরেছি যাব এবার সশুর বাড়ি।
হাতে চুরি পায়ে আলতা সঙ্গে যাবে আমার ছাতা।

তুমি মাগো আমার মেয়ে বিয়ে দেব বাবার সনে!
ডাকবে বাবা আমায় যখনি উত্তর দেব আমি রানি ।

মার বিয়ের কন্যা যাত্রী আমার হাতের রাঙা পুতুল টি ।।
বাজবে কাসর উলোড় ধনী বড় দেখবে ছোট্ট পুতুল টি।

মেয়ে আমার খেলার সাথী সংসার খেলায় পরিপাটি ।।
ছোট্ট পুতুলটির আজ বিয়ে হয়েছে জীবন যুদ্ধে হেরে ।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

পাজির সাজা

কি রে খুকু কি হয়েছে
কাঁদিস না রে আর
ধরতে যদি পারি তাকে
মারব ভীষণ মার। 

পাজিটাকে কোনভাবে
ধরতে যদি পারি
ভীষণ ভাবে বকব তাকে
পাবেই সাজা ভারি। 

খুকু মনি আর কাঁদিস না
বকছি কেমন তাকে
বুঝবে মজা যখন সাজা
দেব পাজিটাকে। 

চল না খুকু আমার সনে
পুকুর পাড়ে ওই
ঘ্যাংর ঘ্যাংর ডাকছে ব্যাঙ
জলেতে থই থই।

শর্মি দে

বলো না মা!

বলোনা মা, আমাদের পাড়ায়ও 
দুগ্গা মায়ের পুজো হবে নাকি?
নতুন জামা নতুন প্যান্ট
বলো না মা, পরতে পাবো নাকি!

জানো মা, সারাবছর ধরে আমি
কত স্বপ্ন দেখি
শিউলিভরা পুজোর গন্ধে 
খুশি গায়ে মাখি!

বলোনা মা বস্তিবাড়ির বন্ধুরা কি
আমার মতোই ভাবে?
ওদের যে নেই খাবার জোগাড়
কাপড় কোথায় পাবে!

এই "গরিব" টা কি কখনো 
যাবে না মোদের ছেড়ে?
কোথা থেকে উড়ে এসে 
সুখ নিলো কেড়ে!

বলোনা মা, এবার পুজোর
আর কত দিন বাকি?
মণ্ডপে বসে দুগ্গা মাকে
দেখতে পাবো নাকি!

ঢাকের তালে নাচবো মোরা
সব শিশুরা মিলে 
পেটভরে খিঁচুড়ি খাবো
ধনী গরিব মিলে!

ও দুগ্গা মা, দুগ্গা মা!
আসবে কবে বলোনা ?
দুষ্টু এই "অভাব"টাকে
তাড়িয়ে কেন দিচ্ছো না!

ওমা, অনেক তো হলো
আর যে ভালো লাগছে না,,,
চোখের জলে তোমার পুজো 
করবো না মা করবো না!

শ্বেতা_ব্যানার্জী

ভোরের ভৈরবী         

ছোটবেলায়  মোরা আছি
ছোট্ট ফুলের তোড়া, 
স্বপ্নের  পথ হেঁটেই --
নাম কিনবো বিশ্বজোড়া 

খেলবো মোরা ছুটবো মোরা
 খোলা মাঠের বুকে,
দস্যিপনায় পাগল হয়ে 
মোরা হাসবো মনের সুখে। 

বইয়ের ব্যাগ বড্ড ভারি 
নামিয়ে রাখি ওটা, 
মা'গো মুখে মুখে পড়ে 
মোরা, শিখবো এটা-সেটা।

গান টা আমি শিখছি মা'গো 
দোয়েল, ফিঙের থেকে 
বল দেখি মা, ওরা এ গান--
কোথা থেকে শেখে!!

মানুষ যদি হই আমি মা,
ফুলের মতন হ'বো
নিজেই শুধু ফুটবো না মা,
 সুগন্ধও বিলাবো..।
      
বাতাস থেকে শিখবো মা'গো
ধৈর্যেরই শিক্ষা 
প্রকৃতির থেকে নেবো আমি
মানুষ হবার দীক্ষা।

অলকা গোস্বামী

আমরাও দায়বদ্ধ

ঝকঝকে নীল আকাশ। কুয়াশা কেটে একটু একটু করে রোদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ভালোলাগা আবেশ মন ছুঁয়ে যায়।

দুবছর হয়েছে এই শহরে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে সমীর রুচিরা, আর ওদের সাত বছরের ছোট্ট ছেলে বুবাই।

বুবাই এবারে ক্লাস টু তে। শুরুর দিকে ক্লাসের অন্য বাচ্ছাদের সঙ্গে মিশতে অসুবিধা হলেও এখন অনেকেই বুবাইর বন্ধু। পাশাপাশি কোয়ার্টার তাই বিকেল হলেই পার্কে খেলতে যাওয়া, ঘুড়ি ওড়ানো এসব চলতে থাকে। শুরুতে যে মন খারাপটা ছিল , এখন সেটা অনেকটাই কমেছে। মাঝে মাঝে পুরনো বন্ধুদের কথা বুবাইয়ের মনে পড়ে বৈকি!!

রুচিরা বুবাইয়ের পড়াশোনা নিয়ে ভীষন সচেতন।প্রত্যেক ইউনিট টেস্ট এ A+ আনতে হবে, নাহলেই ঘরে অশান্তি।

সমীর বুঝিয়ে উঠতে পারে না। এত অশান্তি করে লাভ নেই। বুবাই কে বড় হতে দাও। এমনি বুঝবে পড়াশোনার গুরুত্ব। শুধু পড়াশোনা করে কী হয় বলত! জীবনে একজন ভালো মানুষ হতে গেলে সবকিছুর দরকার আছে। সবচেয়ে বেশি যা জরুরি সেটা হচ্ছে ওকে শৈশব উপভোগ করতে দাও,কেড়ে নিও না। এই দিনগুলো আর ঘুরে আসে না।

সমীরের শুধু রবিবার ছুটি। তাই ওই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে বুবাই। নানান বায়না থাকে সেদিন। বাজারে নিয়ে যাও, জু দেখাতে ,নয়ত কোথাও বেড়াতে... এসব কত কী! গাছে  কোন পাখি দেখলে সেটা কি পাখি, ওর বাড়ি কোথায় , মা সাথে আছে কিনা, কত্ত কি প্রশ্ন। সমীর বুবাইর প্রশ্নের জবাবে কখনো অধর্য হয় না। ধীরে সুস্থে হাসি মজাক করে সব উত্তর দেয়। 

অনেকদিন থেকে মামাতো দিদি আরতি ফন করে বলছে ওদের বাড়ি যেতে। অনেকটাই দূর তাই সমীর তেমন যাবার ইচ্ছে দেখায় নি। আজ রবিবার, অনেকদিন বেড়াতে যাওয়া হয় না। তাই সমীর রুচিরা আর বুবাইকে নিয়ে দিদির বাড়িতে বেড়াতে গেলো।

অনেক দিন পর সমীর কে দেখে খুব খুশি হলেন আরতি দেবী। বাড়ির অবস্থা স্বচ্ছল ছিলনা তাই ছোটবেলা মামার বাড়ীতেই কেটেছে আরতি দেবীর। তাই ছোটভাই সমীর কে খুব স্নেহ ও করেন। এখন এই বড় শহরের অভিজাত এলাকায় নিজের বাড়ী।ছেলে মেয়ে দুটোই বিদেশে থাকে। সুন্দর দোতলা বাড়ি... ছিমছাম সুন্দর করে সাজানো সবকিছু। কোনো আতিশয্য নেই। রুচিরা বুবাই কে বলল,

যাও পিশিমনি কে প্রনাম কর। আরতি দেবী জড়িয়ে ধরলেন বুবাইকে।

কী যে বল,রুচিরা! আমার ভাইপোকে আজ এতদিন পর দেখছি, কী যে ভাল লাগছে। তোমরা এতদিন হয়ে গেল এই শহরে আছ অথচ আমার বাড়িতে আজ...

কী বলব রাঙা দি, আর বলনা, অফিসে এত কাজের চাপ। তাছাড়া নূতন এসেছি চেনা জানাও হয়নি তেমন।

কথার মাঝখানে হটাৎ করে ধাম করে দরজা ধাক্কার শব্দ শোনা গেল।

এই রে, শুভ নিশ্চয়ই। সুচরিতা এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। সমীর দেখলো

লাফাতে লাফাতে একটা ছেলে ঘরে ঢুকল। বয়সে হয়ত বুবাইর চেয়ে একটু বড়ই হবে।

ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। অনবরত আঙ্গুল নাড়ছে আর মুখ দিয়ে মৌমাছিদের মত ঘু...ঘূ... শব্দ বেরুচ্ছে। পরিবেশ টা হটাৎ করে কেমন পাল্টে গেল। ছেলেটার পিছন পিছন ওর মা ও এসে ঢুকলেন। আরতি দেবী পরিচয় করিয়ে দিলেন।

এই আমার ভাই সমীর আর বউ রুচিরা, ছেলে বুবাই।

এখানেই থাকে।

আর সমীর ইনি হচ্ছেন মিসেস দত্ত আমদের প্রতিবেশী। এই যে শুভ দেখছো ও আমার বন্ধু। আমার সংগে চোখ দিয়ে কথা বলে.... বাগানে আমার ফুল গাছে জল দেয়। অনেক হেল্প করে....!

শুভ উঠে গিয়ে বাবাইর পাশে গিয়ে বসল। বাবাইর মুখের কাছে মুখ নিয়ে খুব ভালো করে দেখল। সমীর বলল,

দেখ ওর সমবয়সী তো  তাই পাশে বসে দেখছে।

হঠাৎ উঠে পড়ল শুভ। ঠিক যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। মিসেস দত্ত ও ওর পিছন পিছন বেরিয়ে গেলেন।

আরতি দেবী বললেন,

সত্যি কী যে খারাপ লাগে মিসেস দত্ত কে দেখলে। কোনো কিছুর অভাব নেই ওদের। হাসব্যান্ড এম এন সি তে বড় চাকরি, নিজেও নামী কলেজের প্রফেসর ছিল। এই ছেলের জন্মের পর ডাক্তার যখন বলল যে বাচ্চা অটিস্টিক ও এমনি নিজের ভাবেই থাকবে। ওদের ব্রেইন এর কোনো একটা পার্ট নাকি ডেভেলপ হয় না। এর স্থায়ী কোনো চিকিৎসা ও নেই। মিস্টার ও মিসেস দত্ত কত জায়গা তে গেছে শুভ কে নিয়ে ট্রিটমেন্ট এর জন্যে। কিন্তু খুব একটা ভাল ফল পাওয়া যায় নি।সেই তখন থেকে মিসেস দত্ত চাকরি ছেড়ে বাচ্চার সংগে ছায়ার মত আছে ।  ওর জীবন ছেলেকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে। শুভ কথা বুঝতে পারে। কিন্তু বলে না, ওই তো চোখের ইশারা বা হাত দিয়ে বুঝিয়ে দেয় নিজের কখন কি দরকার।এরকমই নাকি হয় অটিস্টিক.... তাইতো ওরা ভগবানের বিশেষ শিশু।

রুচিরার চোখ জল ভরে এলো। শক্ত করে চেপে ধরলো বাবাইয়ের হাত।

বাড়ী ফেরার পথে সমীর বলল, জানো তো আমি ভগবানকে সবসময় ধন্যবাদ জানাই যে এমনি করেই সব ঠিকঠাক রেখো। বেশী টাকা পয়সা,সম্পত্তি এসব কোন কাজের যদি বাচ্চা এমন হয়।

রুচিরা চুপ করে সমীরের কথা শুনছিল,বলল

শুভ র চোখ দুটো কী মায়াভরা আর নিষ্পাপ। ওরাই তো ভগবান গো। আমার ছেলে ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ সবল আছে। ওকে নিয়ে কত স্বপ্ন কত উচ্চাশা। শুভর মায়ের কথা ভাবলেই আমার বুকটা মোচড়ে উঠছে।

সমীর বলল,

রুচিরা এবার থেকে ছুটির দিন গুলোতে আমরা স্পেশাল চাইল্ড দের স্কুলে যাব, ওদের সাথে সময় কাটাব। সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদেরও তো আছে।

সুপর্ণা মজুমদার রায়

স্বপ্নের ডায়েরি 

হাজার শব্দের ভীড়ে "আমি" কে জড়াতে চাইলে,
কদর্য কন্ঠে শব্দেরা জানান দেয়, 
" ফিরে যাও---,তুমি আমাদের দলে বেমানান "।
আমার পাংশুটে বিবর্ণ চেহারা দেখে কবিতারা বিদ্রূপে হেসে ওঠে, উপহাসের বন্যা বইয়ে দেয়। 
বিকেলের অস্পষ্ট নক্ষত্রের কাছে চেতনার অজ্ঞতাকে বন্দক রেখে শূন্য মনে ফিরে আসি।
কান্নাভেজা রাতের নীরবতায় অগোছালো শব্দের খড়কুটো গুলো গুছিয়ে স্বপ্নের ডায়েরিতে জমা করি।
জন্ম নেয় আরও একটি স্বপ্ন। 

মায়া রানী মজুমদার

অনাথ পথশিশু 

শিশুরা মাতৃ ক্রোড়েই মানান সই, 
মাতৃ হারা শিশুর যত্ন মিলে কই ?
সারা জীবনই দুঃখে কাটে কাল, 
পরের বাড়ি কাজ করে নাজেহাল। 
গরীব ঘরের মা বাবার সন্তানেরা,
কত অনাহারে কষ্টে হয় ঘর ছাড়া।
পথ শিশু হয়েই ঘুরে রাস্তা ঘাটে, 
নেয় না তুলে পথ-শিশু বলে খাটে।

শুভ্ৰা সাহা

খোকার রাগ

খোকন সোনার বেজায় রাগ,
ভাত খাবে না আর যে আজ।
ঘরের মধ্যে খেলা-ধুলা ,
লেখা আঁকা ছড়া -পড়া ।

ঘরে থাকতে শুধুই চাপ,
দশ যে পার হয়নি তার ।
দশের নিচে বয়স হলে ,
কোরোনা যে  আঁকড়ে ধরে।

খোকন সোনার কিপটে দাদু,
বন্দী ঘরে হাঁটে না ভোরে ।
কিপটে দাদুর  ভারি কাশি ,
বয়স যে তার পুরো আশি ।

মাক্স মুখে সব  লকডাউনে ,
বাইরে যায় খুব সাবধানে ।
খোকন আর কিপটে দাদু,
ঘরে থাকে যায়না কোথাও ।

দাদুর জ্বালায় পারছেনা যে ,
লেখাপড়া সকাল সাঁজে।
দাঁতগুলো  দাদুর ইঁদুরের গর্তে ,
খোকনকেও দেয় না চকলেট খেতে ।

তাইতো খোকন ভীষণ খ্যাপা ,
বাবা যে তার অংকে হাবা  ।
নইলে কেউ এমন গুলিয়ে ফেলে ,
কোথায় আট আর কোথায় আশি !

মিতা রায়

মজাই মজা 

শরত এলে মজাই মজা। 
কখন যাবো মামা বাড়ি।
বই খাতা সব গুটিয়ে নিয়ে,
যাবো সবাই ঘোটক দিয়ে।
চারদিন কিন্তু পড়ার খাচাঁয় দেবো আড়ি।
দশমীর পর বুক দুরুদুরু, 
আবার যে হবে পড়া শুরু। 
মা যদি থাকতো শুধুই বাপের বাড়ি..... 
কি মজাটাই না হতো.... 
তাক ধিনা ধিনের মতো.....