Jan 14, 2022

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

এখন নেতাজী

তোমার নামে হয় দারুণ উদযাপন,
বড় মানুষেরা ভাষণ দেন,
সেসব শুনে ছোটরা বড় হয় 
একদিন ওরা সব সত্যিটাই জেনে যায়।

তোমার শূন্যতার কারণ শতেক
ওরা দেখায় ~~ বোঝায়,
তবু কিছু কমিশন বসে
উৎসাহী প্রাণে শান্তি যোগায়।

গুমনামী বাবা তুমিই নাকি?
কোলকাতার কুটুম দেয় ফাঁকি।
আসল কথা বলতে কেন
কেউ কখনো হয় না রাজি!

তোমায় নিয়ে হাজার গল্প 
রূপকথাকে হার মানায়,
তোমার জয়ধ্বনি শুনে
দুর্মুখেরা চোখ রাঙায়।

'নেতাজী ফিরে এসো'
'আমরা তোমায় ভুলব না'
আহ্বান জানালো দেশবাসী,
অভিমানের পর্দা তবু সরল না।

জানো, আজও তুমি অমর হয়ে 
ঝর তুলে দাও হৃদয়ে,
দেশের ভীষণ দুঃসময়ে 
তোমার কথা পড়ে মনে।

বিশাখা অধিকারী

সমুদ্রস্নান 

তুমি কি কখনও সমুদ্র দেখেছো ? আমি দেখিনি ।
প্রিয় কবি আমায় বলেছে —
'যদি আকাশকে ভালোবাসো তবে সমুদ্র হও' ।
আকাশে অনেক নীল থাকে আমি জানি, 
তবে শুনেছি সমুদ্রে নাকি অনেক ঢেউ ,
একবুক গভীরতা নিয়ে সারাক্ষণ গর্জায় ! 
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত — সময় আশ্রয় খুঁজে তার বুকে ।
বলতে পারো সমুদ্র আকাশকে কোথায় জায়গা দেবে ?
আরও কতটা গভীর হলে সে আকাশকে ধারণ করতে পারে? 
এতো মেঘ , এতো উত্তাপ , এতো ঔজ্জ্বল্য !

সেই যেদিন আমার দেশে বলয়গ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হলো 
আমি সেদিন সমুদ্রে স্নান করেছি ,
তরঙ্গ ছিলো , গর্জন ছিলো না , আর ছিলো নোনাজল ।
একবসন্ত পর আবারও কোনো পূর্ণিমারাতে আমি সমুদ্রস্নান করি , —
অকৃপণ আকাশের স্নিগ্ধ বারিধারায় । 

Jan 11, 2022

কাঞ্চন দেবনাথ

মৈত্রী সেতু

এপার ভারত ওপার বাংলা,
মধ‍্যে নদী ফেনী-
দুপারের অভাবখানি,
মিটিয়েছে মৈত্রী সেতুখানি।

ভারত বাংলার মেলবন্ধন,
এই মৈত্রী সেতু-
দু-দেশেরই লোক আসে,
দেখতে আত্মীয় মুখ হেতু।

দেশ বিদেশের গাড়ি চড়বে,
মৈত্রী সেতুতে-
এপার পণ্য ওপার যাবে,
আসবে ফিরে ভারতে।

অর্থনীতি চাঙা হবে,
দুঃখ হবে দুর-
রূপমালা মৈত্রী সেতু,
প্রকৃতিতে অপার মধুর

সুধীর রায়

কলম তুমি

কলম তুমি আঁচড় কাটো ডাইরির পাতা ভরে,
সুখ দুঃখের কাহিনী গুলো বিন্দু বিন্দু ঝরে!
নিরবধি আঁচড় কাটা, এই তো তোমার কাজ!
অবিরত কাটছো আঁচড়, সকাল কিংবা সাঁঝ!

আঁকছো কতো পাহাড়-নদী, রং বেরঙের ছবি,
তোমার ছোঁয়ায় পরশ পেয়ে মনটা ভরায় কবি!
মনের সুখে লিখো তুমি অনুভূতির কথা,
কেউ না জানুক কবি জানে তোমার কতো ব্যথা।

অজ্ঞানতার আঁধারে যখন কারো মন হয় কালো!
কবির হাতের স্পর্শে তুমি, ছড়াও জ্ঞানের আলো।
কলম তোমার শক্তি যে,অসির চেয়ে বেশি,
কেউ না জানুক, এই কথাটা জানে শব্দ চাষী।

নেই কো তোমার চাওয়া পাওয়া!নেই কো অভিযোগ!
আকাশ সম উদারতা!
তোমার আঁচড়ে শান্তির বার্তা।
অবিরাম বিলিয়ে যাও সৃষ্টি সুখ।

কলম তুমি যুগে যুগে চলেছ ইতিহাস লিখে!
নেই ক্লান্তি! নেই অবসাদ!
অবিরত সৃষ্টি সুখের উল্লাসে থাকো মেতে!
বিন্দু বিন্দু কালি মাখা বদন খানা কভু নাহি হয় ফিকে!

কলম তুমি আঁচড় কাটো, ডাইরির পাতা ভরে,
অক্ষরে অক্ষরে শান্তি ঝরে পড়োক বিশ্বের দরবারে।
কলম তুমি সম্মুখে দেখো যদি অন্যায়, প্রতিবাদী হয়ে আঁচড় কেটো,
যেন ন্যায় ঝরে পড়ে তোমার প্রতিটি অক্ষরের বন্যায়।

মায়া রানী মজুমদার

রাজমিস্ত্রি  

রাজমিস্ত্রি করছে কাজ
                 সুনিপুণ  হাতে, 
বাড়ীঘর রাজপ্রাসাদ তৈরী
              নিজেদের হাতে।
কত শ্রম কত কষ্ট ওদের 
             শুধু টাকার জন্য, 
একটু হাসি খুশী ভাবে 
           বেঁচে থাকার জন্য।
ঝড় বাদল রোদ বৃষ্টি 
        ওরা করছে উপেক্ষা, 
করতে হবে কাজ যেন 
         এটা একটা পরীক্ষা।
সুন্দর কারুকার্য করে ওরা
            নক্সার  ডিজাইনে, 
নিজেদের মত করে ওরা 
       কাজ করে আনমনে।
সুন্দর ওদের হাতের কাজে 
             ওরা যেমন খুশি, 
মালিকও খুশী হয় যেন
          তার দ্বিগুণ বেশী।
হারভাঙ্গা খাটুনিতে নির্মিত
        রাজপ্রাসাদ মন্দির, 
নির্মিতে ঘরবাড়ী প্রাসাদ 
             হয়ে যাই অধীর।
মজা লুটি মোরা ঐ 
            সুন্দর  প্রাসাদের, 
টাকার বিনিময়ে পাই মোরা
      এত শ্রমের আস্বাদের।
সারাদিনের খাটুনিতে 
           যা দাম দিই মোরা, 
একবারও ভাবি না 
       আছে কিভাবে ওরা ?
হাসিখুশি থাকে শ্রমিক 
         আপন ভোলা মনে, 
যা পায় তাতেই সংসার 
          চালায় খুশী মনে।

পাপিয়া দাস

রঙিন  পৌষ

পৌষের উৎসব
মাতিয়ে তুলল,
পিঠে পুলির গড়াগড়ি।

বনভোজনে যাওয়া আসা
কি আনন্দ!
নাচ আর আড্ডার  ছড়াছড়ি।

ইংরেজি  বর্ষবরণ
এখানে  নয় যে শেষ,
আছে শুভ কামনা,আলিঙ্গন ও বেশ।

পৌষের উৎসবে
আরও আছে,
বুড়িরঘর পুড়িয়ে  হবে যার শেষ।

কয়েকদিন  আগে থেকেই  
ঘর বানানো  চলতে থাকে,
শুকনো  লতাপাতা দিয়ে।

পৌষের শেষ দিনে 
শীতের অভয়ে,
স্নান সেরে সব ছেলেপুলে দেয় বুড়িরঘর পুড়িয়ে।

নানারকম পিঠেপুলি
খেজুর রসে কলসি ভরা
আরও খেজুর  গুড়।

সংক্রান্তিতে হয় পুজো
আমাদের  পূর্বপুরুষদের,
সন্ধ‍্যায় হরিরলুট আর কীর্ত্তনীয়া সুর।

আমিনুল ইসলাম

ভারতীয় বীর সেনা

ভারতের শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের বীর সেনা।
তারাই আমাদের রক্ষা করে প্রতিনিয়ত।
দেশের জন্য জীবন দেয় শত্রুর হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
রক্ষা কবছ হিসাবে কাজ করে।
ত্রিবর্ন রঞ্জিত পতাকা বুকে জড়িয়ে রাখে আজীবন।

তাদের জন্যই শান্তিপূর্ণ থাকে ভুবন।
স্বাধীন ভারতের সন্তান তাঁরা, 
দেশমাতাকে ভক্তি জানায় সর্বক্ষণ।
আত্মীয় স্বজন পিতামাতা সন্তান ছেড়ে পরে থাকে বর্ডারে।
শুধুই আমাদের রক্ষার স্বার্থে।
ভারত মাতার বীর সন্তান তোমাদের ভুলিনা কখনো,
তাই প্রতিনিয়ত রাখি হৃদয়ের সর্বোচ্চ আসনে তোমাদের স্থান।
এই দেশের প্রকৃত নায়ক তোমরা।
ভারতের বীর সেনা নিয়ে গর্ব করি আমরা।

মনচলি চক্রবর্তী

বীরসন্তান নেতাজী 

জয় হিন্দ বলে করলে পন
দেশকে করবে মুক্ত স্বাধীন 
জীবনতুচ্ছ করে প্রতিদিন 
লড়ে গেলে মাতৃভূমির জন্য  চিরদিন দেশমাতৃকার জন্য দিলে বলিদান 
তুমি  সুভাষ, ভারত মাতৃকার বীর সন্তান 
প্রনমি  নেতাজী তোমায়  চিরন্তন
বীর সেনাপতি নেতাজী 
থাকবে হৃদয়ে মোদের হয়ে অমর
স্বাধীনতার বীরগাথায় তুমি চির উজ্জ্বল। 
ইতিহাসের মাঝে তুমি সুমহান,তুমি প্রোজ্জল।

অভিজিৎ দত্ত

উন্নয়ন
ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার 
একমাত্র ছিল লক্ষ্য দেশের 
উন্নয়নই যেন হয় মুখ্য। 
হায়রে দেশের অবস্থা 
ভোট সর্বস্ব রাজনীতি 
শেষ করলো দেশটা।
ভোট যখনই আসে
মনে পড়ে উন্নয়নের কথা
ভোট চলে গেলে আবার 
সেই পূর্বেকার অবস্থা। 
জাতপাত, ধর্মের তাস খেলে
যে দেশে হয় ভোটের লড়ায় 
উন্নয়ন সেখানে থমকে দাঁড়ায়। 
কোথাও উন্নতি,কোথাও অবনতি 
এইভাবেই হয় জনগণের ক্ষতি।
উন্নয়নের জায়গায় বেশীরভাগই 
এখন আখের গোছাতে ব্যস্ত 
কে,কতো তাড়াতাড়ি বড়োলোক হবো, 
সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত। 
অর্থ আর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে
যে কোনো কাজ হয় সময়ে
তাহলে দেশের জনগণ 
কতদিন সইবে এই অনুন্নয়ন?

সুব্রত ভৌমিক

ভাঙা সোপান

আমি তোমাতে বিরক্ত নই জীবন,
আমার প্রশ্নই আমিকে হয়রানি করে।
সন্তানের সামনে খালি থালা,
আমার দুঃখ নয়, আমার প্রশ্ন!

চাঁদের কলঙ্ক ডাকা অমানিশা
ভুলে যাক তার কথা।
দিনের সূর্যে বাধা থাক সব,
আবার জাগুক স্বপ্ন হয়ে।

দুঃখ আর হাসির মাঝে
নদী থাক তার পথে।
লাঠির আঘাতে নয়
মননে থাক বাণী।

জীর্ণ বস্ত্রের দাগ
হয়ে যাক চাঁদের কলঙ্ক।
বয়ে যাক  নীরব ব্যথা,
সুখদুঃখের গদবাঁধা গদ্যে।

ছন্দহীন দুঃখ বয়ে যাবে
কালের স্রোতে।
প্রশ্ন তার মত থেকে যাবে
নিষ্পলক রাতের আকাশে।

Jan 6, 2022

সম্রাট শীল

প্রস্তাব

বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলাম,
সবুজের ভিড়ে।
ভালোবেসে আমাকে নিয়েছে,
তাদের নীড়ে।।
দিয়েছে কতো নির্মল হাওয়া।
আমার কাছে তা অনেকটা পাওয়া।।
প্রেম ছিল ভরপুর,
নিঃস্বার্থতার সাথে।
আমিও ভালোবেসে রেখেছি,
আমার জীবন তার হাতে।।
যে জীবন আজ পুরোপুরি,
তার জন্যই নিঃশ্বাস ফেলছে।
ভালো থেকো সবুজ।।

রাহুল শীল

অগ্রাধিকার
           
এই যে কতকাল ধরে হাঁটতে পারিনি
পৌরাণিক শত্রুতার জেরে,

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রতিবিম্ব দেখেছি বহুকাল
বুকে লেগে আছে শুকনো পাতার ভস্ম,
এই যে কত উপহারের ওজন‌ তালিকাবদ্ধ করিনি কেউ!
অথচ শিহরিত শালিকের মতো গায়ে লাগিয়েছি সৌরতাপ।

এখনো ঠিক আগের মতোই রক্তের বিনিময়ে এঁকেছি 
সুড়ঙ্গ তৈরির নক্সা,
জিওল মাছের মত লাফাতে লাফাতে গান শুনিয়ে দেখিয়েছি নিজস্ব স্পর্ধা,
আপ্তবাক্য শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে দর পায়নি ঠিকই
ছলনার জালে জড়িয়ে রাখা হয়েছে কত বিশুদ্ধ নদী!

মাঝরাতের কুয়াশা দিয়ে তৈরি করে গেছি দীর্ঘতম সেতু,
অথচ প্রিয়জন এসে দাবি জানায় সেতুর দৈর্ঘ্যৈ তাদেরই অগ্রাধিকার!

দীপু রায়

হৃদয় পোড়ে যখন

হৃদয় পোড়ে যখন, আমি উদ্ভ্রান্ত তাকাই দিগন্তরেখার'পর...

নববর্ষ শুধুই কী হুল্লোরের...!!!

গৈরিক বসন বীর সন্ন্যাসীর ভাবগম্ভীর উদ্বাত্ত্ব আহ্বান -
"অজ্ঞ ভারতবাসী, মূর্খ ভারতবাসী চন্ডাল ভারতবাসী, আমার রক্ত আমার ভাই। "

যদি সবাই বলার সাহস, আর পালনের সদিচ্ছা দেখাতো দেশটা বদলে যেত অ্যাদ্দিনে।

বৃটিশ সিংহের দর্প পদানত করে ইম্ফলে তেরঙা তুলল যে বীর, তার উদ্বাত্ত্ব আহ্বান
"কদম কদম বড়ায়ে চল " আজও তেমন ভাবে অনুসরণ করলাম কই...???

ঘটা করে বাগদেবীর আরাধনায় মাতি, পরিপাট করে পড়া ধুতি পাঞ্জাবি লাল পাড় সাদা বা হলুদ শাড়ি আর রাঙা পলাশ-শিমূলের রক্তিম ছটায় উদ্ভাসিত হচ্ছি...

আল্ট্রা মডার্ণ...
কিন্তু বিচূত্য হচ্ছি রোজ;
নিজস্বতা থেকে, অনাহূত ভবিষ্যত থেকে তার খেয়ালটুকু রাখছি না কেউ।

পণ্য শুধু বস্তু দ্রব্য নয়, আমরাও অজান্তে পণ্য হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে...।

অশোক মণ্ডল

আমার দেশ

শোনো শোনো দেশবাসী শোনো দিয়া মন 
দেশমাতৃকার চেয়ে নাই বড় কোনও ধন।
দেশের লাগি শত শহীদ দিয়েছে জীবন দান 
আমরা সবাই মিলিত ভাবে রাখব তাঁদের মান।
বিশ্ব মাঝে ছড়িয়ে আছে ওদের গৌরব গাঁথা
আলোয় আলো ঝলমল ইতিহাসের পাতা।
দেশ মাতৃকার শিঁকল ছিড়েছে বীর সন্তান সুভাষ
পতপত তেরঙ্গায় ঝলমল এ দেশের আকাশ।
এদেশ আমার এ দেশ তোমার এ দেশ সবার 
হাতে হাত আটকে দেব আঘাত মানবো না হার।
মোরা ভারতবাসী থাক শুধু এই পরিচয়
জাত নিয়ে ধর্ম নিয়ে কোনো লড়াই নয়।
বিশ্ব মাঝে শ্রেষ্ঠ হোক তোমার আমার এ দেশ 
বিহঙ্গেরা উড়ুক আকাশে মুছুক দারিদ্র্যতার ক্লেশ।

নীরেশ দেবনাথ

দিয়েছি বিদায়

দূর হতে আমি তোমারে দিয়েছি বিদায়
আমি দিয়েছি বিদায়!
কাছে আমি নাই বা গেলাম, 
দূরে থেকে কি যায় না বিদায় দেওয়া?
আশীর্বাদ স্নেহ প্রেম ভালোবাসা আদর
সবই কি ঘোরে ফেরে কাছে কাছে?
দূর হতে কি যায় না পাওয়া?
দূর হতে কি যায় না দেওয়া?
আমি দূর হতে দিয়েছি বিদায় 
আমি দূর হতে করেছি আশীর্বাদ 
স্নেহ প্রেম ভালোবাসা 
দূর হতে হয়েছে আদান প্রদান 
দূর হতে আমি তোমারে দিয়েছি বিদায়।

রুপালী রায়

গল্পের ফেরিওয়ালা

আমার স্কন্ধে  পা রেখে 
হেঁটে চলে একশো শত 
সরীসৃপ প্রাণী ।
আমার দুচোখে প্রশান্ত মহাসাগরীয় টেউ 
এক পাড় ছাড়িয়ে অপাড়ে তুলেছে 
দুর্দান্ত লড়াই ।
তিমির রাত্রিতে মরে যাওয়া 
লক্ষাধিক মৃত্যুর আওয়াজ 
স্তব্ধ করেছে একটা ঝড়ের পূর্বাভাস ।
এই অবেলায় কারা যোগ দিয়েছে 
অসুরের সৈন্য দলে ।
মৃত্যুর পরোয়ানা নেই 
বেঁচে আছি এক শত 
মরুভূমিকে এক করে ।
মৃতের সংখ্যা গুনতে বসেছিল 
একদল জোনাকি ।
পাড়ার ছেলেরা ঘুমন্ত শরীরে 
স্বপ্ন দেখে প্রেমিকের নীল শাড়ি ।

সুপ্রতিম ভৌমিক

হে বীর বিবেকানন্দ  
    
হে বীর বিবেকানন্দ,
ভারত মানব মহান,
প্রভাত রবির ন্যায়
আজো উদীয়মান,
তব শুভ জন্ম দিবসে,
মহাপূণ্য লগনে,
করি নিবেদন শ্রদ্ধার্ঘ্য চরণে,
জানাই সহস্র প্রণাম ;

     হে সপ্তর্ষি শ্রেষ্ঠ, জ্যোতিষ্মান,
     বিশ্বলোক মানস আকাশে,
     অস্তমিত হও নি কখনো ;
     যুগ যুগান্তর ব্যাপী,
     করিবে বিরাজ,
     পূর্ণ জ্যোতিতে,
     অন্তর মধ্যাকাশে ।

অনুমন

নারী

মা তিনি, যিনি জন্ম দেন আর, স্ত্রী সে,যে তোমার জন্য জন্ম নেয়।
মা তিনি,যিনি সবকিছুর 
         সাথে পরিচিত করান;
স্ত্রী সে,যে তোমার জন্য সবকিছু ছাড়তে পারে।
মা তিনি,যিনি তোমাকে সম্পূর্ণ  করেন; 
স্ত্রী সে, যে তোমার জন্য সম্পূর্ণ হয়।
মা হৃদয়,স্ত্রী স্পন্দন ।
মা শ্বাস, স্ত্রী জীবন ।
তাই মা কে জননী বলা হয়;
আর সঙ্গীনীকে ধর্মপত্নী।
দুজনকে ছাড়াই তুমি অসম্পূর্ণ; আর দুজনের দ্বারাই তুমি পূর্ণ।

রামমোহন বাগচী

প্রনাম, হে বীর

মোদের গর্ব 
মোদের আসা
বারই জানুয়ারি , 
তেইশে জানুয়ারি। 
দেশ মায়ের কুলে 
আলোর রশ্মি 
স্বামীজী, নেতাজী। 
স্বদেশ মন্ত্রে জাগ্রত প্রাণ দেখালে নূতন পথ। 
চন্দ্র সূর্য আছে যতদিন
হে বীর, অমর রবে ততদিন। 
দেশ মায়ের অমর সন্তান
আজ ও আছে প্রয়োজন ফিরে এস ভারত মায়ের কুলে
দেখাতে সত্যের পথ  । 
স্বার্থের লোভে মত্ত হয়ে
করছে আস্ফলন। 
ভুলে গিয়ে সত্য মিথ্যা
দেশটাকে করছে কাটাছেঁড়া
ধর্মের কসাই মানবতার
গলায় পরিয়ে ফাঁস  
করছে বড়াই,ভুলে ধর্মের সার।

অনন্যা ভট্টাচার্য

প্রান্তিক

যাত্রীহীন যাত্রী যান, মেঘে ঢাকা আকাশ, 
খসে পড়া তারা, চরাচর দিশেহারা। 
তীক্ষ্ণ বরফ খণ্ডে সমুদ্রে খেলা
ভাসমান হয়েও নিমজ্জিত
জোনাকির মতো -  প্রান্তিক।