Nov 13, 2024

উমাশংকর রায়

একটি গেরো ও তার দুই প্রান্ত

সাগরময় দুঃখের মুখ চেয়ে দুঃখীরাম হাসে।
দিনরাত জলে ভিজে। 
সে জলে ডুবে আর ভাসে। 

দুঃখ নিয়ে তার কোনও ভাবনা নেই। সে জানে দুঃখ মানেই অন্তহীন অপার সাগর। অন্তহীন ঢেউ। শুকোবে না কখনও। 

সেই দুঃখীরাম কানাগলি থেকে রাজপথ ঘোরে। আর চিৎকার করে বলে, কে বেঁধেছে এ গেরো?! ডাকো। ধরো তাকে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ কোন বেয়াদপি! এ কী অসভ‍্যতা তার?! 

কাকে বকছে দুঃখীরাম এভাবে ? 
সবাই কান পেতে শোনে। 

মাথায় মুকুট পরে জৈববাদীরা এলেন। মাথা নাড়লেন। গেরোটির আগাপাশতলা দেখলেন। গেরোটির হাত-পা-মুখ-উদর আবিষ্কার করলেন।
কিন্তু তারপর একদিন 
সেই দলটি জাদুকরের মতো শূন‍্যে বিলীন হয়ে গেল! 

আরও অনেকেই এলো 
দুঃখীরামের চিৎকার শুনে 

সাদা বকগুলো উড়ে এসে লাল চঞ্চু ফাঁক করে সেই যে ডুব দিলো জলে - উঠে এলো না ডাঙায় আজও! 
ওরাই বলেছিল, আমরা আসবই। 

শকুনি তার ভাগ্নের চোখে লেজার ট্রিটমেন্টের পরামর্শ দিয়ে ডুবেই মরল। 
পার পেলো না কোথাও। সব শর্ত ডুবিয়ে মারল। 

এভাবেই 
একে একে সব ধসে গেল! 
ধ্বংস হল বন! মৌন পাহাড় ফেটে পড়ল। 
লড়াই হল। যুদ্ধ হল। 
আরও কত-কী হল! 

কিন্তু দুঃখীরাম চিৎকার করে বলে, 
ওরে - বিপ্লব হল কই?! 

চিৎকার থেমে গেলে সবাই দেখে 

গেরোর এক প্রান্তে রাষ্ট্র!
অন‍্য প্রান্তে ক্লান্ত দুঃখীরাম -
পাশে তার আপামর সব সই!