বয়স বাড়লেই ঘর ছাড়ে মানুষ
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে হঠাৎ আমার কথাই তোমার মনে পড়ে আমি জানি।
একটা চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেই হয়ত ভাবো মেয়েটা কি করছে ঠিক মত খাচ্ছে কি না মাথায় তেল দিচ্ছে কি না....।
গত শীতে দুটো কাঁথা দিয়েছিলাম একটা কম্বল আগেই ছিল।
এবার না হয় আরো একটা কম্বল পাঠিয়ে দেব। যা চাপা স্বভাব কখনো মুখ ফুটে কিছু বলে না।
অনিয়ম করে করে আবার কোন অসুখ না বাধায়।
মেয়েটার আর কত হল বয়স..!
এসব ভাবতে ভাবতে রাতের প্রহর বাড়ে, জাগতিক নিয়মে বাড়ে চিন্তাগুলিও।
হয়ত দু এক ফোটা জল ও গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে তোমার অজান্তেই।
তখন হয়ত আমাদের ঘরের পেছনের হিজল গাছটা থেকে টুপটুপ করে ঝরে পড়ে ফুলগুলো মাটিতে। ঝোপের ধারে কুয়ো থেকে ঝিঁঝি পোকার ডাক ভেসে আছে। নাম না জানা দু একটা পাখির ক্ষীণ শব্দ মিলিয়ে যায় উত্তরে।
তোমার এই চাপা সংলাপের দীর্ঘশ্বাস কেউ হয়ত শোনে না দেখে না বোঝে না কিন্তু আমি অনুভব করতে পারি নয়ত আমার বুকের মধ্যে এত চাপা কষ্ট কেন হয়?
নিজেকে বড্ড ভারী লাগে।
চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করে তোমায় মা -
মা মা মা....
আমি ভালো নেই….।
অথচ মাধ্যমিকের পর আমি সেমন্তীকে কত করে উপহাস করেছিলেম -
"তুই কি সারাজীবন বাচ্চাই থাকবি? বড় হবি কবে? মায়ের আঁচল ধরে সারাজীবন বসে থাকলে গেঁয়ো ভূত হবি ..."
বয়স বাড়লেই ঘর ছাড়ে মানুষ
আমিও ছেড়েছিলাম
এখন বড্ড ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করছে..!
মনে হচ্ছে দেয়াল ঘড়ির কাটা তিনটি উপহাস করে বলছে আমায় তুমি তো জড়িয়ে গেছো এক
আস্তাকুঁড়ে সভ্যতায়, শিল্পায়নের ঘূর্নিপাকে।।
ঘড়ির কাটায় ঠিক রাত দুটো চল্লিশ